সন্দ্বীপ প্রতিনিধি | আমিনুল ইসলাম রিয়াদ
০৭:০০ পি.এম
সংবর্ধনা ও ফুলেল শুভেচ্ছায় সন্দ্বীপে বরণ, মহিলা বিভাগের উদ্যোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নারীদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শামছুন্নাহার বেগম।
রবিবার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৩টায় সন্দ্বীপে তাঁর সফর উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সন্দ্বীপ উপজেলা মহিলা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা ও মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়।
উপজেলা মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি সাবিনা ইয়াছমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন পেশাজীবী দায়িত্বশীলা খালেদা ইয়াছমিন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি লুৎফুন্নাহার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামছুন্নাহার বেগম বলেন, নারীদের শিক্ষা, নৈতিকতা, আত্মমর্যাদা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি আদর্শ সমাজ গড়ে তুলতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানুষের আত্মত্যাগ ও প্রত্যাশাকে সম্মান জানিয়ে ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতায়ন এবং পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা নিশ্চিত করতে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, সচেতনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সন্দ্বীপের নারীদের সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করে সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে নারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
নারীদের অধিকার, শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে সমাবেশটি শেষ হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করে বলেছেন, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন বাস্তবায়িত হলে তা সরকারের জন্য বুমেরাং বা আত্মঘাতী হয়ে উঠবে।
তিনি রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সংস্থাটির কার্যলয়ে সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "প্রস্তাবিত আইনটি সরকারের জন্য বুমেরাং হবে, আত্নঘাতী হবে। সরকারের উচিত এই অবস্থান থেকে সরে আসা।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইনে প্রাধান্য পেয়েছে কীভাবে ক্ষমতাকে আরও কুক্ষিগত করা যায়। এর মাধ্যমে বাকস্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা হচ্ছে। ভুয়া তথ্য ঠেকানোর নামে মানুষের অধিকারকে ‘ক্রিমিনালাইজ’ করা যৌক্তিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ফেসবুক, ইউটিউবের মতো অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যাকাউন্টটিবিলিটি নিশ্চিত না করা গেলে, অনলাইনে মিস ইনফরমেশন, ডিজইনফরমেশন শুধুমাত্র আইন করে বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
একই অনুষ্ঠানে নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী মন্তব্য করেন, ক্ষমতাসীন সরকার সমালোচনার বিরুদ্ধে আইন করতে চায়, কিন্তু ক্ষমতা হারানোর পর তারাই অন্যায়ের শিকার হয়।
তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, "দয়া করে আমাদের হাতটা আবার বাঁধবেন না। হাত বেঁধে দিলে আপনার ক্ষতি হবে। আপনার জন্য কিন্তু আমি আর লিখতে পারব না। আপনাকে একদিন আমাদের কাছে আবার আসতে হবে।"
অন্য বক্তারা আইনে মানহানি, দায়মুক্তি বিষয়টি না রাখার কথা জানান। তারা সাংবাদিকদের এই আইনের আওতায় না পড়লে সরকারকে তা আইনে উল্লেখ করে দেয়ার পরামর্শ দেন।
গোলটেবিল বৈঠকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ প্রধান ফৌজিয়া আফরোজ প্রমুখ অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) থেকে আটক করা হয়েছে এক ভুয়া চিকিৎসক। তার নাম রাকিব হোসেন (২৫) বলে জানা যায়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের অপারেশন থিয়েটারের সামনে থেকে আনসার সদস্যরা তাকে আটক করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী জরুরি বিভাগের কয়েকজন সিনিয়র স্টাফ নার্স জানিয়েছেন, দুপুরের দিকে ওই যুবক গলায় স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে জরুরি বিভাগের ৪ নম্বর রুমের অপারেশন থিয়েটারের সামনে এসে নার্সদের কাছে এক চিকিৎসকের খোঁজ করেন। তখন দায়িত্বরত নার্সদের সন্দেহ হলে তারা ওই যুবকের পরিচয় জানতে চান। তখন তিনি নিজেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেন।
তবে তার পোশাক ও আচরণ দেখে সন্দেহ আরও বাড়ে। এক রোগীর চিকিৎসাপত্র পড়তে দেয়া হলে তিনি সেটি পড়তে না পেরে নিজেকে আবার নার্স বলে পরিচয় দেন। নার্সিং কলেজের নাম ও ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি সেগুলোও বলতে পারেননি। এরপর তাকে দায়িত্বরত আনসারদের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী সিনিয়র স্টাফ নার্স।
ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, আনসারদের হাতে আটক হওয়ার পর হাসপাতালের পরিচালক ওই প্রতারককে পুলিশ হেফাজতে নিতে বলেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি জানান, আটক হওয়া ভুয়া চিকিৎসক নিজেকে রাকিব হোসেন বলে পরিচয় দিয়েছেন। তার বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলায়। বাবার নাম ফারুক হোসেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার সাভারে বসবাস করছেন। জানা যায়, ওই যুবকের ভাই হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধা সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেতে ফরম সংগ্রহ করেছেন ৫৬ জন। কুপতলা ইউনিয়নে সর্বাধিক ১১ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন, অন্যদিকে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নে সর্বনিম্ন একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে এই তৎপরতা শুরু হয়েছে।
মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী রোববার (১৮ অক্টোবর)। এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত গাইবান্ধা বিএনপি কার্যালয় থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা এসব ফরম সংগ্রহ করেন।
গাইবান্ধা সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মকছুদার রহমান জানান, ইউনিয়নভিত্তিক মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীদের মধ্যে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে ৭ জন, মালিবাড়ী ইউনিয়নে ৫ জন, কুপতলা ইউনিয়নে ১১ জন, সাহাপাড়া ইউনিয়নে ২ জন, বল্লমঝাড় ইউনিয়নে ৬ জন, রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নে ১ জন, বাদিয়াখালী ইউনিয়নে ২ জন, বোয়ালী ইউনিয়নে ২ জন, খোলাহাটি ইউনিয়নে ৫ জন, ঘাঘোয়া ইউনিয়নে ৪ জন, গিদারী ইউনিয়নে ৫ জন, কামারজানি ইউনিয়নে ৩ জন এবং মোল্লারচর ইউনিয়নে ৩ জন রয়েছেন। সব মিলিয়ে ১৩টি ইউনিয়নে ৫৬ জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।
তিনি আরও জানান, রোববার মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার শেষ দিন। যাচাই-বাছাই ও তৃণমূলের নেতাকর্মী-সমর্থকদের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে একজন করে মোট ১৩ জনের নাম চূড়ান্ত দলীয় মনোনয়নের জন্য সুপারিশ করা হবে। এ ক্ষেত্রে সদর উপজেলা ও জেলা বিএনপির সমন্বয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মনোনয়ন ফরম বিতরণের সময় গাইবান্ধা সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোশাররফ হোসেন বাবুসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অভিনেত্রী শেহতাজ মনিরা হাশেম, যিনি প্রীতম হাসানের সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে বেশ নীরব ছিলেন, এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনের এই পরিবর্তন নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা ও কৌতূহলের মধ্যে তিনি সম্প্রতি ফেসবুকে প্রকৃতির মাঝে কাটানো কিছু মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করেছেন। তার নতুন পোস্ট আবারও তাকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
ছবিগুলোতে শেহতাজকে খোলা প্রান্তর ও প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাতে দেখা যাচ্ছে। ছবির সঙ্গে আবহসংগীত হিসেবে সেন্ট অ্যাভানজেলিনের ‘লিলিল’ গানটি ব্যবহার করেছেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন করে কোনো মন্তব্য করেননি শেহতাজ। প্রকৃতির মাঝে কাটানো এই মুহূর্তগুলোর ছবি এখন তার অনুসারীদের নজর কেড়েছে।
২০২২ সালে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা প্রীতম হাসান এবং শেহতাজ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু গত ৪ অক্টোবর তারা বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে তারা তাদের বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, ‘আমি ও শেহতাজ পারস্পরিক বোঝাপড়ায় আমাদের দশ বছরের পথচলার পর আমাদের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তারা আরও লেখেন, ‘একসঙ্গে কাটানো সময়, স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার জন্য আমরা দুজনই কৃতজ্ঞ। একে অপরের প্রতি আমাদের সম্মান ও শুভকামনা সবসময়ই থাকবে। তবে সময়ের সঙ্গে আমরা উপলব্ধি করেছি যে, পারস্পরিক বোঝাপড়ার কিছু বড় পার্থক্যের কারণে আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়া আমাদের দুজনের জন্যই ভালো হবে।’
বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রীতম বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তটি হঠাৎ করে নেওয়া নয়। অনেক ভেবেচিন্তে, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং পরিবারের সমর্থন ও সম্মতি নিয়েই আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। বর্তমানে আমরা বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি এবং জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে আলাদাভাবে এগিয়ে যেতে চাই। এই পরিবর্তনের সময়টুকুতে আমাদের ব্যক্তিগত পরিসর, গোপনীয়তা ও অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য আমাদের বন্ধু, সহকর্মী এবং গণমাধ্যমের প্রতি আন্তরিক অনুরোধ রইল। আমরা আশা করি, বিষয়টি আমাদের দুজনের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতার সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।’
বিচ্ছেদের ঘোষণার পর শেহতাজের নতুন ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পোস্টটি প্রকাশের সাত ঘণ্টার মধ্যে এতে প্রায় ৪১ হাজার প্রতিক্রিয়া এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ