ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কাপাসিয়ায় মাদক বিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ


কাপাসিয়ায় মাদক বিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নে যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করার জন্য এবং মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে একটি র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস টোক ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে ১৯ জুন শুক্রবার বিকালে টোক রনেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়, যা ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মাদক বিরোধী কর্মসূচিতে শতস্ফুর্তভাবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, আলেম-উলামা, শিক্ষক, অভিভাবক, এবং সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: জোরারগঞ্জে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৪, কারাদণ্ড ৫ মাদকসেবীর

র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা হাতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড বহন করেন এবং "চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে", "সবারই চাই, মাদকমুক্ত টোক চাই" ইত্যাদি স্লোগানের মাধ্যমে সমাজ থেকে মাদকের অভিশাপ দূর করার আহ্বান জানান।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, মাদক একটি জাতীয় সমস্যা এবং এটি যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য শুধু প্রশাসনের উপর নির্ভর না করে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক এবং ধর্মীয় সংগঠনসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, সুস্থ, সুন্দর এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ বিনির্মাণের জন্য মাদকের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস টোক ইউনিয়ন শাখার এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: বোয়ালখালীতে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ নুর মোহাম্মদ গ্রেপ্তার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাপাসিয়ায় পূবালী ব্যাংক শাখার ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৬ পি.এম


কাপাসিয়ায় পূবালী ব্যাংক শাখার ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন শুরু

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা সদরে অবস্থিত কাপাসিয়া পূবালী ব্যাংক পিএলসি শাখার উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য 'ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন' শুরু হয়েছে। 

২১ জুন রোববার সকালে কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয় চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাংকের গ্রাহক সেবায় এ ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করা হয়। 

"লেনদেন হচ্ছে ক্যাশলেস, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ" এই প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেন পূবালী ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান। 

সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ হুমায়ুন কবির এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতার সভাপতিত্ব করেন। 

বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা শেষে সদর সড়কে প্লেকার্ড হাতে বাদ্য বাজিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তারা একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করেন। 

পূবালী ব্যাংক কাপাসিয়া শাখার কর্মকর্তা মোঃ আমান উল্লাহর প্রাণবন্ত পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন পূবালী ব্যাংক গাজীপুর আঞ্চলিক শাখার সহকারী উপমহাব্যবস্থাপক মোঃ বেলাল হোসেন সেলিম, কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক আফজাল হোসাইন, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজগর হোসেন খান, ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সচিব সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম শাহীন, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি চিত্ত রঞ্জন সাহা, মীর মাসুদ করিম, ব্যাংকের ডেপুটি জুনিয়র অফিসার মোঃ ফজলে রাব্বী প্রমুখ। 

এছাড়াও ব্যবসায়ী, গ্রাহক, আইনজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, আলেম-ওলামা সহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন উপজেলা কমপ্লেক্স জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব খালেদ সাইফুল্লাহ। 

আলোচনা সভায় ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় নগদ লেনদেনের নির্ভরতা কমিয়ে আনতে পূবালী ব্যাংক পিএলসি দেশব্যাপী ‘ক্যাশলেস ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন’ পরিচালনা করছে। 

"লেনদেন হচ্ছে ক্যাশলেস, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ" স্লোগানে আয়োজিত এই ক্যাম্পেইনগুলোর প্রধান লক্ষ্য গ্রাহকদের ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, পিওএস মেশিন, মোবাইল অ্যাপ এবং বাংলা কিউআর (Bangla QR) কোড ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ ও আধুনিক ডিজিটাল লেনদেনে উদ্বুদ্ধ করা। 

আয়োজিত ক্যাম্পেইনে গ্রাহকদের জন্য বিনামূল্য নতুন ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ রাখা হয়েছে, তাৎক্ষণিক ফ্রি ডেবিট কার্ড প্রদান, পূবালী ব্যাংকিং অ্যাপ রেজিস্ট্রেশন সুবিধা, পূবালী ব্যাংক হিসাবের সাথে বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন সুবিধা, বুথগুলোতে গ্রাহকদের ডিজিটাল পেমেন্ট ও বাংলা কিউআর সেবার সুবিধা সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হচ্ছে। 

ব্যবসায়ীদের জন্য পোজ এবং বাংলা কিউআর আবেদনের সুবিধা ও অন্যান্য ব্যাংকিং সুবিধা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক পুরস্কার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৩ পি.এম


কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক পুরস্কার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর পৌর এলাকার ভাগলপুরে আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২১ জুন) সকাল ১০টায় ছৈয়ন উদ্দিন আহমদ মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শেখ শাহজাহান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আমিনুল হক এবং সাবেক সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন বাদল। অনু্ষ্ঠানে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শেখ আলী আহসান সবুজ সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মাসুম মিয়া। উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানটিতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ শেখ শাহজাহান। অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কার বিতরণ শেষে শিক্ষার্থীরা মনোজ্ঞ লোকনৃত্য, নাটক ও গান পরিবেশন করে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্ন সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন এবং বিদ্যালয়ের জন্য দুটি হল নির্মাণের ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলোচনা শুরুর আগে মার্কিনিদের সঙ্গে ছবি তোলার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৫ পি.এম


আলোচনা শুরুর আগে মার্কিনিদের সঙ্গে ছবি তোলার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় ইরান

সুইজারল্যান্ডে রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় মার্কিন এবং ইরানি প্রতিনিধিরা উপস্থিত হন। কিন্তু আলোচনার শুরুের আগে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পরিকল্পিত করমর্দন ও গ্রুপ ছবি তোলার প্রস্তাব ইরানের আলোচক দল প্রত্যাখ্যান করে।

রোববার (২১ জুন) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, 'আলোচনার সঙ্গে জড়িত' এক সূত্রের মাধ্যমে এই প্রত্যাখ্যানের খবর জানানো হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা এবং বৈঠকের আয়োজকরা বার্গেনস্টকে বহুপাক্ষিক আলোচনার শুরুতে দুই পক্ষের মধ্যে করমর্দন ও ছবি তোলার আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু, ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রধান এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে মত দেন।

ইরানের অস্বীকৃতির পর, ইরানি প্রতিনিধিদল ছাড়াই একটি সরাসরি টিভি সম্প্রচার ও ফটো সেশন অনুষ্ঠিত হয়। মিডিয়া অনুষ্ঠানটি শেষ হওয়ার পরে ইরানি প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আলোচনা শুরুর আগে সাংবাদিকদের আলোচনা কক্ষ ত্যাগের জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদল পাঁচ মিনিটের বিলম্বের অনুরোধ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জনসংখ্যার রেকর্ড ঘনত্বে ঢাকায় বাড়ছে অপরাধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৭ পি.এম


জনসংখ্যার রেকর্ড ঘনত্বে ঢাকায় বাড়ছে অপরাধ

রাত তখন দুইটা। বুড়িগঙ্গার ওপার থেকে আসা হিমেল হাওয়াটা যখন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে এসে আছড়ে পড়ছে, ঠিক তখনই পল্টনের কোনো এক ফুটপাতে কিংবা ফুটওভার ব্রিজের নিচে একটুখানি ঘুমানোর জায়গা খুঁজছেন ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ। তার ঠিক পাশেই, মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে শুয়ে আছেন আরেকজন। এখানে মানুষের নিঃশ্বাসের শব্দও একে অপরের গায়ে লাগে। ঢাকায় জনসংখ্যার এই ঘনত্বের কারণে অপরাধও বাড়ছে।

অন্যদিকে একই রাতের আকাশে যখন চাঁদ, তখন বরিশালের কীর্তনখোলার বুকে মাইলের পর মাইল চরাঞ্চল কিংবা নদীপাড়ের গ্রামগুলো ডুবে থাকে অদ্ভুত নিস্তব্ধতায়। সেখানে দিগন্ত বিস্তৃত খোলা হাওয়া আছে, কিন্তু সেই হাওয়া গায়ে মাখার মতো মানুষ নেই। বাংলাদেশের মানচিত্রের দুই প্রান্তে জনসংখ্যার ঘনত্বের এমন অবিশ্বাস্য বৈষম্যের নাটক প্রতিদিন মঞ্চস্থ হয়, যা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যানের শুষ্ক সংখ্যাগুলো যখন গল্প বলতে শুরু করে, তখন তা যেকোনো রোমাঞ্চকর উপন্যাসের চেয়েও চমকপ্রদ হয়ে ওঠে। দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে জনসংখ্যার পরিমাপকালে দেখা গেছে, এক ঢাকা বিভাগেই এখন ঠাসাঠাসি করে বাস করছেন দেশের সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৪২ লাখ ১৫ হাজার ৭৫৯ জন মানুষ! সংখ্যাটি কল্পনা করতে পারেন? একটি মাত্র বিভাগে বাস করছেন গোটা দেশের জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের বেশি মানুষ। আর এই গল্পের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য লুকিয়ে আছে ঠিক তার বিপরী মেরু বরিশাল বিভাগে। পুরো বরিশাল বিভাগজুড়ে মানুষের সংখ্যা মাত্র ৯১ লাখ ১০৪ জন। অর্থাৎ, বরিশালের সব জেলা-উপজেলা আর গ্রাম মিলিয়ে যত মানুষ বাস করেন, তার চেয়ে চারগুণেরও বেশি মানুষ ঢাকা বিভাগে বাস করছেন।

তবে এই প্রতিবেদনের আসল ‘ক্লাইমেক্স’ বা রেকর্ড লুকিয়ে আছে রাজধানী ঢাকার একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল। পরিসংখ্যান বলছে, জনসংখ্যার ঘনত্বে সব রেকর্ড ওলটপালট করে দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে শ্বাস নিচ্ছেন ৩৯ হাজার ৪০৬ জন মানুষ। মাত্র এক বর্গকিলোমিটার— যা হয়তো হেঁটে পার হতে ১৫ মিনিটও লাগে না, সেই সামান্য জায়গায় ৩৯ হাজারেরও বেশি মানুষের রাত কাটে। এই অবিশ্বাস্য ঘনত্বের কারণে ঢাকা দক্ষিণ আজকে শুধু দেশের নয়, পৃথিবীর অন্যতম শ্বাসরুদ্ধকর এক মানব-জঙ্গলে পরিণত হয়েছে।

জনশুমারির প্রতিবেদনের পাতা ওল্টালে আরও একটি নির্মম সত্য আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। কোটি কোটি মানুষের ঢাকায় আগমনের পেছনে লুকিয়ে আছে এক সামাজিক ‘ট্র্যাজেডি’। যা হলো ভাসমান বা গৃহহীন মানুষ।

বিবিএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারাদেশে মোট ভাসমান মানুষের সংখ্যা ২২ হাজার ১৮৫ জন হলেও বাস্তবে তা কয়েক গুণ বেশি। যাদের বিশাল একটি অংশ প্রতিরাতে আশ্রয় খোঁজেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ইট-পাথর আর কংক্রিটের ফাঁকে।

এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ভাসমান ও আশ্রয়হীন মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সদরঘাট, গুলিস্তান, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল কিংবা রেললাইনের ধারে হাজারো মানুষ রয়েছেন, যাদের কোনো স্থায়ী ছাদ নেই। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে অভিজাত ও বাণিজ্যিক এলাকা বেশি হলেও এখানেও কাজের সন্ধানে আসা ছিন্নমূল মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

এছাড়া ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম বা গাজীপুরের মতো শিল্পাঞ্চলে ভাসমান মানুষের দেখা মিললেও, বরিশাল সিটি করপোরেশনে এই সংখ্যা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। যদিও বরিশালের বিভিন্ন অঞ্চলে নদীভাঙনে গৃহহীন মানুষ বসবাস করে এবং সেখানকার চরাঞ্চলে প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে মানুষ বেঁচে আছে। যা কখনো কখনো হৃদয়বিদারক অবস্থার সৃষ্টি করে—তবুও বরিশালের শান্ত পরিবেশ ও কম ঘনত্বের কারণে সেখানে গৃহহীন বা ভাসমান মানুষের জীবনধারণে চিরচেনা ‘ঢাকা স্টাইলের’ নির্মম রূপটি দেখা যায় না।

এই পরিসংখ্যানটি আমাদের শুধু কিছু সংখ্যা দেখায় না, বরং একটি বড় প্রশ্ন ছুড়ে দেয়। কেন বরিশাল বা অন্য অঞ্চলের মানুষ নিজেদের ফাঁকা ও শান্ত চরাঞ্চল ছেড়ে ঢাকার ‘৩৯ হাজারের’ দমবন্ধ করা ঘনত্বের খাঁচায় এসে ভিড় করছেন? উত্তরটা খুব সহজ—জীবিকা। সেই সাথে আছে শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসাসহ নানাবিধ কারণ। প্রতিদিন ভোরে সড়ক ও নৌপথে গড়ে প্রায় ১ লাখ মানুষ বরিশাল অঞ্চল থেকে জীবিকা, শিক্ষা বা চিকিৎসার খোঁজে ঢাকায় প্রবেশ করছেন, যার ফলে রাজধানীতে স্থায়ী বা সাময়িকভাবে বসবাসকারী বরিশালের মানুষের সংখ্যা এখন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখে ঠেকেছে। উল্টো দিকে কর্মক্ষম তরুণ জনশক্তি হারিয়ে মাত্র ৯১ লাখ মানুষ নিয়ে পুরো বরিশাল বিভাগ একটি শান্ত কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনপদে পরিণত হয়েছে—যা আমাদের দেশের চরম আঞ্চলিক বৈষম্য ও একপেশে উন্নয়নকেই স্পষ্ট করে তোলে।

দেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার অন্যান্য বিভাগগুলোর চিত্র বিশ্লেষণ করলে এই বৈষম্য আরও স্পষ্ট হয়। দেশের মোট জনসংখ্যার (২০২৩ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার) মধ্যে কেবল ঢাকা ও চট্টগ্রাম—এই দুটি বিভাগেই বাস করে প্রায় ৮ কোটির কাছাকাছি মানুষ। যার মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪ কোটি ৪২ লাখ ১৫ হাজার ৭৫৯ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৭৮ হাজার ৮১২ জন। বাকি অর্ধেক জনসংখ্যা বাস করে অন্য ৬টি বিভাগ মিলিয়ে, যার মধ্যে রয়েছে রাজশাহী বিভাগে ২ কোটি ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১১৯ জন, রংপুর বিভাগে ১ কোটি ৭৬ লাখ ১০ হাজার ৯৫৬ জন, খুলনা বিভাগে ১ কোটি ৭৪ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার ৭১ ১ জন এবং সিলেট বিভাগে ১ কোটি ১০ লাখ ৩৪ হাজার ২১৬ জন বসবাস করেন।

বিবিএস-এর এই বিশাল জনমিতিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সমাজবিজ্ঞানী ড. জিনাত হুদা মনে করেন, আগে যেখানে একতলা বাড়িতে একটি মাত্র পরিবার থাকত, সেখানে الآن বহুতল ভবনে ৩০টির বেশি ফ্ল্যাট তৈরি হওয়ায় ভূমি, গ্যাস, পানি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত চাপ পড়ছে; এমনকি মাটির সহনশীলতা কমে যাওয়ায় ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়েছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার এই চাপে ঢাকার বাতাস মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং মেট্রোরেল বা এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা প্রকল্পের সুফলও ম্লান হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে প্রতিদিন কোটি কোটি কর্মঘণ্টা ও জ্বালানির অপচয় ঘটছে।

ড. জিনাত হুদা আরও জানান, মানুষের এই ঢাকামুখী হওয়ার পেছনে কেবল জীবিকাই নয়, বরং গভীর কিছু আর্থ-সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ কাজ করে। বিশেষ করে বরিশাল অঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে কাজের বৈচিত্র্য না পেয়ে বাধ্য হয়ে ঢাকায় আসছে। কারণ এখানে বিকল্প আয়ের সুযোগ অনেক বেশি। এর বাইরে উন্নত শিক্ষা, বিশেষায়িত চিকিৎসা, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা এবং নারী ও শিশুদের সামাজিক নিরাপত্তার পাশাপাশি ‘ঢাকায় থাকা’ এক ধরনের সামাজিক মর্যাদা বা ‘স্ট্যাটাস সিম্বল’ মনে করা হয়, যা অনেককে এক অদ্ভুত মানসিক তৃপ্তি দেয়।

তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো ‘ডি-সেন্ট্রালাইজেশন’ বা প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ; অর্থাৎ পর্যাপ্ত কাজের পরিবেশ তৈরিসহ সামাজিক নিরাপত্তা, স্কুল-কলেজের মান বৃদ্ধি, প্যাথলজিক্যাল সুযোগ-সুবিধা ও জীবনযাত্রার উন্নত পরিবেশ তৈরি করা, যাতে দক্ষ চিকিৎসক বা পেশাজীবীরা ঢাকার বাইরে থাকতে আগ্রহী হন এবং মানুষকে বাধ্য হয়ে সন্তানের শিক্ষা বা চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী হতে না হয়।

অন্যদিকে ঢাকায় জনসংখ্যার রেকর্ড ঘনত্বের কারণে প্রতিনিয়ত অপরাধ বেড়েই চলেছে। অপরাধবিজ্ঞান বিষয়ক গবেষক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম শাহীন এ প্রসঙ্গে এক বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেন, ঢাকা শহরে সংঘটিত অপরাধের একটি বিশাল অংশই মূলত ঠিকানাবিহীন ভাসমান মানুষদের দ্বারা ঘটে। যারা কোনো এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে, সমাজ ও প্রতিবেশীর কাছে জবাবদিহিতার ভয়ে তাদের মধ্যে অপরাধের প্রবণতা অনেক কম থাকে; কিন্তু ভাসমান মানুষদের ক্ষেত্রে এই সামাজিক দায়বদ্ধতা বা পরিচয় প্রকাশের ভয় না থাকায় তারা সহজেই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। মূলত ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি এবং ধর্ষণের মতো মারাত্মক অপরাধগুলো এই ভাসমান অপরাধীদের দ্বারাই বেশি সংঘটিত হয়, অথবা তাদেরকে ব্যবহার করা হয়।

এই ভাসমান অপরাধী চক্রের মনস্তত্ত্ব ও ধরন বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অ্যাডভোকেট নাহিদ এদের কয়েকটি সুনির্দিষ্ট শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। প্রথম সারিতে রয়েছে মাদকাসক্তরা, যারা ফুটপাতে থিতু হয়ে কেবল হিরোইন বা মাদকের টাকা জোগাড় করার জন্য প্রতিনিয়ত ছোটখাটো অপরাধ করে বেড়ায়।

দ্বিতীয়ত, বস্তিকেন্দ্রীক ভাসমান মানুষ এবং ঠিকানাবিহীন ভ্রাম্যমাণ অপরাধীরা, যাদের সমস্ত নথিপত্র গ্রামে থাকলেও শহরে কোনো স্থায়ী ঠিকানা থাকে না; ফলে তারা এক স্থানে চুরি, ডাকাতি বা হত্যাকাণ্ডের মতো বড় অপরাধ ঘটিয়ে দ্রুত অন্য স্থানে বা গ্রামে আত্মগোপন করতে পারে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো শহরের ‘টোকাই’ শ্রেণি, যাদের নিজস্ব কোনো অপরাধী সত্ত্বা না থাকলেও বড় বড় মাস্তান বা গডফাদাররা সামান্য টাকার বিনিময়ে তাদের ভাড়া করে এবং তাদের অবুঝ হাতে আধুনিক অস্ত্র তুলে দিয়ে বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড বা রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টি করে।

এই ভাসমান জনগোষ্ঠীর স্থায়ী পুনর্বাসন ও পরিচয় নিশ্চিত করা না গেলে ঢাকার এই জনবিস্ফোরণের সাথে অপরাধের গ্রাফও নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কঠিন হবে।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর এই অসম চিত্র এবং বিশেষজ্ঞদের গভীর পর্যবেক্ষণ একটি মৌলিক সত্যকে সামনে নিয়ে আসে। তাদের মতে, এই ধরনের জনবিস্ফোরণ বা অপরাধ প্রবণতা রাতারাতি তৈরি হয়নি, বরং এটি আমাদের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতার ফল। রাষ্ট্র বা শাসনব্যবস্থা যদি আন্তরিক হয় এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শক্ত রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে, তবে এই জনসংখ্যাগত মহাপ্লাবন এবং এর ফলে তৈরি হওয়া সামাজিক অপরাধগুলো সম্পূর্ণ নির্মূল না হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

ঢাকা দক্ষিণের প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩৯ হাজার ৪০৬ জন মানুষ থাকার এই অবিশ্বাস্য রেকর্ড আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়—বিকেন্দ্রীকরণ এখন আর কোনো সেমিনার বা গোলটেবিল বৈঠকের বিলাসী স্লোগান নয়, বরং ঢাকাকে বাঁচানোর এবং অন্য বিভাগগুলোকে স্বনির্ভর করার শেষ তাগিদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%