০৯:৪৩ এম
দিল্লি হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত হয় না। আদালত উল্লেখ করেছে, ভিসা প্রদান এবং ভারতে প্রবেশের অনুমতি দুটি আলাদা বিষয়। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, পররাষ্ট্রনীতি, জনস্বাস্থ্য এবং প্রশাসনিক বিবেচনার ভিত্তিতে বৈধ ভিসাধারী বিদেশিদের ভারতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তুর্কমেনিস্তানের এক নারী নাগরিকের দায়ের করা মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি অমিত মহাজন এ রায় প্রদান করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলাটি দায়ের করেছিলেন তুর্কমেনিস্তানের নাগরিক আন্নাগুরবানোভা ইয়াজবিবি। তিনি দাবি করেন, বৈধ পাসপোর্ট ও ব্যবসায়িক ভিসা থাকা সত্ত্বেও ২৫ মার্চ দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে তাকে তুর্কমেনিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়, যদিও একই বিমানে থাকা তার স্বামীকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ৬৪ কোটি টাকার গড়াই সেতুর নির্মাণকাজ ৬ বছরেও শেষ হয়নি
এরপর ইয়াজবিবি দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেন। তিনি প্রবেশে বাধা দেওয়ার কারণ লিখিত আকারে জানাতে এবং তার ব্যবসায়িক ভিসার ভিত্তিতে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার নির্দেশনা চেয়েছিলেন।
আবেদনে ওই নারী অভিযোগ করেন, বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও কেন তাকে ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো স্পষ্ট কারণ জানায়নি।
মামলার শুনানিতে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের ‘অবিচ্ছেদ্য’ বা আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য অধিকার সৃষ্টি হয় না। ভিসা দেওয়া এবং সীমান্তে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া দুটি পৃথক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। সীমান্তে প্রবেশের সময় অভিবাসন কর্মকর্তারা পাসপোর্ট, ভ্রমণ নথি ও ভিসা পরীক্ষা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য চাইতে পারেন।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ওই নারীর বিষয়ে কিছু ‘প্রতিকূল তথ্য’ পাওয়া গিয়েছিল। জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: বিজিবির কাছে হস্তান্তরিত হলো বিএসএফের আটক দুই পুলিশ সদস্য
আদালতে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ওই নারীর পূর্ববর্তী ভারত সফরের তথ্যও উপস্থাপন করে। এতে দেখা যায়, ২০২৫ সালে তিনি ৪৭ বার ভারতে এসেছিলেন। এসব সফরের অধিকাংশের সময়কাল ছিল এক থেকে তিন দিন। তিনি ব্যবসায়িক ও চিকিৎসা—দুই ধরনের ভিসা ব্যবহার করেছিলেন।
আদালত সরকারের উপস্থাপিত নথিও পর্যালোচনা করে। নথিতে ওই নারীর বাবা-মা ও স্বামীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যে অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করা হয়। ব্যবসায়িক ভিসা থাকা সত্ত্বেও তার কাছে ব্যবসায়িক পরিচয়পত্র বা কোনো আমন্ত্রণপত্র ছিল না। নিজ দেশের ব্যবসা সম্পর্কেও তিনি প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারেননি বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন