ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানের পক্ষে কি ফেরেশতারাও যুদ্ধ করছে! শত্রুর পতন অনিবার্য?


ইরানের পক্ষে কি ফেরেশতারাও যুদ্ধ করছে! শত্রুর পতন অনিবার্য?

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতকে কেউ সামরিক কৌশলের লড়াই হিসেবে দেখছেন, কেউ বা ভূ-রাজনীতির বাস্তববাদী একটি সংঘর্ষ হিসেবে বিশ্লেষণ করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিশ্ব পরাশক্তি ও তাদের মিত্রশক্তি দ্বারা যে ইরান অর্ধশত বছর ধরে নিষেধাজ্ঞাপীড়িত, একঘরে হয়ে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল, সামরিক প্রযুক্তি আমদানি করতে পারেনি, এমনকি আধূনিক বিশ্বে একটি যুদ্ধবিমানও কিনতে দেয়া হয়নি তেমন একটি দেশ নিজস্ব প্রযুক্তি দিয়েই বিশ্বের পরাশক্তি তথা বিশ্ব মোড়ল যুক্তরাষ্ট্রের মত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভয়ংকর ও বিধ্বংসী প্রতিরোধ এমনভাবে গড়ে তুলেছে যে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকদের কোন যুদ্ধের সমীকরণও সেখানে হিসেব মেলাতে পারছে না। কিন্তু বিশ্বাসী মানুষের কাছে ইতিহাস কখনো কখনো কেবল অস্ত্রের ইতিহাস নয়; বরং এটি ঈমান, ধৈর্য, পরীক্ষা এবং আল্লাহর সাহায্যের ইতিহাসও। তবে কি ইসলামের ইতিহাসের বদর, খন্দক ওহুদ, ইয়ামামার যুদ্ধের মত ইরানের পক্ষ হয়ে আল্লাহর ফেরেশতারাও যুদ্ধ করছে?

দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক ধরে ইরান এমন এক রাষ্ট্র, যাকে পশ্চিমা বিশ্ব—বিশেষ করে বিশ্বব্যবস্থায় প্রভাবশালী মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা—নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে দুর্বল করে রাখার চেষ্টা করেছে। অথচ আজ সেই রাষ্ট্রটিই বিশ্বের সুপার পাওয়ার এবং দীর্ঘ কয়েক দশকের অপরাজেয় বিশ্ব মোড়ল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ৫ মাসে ইতিহাসের সেরা ও মারাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে । 

 
এমনকি বিশ্ব মোড়ল যুক্তরাষ্ট্রের একগুঁয়েমি ও আধিপত্য বিস্তার চলতে থাকায় তার ভয়ে বিশ্বের অপর উদীয়মান পরাশক্তিগুলোও তার সাথে যুদ্ধ তো দূরের কথা, কখনো সংঘর্ষেও জড়াতে চায়নি, কিন্তু ইরান এমন ভয়াবহ এবং মারাত্মক ও বিধ্বংসী এক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, কোটি কোটি ডলার মূল্যের সর্বাধুনিক রাডার সিস্টেম, ড্রোন, অস্ত্রাগার, পঞ্চম প্রজন্মের সর্বাধুনিক স্টিল্থ যুদ্ধবিমান, রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার,  সর্বাধুনিক থার্ড কিংবা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, বিশ্বসেরা মার্কিন টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র - সবকিছু মাটিতেই তছনছ করে দিয়েছে ইরানের তুলনামূলক সামান্য মূল্যের ড্রোন  এবং বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন রেঞ্জের ও ক্ষমতার হাইপারসনিক মিসাইলগুলো। ফলে বাধ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে তার মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সামরিক ঘাঁটি ,সেনা ও অবশিষ্ট রসদ সবকিছু নিয়ে একপ্রকার বাধ্য হয়ে তড়িঘড়ি করে সরিয়ে ইসরাইলের মাটি ও ঘাটিতে স্থানান্তর করতে হচ্ছে এবং নতুন করে যুদ্ধ কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন বিপর্যয়কর পরাজয় দেখে তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র শক্তি তথা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও পশ্চিমা অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোও ইরানের বিরুদ্ধে গিয়ে যুদ্ধে যোগ দিতেও সাহস করছে না।

একে কেউ কেউ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, ড্রোন সক্ষমতা বা সামরিক পরিকল্পনার ফল বলতেই পারে। সে ব্যাখ্যা অমূলক নয়। কিন্তু একজন ঈমানদার মানুষের কাছে প্রশ্ন উঠতেই পারে—ইতিহাসের প্রতিটি ঘটনাই কি কেবল দৃশ্যমান শক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়? নাকি অদৃশ্য জগতেরও কোনো বাস্তবতা রয়েছে, যার কথা পবিত্র কুরআন ও ইসলামের ইতিহাস বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়?

দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনে ইহুদিবাদী শক্তির ক্রমাগত গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী যুদ্ধে পবিত্র ভূমি মুসলিম ও ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের প্রথম কিবলা আল-আকসার মাটিতে বিশ্বাসী ও খাঁটি মুসলিমদের রক্ত ঝরছে। নারী, শিশু ও নিরীহ মানুষের মৃত্যু বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করছে। একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বিশ্বাসঘাতক ও মার্কিন ইহুদীদের দালাল অনেক রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও আজ প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, জর্ডান, কাতার, কুয়েত ও ওমান সহ অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো তাদের রাষ্ট্র ক্ষমতা ও বিলাসিতার লোভে তাদের নীতি, আদর্শ যে বিসর্জন দিয়েছে এমন অবস্থান নিয়েও মুসলিম বিশ্বের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা রয়েছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, এসব দেশ প্রকাশ্যে বা নীরবে যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হয়ে এমন এক বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনে গণ হত্যাকারী ইসরাইলের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করা তো দূরের কথা, মৌখিক ভাবেও তারা এই বর্বরতা ও মুসলিম নিধনের কর্মকান্ডকে ঘৃনা প্রকাশ করছে না। ফলে আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গির সমর্থকদের বিশ্বাস, মুসলিম উম্মাহর এই বিভক্তিই ফিলিস্তিনের ট্র্যাজেডিকে দীর্ঘায়িত করেছে যেখানে মহান রাব্বুল আলামিন নিজে হয়তো বাধ্য হয়ে বর্বর ইহুদিবাদীদের দমনে মাঠে তার ফেরেশতাদের নামিয়ে দিয়েছেন।


এই প্রেক্ষাপটেই একজন বিশ্বাসীর মনে প্রশ্ন জাগে—মানুষ যখন তার সামর্থ্যের শেষ সীমায় পৌঁছে যায়, তখন কি আল্লাহর সাহায্যের দুয়ার উন্মুক্ত হয় না ? ইসলামের ইতিহাস তো বারবার সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। বদর, উহুদ, খন্দক, তাবুক, সিফফিন, মুতা' ইয়ারমুকের  মতো অনেক অসম যুদ্ধে দৃশ্যমান শক্তির চেয়েও বিশ্বাসীদের অল্প শক্তিও বড় হয়ে উঠেছিল । আল্লাহর রাসুল ও তার সাহাবীদের ঈমান, ধৈর্য ও আল্লাহর সাহায্যের প্রতি অবিচল বিশ্বাস তাদেরকে অসম শক্তির যুদ্ধেও জয়লাভ করিয়েছিল।

তাই আজকের ঘটনাপ্রবাহকেও অনেক ঈমানদার মানুষ কেবল সামরিক শক্তির হিসাব দিয়ে নয়, বরং আল্লাহর অদৃশ্য ফয়সালার সম্ভাবনার আলোয় দেখার চেষ্টা করছেন। এটি নিছক একটি আধ্যাত্মিক উপলব্ধি ও কাল্পনিক বিষয় নয় বরং তা বাস্তবেই ইসলামের ইতিহাসে এমন অসম যুদ্ধের ঘটনাগুলো ঘটেছিল।

দীর্ঘদিন ধরে মুসলমানদের প্রথম কিবলা ও অসংখ্য নবী রাসুলের পদচারণায়  মুখরিত হওয়া পবিত্র ও পূণ্যভূমি ফিলিস্তিনে যুগের পর যুগ ইহুদী খ্রীষ্টানদের গণহত্যায় নিরীহ মুসলিমদের রক্ত ঝরছে এবং এখনো তা বর্তমান। গত বছর দুয়েক এর মধ্যেই নির্বিচার গণহত্যায় প্রায় ৭৫ হাজার বিভিন্ন বয়সী যুবক, বৃদ্ধ, নারী, শিশু ও নিরীহ মানুষের  মৃত্যু বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করছে। একই সঙ্গে বহু মুসলিম দেশের নিষ্ক্রিয়তা বা সীমিত প্রতিক্রিয়া নিয়েও মুসলিম বিশ্বে গভীর হতাশা বেড়েই চলেছে। দীর্ঘ ঈমানি পরীক্ষার পর অনেকের বিশ্বাস, মুসলিম উম্মাহর এই দীর্ঘ পরীক্ষা একদিন না একদিন আল্লাহর বিশেষ ফয়সালার দিকে গড়াবে এবং হয়তো এখন সেটা ইরানের মাধ্যমেই শুরু হয়েছে।

ইসলামের ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়—বদর, উহুদ, খন্দকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে মুসলমানরা সংখ্যায় ও অস্ত্রে পিছিয়ে ছিল। তবুও কুরআনে উল্লেখ রয়েছে যে, আল্লাহ তাঁর নির্দেশে ফেরেশতাদের মাধ্যমে মুমিনদের সাহায্য করেছেন।

সেই ঘটনাগুলো মুসলমানদের বিশ্বাসের-ই অংশ। সেখান থেকেই প্রশ্ন—আজ যদি কোনো মুসলিম রাষ্ট্র এমন এক অসম লড়াইয়ে টিকে থাকে, যা কেবল প্রচলিত সামরিক হিসাব দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন বলে মনে হয়, পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকদের কল্পনা ও চিন্তাতেও যা ধরা পড়ছে না, তখন একজন বিশ্বাসী মানুষ কি এ সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতে পারেন না যে, ইরানের মাধ্যমে যুদ্ধের ময়দানে আল্লাহ তাঁর অদৃশ্য সাহায্য দান করছেন? খোদা ভীরু বিশ্বাসীদের কাছে এই প্রশ্ন অমূলক নয়।


বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটা নিশ্চিত নয় যে, আল্লাহর ফেরেশতারা ইরানের পক্ষে যুদ্ধ করছেন। তবে ইসলামের ইতিহাসের সেই অসম যুদ্ধগুলোর কথা স্মরণ করলে এমনটা মনে করার যথেষ্ট কারণ তৈরি হয়। কারণ অদৃশ্য জগতের চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহরই। তবে একজন ঈমানদার হিসেবে এটা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন, তখন তিনি এমনভাবে সাহায্য করেন যা মানুষের হিসাব-নিকাশকে অতিক্রম করে যায়। ইসলামের ইতিহাসের সেই অসম যুদ্ধগুলোতেও এর বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। আর আল্লাহ যেখানে তার বান্দার পক্ষে দাঁড়িয়ে যান তখন তার সৃষ্টি জগতের সমস্ত শক্তি দিয়েও তার বিরুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব নয়।

বাস্তববাদীদের মতে সাম্প্রতিক বিশ্বশক্তিগুলোর ইতিহাসও আমাদের শিক্ষা দেয় যে, একসময় রোমান সাম্রাজ্য ছিল অপরাজেয় শক্তি, এরও অনেক পরে সাম্প্রতিক বিশ্বে চোখে দেখা ক্ষমতাধর স্পেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়ন এর মতো প্রতিটি পরাশক্তিই নিজেদের ক্ষমতাকে স্থায়ী মনে করেছিল যা আজকে  রোমান সাম্রাজ্যের মতো ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস শেষ পর্যন্ত প্রমাণ করেছে, পৃথিবীতে কোনো আধিপত্যই চিরস্থায়ী নয়। স্থায়ী কেবল আল্লাহর ইচ্ছা ও তাঁর ফয়সালা।

আজ যদি যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরাইল মনে করে যে, সামরিক শক্তির জোরে একটি জাতিকে চিরতরে ধ্বংস করা যাবে, কিংবা তাদের মিত্র শক্তিগুলো মোনাফেক, মুসলিম নামধারী রাষ্ট্রগুলো যদি মনে করে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে যুদ্ধ করবে এবং ইরানকে পরাজিত করবে তাহলে তারাও হয়তো সেই মারাত্মক ধ্বংসলীলায় পরিণত হবে যা তাদের কল্পনারও বাইরে। ইতিহাস তাদের জন্যও একই শিক্ষা গ্রহণ করার ইঙ্গিত প্রদান করে। শক্তি যত বড়ই হোক, তা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের স্রষ্টা আল্লাহর ইচ্ছার কিংবা ক্ষমতার ঊর্ধ্বে নয়।

ইহুদীবাদী ইসরাইল ও বিশ্ব পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দূর্বল মনে করা ইরানের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে দেখে মনে হয় এটি কোন রাজনৈতিক বিশ্লেষণ নয় বরং এটি সম্পূর্ণ একটি আধ্যাত্মিক উপলব্ধি। আধ্যাত্মবাদীদের সূত্র মতে, এটা একটা শক্তিশালী বিশ্বাস যে, সারা বিশ্বের মুসলিমদের উপর ইহুদি খ্রিস্টানদের দীর্ঘদিনের গণহত্যা, মানবতা বিরোধী অপরাধ, নিপীড়ন, রক্তপাত ও ঈমানের পরীক্ষার পর আল্লাহ চাইলে তাঁর অদৃশ্য সাহায্যের দরজা খুলে দিতে পারেন। সেই সাহায্য কীভাবে আসে, তা মানুষের পক্ষে সবসময় উপলব্ধি করা সম্ভব নয়, যা হয়তো ইরানের পক্ষে এখন ঘটছে।

তাই আজ যখন ইরানের প্রতিরোধ অনেকের কাছে বিস্ময়ের জন্ম দিচ্ছে, তখন একজন বিশ্বাসী হিসেবে অনেক বিশ্বাসীদের মনে হয়—এটিকে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন কিংবা সামরিক প্রযুক্তির শক্তি হিসেবে নয়, আল্লাহর ইচ্ছা ও সাহায্যের সম্ভাবনার আলোকেও দেখা যেতে পারে। যদি সত্যিই আল্লাহ তাঁর সত্যিকারের মুমিন বান্দাদের সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তবে পৃথিবীর কোনো পরাশক্তি-ই সেই সিদ্ধান্তের সামনে স্থায়ীভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। যারাই তার বিপক্ষে যুদ্ধে নামবে তারা সকলেই পরাজিত এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে এমনকি মক্কা মদিনা ধারনকারী সৌদি আরবও। কারণ তারাও ইহুদি নাছারাদের প্রথম শ্রেণীর তাবেদার। আল্লাহ চাইলে শুধু মাত্র মক্কা মদিনাকে রক্ষা করে তাদেরকেও ধ্বংস করতে পারেন।

এটি ইসলামের ইতিহাসের সকল অসম যুদ্ধে মুসলিমদের জয় লাভের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি যুদ্ধ বলে আধ্যাত্মিক উপলব্ধি ও অনুমান করা মোটেও অমূলক নয়, কারণ অদৃশ্য জগতের জ্ঞান একমাত্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মালিক ও সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তাআলার কাছেই রয়েছে-যা অবিশ্বাসীদের উপলব্ধি যোগ্য নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অ্যাটর্নি জেনারেলের নতুন আইন কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০১ এম


অ্যাটর্নি জেনারেলের নতুন আইন কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান

সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের (এএজি) পূর্ণ সততার সঙ্গে, নিষ্ঠার সাথে ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

রোববার (২ আগস্ট) সকালে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তারা যখন নিজ কার্যালয়ে যোগ দিতে আসেন, তখন তাদের উদ্দেশে তিনি এই কথা বলেন।

এদিন সকাল ৮টায় নতুন নিয়োগ পাওয়া আইন কর্মকর্তারা প্রথমে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে আসেন। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল তাদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যান।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ থেকে আলাদা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন এসব আইন কর্মকর্তার নিয়োগ ঘোষণা করা হয়। সরকার সুপ্রিম কোর্টের ৮৬ জন আইনজীবীকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৭৯ জন আইনজীবীকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দেয়।

একই আদেশে আগের সব ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের নিয়োগ আদেশ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবেক এমপি আহসান উল্লাহ হত্যা মামলার শুনানি চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০৬ এম


সাবেক এমপি আহসান উল্লাহ হত্যা মামলার শুনানি চলছে

সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার শুনানি আপিল বিভাগে চলছে। রবিবার (২ জুলাই) সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে এই শুনানি শুরু হয়।

মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও শ্রমিকনেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার গাজীপুর-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

গাজীপুরের নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সমাবেশে ২০০৪ সালের ৭ মে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় আহসান উল্লাহ মাস্টারকে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর মামলা করা হয় এবং ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায় ঘোষণা করে। রায়ে ২২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত, যার মধ্যে বিএনপির নেতা নূরুল ইসলাম সরকারও রয়েছে এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

মধ্যবর্তী সময়ে, রায়ের পর মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত দুই জন মারা যায়।

২০০৫ সালের নিম্ন আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল হাইকোর্টে যায়। একই সঙ্গে আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন।

শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৫ জুন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এবং বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন।

এই রায়ে ছয় জনের মৃত্যুদণ্ড ও দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়। একইসাথে সাত জনের সাজা কমানো হয় এবং ১১ জন খালাস পেয়ে যান।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকা ছয় আসামি হলো নুরুল ইসলাম সরকার, নুরুল ইসলাম দীপু, মাহবুবুর রহমান মাহবুব, শহীদুল ইসলাম শিপু (৪ জানুয়ারি কাশিমপুর কারাগারে মারা যান), হাফিজ ওরফে কানা হাফিজ এবং সোহার্গ ওরফে সরু। জম্মুবিজ্ঞান বহাল রাখা হয় টিপু এবং নুরুল আমিনের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অন্তর্বর্তী সরকার তরুণদের ভুল পথে ‘গাইড’ করেছে: হোসেন জিল্লুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:১৪ এম


অন্তর্বর্তী সরকার তরুণদের ভুল পথে ‘গাইড’ করেছে: হোসেন জিল্লুর

তত্ত্বাবধায়ক (২০০৭-০৮) সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান জুলাই মাসে অভ্যুত্থানের পর বিপুল জনপ্রত্যাশা নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার তিনটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছেন। তিনি এর মধ্যে বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার তরুণদের ভুল পথে ‘গাইড’ করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘ক্ষমতার লোভটাই’ তাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছে। হোসেন জিল্লুর রহমান আরও বলেন, এই অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার প্রধান তিনটি ক্ষেত্র হলো; সরকারে আমলাদের যুক্ত করা, তরুণদের ভুল দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং নিজেদের সংস্কারকে নিজেরাই ছুড়ে ফেলে দেওয়া।

শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের সময় হোসেন জিল্লুর রহমান এইসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছিল যুক্তরাজ্যের সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন পরিচালিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী গবেষণা কনসোর্টিয়াম সোয়াস অ্যান্টি-করাপশন এভিডেন্স দ্বারা।

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তরুণদের মধ্যে ক্ষমতার প্রতি একধরনের আকর্ষণ তৈরি হয়েছে। ইউনূস সরকার তরুণদের যথাযথ দিকনির্দেশনা দেয়নি। এর ফলে শৃঙ্খলা ও দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। তিনি জানান, সমাজে শিক্ষাকে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

জুলাই মাসের অভ্যুত্থান রাষ্ট্রসংস্কারের যে আওয়াজ তুলেছিল, তার পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, আমলাতন্ত্রের সঙ্গে government's আপস তাতে বাধা হয়ে উঠেছিল।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বুঝতে পারেনি; কোন মুহূর্তে সাহসী ও মৌলিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তারা শুরু থেকেই রক্ষণশীল ও নিরাপদ পথ বেছে নেয়। পুরোনো আমলাতান্ত্রিক কাঠামো ভাঙার বদলে একই ধরনের আমলাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হয়। যার ফলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের বদলে আগের ব্যবস্থাই কার্যত বহাল থাকে।

হোসেন জিল্লুর রহমান মন্তব্য করেন, যদিও অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের ওপর জোর দেওয়ার কথা মুখে বলেছে, তাতে আন্তরিকতা ছিল না। তার মতে, সে কারণেই সংস্কারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেটি পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।

তিনি আরো বলেন, ইউনূস সরকার সংস্কার শব্দটি চালু করেছে। অথচ তাদের নিজেদের তৈরি করা সংস্কার কমিশন যেসব সুপারিশ দিয়েছে, তার কোনো কিছুই তারা দেখেনি। বরং সেটিকে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তারা জাতির জন্য একটি ‘রিফর্ম গেম’ খেলেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোদির বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা আবারও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:১৭ এম


মোদির বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা আবারও

ভারতের ই-২০ (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত) পেট্রোল চালুর সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের দিকে পদযাত্রার ঘোষণা করেছেন আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি জানান, আগামী ৪ আগস্ট (মঙ্গলবার) দুপুরে এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার (১ আগস্ট) দিল্লিতে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল টাউনহল অ্যাগেইনস্ট ই-২০’ অনুষ্ঠানে এই নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন কেজরিওয়াল। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল জানান, ই-২০ পেট্রোল নীতি প্রত্যাহারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে দেওয়া একটি অনলাইন আবেদনে ইতিমধ্যে দুই লাখেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। তিনি বলেছেন, সেই গণআবেদনের মুদ্রিত কপি নিজে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছে দেবেন।

কেজরিওয়াল বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমি দেশের মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। এতে দুই লাখেরও বেশি মানুষ অনলাইনে স্বাক্ষর করেছেন। আগামী ৪ আগস্ট দুপুর ১২টায় আমি নিজে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে এই স্মারকলিপি জমা দেব।’

তিনি পদযাত্রায় বিশাল সমাবেশের বদলে সীমিত উপস্থিতি থাকবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার সঙ্গে মাত্র ১০০ জন কর্মী-সমর্থক থাকবেন, যারা পুলিশের লাঠিচার্জ কিংবা কারাগারে যেতে ভয় পান না।’

কেজরিওয়াল প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘যানবাহনে ই-২০ জ্বালানির ব্যবহার নিরাপদ কি না, তা নিয়ে। যদি ই-২০ পেট্রোল সত্যিই নিরাপদ হয়ে থাকে, তবে সরকার আমাদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় বসুক। আমরা আমাদের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরব এবং সরকারও তাদের পক্ষে থাকা প্রমাণ উপস্থাপন করুক।’

অন্যদিকে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের এই অভিযোগ ও কর্মসূচিকে রাজনৈতিক স্টান্টবাজি হিসেবে দাবি করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দিল্লি বিজেপির সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানান, ই-২০ পেট্রোল ব্যবহারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বা ইঞ্জিন বিকল হয়েছে—এমন অন্তত ১০০টি গাড়ির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কেজরিওয়াল হাজির করতে পারবেন কি না, সেটিই আগে সাধারণ মানুষের সামনে স্পষ্ট করা উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%