সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৩৪ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের কফি চেইন স্টারবাকস চেন্নাইয়ে একটি বৈশ্বিক প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন করার পরিকল্পনা করছে। এই উদ্যোগের জন্য প্রতিষ্ঠানটি তামিলনাড়ু রাজ্য সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পাদন করেছে। নতুন এই প্রযুক্তি কেন্দ্র চালু হলে প্রায় ৮০০টি প্রযুক্তি খাতের চাকরি সৃষ্টি হতে পারে। সোমবার তামিলনাড়ু সরকার এ তথ্য প্রকাশ করেছে। উল্লেখ্য, চেন্নাই তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজধানী এবং এখানে ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক কেন্দ্র অবস্থিত রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাটা কনজ্যুমার প্রোডাক্টসের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভারতীয় বাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করছে স্টারবাকস। দেশটিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৫০০টি ক্যাফে রয়েছে। নতুন প্রযুক্তি কেন্দ্রটি স্টারবাকসের ভারতে কার্যক্রমের পাশাপাশি বৈশ্বিক কার্যক্রমে সহায়তা করবে কিনা, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়নি। অফিস সময়ের বাইরে রয়টার্স স্টারবাকসের সঙ্গে যোগাযোগ করে মন্তব্য জানতে চেয়েছিল, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। স্টারবাকসের চুক্তির কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালগ্রিনসও তামিলনাড়ু সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। চুক্তির আওতায়, প্রতিষ্ঠানটি চেন্নাইয়ে একটি বৈশ্বিক প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন করবে। ফলে চেন্নাইয়ে বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চেন্নাইয়ে ইতিমধ্যে সিটি, বার্কলেস এবং আমেরিকান এক্সপ্রেসের মতো বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি কেন্দ্র বিদ্যমান। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে। অতীতে, এ ধরনের প্রযুক্তি কেন্দ্রগুলো মূলত কম খরচে দাপ্তরিক ও সহায়ক কাজের জন্য ব্যবহৃত হত। তবে সময়ের সঙ্গে এসব কেন্দ্রের কার্যক্রমের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এসব কেন্দ্র থেকে তাদের ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থ ব্যবস্থাপনা, সফটওয়্যার তৈরি, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা এবং গবেষণা ও উন্নয়ন। ফলে চেন্নাইয়ের মতো শহরে বৈশ্বিক প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন করা শুধুমাত্র চাকরি সৃষ্টি নয়, বরং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্যও সহায়ক হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে বিদ্যালয়ের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৮নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মধুপুর ১ । এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়,আজ দুপুরে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে মিড ডে মিলের খাবার পরিবেশন করা হয়। খাবার খাওয়ার কিছু সময় পর বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে অনেকের বমি, পেটব্যথা, মাথা ঘোরা ও শারীরিক দুর্বলতাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয় বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩০ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন। সন্তানদের অসুস্থতার ঘটনায় অনেক অভিভাবক উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা খাবারের মান ও প্রস্তুত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবারে কোনো ধরনের সমস্যা থাকার কারণেই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে। তবে খাবার খাওয়ার কারণেই অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং চিকিৎসকদের মতামত জানা গেলে ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে খাবারের নমুনা পরীক্ষা করে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান, সংরক্ষণ ও প্রস্তুত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে তদারকিরও আহ্বান জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ৮ দফা দাবিতে লং মার্চ কর্মসূচি পালন করছে। এই কর্মসূচির মধ্যে থাকা অবস্থায়, দলের ৩৪ জন সংসদ সদস্য তিনটি দেশে সফরে রয়েছেন। উল্লেখ্য, ৩৪ এমপির অন্তত ২৬ জন ১৭ দিনের এই সফরে তাদের পরিবারের সদস্যদেরও নিয়ে গেছেন। এ নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।
দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিরোধী দলের লং মার্চের সময় জামায়াতের সংসদ সদস্যদের বিদেশ সফর নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই সফর পূর্বনির্ধারিত ছিল। এমপিদের বিদেশে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি দলের পরিকল্পনার অংশ।
জামায়াত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সফররত ৩৪ জন এমপির মধ্যে ২৫ থেকে ২৬ জন তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে গেছেন। সফরের দলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং সাবেক এমপি মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানও রয়েছেন। লেখক জিয়াউল হকও সফরসঙ্গী।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর দুই দফায় সফরকারী দলের সদস্যরা মালয়েশিয়ায় পৌঁছান। সেখানে তারা প্রথম তিন দিন অবস্থান করেন। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে চলে যান। গত শনিবার তারা ফিলিপাইনে পৌঁছান। সফর শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাবেন। বাহরাইনে যাত্রাবিরতির পরিকল্পনাও রয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর তাদের দেশে ফেরার কথা।
মালয়েশিয়ায় জামায়াতের এমপিদের সঙ্গে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মাসজলি মালিকের সাক্ষাৎ ঘটে। তিনি কেদিলান রাকাইয়াতের আন্তর্জাতিক–বিষয়ক ব্যুরোর প্রধান। ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড ইসলামিক স্টাডিজ (আইএআইএস) মালয়েশিয়ার সঙ্গেও তিনি যুক্ত। ১৭ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে জামায়াতের এমপিদের আতিথ্য দেওয়ার কথা জানান মাসজলি মালিক। তিনি উল্লেখ করেন, সংস্কারপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশ্বজুড়ে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, সে বিষয়ে কিছু ভাবনা তুলে ধরেছেন। বৈঠকে অধ্যাপক জিয়াউদ্দিন সারদারের ‘পোস্ট-নরমাল টাইমস’ ধারণা নিয়েও আলোচনা হয়। জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা, সততা, জবাবদিহি এবং জনগণের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
জামায়াতের সূত্র অনুযায়ী, মাসজলি মালিক নিজ উদ্যোগে এমপিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টার, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া (আইআইইউএম) সহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন।
সিঙ্গাপুরে সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণ
১৭ সেপ্টেম্বর জামায়াতের এমপিরা সিঙ্গাপুরে পৌঁছান। সেখানে তারা নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করেন। ২০২৫ সালের গ্লোবাল র্যাকিং অব একাডেমিক সাবজেক্টসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভাগে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বের সেরা হিসেবে স্থান পেয়েছে।
দলটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সিম্পোজিয়ামেও অংশ নেয়। সেখানে সিঙ্গাপুরের বর্তমান অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়।
সিঙ্গাপুর সফর শেষে শনিবার তারা ফিলিপিনসে পৌঁছান। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক এবং দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইন থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা হবে সফরকারীরা। ওমরাহ পালনের আগে বাহরাইনে যাত্রাবিরতির সময় বিমানবন্দরের আশপাশের কিছু স্থান ঘুরে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর সৌদিতে ওমরা শেষে ৩০ সেপ্টেম্বরের ফ্লাইটে তারা দেশে ফিরবেন।
‘প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি’
জামায়াতের সফরকারী দলের সদস্য ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, এমপিরা জামায়াতের আমিরের অনুমতি নিয়ে বিদেশ সফরে এসেছেন। জাতীয় সংসদের স্পিকারকেও এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।
সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সৈয়দ জয়নুল আবেদীন জানান, সংসদ সদস্যদের অনেকেই আগে বিদেশ সফরের সুযোগ পাননি। উন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বর্তমান পরিস্থিতি এবং তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার বিষয়গুলো বোঝার জন্যই এই সফর।
সফরকারী দলের সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান জানান, এই সফরের পরিকল্পনা আগে থেকেই করা হয়েছিল। তবে সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের কারণে তা পিছিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের অনেকেই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়েছেন এবং অনেকেরই দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করাই সফরের উদ্দেশ্য। তিনি সফরটিকে প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেন।
সফরকারী সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এটি কোনো রাজনৈতিক সফর নয়, তবে মালয়েশিয়ার সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। পূর্বপরিচিতি ও সাংগঠনিক যোগাযোগের সূত্র ধরে এসব সাক্ষাৎ হয়েছে বলে তারা জানান।
জামায়াত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সফরে এমপিরা বিভিন্ন দেশের সরকারি ও বিরোধী দল, ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর চ্যালেঞ্জ, সংসদীয় আচরণ, এমপিদের ভূমিকা, স্বচ্ছতা, সততা, জবাবদিহি ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
‘পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা’
জামায়াত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামীকে দেশের দায়িত্ব নেওয়ার মতো অবস্থানে নিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে দলের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতাদের আন্তর্জাতিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। বর্তমান বিদেশ সফর সেই পরিকল্পনার অংশ।
সূত্রগুলো জানায়, শুধু এই সফর নয়, ভবিষ্যতে ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দলের সদস্যদের সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব সফরে সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্ব ও ছাত্রসংগঠনের নেতারাও অংশ নেবেন। জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের উদ্দেশ্যে এসব সফরে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা রয়েছে।
জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া সেলের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জামায়াতের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এর আগেও দলের অনেক সদস্য বিদেশে গেছেন। এই সফর তারই ধারাবাহিকতা। তবে এবার বিশেষভাবে এমপিদের জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ছোটবেলা থেকেই রতন শিউলির প্রতি ভালোবাসা অনুভব করে আসছে। সময়ের প্রবাহে দুজনেই বড় হয়ে উঠেছে এবং তাদের জীবনের পথ পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে শিউলি ফুল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে, অন্যদিকে রতন শহরের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের খেলনা বিক্রি করে। অভাব-অনটনের এই জীবনে রতন সবসময় শিউলির পাশে থাকে, তার প্রতি গভীর ভালোবাসা নিয়ে।
তবে শিউলির জীবনে একটি অসুস্থতা তাকে ভিন্ন পথে নিয়ে গেছে। সেই অসুস্থতার কারণে তার একটি পা নষ্ট হয়ে যায়। এরপর থেকে শিউলি এক পায়ে ভর করে জীবনযুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতার জন্য রতনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে শিউলি একধরনের হীনম্মন্যতায় ভোগে। তার মনে হয়, এই শারীরিক পার্থক্যের জন্য তারা কখনোই ‘সমান সমান’ হতে পারবে না।
এদিকে, মেয়ের বিয়ের জন্য শিউলির মা উঠেপড়ে লেগেছে। সবকিছু জানার পরও এক ব্যক্তি শিউলিকে বিয়ে করতে রাজি হয় এবং বিয়ের দিন-তারিখও ঠিক হয়ে যায়। যখন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শিউলির হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে, তখন রতন তাকে ফিরে পাওয়ার জন্য মরিয়া চেষ্টা শুরু করে।
শিউলির মতো ‘সমান’ হওয়ার জন্য রতন একটি অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নেয়। এমনকি নিজের একটি পা হারানোর বিষয়টিও ভাবতে শুরু করে সে। ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে নিজেকে সমান করে তুলতে তার এই আত্মত্যাগের আকাঙ্ক্ষা নাটকের গল্পে আবেগঘন টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে।
নাটক ‘সমান সমান’ এই গল্পের উপর নির্মিত। ভালোবাসা, আত্মত্যাগ এবং মানবিক অনুভূতির জটিল সমীকরণের এই কাহিনীতে রতন ও শিউলি চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা এবং নিশা চৌধুরী। নাটকটি পরিচালনা করেছেন রওনক রিপন।
সাইফুল আলম শামীম ও রওনক রিপনের চিত্রনাট্যে নির্মিত নাটকটি প্রথমে এনটিভি চ্যানেলে প্রচারিত হয়। সম্প্রতি নাটকটি ইউটিউবে উন্মুক্ত করা হয়েছে। যদিও নাটকটি খুব বেশি ভিউ পায়নি, তবে দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে ‘সমান সমান’।
নাটকটি দেখে একজন নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, “ভালো লেগেছে নাটকটি। তবে ভিউস আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল।” আরেকজন লিখেছেন, “নিশা চৌধুরীর অভিনয়টা খুব সুন্দর হয়েছে।” একজন লিখেছেন, “খুব সুন্দর একটি কাজ।”
শ্যামল মাওলা ও নিশা চৌধুরী ছাড়াও নাটকটিতে অভিনয় করেছেন রেজওয়ান পারভেজ, আয়মন শিমলা, শিল্পী সরকার, সাইফুল আলম শামীম, শিশুশিল্পী কথা, কিষাণসহ আরও অনেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম দুই ভিত্তি কাউখালী কেজি ইউনিয়ন সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও কাউখালী এসবি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এখন তীব্র শিক্ষক সংকটে জর্জরিত। সরকারি ঘোষণার প্রায় চার দশক পার হতে চললেও প্রতিষ্ঠান দুটি কখনোই পূর্ণাঙ্গ শিক্ষক কাঠামো পায়নি। বর্তমানে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন শিক্ষক-কর্মচারী সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, যার ফলে সাধারণ পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।প্রতিষ্ঠান দুটিতে মোট ৩৪টি শিক্ষক পদের মধ্যে ২২টি পদই খালি। প্রায় ৯০০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১ জন শিক্ষক। এছাড়া কর্মচারীদের ১০টি পদের বিপরীতে অধিকাংশ পদই খালি পড়ে আছে। পাঠদানের এই বেহাল দশায় অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে এবং সচ্ছল পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে শহরের দিকে পাড়ি জমাচ্ছে।শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান রক্ষায় অভিভাবক সমাজে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অভিভাবক এনামুল হক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সারাদেশের সরকারি স্কুলগুলোতে কম-বেশি শিক্ষক সংকট থাকলেও কাউখালীর এই দুটি স্কুলের সংকট সবচেয়ে ভয়াবহ। এভাবে চলতে থাকলে কাউখালীর পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাই শূন্যতায় ভেসে যাবে।অন্য এক শিক্ষার্থী অভিভাবক সানজিদা রেশমা ক্ষোভের সাথে জানান, শিক্ষকদের খালি পদগুলো অতি দ্রুত পূরণ করা না হলে সন্তানদের ভবিষ্যতের দায়িত্ব নেবে কে? কাউখালী এসবি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৪৫৬ জন ছাত্রী থাকলেও ১৭টি অনুমোদিত শিক্ষক পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ ১১টি পদই দীর্ঘদিন ধরে খালি। কর্মচারীদের ৪টি পদের সবকটিই শূন্য। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আকতার হোসেন হাওলাদার জানান, শিক্ষক না থাকায় বর্তমানে দুইজন অতিথি শিক্ষক দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে পাঠদান চালু রাখা হয়েছে।কাউখালী কেজি ইউনিয়ন সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৩৫ জন ছাত্রের এই বিদ্যাপীঠে ১৭ জন শিক্ষকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় দাপ্তরিক কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজন হালদার বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হান্নান শিক্ষক সংকটের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টিতে পাঠদান দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং এ বিষয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসাইন সংকট স্বীকার করে আশ্বাস দিয়েছেন যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই শিক্ষক সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি আশ্বাসের খাতা বন্ধ করে অবিলম্বে যেন শূন্য পদে শিক্ষক পদায়ন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ