সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১৯ পি.এম
দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য ট্রোম্যান খীসার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে রাঙামাটির নানিয়ারচরে তার নিজ গ্রাম রামহরি পাড়ায় বৌদ্ধধর্মীয় রীতি ও যথাযোগ্য সামরিক মর্যাদায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি দল আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে প্রয়াত নৌ-সদস্যের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২০ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েন বাংলাদেশ ফোর্স মেরিটাইম ইউনিট ব্যানএফএমইউ-১১-এ দায়িত্ব পালনকালে ট্রোম্যান খীসা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে ভারতীয় ফিল্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তার অবদানের কথা স্মরণ করে জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রতিনিধি এবং দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত শান্তিরক্ষা মিশনের প্রধানও তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
ট্রোম্যান খীসার জন্ম ১৯৮৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার রামহরি পাড়ায়। তিনি ২০০৬ সালের ১ জুলাই নাবিক হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাসীন বিএনপি গৃহদাহের মধ্যে রয়েছে। নগরীর দুই প্রভাবশালী নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং শফিকুল ইসলাম মনার মধ্যে পুরোনো দ্বন্দ্ব আবারও মাথাচাড়া দিয়েছে। বর্তমানে খুলনা বিএনপি দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে কোন্দল নিরসনের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। এই পরিস্থিতিতে জামায়াত নিজেদের সুবিধা নিতে চেষ্টা করছে। বিরোধী দল একক মেয়র প্রার্থী নিয়ে ভোটের মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। যদি কোন্দলের সমাধান না হয়, তাহলে জাতীয় নির্বাচনে যেমন দুটি আসন হারিয়েছে বিএনপি, তেমনি সিটি নির্বাচনে তাদের প্রার্থীও পরাজয়ের মুখোমুখি হতে পারেন।
খুলনার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মহানগরের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র মনিরুজ্জামান মনির সঙ্গে রয়েছেন। অপরদিকে মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম মনা এবং শফিকুল আলম তুহিনেরও রয়েছে বিপুল কর্মী সমর্থন। মঞ্জু দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর মনা গ্রুপ তাকে কোণঠাসা করে রাখে। তিনি দলে ফিরে আসার পর বিভাজন আবারও প্রকাশ্যে চলে আসে। মাঝে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল দুই পক্ষকে এক করার চেষ্টা করেন।
খুলনা সিটি করপোরেশন comprises ৩১টি ওয়ার্ড, যার মধ্যে খানজাহান আলী, দৌলতপুর, খালিশপুর, সোনাডাঙ্গা, সদর থানা অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে নগরীতে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৮৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৯০৬ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৭৯ হাজার ৯৬৭ জন। ১৯৮৪ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কেসিসিতে ২০ জন মেয়র দায়িত্ব পালন করেছেন, যাদের মধ্যে ৮ জন বিএনপির এবং ৫ জন আওয়ামী লীগের।
খুলনা সিটিতে বিএনপির প্রভাব দীর্ঘকাল ধরে ছিল। আওয়ামী লীগের সময়েও বিএনপির মেয়রপ্রার্থী এখানে জয়ী হয়েছেন। তবে এবারের নির্বাচনে বিএনপি সারাদেশে জয়ী হলেও খুলনা নগরীর একটি আসন হারিয়েছে।
বর্তমানে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি খুলনা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, গ্রুপিং, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে কম গুরুত্ব দেওয়ার কারণে এই পরাজয় ঘটে। মেয়র পদেও তিনি এবারও দাবিদার।
নগরীর বিভিন্ন মোড়ে বিএনপি-জামায়াতের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা পোস্টার সাঁটানো শুরু করেছেন। তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অনেক ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীরাও প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছেন। তারা মোড়ে মোড়ে পোস্টার, ব্যানার লাগানোসহ নানা সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজেদের জানান দিচ্ছেন।
কেসিসির সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর পালিয়ে যান। পরে অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসক দিয়ে কেসিসি পরিচালনা করে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে প্রশাসক পদ দেওয়া হয়। বর্তমানে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির পক্ষে তিনিই মাঠে রয়েছেন। তবে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা, মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম জহির, মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর প্রমুখ।
এদিকে জামায়াতের একক মেয়র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। সাংগঠনিকভাবে কেসিসি নির্বাচন নিয়ে জামায়াত সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে। কারণ গত সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তাদের একমাত্র টার্গেট কেসিসির মেয়রের চেয়ারটি। তারা রাজনৈতিকভাবে একক প্রার্থী ঘোষণা দিয়েই কাজ শুরু করেছেন। খুলনার ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে বেশির ভাগ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জামায়াত। অথচ এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়নি।
এদিকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন এসএম মুশফিকুর রহমান। তিনি ২০১৮ ও ২০২৩ সালে কেসিসি নির্বাচন করেছিলেন।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, খুলনা সিটি মেয়র পদটি তারা কোনোভাবেই হারাতে চায় না। প্রশাসক মঞ্জু প্রতিনিয়ত তার রুটিন কাজের পাশাপাশি দলীয় কাজে অংশ নিচ্ছেন। তবে ডেঙ্গু মোকাবিলা, জলাবদ্ধতা এবং অন্যান্য কারণে তাকে পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া সংসদ নির্বাচনের পর দলের অন্তর্কোন্দল আরও প্রকাশ্যে এসেছে। সর্বশেষ কেসিসি বাজেট মিটিংয়ে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কাউকে দেখা যায়নি। নেতাদের দাবি, সব সংকট কাটিয়ে আগামী নির্বাচনে বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে মেয়র পদটি প্রধানমন্ত্রীকে ‘উপহার’ দেবেন।
এদিকে নাম প্রকাশ না করে বিএনপির একাধিক নেতা যুগান্তরকে জানান, মহানগর বিএনপির সঙ্গে মঞ্জু-মনা ভাই গ্রুপের দ্বন্দ্বের অবসান হয়নি। যার প্রভাব গত সংসদ নির্বাচনে পড়েছিল। যদি আগামীতে এই গ্রুপিং থেকে যায়, তবে বিএনপি মেয়র পদটিও হারাতে পারে।
খুলনার ইতিহাসে মেয়র পদে জামায়াত কখনো আসেনি; কিন্তু এবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় বিএনপি খুলনার স্থানীয় দলীয় অন্তর্কোন্দল মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে। খুলনায় বিএনপি দেখতে যতটা ঐক্যবদ্ধ, ভেতরটা ততই ফাঁকা। নেতাদের ভাষ্য- এই সংকট মোকাবিলায় কাঁধে কাঁধ মিশিয়ে রাজনীতি করতে হবে। বিএনপি নেতাদের অন্তর্কোন্দলের কারণে ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতৃত্ব সংকট আরও প্রকট হয়েছে।
মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি দলের কাছে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইব। দল মনোনয়ন দিলে অবশ্যই নির্বাচন করব।’
জামায়াতের মেয়র প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘জামায়াত দ্বিতীয়বারের মতো এখানে মেয়র নির্বাচন করছে। এর আগে ছাতা প্রতীক নিয়ে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার নির্বাচন করেছিলেন। আমরা কেসিসি মেয়র পদে জয় নিয়ে শতভাগ আশাবাদী। খুলনা-২ ও খুলনা-৩ আসন নিয়ে কেসিসির নির্বাচন। গত সংসদ নির্বাচনে এই দুটি আসন থেকে সাধারণ মানুষ আমাদের পক্ষে ব্যাপক সাড়া দিয়েছে। আশা করি কেসিসি নির্বাচনে জনগণ আমাদের পাশে থাকবে। আমরা ইতোমধ্যে অধিকাংশ ওয়ার্ডেই কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছি।’
কেসিসির বর্তমান প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘দল থেকে সিটি নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি। আগে ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচন। এরপর সিটি নির্বাচন। আমাকে প্রধানমন্ত্রী যে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেটি পালন করে যাচ্ছি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নগরবাসীর জন্য কাজ করছি। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কিছুই করব না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, সরকার মিডিয়াকে টার্গেট করে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬ প্রণয়ন করতে চায় না। তিনি উল্লেখ করেন, “কোনো সাংবাদিক এটার শিকার হোক, এ আইনের অপপ্রয়োগ হোক—সেটা আমরা চাই না।”
তিনি রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬ খসড়া পর্যালোচনার জন্য মিডিয়ার অংশীজনদের অংশগ্রহণে কনসালটেশন সভায় এসব কথা বলেন।
সভায় ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকরা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট-এর যে সংশোধনী আনার জন্য একটা বিল, খসড়া বিল রেডি করেছিলাম, সেটা ক্যাবিনেটে আলোচনা হয়েছে। ক্যাবিনেট আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, আমরা যেন সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে এটা আলোচনা করি এবং যারা সাইবার স্পেসে কাজ করেন, আইসিটি এক্সপার্ট, তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলি।”
তিনি আরও বলেন, “এ আইনটি যাতে নিবর্তনমূলক কোনো আইনে পরিণত না হয়, সে জন্য আমরা সমাজের সর্বস্তরের মতামত গ্রহণ করার জন্য ওয়েবসাইটে খসড়া বিলটি প্রকাশ করেছি। ওয়েবসাইটে অনেকেই মতামত দিয়েছেন, অনেক প্রতিষ্ঠান মতামত দিয়েছে, অনেক মানবাধিকার সংগঠন, হিউম্যান রাইটস বডিজ মতামত দিয়েছে, অনেক শিক্ষার্থী মতামত দিয়েছেন, সেটা আমরা কম্পাইল করেছি।”
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা দেশের সবচয়েকে উল্লেখযোগ্য প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সব প্রতিনিধি, সম্পাদক, বিশিষ্ট সাংবাদিকসহ সংবাদপত্রের সংগঠন এবং জার্নালিস্টদের বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন প্রতিনিধি, সবার সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। আজ তৃতীয় বৈঠক। আপনাদের সঙ্গে বৈঠকে, সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে, গত ১০ তারিখে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে আপনারা পরবর্তী মিটিংয়ে আপনাদের সুস্পষ্ট মতামত লিখিতভাবে অথবা ওয়েবসাইটে অথবা আপনারা মিটিংয়ে আমাদের কাছে দেবেন। অনেকেই বক্তব্যের সঙ্গে সেটা বলেছেন যে আপনারা লিখিত মতামতটা দিয়ে যাবেন। আশা করি, পেয়ে যাব।”
মন্ত্রী বলেন, “প্রস্তাব এসেছে—আমরা যেন আরেকটু সময় নিয়ে মিডিয়া এবং সাইবার এক্সপার্টদের সমন্বয়ে একটি মতামত নিই এবং মিডিয়া যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, এ আইনে ভিকটিমাইজড না হয়, সে জন্য আমরা কিছু প্রটেকশন যাতে রাখি বা সেভিং ক্লজ রাখি। আমরা প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছি। আমরা মনে করি সবার আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে এ আইনটি সমৃদ্ধ হবে।”
তিনি আরো বলেন, “কোনো সাংবাদিক যাতে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য একটা প্রস্তাবও এখানে করা হয়েছে যে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি নিতে হবে, গ্রেপ্তারের আগে। সেটা আমরা উপযুক্ত মনে করেছি, তারপরও রিকমেন্ডেশনস আসুক, আমরা সেটা ইনক্লুড করব। এ ছাড়া আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটা সার্টেইন টাইম লিমিট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেটাও আমরা দিচ্ছি যাতে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত ঝুলে না থাকে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আরো অন্যান্য বিষয়ের পরামর্শ আমরা তাদের কাছ থেকে পাব আশা করি। সেটার সমন্বয়ের জন্য আমরা পিআইওকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে এখানে দায়িত্ব দিয়েছি।”
তিনি জানান, “আইসিটি মিনিস্ট্রি এবং ইনফরমেশন মিনিস্ট্রি সেটা কো-অর্ডিনেট করবে। সংবাদপত্রের সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধিরা থাকবেন, সঙ্গে ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা থাকবেন, সাইবার সিকিউরিটি বা সাইবার এক্সপার্টদের একটা প্যানেল করা হবে, সেটা আইসিটি মিনিস্ট্রি করবে, তারা সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করবেন। সেখানে আমাদের সমন্বয়ক হিসেবে পিআইও কাজ করবেন। আশা করছি, ৭-১৫ দিনের মধ্যেই এ রিকমেন্ডেশনসগুলো পাব। তারপর আমরা সেটা অফিশিয়ালি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেব। এরপর সেটা ক্যাবিনেটে নিয়ে যাওয়ার আগে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করব। তখনো মতামত দেওয়ার জন্য আপনাদের স্বাধীনতা থাকবে। সেটাও আমরা গ্রহণযোগ্য হলে ধারণ করব।”
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “বিল আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বিধি মোতাবেক আইন মন্ত্রণালয়ে সভা হয় এবং তারপরে ক্যাবিনেটে সেটা বিবেচনার জন্য যাবে। ক্যাবিনেট যদি সেটা অ্যাপ্রুভ করে, তখন সেটা বিল আকারে সংসদে যাবে। সংসদে গেলেও আমরা সেটা তড়িঘড়ি করে পাস করব না। সেখানে আলাপ-আলোচনা হবে, সংসদীয় কমিটিতে যাবে। বিরোধী দল, সরকারি দল সবাই আলোচনা করবে এবং সংসদের বাইরেও আশা করি, বিভিন্ন রকমের সেমিনার-সিম্পোজিয়াম আপনারা করবেন, সেখান থেকেও মতামত আসবে।”
তিনি বলেন, “সব কিছু মিলিয়ে আমরা এমন একটা আইন করতে চাই, যে আইনের মাধ্যমে আমরা যুবসমাজসহ সর্বস্তরের লোকজনকে রক্ষা করতে পারব।”
তিনি আরো বলেন, “যারা এ সাইবার স্পেস ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটন করছে এবং সমাজে সেটা মারাত্মক আকারে সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে যাচ্ছে, সেখান থেকে তাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সামাজিক সুরক্ষা, সোশ্যাল হারমনি, রিলিজিয়াস হারমনি এবং পারিবারিক বন্ধন সবকিছু আমাদের টিকিয়ে রাখতে হবে। আমাদের কালচারের সঙ্গে মিলিয়ে এবং ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ আইনটা করতে চাই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ বুং কার্নো স্টেডিয়ামে খেলতে নেমেছে। তবে আজকের আসিয়ান কাপের ম্যাচে তাদের শুরুটা ভালো হয়নি। সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে গেছেন হামজা চৌধুরী ও জামাল ভূঁইয়া।
জাকার্তায় শুরু থেকেই দুই দল বল পজিশন দখলের চেষ্টা করলেও গোল করার মতো কোনো উল্লেখযোগ্য আক্রমণ করতে পারেনি। ম্যাচের প্রথম ভালো আক্রমণটি দেখা যায় ১৬ মিনিটে। মেহেদী হাসান শ্রাবণের অসাধারণ দক্ষতায় বাংলাদেশ বেঁচে যায়। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ইলহান ফান্দির শটটি কর্নারের মাধ্যমে সেভ করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক।
কুলিং বিরতির পর ৩৩ মিনিটে শ্রাবণ আবারও অবিশ্বাস্য এক সেভ করেন। সিঙ্গাপুর বক্সের বাইরে ফ্রি কিক পায়। সেই ফ্রি কিক থেকে সিঙ্গাপুরের জ্যাকব উইলিয়ামের হেড ঝাঁপিয়ে পড়ে নিশ্চিত গোল বাঁচান শ্রাবণ। প্রতিপক্ষ অবশ্য ফিরতি সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু এবার বিপদমুক্ত করেন তারিক কাজী।
যদিও বাংলাদেশ সেই যাত্রায় বাঁচতে পেরেছিল, কিন্তু ৩৫ মিনিটে নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে পারেনি। ডান দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো ক্রসে হেডে গোলটি করেন হারহিস স্টুয়ার্ট। এবার শ্রাবণ দাঁড়িয়ে থেকে শুধু বলকে জালে প্রবেশ করতে দেখলেন।
২ মিনিট পর ব্যবধান আরো বাড়তে পারত। সিঙ্গাপুরের এক খেলোয়াড়ের শট ক্রসবারে লাগে, ফলে বাংলাদেশ ভাগ্যকে পাশে পেয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশ গোলমুখে শট নেওয়ার সুযোগই পায়নি। পরে আর কোনো গোল না হলে বিরতিতে যায় দুই দল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন পাস হলে বাংলাদেশ একটি বৃহৎ কারাগারে পরিণত হবে, এমন মন্তব্য করেছেন দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। মতিউর রহমান চৌধুরী উল্লেখ করেন, "সংশোধন ছাড়া যদি এই আইন পাস হয়, তাহলে বাংলাদেশ একটি বৃহৎ কারাগারে পরিণত হবে।"
এর আগে ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, আইনটি এভাবে পাস হলে গণমাধ্যমের ওপর বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার আইনটি নিয়ে আরও আলোচনার সুযোগ দেওয়ায় তারা আনন্দিত। সাইবার সুরক্ষা বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ গ্রুপ এবং গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে একটি গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব গ্রুপের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়া হবে।
মাহফুজ আনাম বলেন, বর্তমান প্রযুক্তির কারণে সবাই সাইবার জগতের অংশ। গণমাধ্যমের অনলাইন, মাল্টিমিডিয়া ও ডিজিটাল কার্যক্রম রয়েছে। তাই সাইবার অপরাধীদের শাস্তি দিতে গিয়ে এমন কোনো আইন করা উচিত নয়, যাতে শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রস্তাবিত আইনে বেশ কিছু শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যেগুলোর সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, সংজ্ঞা না থাকলে এসব বিধান বিভিন্নভাবে প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এছাড়া কয়েকটি অপরাধের ক্ষেত্রে দুই বছর, পাঁচ বছর ও ১০ বছর পর্যন্ত শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
মোবাইল কোর্টের বিধান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মাহফুজ আনাম। তিনি বলেন, একজন প্রতিবেদক যদি কোনো প্রতিবেদন করার পর মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সাজা পান, তাহলে সেটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য বড় প্রশ্ন তৈরি করবে।
তিনি বলেন, "একটা রিপোর্টার ধরেন, সে একটা রিপোর্ট করতেছে, সেই রিপোর্টার কি মোবাইল কোর্টের জাজমেন্ট হইতে পারে? আমাদের ধারণা এবং আমাদের যে বিষয়, মোবাইল কোর্টের প্রভিশনটা ছিল সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত।"
মাহফুজ আনাম আরও বলেন, সাইবার সুরক্ষা ও গণমাধ্যমকে নিয়ে এ ধরনের মোবাইল কোর্টের বিধান কীভাবে প্রস্তাবিত আইনে এলো, সেটি বড় প্রশ্ন। খসড়াটি কারা এবং কী চিন্তা থেকে তৈরি করেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার গণমাধ্যমকে প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যম এবং সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এমন প্রস্তাব দেওয়া হবে, যাতে গণমাধ্যমের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত হয় এবং সাংবাদিকরা আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন।
এদিকে একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান ও সিইও আব্দুস সালাম বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কারও পছন্দ না হলে বা কেউ মনে করলে তার মানহানি হয়েছে, সেই অভিযোগে সাংবাদিককে গ্রেফতার বা কারাগারে পাঠানোর সুযোগ থাকা উচিত নয়।
তিনি বলেন, "সাইবার সুরক্ষা আইন দরকার আছে। সেটা হচ্ছে যারা সাইবার জগতে বিভিন্ন ধরনের ক্রাইম করে তাদের জন্য। এখন যদি সেটা মিডিয়ার ওপরে পড়ে, ধরেন আপনার একটা রিপোর্ট করতেছেন বা কেউ ক্ষুব্ধ হইলো, সে এখন আপনার ওপর মামলা করে দিলো, মালিকসহ মামলা করে দিলো, সে অ্যারেস্ট হইলো বা মোবাইল কোর্ট যদি থাকে, আপনার সাথে সাথে ধরেন আপনি রিপোর্ট করলেন, আপনি রাস্তায় যাচ্ছেন, আপনাকে ধরে নিয়ে গেলো। তো এটা তো হইতে পারে না।"
আব্দুস সালাম আরও বলেন, এভাবে সাংবাদিকদের ওপর আইন প্রয়োগ হলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে। সাইবার অপরাধ দমনে আইন প্রয়োজন হলেও মূলধারার গণমাধ্যম, ডিজিটাল মিডিয়া এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, "মিডিয়ার ফ্রিডম থাকতে হবে এবং আমাদের সুরক্ষাও থাকতে হবে, প্রোটেকশনও থাকতে হবে।" এ বিষয়ে আরও কিছু প্রস্তাব দেওয়া হবে এবং সরকার সেগুলো বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ