০৭:৩৬ পি.এম
ঝিনাইদহের মহেশপুরে বুকসমান কাদায় আটকে থাকা চারটি মহিষ উদ্ধার করা হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে। রবিবার (১৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হলে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেনের নজরে আসে। তার হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মহিষগুলোকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার স্বরূপপুর ইউনিয়নের গোকুলনগর গ্রামে আব্দুল আলিম দীর্ঘ ৬ মাস ধরে বুকসমান কাদায় মহিষগুলোকে আটকে রেখেছিলেন। সেখানে মহিষগুলোর খাবার খাওয়া এবং ঘুমানোসহ সব কিছুই কাদার মধ্যে করতে হতো। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে অস্বাভাবিক ও কষ্টকর পরিবেশে থাকার ফলে মহিষগুলোর অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছিল।
মহিষগুলোকে কাদা থেকে তুলে নিরাপদ স্থানে রাখার অনুরোধ করা হলেও আলিম তা আমলে নেননি। তারপর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুর রহিম মহিষগুলোর দুর্দশার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন। এই ভিডিওটি ইউএনও সাজ্জাদ হোসেনের নজরে এলে তিনি মহিষগুলো উদ্ধারের উদ্যোগ নেন।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন/ধানের শীষ নাকি দাঁড়িপাল্লা, কার ওপর আস্থা রাখছেন ভোটাররা
স্থানীয় পশুপ্রেমী নাজমুল হোসেন বলেন, প্রাণীরা মানুষের মতো নিজেদের কষ্টের কথা বলতে পারে না। তবে তাদেরও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। চারটি মহিষকে দীর্ঘদিন ধরে কাদার মধ্যে আটকে রাখা দৃশ্যটি সত্যিই হৃদয়বিদারক।
আব্দুল আলীমের মা সত্য খাতুন জানান, তিনি একাধিকবার ছেলেকে বলেছেন মহিষগুলোকে ভালো স্থানে রাখতে। কিন্তু তিনি শোনেননি। মহিষগুলোকে কাদার মধ্যে আটকে রেখে সব সময় সেখানে খাদ্য দেওয়া হত।
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মহিষগুলো উদ্ধার করে ভালো স্থানে রাখা হয়েছে। মহিষের মালিককে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মহিষগুলোর জন্য পর্যাপ্ত শুকনো মেঝে, খাবার পানি ও নিরাপদ বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: বরিশালে ডিএইচএমএস ভর্তি পরীক্ষা: সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা দিল বিএমপি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন