ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জনসংখ্যার রেকর্ড ঘনত্বে ঢাকায় বাড়ছে অপরাধ


জনসংখ্যার রেকর্ড ঘনত্বে ঢাকায় বাড়ছে অপরাধ

রাত তখন দুইটা। বুড়িগঙ্গার ওপার থেকে আসা হিমেল হাওয়াটা যখন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে এসে আছড়ে পড়ছে, ঠিক তখনই পল্টনের কোনো এক ফুটপাতে কিংবা ফুটওভার ব্রিজের নিচে একটুখানি ঘুমানোর জায়গা খুঁজছেন ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ। তার ঠিক পাশেই, মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে শুয়ে আছেন আরেকজন। এখানে মানুষের নিঃশ্বাসের শব্দও একে অপরের গায়ে লাগে। ঢাকায় জনসংখ্যার এই ঘনত্বের কারণে অপরাধও বাড়ছে।

অন্যদিকে একই রাতের আকাশে যখন চাঁদ, তখন বরিশালের কীর্তনখোলার বুকে মাইলের পর মাইল চরাঞ্চল কিংবা নদীপাড়ের গ্রামগুলো ডুবে থাকে অদ্ভুত নিস্তব্ধতায়। সেখানে দিগন্ত বিস্তৃত খোলা হাওয়া আছে, কিন্তু সেই হাওয়া গায়ে মাখার মতো মানুষ নেই। বাংলাদেশের মানচিত্রের দুই প্রান্তে জনসংখ্যার ঘনত্বের এমন অবিশ্বাস্য বৈষম্যের নাটক প্রতিদিন মঞ্চস্থ হয়, যা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যানের শুষ্ক সংখ্যাগুলো যখন গল্প বলতে শুরু করে, তখন তা যেকোনো রোমাঞ্চকর উপন্যাসের চেয়েও চমকপ্রদ হয়ে ওঠে। দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে জনসংখ্যার পরিমাপকালে দেখা গেছে, এক ঢাকা বিভাগেই এখন ঠাসাঠাসি করে বাস করছেন দেশের সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৪২ লাখ ১৫ হাজার ৭৫৯ জন মানুষ! সংখ্যাটি কল্পনা করতে পারেন? একটি মাত্র বিভাগে বাস করছেন গোটা দেশের জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের বেশি মানুষ। আর এই গল্পের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য লুকিয়ে আছে ঠিক তার বিপরী মেরু বরিশাল বিভাগে। পুরো বরিশাল বিভাগজুড়ে মানুষের সংখ্যা মাত্র ৯১ লাখ ১০৪ জন। অর্থাৎ, বরিশালের সব জেলা-উপজেলা আর গ্রাম মিলিয়ে যত মানুষ বাস করেন, তার চেয়ে চারগুণেরও বেশি মানুষ ঢাকা বিভাগে বাস করছেন।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে বাস-পিকআপ-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ২ জন নিহত

তবে এই প্রতিবেদনের আসল ‘ক্লাইমেক্স’ বা রেকর্ড লুকিয়ে আছে রাজধানী ঢাকার একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল। পরিসংখ্যান বলছে, জনসংখ্যার ঘনত্বে সব রেকর্ড ওলটপালট করে দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে শ্বাস নিচ্ছেন ৩৯ হাজার ৪০৬ জন মানুষ। মাত্র এক বর্গকিলোমিটার— যা হয়তো হেঁটে পার হতে ১৫ মিনিটও লাগে না, সেই সামান্য জায়গায় ৩৯ হাজারেরও বেশি মানুষের রাত কাটে। এই অবিশ্বাস্য ঘনত্বের কারণে ঢাকা দক্ষিণ আজকে শুধু দেশের নয়, পৃথিবীর অন্যতম শ্বাসরুদ্ধকর এক মানব-জঙ্গলে পরিণত হয়েছে।

জনশুমারির প্রতিবেদনের পাতা ওল্টালে আরও একটি নির্মম সত্য আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। কোটি কোটি মানুষের ঢাকায় আগমনের পেছনে লুকিয়ে আছে এক সামাজিক ‘ট্র্যাজেডি’। যা হলো ভাসমান বা গৃহহীন মানুষ।

বিবিএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারাদেশে মোট ভাসমান মানুষের সংখ্যা ২২ হাজার ১৮৫ জন হলেও বাস্তবে তা কয়েক গুণ বেশি। যাদের বিশাল একটি অংশ প্রতিরাতে আশ্রয় খোঁজেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ইট-পাথর আর কংক্রিটের ফাঁকে।

এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ভাসমান ও আশ্রয়হীন মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সদরঘাট, গুলিস্তান, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল কিংবা রেললাইনের ধারে হাজারো মানুষ রয়েছেন, যাদের কোনো স্থায়ী ছাদ নেই। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে অভিজাত ও বাণিজ্যিক এলাকা বেশি হলেও এখানেও কাজের সন্ধানে আসা ছিন্নমূল মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

আরও পড়ুন: হাফেজ্জী চ্যারিটেবলের উদ্যোগে অসহায় শহিদকে রিকশা উপহার

এছাড়া ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম বা গাজীপুরের মতো শিল্পাঞ্চলে ভাসমান মানুষের দেখা মিললেও, বরিশাল সিটি করপোরেশনে এই সংখ্যা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। যদিও বরিশালের বিভিন্ন অঞ্চলে নদীভাঙনে গৃহহীন মানুষ বসবাস করে এবং সেখানকার চরাঞ্চলে প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে মানুষ বেঁচে আছে। যা কখনো কখনো হৃদয়বিদারক অবস্থার সৃষ্টি করে—তবুও বরিশালের শান্ত পরিবেশ ও কম ঘনত্বের কারণে সেখানে গৃহহীন বা ভাসমান মানুষের জীবনধারণে চিরচেনা ‘ঢাকা স্টাইলের’ নির্মম রূপটি দেখা যায় না।

এই পরিসংখ্যানটি আমাদের শুধু কিছু সংখ্যা দেখায় না, বরং একটি বড় প্রশ্ন ছুড়ে দেয়। কেন বরিশাল বা অন্য অঞ্চলের মানুষ নিজেদের ফাঁকা ও শান্ত চরাঞ্চল ছেড়ে ঢাকার ‘৩৯ হাজারের’ দমবন্ধ করা ঘনত্বের খাঁচায় এসে ভিড় করছেন? উত্তরটা খুব সহজ—জীবিকা। সেই সাথে আছে শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসাসহ নানাবিধ কারণ। প্রতিদিন ভোরে সড়ক ও নৌপথে গড়ে প্রায় ১ লাখ মানুষ বরিশাল অঞ্চল থেকে জীবিকা, শিক্ষা বা চিকিৎসার খোঁজে ঢাকায় প্রবেশ করছেন, যার ফলে রাজধানীতে স্থায়ী বা সাময়িকভাবে বসবাসকারী বরিশালের মানুষের সংখ্যা এখন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখে ঠেকেছে। উল্টো দিকে কর্মক্ষম তরুণ জনশক্তি হারিয়ে মাত্র ৯১ লাখ মানুষ নিয়ে পুরো বরিশাল বিভাগ একটি শান্ত কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনপদে পরিণত হয়েছে—যা আমাদের দেশের চরম আঞ্চলিক বৈষম্য ও একপেশে উন্নয়নকেই স্পষ্ট করে তোলে।

দেশের সামগ্রিক জনসংখ্যার অন্যান্য বিভাগগুলোর চিত্র বিশ্লেষণ করলে এই বৈষম্য আরও স্পষ্ট হয়। দেশের মোট জনসংখ্যার (২০২৩ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার) মধ্যে কেবল ঢাকা ও চট্টগ্রাম—এই দুটি বিভাগেই বাস করে প্রায় ৮ কোটির কাছাকাছি মানুষ। যার মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪ কোটি ৪২ লাখ ১৫ হাজার ৭৫৯ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৭৮ হাজার ৮১২ জন। বাকি অর্ধেক জনসংখ্যা বাস করে অন্য ৬টি বিভাগ মিলিয়ে, যার মধ্যে রয়েছে রাজশাহী বিভাগে ২ কোটি ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১১৯ জন, রংপুর বিভাগে ১ কোটি ৭৬ লাখ ১০ হাজার ৯৫৬ জন, খুলনা বিভাগে ১ কোটি ৭৪ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার ৭১ ১ জন এবং সিলেট বিভাগে ১ কোটি ১০ লাখ ৩৪ হাজার ২১৬ জন বসবাস করেন।

বিবিএস-এর এই বিশাল জনমিতিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সমাজবিজ্ঞানী ড. জিনাত হুদা মনে করেন, আগে যেখানে একতলা বাড়িতে একটি মাত্র পরিবার থাকত, সেখানে الآن বহুতল ভবনে ৩০টির বেশি ফ্ল্যাট তৈরি হওয়ায় ভূমি, গ্যাস, পানি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত চাপ পড়ছে; এমনকি মাটির সহনশীলতা কমে যাওয়ায় ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়েছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার এই চাপে ঢাকার বাতাস মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং মেট্রোরেল বা এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা প্রকল্পের সুফলও ম্লান হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে প্রতিদিন কোটি কোটি কর্মঘণ্টা ও জ্বালানির অপচয় ঘটছে।

আরও পড়ুন: সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের কারণ জানতে প্রবাসীকল্যাণকে পররাষ্ট্রের চিঠি

ড. জিনাত হুদা আরও জানান, মানুষের এই ঢাকামুখী হওয়ার পেছনে কেবল জীবিকাই নয়, বরং গভীর কিছু আর্থ-সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ কাজ করে। বিশেষ করে বরিশাল অঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে কাজের বৈচিত্র্য না পেয়ে বাধ্য হয়ে ঢাকায় আসছে। কারণ এখানে বিকল্প আয়ের সুযোগ অনেক বেশি। এর বাইরে উন্নত শিক্ষা, বিশেষায়িত চিকিৎসা, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা এবং নারী ও শিশুদের সামাজিক নিরাপত্তার পাশাপাশি ‘ঢাকায় থাকা’ এক ধরনের সামাজিক মর্যাদা বা ‘স্ট্যাটাস সিম্বল’ মনে করা হয়, যা অনেককে এক অদ্ভুত মানসিক তৃপ্তি দেয়।

তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো ‘ডি-সেন্ট্রালাইজেশন’ বা প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ; অর্থাৎ পর্যাপ্ত কাজের পরিবেশ তৈরিসহ সামাজিক নিরাপত্তা, স্কুল-কলেজের মান বৃদ্ধি, প্যাথলজিক্যাল সুযোগ-সুবিধা ও জীবনযাত্রার উন্নত পরিবেশ তৈরি করা, যাতে দক্ষ চিকিৎসক বা পেশাজীবীরা ঢাকার বাইরে থাকতে আগ্রহী হন এবং মানুষকে বাধ্য হয়ে সন্তানের শিক্ষা বা চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী হতে না হয়।

অন্যদিকে ঢাকায় জনসংখ্যার রেকর্ড ঘনত্বের কারণে প্রতিনিয়ত অপরাধ বেড়েই চলেছে। অপরাধবিজ্ঞান বিষয়ক গবেষক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম শাহীন এ প্রসঙ্গে এক বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেন, ঢাকা শহরে সংঘটিত অপরাধের একটি বিশাল অংশই মূলত ঠিকানাবিহীন ভাসমান মানুষদের দ্বারা ঘটে। যারা কোনো এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে, সমাজ ও প্রতিবেশীর কাছে জবাবদিহিতার ভয়ে তাদের মধ্যে অপরাধের প্রবণতা অনেক কম থাকে; কিন্তু ভাসমান মানুষদের ক্ষেত্রে এই সামাজিক দায়বদ্ধতা বা পরিচয় প্রকাশের ভয় না থাকায় তারা সহজেই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। মূলত ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি এবং ধর্ষণের মতো মারাত্মক অপরাধগুলো এই ভাসমান অপরাধীদের দ্বারাই বেশি সংঘটিত হয়, অথবা তাদেরকে ব্যবহার করা হয়।

এই ভাসমান অপরাধী চক্রের মনস্তত্ত্ব ও ধরন বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অ্যাডভোকেট নাহিদ এদের কয়েকটি সুনির্দিষ্ট শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। প্রথম সারিতে রয়েছে মাদকাসক্তরা, যারা ফুটপাতে থিতু হয়ে কেবল হিরোইন বা মাদকের টাকা জোগাড় করার জন্য প্রতিনিয়ত ছোটখাটো অপরাধ করে বেড়ায়।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে এসআরবি: নয়মুল হাসান

দ্বিতীয়ত, বস্তিকেন্দ্রীক ভাসমান মানুষ এবং ঠিকানাবিহীন ভ্রাম্যমাণ অপরাধীরা, যাদের সমস্ত নথিপত্র গ্রামে থাকলেও শহরে কোনো স্থায়ী ঠিকানা থাকে না; ফলে তারা এক স্থানে চুরি, ডাকাতি বা হত্যাকাণ্ডের মতো বড় অপরাধ ঘটিয়ে দ্রুত অন্য স্থানে বা গ্রামে আত্মগোপন করতে পারে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো শহরের ‘টোকাই’ শ্রেণি, যাদের নিজস্ব কোনো অপরাধী সত্ত্বা না থাকলেও বড় বড় মাস্তান বা গডফাদাররা সামান্য টাকার বিনিময়ে তাদের ভাড়া করে এবং তাদের অবুঝ হাতে আধুনিক অস্ত্র তুলে দিয়ে বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড বা রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টি করে।

এই ভাসমান জনগোষ্ঠীর স্থায়ী পুনর্বাসন ও পরিচয় নিশ্চিত করা না গেলে ঢাকার এই জনবিস্ফোরণের সাথে অপরাধের গ্রাফও নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কঠিন হবে।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর এই অসম চিত্র এবং বিশেষজ্ঞদের গভীর পর্যবেক্ষণ একটি মৌলিক সত্যকে সামনে নিয়ে আসে। তাদের মতে, এই ধরনের জনবিস্ফোরণ বা অপরাধ প্রবণতা রাতারাতি তৈরি হয়নি, বরং এটি আমাদের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতার ফল। রাষ্ট্র বা শাসনব্যবস্থা যদি আন্তরিক হয় এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শক্ত রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে, তবে এই জনসংখ্যাগত মহাপ্লাবন এবং এর ফলে তৈরি হওয়া সামাজিক অপরাধগুলো সম্পূর্ণ নির্মূল না হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

আরও পড়ুন: আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টারের অপরিচ্ছন্নতায় ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, দুই সপ্তাহের সময় দিলেন

ঢাকা দক্ষিণের প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩৯ হাজার ৪০৬ জন মানুষ থাকার এই অবিশ্বাস্য রেকর্ড আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়—বিকেন্দ্রীকরণ এখন আর কোনো সেমিনার বা গোলটেবিল বৈঠকের বিলাসী স্লোগান নয়, বরং ঢাকাকে বাঁচানোর এবং অন্য বিভাগগুলোকে স্বনির্ভর করার শেষ তাগিদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় ঢাকাবাসী, সঠিক পদক্ষেপের প্রত্যাশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৮ পি.এম


সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় ঢাকাবাসী, সঠিক পদক্ষেপের প্রত্যাশা

রাজধানী ঢাকায় সামান্য বৃষ্টির ফলে যেন নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ডুবে যায় সড়ক, অলিগলি এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো। জলাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে যায় এবং লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হন। এই অবস্থায় যানজটও সৃষ্টি হয়। নগরবাসীরা এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

এদিকে, সারা দেশের ওপর মৌসুমী বায়ু সক্রিয় রয়ে গেছে এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিস্তৃত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা অব্যাহত থাকতে পারে, এ বিষয়ে তথ্য প্রদান করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর।

রোববার (২১ জুন) বিকেল থেকে ঢাকার আকাশ অন্ধকার হতে শুরু করে। শুরুতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অফিস ছুটির সময় মুষলধারায় পরিণত হয়। দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক জলমগ্ন হয়ে যায়। অনেক স্থানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সড়কে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়।

কিছু সময়ের জন্য বৃষ্টি হলেই ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ফলে নগরবাসীর ভোগান্তির মাত্রা চরমে পৌঁছে যায়। রোববারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। মাত্র ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক পানিতে ডুবে যায়। অফিস থেকে বাড়িতে ফিরতে যাওয়া জনগণ ভয়াবহ বিড়ম্বনায় পড়েন। অনেক দোকানপাটও বন্ধ রাখতে হয়।

বৃষ্টির কারণে মিরপুর, নিউমার্কেট, গ্রিন রোড, পল্টন, শান্তিনগর সায়েদাবাদসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। নগরবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর একই সমস্যা ঘটে অথচ কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।

জলাবদ্ধতা সমাধানে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন নগরবাসী।

এদিকে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির অগ্রগতি অব্যাহত থাকতে পারে এবং আবহওয়া অধিদফতর এমন তথ্য জানিয়েছে।

বিকেলে সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তীকালে ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, কোথাও কোথাও অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে সারাদেশে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, এই সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এছাড়া সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে সারাদেশে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে রংপুরের ডিমলায়। এক্ষেত্রে দেশের সর্বাধিক তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রংপুরের ডিমলায় ২৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদফতর যেকোনো লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উত্তর অংশে সক্রিয় এবং দেশটির অন্যান্য অংশে মোটামুটি সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। মৌসুমী বায়ু উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুইজারল্যান্ডে ইরান-মার্কিন আলোচনার প্রথম দফা শেষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৮ পি.এম


সুইজারল্যান্ডে ইরান-মার্কিন আলোচনার প্রথম দফা শেষ

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স রোববার জানিয়েছে যে, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণে চার-পক্ষীয় আলোচনার প্রথম পর্ব সুইজারল্যান্ডে শেষ হয়েছে। খবরটি ইরানি আলোচক দলের সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।

সূত্রটির মতে, সুইজারল্যান্ডে আয়োজিত এই আলোচনার প্রাথমিক পর্ব এখন সম্পন্ন হয়েছে।

সূত্রটি আরও জানায় যে, অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদলগুলোকে অভ্যন্তরীণ আলোচনার সুযোগ দেবার জন্য প্রায় ৮০ মিনিটের আলোচনা পর বৈঠকটি স্থগিত করা হয়।

এছাড়া, পরবর্তী অধিবেশন কখন শুরু হবে বা অন্য কোনো বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে, দিনের শুরুতে কাতার ঘোষণা দেয় যে, দুই পক্ষের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির শর্তাবলী বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনার জন্য কাতারি ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের অংশগ্রহণে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শুরু হয়েছে।

কয়েক মাস ধরে চলতে থাকা মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার লক্ষ্যে, বুধবার স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অধীনে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল আগেভাগেই সুইজারল্যান্ডে পৌঁছায়।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বার্গেনস্টকের এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং ইরানের পক্ষে সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রয়েছেন।

সূত্র: আনাদোলু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

'হলি ওয়াটার' কেলেঙ্কারি- ব্রাজিলের খেলোয়াড়কে ঘুমের ওষুধ খাইয়েছিল আর্জেন্টাইন ফিজিও!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৯ পি.এম


দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের ফুটবল ম্যাচ মানেই সমর্থকদের মধ্যে দেখা যায় বাড়তি উন্মাদনা।

আর সেখানে যদি কোনো বিতর্কিত ঘটনার সম্মিলন থাকে, তবে সেটি তো কথাই নেই; সমর্থকদের তর্ক এবং আলোচনায় সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায় ওই বিষয়গুলোই।

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের ম্যাচে সবচেয়ে বড় বিতর্কিত ঘটনাটি ১৯৯০ বিশ্বকাপে ঘটেছিল।

সে বিশ্বকাপে একটি অভিযোগ উঠেছিল আর্জেন্টাইন ফিজিও'র বিরুদ্ধে, যে ব্রাজিলের খেলোয়াড়কে ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত পানি খাইয়ে দেয়া হয়েছিল।

তবে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো দলিল বা প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি মূলত ১৯৯০ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর খেলায় ঘটে।

১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালিতে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব সিক্সটিনে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিলের।

সেই ম্যাচকে ঘিরেই মূলত 'ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত পানি' খাওয়ানোর অভিযোগটি ওঠে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে, যা ঐতিহাসিকভাবে 'হলি ওয়াটার' স্ক্যান্ডাল নামে পরিচিত।

এখন যেমন, তখনও আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ম্যাচকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে ছিল তুমুল উন্মাদনা।

ফলে দুদলের খেলোয়াড়দের মধ্যে জয়ের তীব্র মানসিকতা ছিল।

১৯৯০ বিশ্বকাপের আগে এই দুই দল বিশ্বকাপে তিনবার মুখোমুখি হয়েছিল।

এর মধ্যে ১৯৭৪ ও ১৯৮২ বিশ্বকাপে জিতেছিল ব্রাজিল এবং ১৯৭৮ বিশ্বকাপে অনুষ্ঠিত দুই দলের মধ্যকার ম্যাচটি অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়েছিল।

এদিকে, বিশ্বকাপের এই মঞ্চে প্রথমবারের মতো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারানোর বড় সুযোগ হিসেবে দেখছিল আর্জেন্টিনা।

তবে আর্জেন্টিনার অবস্থাও তখন তেমন ভালো ছিল না।

ম্যারাডোনার নৈপূণ্য দিয়ে আগের বিশ্বকাপটি জিতলেও, ওই বিশ্বকাপের অনেক তারকা ইনজুরি এবং খারাপ ফর্মের কারণে ১৯৯০ বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা দলে ছিলেন না।

এছাড়া, বিশ্বকাপের শুরুটাও ছিল আর্জেন্টিনার জন্য স্বস্তিদায়ক নয়।

নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ক্যামেরুনের কাছে তারা ১-০ গোলে হারিয়ে বসে!

গ্রুপপর্বের পরের ম্যাচে সোভিয়েত ইউনিয়নকে ২-০ গোলে হারালেও রোমানিয়ার সাথে ম্যাচটি ১-১ গোল ড্র করে গ্রুপে তৃতীয় হয়ে কোনোমতে রাউন্ড অফ সিক্সটিন নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

অন্যদিকে, ব্রাজিল ছিলেন ওই বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট দল।

সেবাস্তিও ল্যাজারনির নেতৃত্বে একটি গোছানো দল নিয়ে সেলেসাওরা ঐ বিশ্বকাপে এসেছিল।

গ্রুপপর্বের সবগুলো ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই রাউন্ড অফ সিক্সটিন নিশ্চিত করে তারা।

এ কারণে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণে ব্রাজিলই ফেভারিট ছিল।

১০ জুন তুরিনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অনুমেয়ভাবেই ব্রাজিল শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা শুরু থেকেই ফর্মের অভাবে ছিল ব্যাকফুটে।

মিডফিল্ডে দুই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের দুঙ্গা ও অ্যালেমাওর দাপটে বলই পাচ্ছিল না আর্জেন্টিনা।

কিন্তু জালের দেখা মিলছিল না কোনোমতেই।

ব্রাজিলের টানা আক্রমণে দিশেহারা আর্জেন্টিনার পরিকল্পনার সবটা জুড়েই ছিলেন ম্যারাডোনা।

দলে কাউন্টার অ্যাটাকে গোল আদায় করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিল তারা।

কিন্তু সেদিন শুরু থেকেই ব্রাজিলের ডিফেন্ডার ও ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডাররা ম্যারাডোনাকে কড়া পাহারায় রাখায় তার সুবিধা করতে পারেননি।

বিশেষ করে ব্রাজিলিয়ান লেফটব্যাক ব্রাংকো সেদিন অসাধারণ খেলছিলেন।

তিনি বেশ কয়েকবার ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করলেও ম্যারাডোনা সেটা কিছুতেই করতে পারেননি।

দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার পেদ্রো ত্রগলিও আহত হয়ে পড়ায় কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ ছিল।

কিন্তু পরে খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকেই ব্রাংকোকে আগের মতন চনমনে লাগছিল না, এবং তাকে দেখে মনে হচ্ছিল, কিছু হয়েছে।

ব্রাংকোর হুট করে এই পরিবর্তনের সুযোগটাই নিলেন ম্যারাডোনা। ৮১ মিনিটে ব্রাংকোকে অনায়াসেই ফাঁকি দিয়ে ডানপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে গেলেন ম্যারাডোনা।

হঠাৎ করেই ব্রাংকো এভাবে খেই হারানোয় পুরো ম্যাচে অসাধারণ ডিফেন্স করা ব্রাজিলের ডিফেন্সিভ সেটআপ ভেঙে গেলো।

ম্যারাডোনাকে আটকাতে গিয়ে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডাররা তাকে ঘিরে ধরার সময় আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড ক্ল Claudio Kanižia হয়ে যান আনমার্কড।

ম্যারাডোনাও তাই বল বাড়িয়ে দিলেন ক্যানিজিয়ার দিকে।

ব্রাজিলের গোলকিপার তাফারেলকে একা পেয়ে ক্যানিজিয়া বল জালে জড়াতে ভুল করলেন না।

পুরো ম্যাচে আক্রমণে দাপট দেখালেও প্রথম গোলটা পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

তবে গোলের পর থেকেই ব্রাংকোকে অজানা কারণে উত্তেজিত দেখাচ্ছিল যেন তিনি সতীর্থদের কিছু বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন।

এদিকে, মেজাজ হারিয়ে খেলার ৮৫ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ব্রাজিলের অধিনায়ক রিকার্ডো গোমেজ।

এভাবে ম্যাচটিতে ব্রাজিল ১-০ গোলে হেরে যায়।

এই হারের ফলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায়।

বিতর্কটি মূলত ম্যাচ শেষের পর শুরু হয়।

ম্যাচ শেষে ব্রাংকো দাবি করেন, দ্বিতীয়ার্ধে পেদ্রো ত্রগলিওর ইনজুরি কারণে খেলা যখন বন্ধ ছিল, তখন নাকি আর্জেন্টিনার ফিজিও মিগুয়েল ডি লরেঞ্জোর কাছ থেকে একটা বোতল পানি নিয়ে পান করেছিলেন।

আর সেই পানি পান করেই ব্রাংকোর মাথা ঝিমঝিম করতে শুরু করে এবং অসুস্থতা তিনি অনুভব করেন।

ব্রাংকো যে আর্জেন্টিনার ফিজিওর আনা পানি খেয়েছিলেন সেটার প্রমাণও ছিল।

কিন্তু পানিতে কিছু মেশানোর অভিযোগ প্রমাণের কোনো সুযোগ ছিল না।

তাছাড়া, ব্রাংকোর বক্তব্যের পর আর্জেন্টিনার প্রেস ব্রাংকোর অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

এ কারণে অভিযোগটি নিয়ে তখন খুব একটা চর্চা হয়নি।

১৫ বছর পর ২০০৫ সালে এই ঘটনা নিয়ে সবচেয়ে বড় বোমাটা ফাটান ম্যারাডোনা নিজেই।

আর্জেন্টিনার এক টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন যে, সেদিন ব্রাংকোকে দেয়া পানিতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিলেন!

আর এই বক্তব্যের পরেই পুরনো সেই আগুন আবার জ্বলে ওঠে।

সেসময়কার সিবিএফ সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্টোনিও টেক্সেইরা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে চান।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট রিকার্ডো টেক্সেইরা অভিযোগ না করার সিদ্ধান্ত নেন।

এতে বিষয়টি বেশিদূর এগোয়নি।

ওই ম্যাচের সময়ে আর্জেন্টিনার কোচ কার্লোস বিলার্দোও এ অভিযোগটি অস্বীকার করেন এবং ম্যারাডোনাকে বাস্তবে ফেরার পরামর্শ দেন।

এদিকে, যে ফিজিওকে নিয়ে এত গণ্ডগোল সেই ফিজিও নিজেও পুরো ঘটনা অস্বীকার করেন।

তবে ফিজিওর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন ১৯৯০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড বেবেতো।

তিনি বলেন, 'লরেঞ্জো যদি এ ঘটনা অস্বীকার করে থাকেন তবে তিনি মিথ্যা বলেছেন, লরেঞ্জো পরে আমার কাছে পুরো ঘটনাটি স্বীকার করেছিলেন।'

তখনকার ব্রাজিল কোচ এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, 'এটা কিছুতেই স্পোর্টসসম্যানশিপের অংশ হতে পারে না, এটা সম্পূর্ণ নোংরা একটা খেলা।

ঘটনা ১৪ বছর আগে অথবা ১৪ দিন, ফিফার উচিত এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের কঠিন শাস্তির আওতায় এনে একটি উদাহরণ স্থাপন করা।

কে নিশ্চয়তা দিতে পারে আর্জেন্টিনা অন্য কোনো দলের বিপক্ষে এমন কোনো নোংরা খেলতে বাধ্য হয়নি?'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিশরে ৪৫ হাজার ডলারসহ বাংলাদেশি ব্যবসায়ী অপহরণ, কৌশলে পালিয়ে দূতাবাসে অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:২০ পি.এম


মিশরে ৪৫ হাজার ডলারসহ বাংলাদেশি ব্যবসায়ী অপহরণ, কৌশলে পালিয়ে দূতাবাসে অভিযোগ

মিশরের রাজধানী কায়রো বিমানবন্দরের বাইরে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. শরিফুল ইসলাম (পাসপোর্ট নম্বর- A09799701), পিতা—মো. আয়নাল হক, গ্রাম—বড়াপাড়া, ডাকঘর—আমলা সদরপুর, উপজেলা—মিরপুর, জেলা—কুষ্টিয়া। তার সঙ্গে থাকা প্রায় ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার, পাসপোর্ট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে তাকে আটকে রাখা হয়। পরে সে কৌশলে পালিয়ে মিশরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয় নেয়।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকা থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে 'ওকে-টু-বোর্ড' ভিসা নিয়ে কায়রো পৌঁছান শরিফুল ইসলাম। বিমানবন্দর থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর মিশরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষমাণ কয়েকজন বাংলাদেশি তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

শরিফুল ইসলাম আরটিভি প্রতিনিধিকে জানান, প্রায় ছয় মাস আগে ঢাকার কাস্টমস অফিসে মিশর প্রবাসী নাসিমা আক্তার নামে এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই নারী বলেছিলেন, মিশর থেকে কমলা, খেজুর, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যবসার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দূতাবাস থেকে ভিসার প্রয়োজন নেই জানিয়ে শ্রীলঙ্কা হয়ে 'ওকে-টু-বোর্ড' ভিসায় কায়রো আসার পরামর্শ দেন এবং সব ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন।

শরিফুল জানান, নাসিমা আক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি প্রথমে শ্রীলঙ্কায় যান এবং কিছুদিন অবস্থানের পর ১৮ জুন কায়রো পৌঁছান। কায়রো বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে আসা অন্যান্য বাংলাদেশিদের প্রবেশের অনুমতি দিলেও তাকে কিছু সময় আটকে রাখা হয়। পরে নাসিমা আক্তারের লোকজন ইমিগ্রেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে বিমানবন্দর থেকে বের করে নিয়ে যান।

তিনি আরও জানান, বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষমাণ পাঁচ বাংলাদেশি তাকে একটি গাড়িতে তুলে একটি কপি শপে নিয়ে যান। ওই স্থানে কিছু সময় অবস্থানের পর কায়রো শহর ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যান। পরে রাত প্রায় ১টার দিকে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রবেশের পরই তার ওপর হামলা চালানো হয় এবং মারধরের একপর্যায়ে তার লাগেজে থাকা প্রায় ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার, পাসপোর্ট এবং অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে তাকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।

শরিফুলের দাবি, পরদিন রাতে আরও দুই বাংলাদেশি এসে তাকে খাবার ও পানি দেন। কিছুক্ষণ পর তাকে অন্য একটি গাড়িতে করে অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে আবারও মারধর করা হয় এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করা হয়।

তিনি জানান, দেশে তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে রাত প্রায় তিনটার দিকে কক্ষের জানালা দিয়ে বের হয়ে পাইপ বেয়ে নিচে নেমে আসেন এবং দীর্ঘ চেষ্টার পর কৌশলে বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়ে আশ্রয় নেন।

বর্তমানে মো. শরিফুল ইসলাম মিশরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%