হুমায়ুন কবির, বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:২৬ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচার ও মানহানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাহবুবুর রহমান বোরহান। তিনি এসব অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের ডিসির ব্রিজসংলগ্ন নিজ মালিকানাধীন জমিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাহবুবুর রহমান বোরহান দাবি করেন, এসএ, আরএস ও বিআরএস খতিয়ান এবং দাগ অনুযায়ী তিনি ওই জমির বৈধ মালিক। বিদ্যালয়ের কোনো জমি তিনি দখল করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ভৌগোলিক সীমানা অনুযায়ী তাঁর জমির পাশে প্রথমে শফিক খানের জমি এবং এরপর বিদ্যালয়ের জমি রয়েছে। মাঝখানে অন্য ব্যক্তির জমি থাকার পরও বিদ্যালয়ের জমি দখলের অভিযোগ কীভাবে উঠেছে, তা তাঁর বোধগম্য নয়।
মাহবুবুর রহমান বোরহান আরও অভিযোগ করেন, মাদারীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামরুন নাহার তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন বক্তব্য ও অপপ্রচার চালিয়েছেন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে মানববন্ধন করিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, কামরুন নাহার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পাভেলুর রহমান শফিক খানের স্ত্রী হওয়ায় ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করেছেন।
এসব অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে মাহবুবুর রহমান বোরহান বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে করা অপপ্রচার বন্ধ করে প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে সঠিক তথ্য প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া অসত্য বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এর আগে বুধবার সকালে মাদারীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের লিজ নেওয়া জমি অবৈধভাবে দখল করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ তুলে মাহবুবুর রহমান বোরহানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মাহবুবুর রহমান বোরহান মিয়া, তাঁর স্ত্রী মাদারীপুর ডিসি একাডেমির প্রধান শিক্ষক মাহফুজা বেগম বিউটিফুল, ছেলে রাকিব মাহবুব রাতুল, ছেলের স্ত্রী সর্নিকা জাহান মিমসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) পুনরায় বন্ধ হয়ে গেছে, প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর চালু হওয়ার মাত্র দুদিন পর। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে কারিগরি সমস্যার কারণে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) উত্তম চৌধুরী এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, "কারিগরি সমস্যার কারণে ভোর চারটার দিকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। আগামী রবিবার অথবা সোমবারের দিকে কারখানাটি পুনরায় চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।"
গত মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে সিইউএফএলে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়েছিল। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস পর কারখানাটি উৎপাদনে ফিরে আসে। প্রথমে অ্যামোনিয়া প্ল্যান্ট চালু করা হয় এবং পরে ধাপে ধাপে ইউরিয়া প্ল্যান্টে উৎপাদন শুরু হয়।
তবে উৎপাদন শুরুর ৪৬ ঘণ্টার মধ্যে আবারও কারিগরি সমস্যার কারণে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়।সিইউএফএল সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৪ মার্চ গ্যাস-সংকটের কারণে কারখানাটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর ২৫ আগস্ট কারখানাটিতে ফের গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। তবে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর যন্ত্রপাতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কারিগরি প্রস্তুতির কারণে তাৎক্ষণিক উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি।
প্রস্তুতি শেষে ১৫ সেপ্টেম্বর উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু উৎপাদন শুরুর পর কিছু কারিগরি জটিলতা দেখা দেয়। কর্তৃপক্ষ তখন জানিয়েছিল, সেগুলো সমাধান করে উৎপাদনে ফেরা সম্ভব হবে। কিন্তু এর মধ্যেই নতুন করে কারিগরি সমস্যায় উৎপাদন আবার বন্ধ হয়ে গেল।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে কারখানাটির যন্ত্রপাতির ওপর এর প্রভাব পড়ে। ফলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পরও উৎপাদনে ফিরতে সময় লাগে।
সিইউএফএলে দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ২০০ টন। গ্যাস-সংকট ও কারিগরি ত্রুটির কারণে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে কারখানাটির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের কিং ফয়সাল স্পেশালিস্ট হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার-এর চিকিৎসকরা একজন দাতার হৃৎপিণ্ড ব্যবহার করে দুই শিশুর চিকিৎসা সম্পন্ন করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে প্রথমবারের মতো ‘ডমিনো’ পদ্ধতি নামে পরিচিত ধারাবাহিক হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন কৌশলের মাধ্যমে এমন একটি জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অস্ত্রোপচারের সময়, ১২ বছর বয়সী এক শিশু, যে শেষ পর্যায়ের হৃদ্যন্ত্রের রোগে ভুগছিল, তার দেহে একজন দাতার হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করা হয়। একই সময়ে, ওই শিশুর পুরনো হৃৎপিণ্ড অপসারণের পর সেটি থেকে সুস্থ পালমোনারি ভালভ ও রুট সংগ্রহ করে ৯ বছর বয়সী আরেক শিশুর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম শিশুটি প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় হাসপাতালে ভর্তি ছিল এবং এই সময় তাকে হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রমে সহায়তাকারী ওষুধ দেওয়া হচ্ছিল। যদিও তার পুরো হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন ছিল, পালমোনারি ভালভ ও রুট সুস্থ ছিল এবং অন্য রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত ছিল।
অন্যদিকে, ৯ বছর বয়সী দ্বিতীয় শিশুটি গুরুতর অ্যাওর্টিক ভালভ স্টেনোসিস ও ভালভের অকার্যকারিতায় ভুগছিল। তার চিকিৎসায় ‘রস পদ্ধতি’ ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে শিশুটির ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাওর্টিক ভালভের জায়গায় তার নিজের সুস্থ পালমোনারি ভালভ প্রতিস্থাপন করা হয়। এরপর, প্রথম শিশুর হৃৎপিণ্ড থেকে সংগ্রহ করা পালমোনারি ভালভ ও রুট ব্যবহার করে দ্বিতীয় শিশুর পালমোনারি ভালভের স্থানটি পুনর্গঠন করা হয়।
হাসপাতাল জানিয়েছে, এই পদ্ধতিতে প্রতিস্থাপন করা ভালভ জীবন্ত টিস্যু হওয়ায় এটি শিশুর শরীরের সঙ্গে বেড়ে উঠতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে ভালভ প্রতিস্থাপনের জন্য আবার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন কমতে পারে। কৃত্রিম ভালভের ক্ষেত্রে এমন সুবিধা নেই, কারণ শিশুর শরীরের বৃদ্ধির সঙ্গে কৃত্রিম ভালভ নিজে থেকে বড় হয় না।
হার্ট সেন্টার অব এক্সিলেন্সের নির্বাহী পরিচালক ড. হানি আল-সারাজানি বলেন, "শিশুদের আংশিক হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের এটি অত্যন্ত বিরল একটি পদ্ধতি।" হাসপাতালের বিশেষ দক্ষতার কারণে, হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন এবং জটিল জন্মগত হৃদ্রোগের অস্ত্রোপচারে তারা বিশ্বের অল্প কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্রের মতো এই জটিল পদ্ধতি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে।
হাসপাতালের মতে, অস্ত্রোপচারটি সফল করতে একই সময়ে দুটি জটিল সার্জারির মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় প্রয়োজন ছিল। এতে পারফিউশন, নার্সিং, অঙ্গ প্রতিস্থাপন সমন্বয়, টিস্যু মূল্যায়ন ও প্রস্তুতির মতো বিভিন্ন বিভাগের পাশাপাশি হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন, শিশুদের কার্ডিয়াক সার্জারি, কার্ডিওলজি, হার্ট ফেইলিওর, কার্ডিয়াক ইমেজিং, অ্যানেস্থেশিয়া ও ক্রিটিক্যাল কেয়ারের বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে কাজ করেছেন। হাসপাতালটি জানিয়েছে, এই সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতি শিশুদের জটিল হৃদ্রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুইজারল্যান্ডের ভ্যালাইস ক্যান্টনের উচ্চ পাহাড়ি অঞ্চলে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা তিনজনই নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সুইসইনফোর বরাত দিয়ে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এই তথ্য প্রকাশ করে।
ভ্যালাইস আঞ্চলিক পুলিশের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেলে টিকিনো অঞ্চলের লুগানো শহর থেকে উড্ডয়ন করা ‘সিরাস এসআর২২টি’ মডেলের একক-ইঞ্জিনবিশিষ্ট বিমানটি লয়কারবাড পৌরসভার কাছে একটি পাহাড়ের ঢালে ধাক্কা খেয়ে বিধ্বস্ত হয়। এই ঘটনায় বিমানে থাকা তিনজনের সবাই প্রাণ হারিয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর জরুরি সেবা ও উদ্ধারকারী বিশেষজ্ঞরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান, কিন্তু বিমানের ভেতরে থাকা তিনজনকেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন ব্রিটিশ নাগরিক বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে তিনটি হেলিকপ্টার ও দুজন উদ্ধারকারী বিশেষজ্ঞসহ জরুরি সেবাদানকারী দল উপস্থিত হয়। এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ