বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:১৩ এম
খাগড়ছীড় জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ১ নং লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়নের ৭ং ওয়ার্ডের অন্তর্গত দুটি বিদ্যালয়ে, শুকনাছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শুকনাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। শুকনাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে পূর্বে সুপেয় পানির ব্যবস্থা ছিল না। এই সমস্যা সমাধানের জন্য লক্ষ্মীছড়ি জোন কমান্ডারের নির্দেশনায় এবং ইন্দ্রসিংপাড়া আর্মি ক্যাম্পের তত্ত্বাবধানে উক্ত বিদ্যালয়ে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়।
এছাড়া, শুকনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। ইন্দ্রসিংপাড়া আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার লেঃ ওয়াসির মন্তব্য করেন, “আমাদের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার প্রতি আরো বেশি উৎসাহি করে তুলবে বলে আমাদের বিশ্বাস।”
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকবৃন্দ এই কার্যক্রমের ফলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জনহিতকর কার্যক্রম সাধারণ জনগণের কল্যাণে অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শার বাজারগুলোতে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। কৃষকরা এবার মণপ্রতি প্রায় এক হাজার টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য। চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে পাট জাগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো পানির সংকট দেখা দেয়নি।
বাজার পরিদর্শন করে জানা গেছে, গত বছরের শুরুতে নতুন পাট ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হলেও, এবারের শুরুতে কৃষকরা তা ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। বর্তমানে দাম বেড়ে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফলে কৃষকরা গত বছরের তুলনায় প্রতি মণে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম পাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শার্শায় এবার পাটের ফলন সন্তোষজনক হয়েছে। গত বছর যেখানে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল, তা বেড়ে এবার ৫ হাজার ৫০৩ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে ৫০৩ হেক্টর। গত বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে কৃষকদের পাট জাগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল, তবে এবার এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়নি।
এদিকে, ফলন ও দাম ভালো হলেও উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। তাঁদের মতে, বিশেষ করে শ্রমিকদের মজুরি এবার বেশি দিতে হয়েছে। গত বছর ৪০০ টাকা মজুরিতে শ্রমিক পাওয়া গেলেও, এবার পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে শ্রমিকপ্রতি বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে। ফলে, গত বছরের তুলনায় প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
কৃষক আব্দুল আলিম মন্তব্য করেছেন, "এবার পাটের ফলন খুব ভালো হয়েছে। পাশাপাশি দামও ভালো পাচ্ছি। গত বছরের তুলনায় নতুন পাট বিক্রি করে মণে ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা দাম বেশি পাচ্ছি।"
পাট ব্যবসায়ী বাবলুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে পাট কিনে কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, খুলনা ও বগুড়াসহ বিভিন্ন মোকামে সরবরাহ করেন।
শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসার দীপক কুমার শাহা বলেছেন, "শার্শা উপজেলায় এবার কৃষকরা পাট চাষে লাভজনক অবস্থানে রয়েছেন। অনুকূল আবহাওয়া, ভালো ফলন এবং সন্তোষজনক দামের কারণে তারা খুশি। সরকারের দেওয়া প্রণোদনা, বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ বিতরণ এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শের ফলেই কৃষকেরা এই সুফল পাচ্ছেন।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দৌলতপুর সীমান্তে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান প্রতিরোধে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর ধারাবাহিক কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে বিজিবি পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে, যার মূল্য প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা।
সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে, কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীনস্থ কাজিপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা শেওড়াতলা মাঠে একটি চৌকস বিজিবি টহল দল অভিযান চালায়। অভিযানের সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ৬ বোতল মদ, ৭৫০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট এবং ৩,০০০ পিস সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য (এগারো লক্ষ চৌত্রিশ হাজার) টাকা।
অন্যদিকে, ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে, কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীনস্থ চরচিলমারী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা ডিগ্রিরচর নামক স্থানে বিজিবির একটি চৌকস টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ১৬ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপ, ৪ বোতল স্কাফ, ১,৫০০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট এবং ৫০০ পিস সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য (ছয় লক্ষ আট হাজার) টাকা।
এই দুটি পৃথক অভিযানে মোট (সতেরো লক্ষ বিয়াল্লিশ হাজার) টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সীমান্তে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার, নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, মাদক ও চোরাচালানমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা এবং দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষায় বিজিবির এ ধরনের অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নীলফামারী জেলা প্রশাসন নুসরাত ফাতেমাকে বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করেছে, যিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান উপলক্ষে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি নীলফামারী জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপসহকারী পরিচালক ছিলেন।
মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রে জানা গেছে, নুসরাত ফাতেমা সম্প্রতি পদোন্নতির মাধ্যমে রংপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। জেলা প্রশাসনের প্রতি আন্তরিকভাবে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের আন্তরিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা তাঁর কর্মজীবনে সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।" নীলফামারী জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান বলে তিনি জানান। জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রতি তিনি আন্তরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের জন্য সকলের দোয়া ও শুভকামনা প্রত্যাশা করে নুসরাত ফাতেমা বলেন, নীলফামারীতে কর্মকালীন সময়ে সহকর্মী ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যে সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছেন, তা তিনি সবসময় স্মরণে রাখবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালগঞ্জ পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)’র উদ্যোগে এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ এর এমআইএস প্রকল্পের সহযোগিতায় মঙ্গলবার সাচনা বাজারের হাসান এন্টারপ্রাইজের হল রুমে পিএফজির ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন পিএফজির অ্যাম্বাসেডর নুরুল হক আফিন্দী এবং সঞ্চালনা করেন পিএফজি সমন্বয়কারী আব্দুল মালিক। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ এর এমআইপিএস প্রকল্পের কুদরত পাশা।
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, পিএফজি একটি উদার অসম্প্রাদায়িক, বহুত্ববাদী সহনশীল, মুক্ত, মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। তারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ, সহিংসতা নিরসন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ এবং ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি-সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিতকরণে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সভায় পিএফজির স্ব-মূল্যায়ন প্রথমে করা হয়। সদস্যরা ১০টি প্রশ্নের উত্তর বিভিন্ন যুক্তিতর্কের মাধ্যমে নির্ধারণ করেন। সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পিএফজির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী সার্বজনীন সম্প্রীতির বন্ধন জামালগঞ্জ নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে শান্তি-সম্প্রীতির কার্যক্রম সচল রাখা হবে।
পরিকল্পনা সভায় বক্তব্য রাখেন মহিলা পরিষদের সভানেত্রী শেখ আয়শা আক্তার, জামালগঞ্জ পিএফজির পিস এম্বাসেডর আলেয়া বেগম, পিএফজি সদস্য নাজিম উদ্দিন, আলী হোসেন, আলী আক্কাছ মুরাদ, খালেদা আক্তার, মারজানা ইসলাম শিবনা, সিনিয়র সাংবাদিক ওয়ালী উল্লাহহ সরকার, অঞ্জন পুরকায়স্থ, আল-আমীন, মিনারা আক্তার, আয়শা সিদ্দিকা, সামিয়া আখি, বেবী রানী, অর্চণা দাস, শারমিনা বেগম এবং সালমা আক্তার প্রমূখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ