শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি মুফতী আসাদুজ্জামান
সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪২ পি.এম
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হেলেনা জেরিন খান এমপির সঙ্গে শিবচর উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শিবচর উপজেলা পরিষদের ময়নাকাটা সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফাতেমা মেহজাবিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলিমুজ্জামানসহ উপজেলার সকল দপ্তরের প্রধানরা।
এ ছাড়া শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. শাহাদাত হোসেন খান, সদস্য সচিব সোহেল রানা, মাদারীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জামিনুর রহমান মিঠুসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁয় মালিকবিহীন অবস্থায় ৪০ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের দুটি কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছেন নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) এবং টাস্কফোর্সের সদস্যরা।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে শহরের বষাইল এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়।
তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি)-এর ভারপ্রাপ্ত অ্যাডজুডেন্ট বিজিডিও-২৬৬ এডি মো. দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহলদল গঠন করা হয়। এই টহলদলে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অভিষেক কান্ত বর্মন এবং পুলিশের এসআই মো. হারুনও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অভিযানে ২৮ কেজি ১৫০ গ্রাম ও ১২ কেজি ১৫০ গ্রাম ওজনের দুটি কষ্টিপাথরের মূর্তি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উক্ত মূর্তিগুলোর মোট ওজন ৪০ কেজি ৩০০ গ্রাম।
নওগাঁ ব্যাটালিয়নের এডি মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, উদ্ধারকৃত মূর্তি দুটি বর্তমানে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের কোয়ার্টার গার্ডের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনার পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অ্যাকশন বা হরর সিনেমার বাইরে, দর্শকদের জন্য থ্রিলের অভিজ্ঞতা দিতে পারে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বা মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার। এই ধরনের সিনেমার মূল শক্তি হলো মানুষের মনে জটিলতার জাল খুলে ফেলা। এটি দর্শককে এমন পরিস্থিতিতে নিয়ে আসে যেখানে প্রশ্ন ওঠে—কাকে আসলে বিশ্বাস করা যায়? বিপদ কি বাইরের, নাকি সবটাই নায়কের মনে তৈরি করা একটি খেলা? মানুষের মন নিয়ে খেলা এবং দক্ষ গল্প বলার কারণে এই সিনেমাগুলো দর্শকদের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
দুর্দান্ত গল্প, অসাধারণ অভিনয় এবং অবাক করা টুইস্টের জন্য সিনেমাপ্রেমীদের জন্য উপস্থাপন করা হলো ১০টি সেরা মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারের তালিকা।
গন গার্ল : বিয়ে, মিডিয়া ও চরম বিষাক্ত সম্পর্কের ফাঁদ
অ্যামি নামের এক নারী তার পঞ্চম বিবাহবার্ষিকীতে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। তার স্বামী নিকের ওপর পড়ে সন্দেহের আঙুল। মিডিয়া দ্রুত এই ঘটনাকে রিয়্যালিটি শোতে পরিণত করে এবং নিকের সামান্যতম ভুল আচরণ বা এক চিলতে হাসিকে বিকৃত করে তাকে খুনি বানিয়ে ফেলে। কিন্তু গল্পের মাঝপথে আসল সত্য উদঘাটিত হয়—এটি নিখোঁজ হওয়ার গল্প নয়, বরং এক ঠাণ্ডা মাথার প্রতিশোধের ফাঁদ। ভালোবাসার পরিবর্তে, একে অপরকে গভীরভাবে ঘৃণা করা এবং সমাজের সামনে নিজেদের ভাবমূর্তি ধরে রাখার জন্য দুই মানুষ কিভাবে এক বিষাক্ত সম্পর্কের জালে আটকে থাকে, সেটিই এই সিনেমায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
গেট আউট : দৈনন্দিন সামাজিকতার ভেতরে লুকিয়ে থাকা ফাঁদ
বান্ধবী রোজের অভিজাত পরিবারে বেড়াতে গিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ ক্রিস এক অস্বস্তিকর পরিবেশের মুখোমুখি হয়। চায়ের কাপে চামচের টুংটাং শব্দ, মানুষের রহস্যময় হাসি কিংবা অদ্ভুত আচরণ—বাস্তব জীবনের এই সাধারণ মুহূর্তগুলোকে গল্পে ভয়ংকর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সম্মোহন ও মানসিক ফাঁদ থেকে বেঁচে বের হওয়ার এই লড়াই আধুনিক থ্রিলারের অন্যতম সেরা ছবি।
দ্য গিফট : যখন ভদ্রতাই হয়ে ওঠে মানসিক কারাগার
সাধারণ একটি সামাজিক অস্বস্তি দিয়ে গল্পের শুরু। নতুন জীবন শুরু করা সাইমন ও রবিন দম্পতির জীবনে হঠাৎ আগমন ঘটে সাইমনের হাইস্কুল বন্ধু গর্ডোর। অতিরিক্ত বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অতীত যখন সামনে আসে, তখন সাইমনের বিষাক্ত রূপ বেরিয়ে পড়ে। গর্ডোর অদ্ভুত প্রতিশোধ সাইমনকে কোনো সমাধান দেয় না, বরং এক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে তাকে সবচেয়ে বড় মানসিক শাস্তি দেয়।
এনিমি : চেহারার হুবহু মিল ও পরিচয়ের সংকট
অ্যাডাম নামের এক ভীতু ও অন্তর্মুখী শিক্ষক হঠাৎ সিনেমায় নিজের হুবহু এক প্রতিরূপকে দেখতে পান, যার নাম অ্যান্টনি। বাহ্যিকভাবে এক হলেও ব্যক্তিত্বে তারা সম্পূর্ণ বিপরীত। দুজনের জীবনের এই মুখোমুখি সংঘর্ষে বাস্তবতা ও রূপকের সীমানা মুছে যায়। পরিচয় ও নিজের ভেতরের গোপন রূপকে মেনে নেওয়ার এই গল্প যেন এক অদ্ভুত দুঃস্বপ্নের মতো।
দ্য ইনভিজিবল ম্যান : বিষাক্ত সম্পর্ক ও অদৃশ্য আতঙ্কের গল্প
পুরোনো অদৃশ্য-মানুষের ধারণাকে আধুনিক নির্যাতনের গল্পে রূপ দিয়েছেন পরিচালক লি হোয়ানেল। অত্যাচারী সঙ্গীর ঘর থেকে পালিয়ে আসার পরও সিসিলিয়ার জীবন থেকে ভয় কাটে না। খালি ঘর, নীরবতা আর দরজার কোণগুলো প্রতিটি মুহূর্তে মনে করিয়ে দেয়—অদৃশ্য কেউ তার প্রতিটি পদক্ষেপে নজর রাখছে। এটি কোনো সায়েন্স ফিকশন নয়, বরং বিষাক্ত সম্পর্কে আটকে থাকা মানুষের এক বাস্তব মনস্তাত্ত্বিক ভয়।
নকটার্নাল অ্যানিম্যালস : পাণ্ডুলিপির আড়ালে লুকানো তীব্র প্রতিশোধ
প্রাক্তন স্বামী এডওয়ার্ডের কাছ থেকে একটি পাণ্ডুলিপি পায় সুসান। বইটির পাতা খুলতেই সে প্রবেশ করে টেক্সাসের হাইওয়েতে ঘটে যাওয়া এক নির্মম ও নারকীয় গল্পের ভেতর। সুসানের বিলাসবহুল কিন্তু একঘেয়ে জীবনের পাশে উপন্যাসটির প্রতিটি পৃষ্ঠা হয়ে ওঠে অনুঘটক, স্বীকারোক্তি ও শাস্তির দলিল। কোনো ধরনের সশরীরে উপস্থিতি ছাড়াই কেবল অনুপস্থিতির মাধ্যমে জয়ী হওয়ার এক চরম শীতল প্রতিশোধের গল্প এটি।
শাটার আইল্যান্ড : সত্য ও অপরাধবোধের চরম দ্বন্দ্বে বেঁচে থাকা
মানসিক রোগীদের আশ্রমে নিখোঁজ এক রোগীর সন্ধানে যান তদন্তকারী টেডি ড্যানিয়েলস। তবে পুরো তদন্তের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক করুণ বাস্তব। মূলত নিজের অতীত ও অপরাধবোধ থেকে বাঁচতেই টেডি এই তদন্তের জাল বুনেছিলেন। গল্পের শেষে সত্যকে গ্রহণ করার পরও অপরাধবোধ নিয়ে না বেঁচে নিজেকে হারিয়ে ফেলার সিদ্ধান্তটি দর্শককে স্তব্ধ করে দেয়।
দ্য হ্যান্ডমেইডেন : ছলনা আর অভিনয়ের মাধ্যমে স্বাধীনতা
ধনী লেডি হিদেকোকে প্রতারণা করে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে তার পরিচারিকা হয়ে আসে সুক-হি। কিন্তু গল্প এগোতেই জানা যায়—আপনি যা দেখছেন, তার পুরোটাই মিথ্যা। প্রতিটি চরিত্রই মনে করে তারা অন্যকে ব্যবহার করছে, অথচ শেষ পর্যন্ত নারীরাই নিজেদের অভিনয়কে মুক্তিতে রূপান্তরিত করে। পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে নিজেদের জীবনের রচয়িতা হয়ে ওঠার এক নিখুঁত মনস্তাত্ত্বিক খেলা এটি।
প্রিজনার্স : সন্তানের খোঁজে একজন বাবার দানবে রূপান্তর
মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর একজন বাবা (কেলার) কতটা চরম সীমায় যেতে পারেন, তাই নিয়ে এই ছবি। ভালোবাসা, ভয় ও ধর্মের দোহাই দিয়ে কেলার এক সন্দেহভাজন যুবককে ধরে নিজেই অত্যাচার শুরু করে। কিন্তু সন্তানের জীবনের জন্য ব্যাকুল এই বাবা শেষ পর্যন্ত নিজেই এক দানবে পরিণত হয়। অন্যদিকে একজন তদন্ত কর্মকর্তার সত্যের পেছনে ছোটা—সব মিলিয়ে এটি অভিভাবকত্বের এক চরম হতাশার গল্প।
ব্ল্যাক সোয়ান : নিখুঁত হওয়ার অদম্য বাসনা ও নিজেকে ধ্বংস করা
শৈল্পিক নিখুঁত ভাব কীভাবে শারীরিক ও মানসিক আতঙ্কে রূপ নেয়, তা ফুটে উঠেছে বালরিনা নিনার চরিত্রে। ‘সোয়ান কুইন’ হওয়ার অদম্য চাপ, মায়ের শাসন আর প্রতিদ্বন্দ্বীর ভীতি নিনার ভেতরের বাস্তবের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয়। নিখুঁত হওয়ার সংজ্ঞায় নিজেকে সঁপে দিতে গিয়ে ধীরে ধীরে উন্মাদনার অতলে তলিয়ে যাওয়ার এক অপূর্ব চিত্রায়ন এই সিনেমা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফারহান আলী ওয়াহিদ স্বপ্নের ছোঁয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। বাংলাদেশ দলে প্রথমবারের মতো ডাক পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন এই উইঙ্গার। আসিয়ান কাপে অভিষেকের জন্য তিনি রোমাঞ্চিত।
ইন্দোনেশিয়ায় টুর্নামেন্ট খেলতে যাওয়ার আগে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন ফারহান। তিনি জানান, দেশ ও জাতির প্রতিনিধিত্ব করা একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। উইঙ্গার বলেন, “এটা দারুণ ছিল। নিজের দেশ, নিজের জাতি এবং নিজের ব্যাকগ্রাউন্ডকে প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য খুবই রোমাঞ্চকর। সমর্থকদের কাছ থেকেও প্রচুর সমর্থন পাচ্ছি। শুরু করার জন্য আমি সত্যিই মুখিয়ে আছি।”
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফারহানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইংল্যান্ডে। তিনি অনূর্ধ্ব-১২ পর্যায়ে চেলসি থেকে ফুলহামের একাডেমিতে যোগ দেন। ফুলহামের বয়সভিত্তিক দলের পর তিনি অনূর্ধ্ব-২১ দলেও খেলেছেন। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ-২ তে ৬ গোল করার পাশাপাশি ৯টি অ্যাসিস্ট করেছেন। বর্তমানে তিনি পঞ্চম স্তরের ক্লাব বোরহামউডের হয়ে ধারে খেলছেন।
ফারহান বাংলাদেশ দলে সুযোগ পেয়েছেন তার দাদা-নানার পরিচয় সূত্রে। তবে তার বাবা-মার জন্মও ইংল্যান্ডে। শেকড়ের টানে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি। এই ভালোবাসায় নিজেও অভিভূত। ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার বলেন, “এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। যেভাবে সমর্থন পাচ্ছি, তা অসাধারণ, অবাস্তব বলে মনে হয়। শুরুতেই এ ধরনের সমর্থন পাওয়া আমাকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে এবং দেশের জন্য ভালো কিছু করতে উৎসাহিত করে।”
বাংলাদেশের আসিয়ান কাপে অভিযান আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর শুরু হবে। প্রতিপক্ষ মালেশিয়ার বিপক্ষে ফারহানের অভিষেক হতে পারে। অভিষেক হোক বা না হোক, দলের জয়ের বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী। ফারহান বলেন, “ইন্দোনেশিয়ায় দলের সঙ্গে যোগ দিতে পেরে আমি খুবই রোমাঞ্চিত। আশা করি, আমরা সেখানে গিয়ে জয়লাভ করতে পারবো।”
আসিয়ান কাপে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হচ্ছে সিঙ্গাপুর ও স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ শহরের ৩১৭, নবাব সলিমুল্লাহ রোড, ডন চেম্বারে পরিচালিত ‘মেডিস্টার হসপিটাল এন্ড রেনেসাঁ ল্যাব’-এর বিরুদ্ধে ফায়ার সেফটি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধ এবং চিকিৎসাসেবা পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাঃ লায়লা পারভীন বানুকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করতে শোকজ নোটিশ দিয়েছে ‘বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটি’। সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রনি শিকদারের স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, সংগঠনটির অফিসিয়াল বিচারিক সেল ও আইন বিভাগের মাধ্যমে জনস্বার্থ ও মানবাধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে ওই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে প্রাপক হিসেবে ডাঃ লায়লা পারভীন বানুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তার পিতা মৃত হাজী খয়রুদ্দিন, মাতা মৃত জাহানারা বেগম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, স্থায়ী ঠিকানা কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার বালিয়ামারা এবং বর্তমান ঠিকানা নারায়ণগঞ্জের ১৩/১ ব্যাংক কলোনী, নিউ খানপুর রোড উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতালের ঠিকানা হিসেবে ৩১৭, নবাব সলিমুল্লাহ রোড, ডন চেম্বার, নারায়ণগঞ্জ উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয় নাগরিকদের অভিযোগের দাবি: নোটিশে বলা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় সচেতন নাগরিক এবং প্রতিষ্ঠানটিতে চিকিৎসা নিতে এসে কথিত জালিয়াতি ও প্রতারণার শিকার কয়েকজন ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ সংগঠনটির কার্যালয়ে জমা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এসব অভিযোগের পর তাদের কেন্দ্রীয় বিশেষ অনুসন্ধান সেল বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে। ওই পর্যালোচনার ভিত্তিতে হাসপাতালটির বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে নোটিশে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে অভিযোগগুলো বর্তমানে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য।
ফায়ার সেফটি নিয়ে অভিযোগ: নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, হাসপাতালটি একটি বহুতল ভবনে পরিচালিত হলেও সেখানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের বৈধ ফায়ার লাইসেন্স এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। এ বিষয়ে ‘অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩’-এর বিভিন্ন বিধানের কথা উল্লেখ করে সংগঠনটি দাবি করেছে, ফায়ার নিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থা ছাড়া হাসপাতাল পরিচালনা রোগী, বিশেষ করে প্রসূতি মা ও নবজাতকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তবে আইনের ধারা প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রকৃত পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন/ছাড়পত্র যাচাই প্রয়োজন। সরকারি আইনভান্ডারের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালের আইনে বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা এবং ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্রসংক্রান্ত বিধান রয়েছে। নোটিশে এ অভিযোগের সঙ্গে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩৩৬ ধারার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য লাইসেন্স ছাড়া ক্লিনিক পরিচালনার অভিযোগ: নোটিশে ‘দি মেডিকেল প্র্যাকটিশনারস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’-এর বিধান উল্লেখ করে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সরকারি লাইসেন্স ছাড়া ক্লিনিক ও প্যাথলজি ল্যাব পরিচালনা করা বেআইনি। প্রচলিত আইনের সরকারি পাঠ অনুযায়ী, ১৯৮২ সালের অধ্যাদেশের ধারা ৮-এ লাইসেন্স ছাড়া প্রাইভেট ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই আইনে লাইসেন্সের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, পর্যাপ্ত জায়গা, অপারেশন থিয়েটার, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, নিবন্ধিত চিকিৎসক-নার্স এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতো শর্তের কথা বলা হয়েছে। তবে নোটিশে ধারা ৩-এরও উল্লেখ করা হয়েছে। আইনের সরকারি পাঠ অনুযায়ী ধারা ৩ মূলত প্রাইভেট ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন চিকিৎসা ও পরীক্ষার জন্য সর্বোচ্চ নির্ধারিত ফি/চার্জসংক্রান্ত।
চিকিৎসকের শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও অভিযোগ: নোটিশে ডাঃ লায়লা পারভীন বানুর বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, তিনি বয়োবৃদ্ধ এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে একা চলাফেরায় সক্ষম নন-এমন অবস্থায়ও প্রসূতি মায়েদের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করছেন। সংগঠনটি দাবি করেছে, জটিল অস্ত্রোপচার পরিচালনার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের শারীরিক সক্ষমতা ও রোগীর নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ অভিযোগের সঙ্গে নোটিশে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন, ২০১০-এর ২৯ ও ৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের প্রকৃত শারীরিক সক্ষমতা, তিনি বর্তমানে অস্ত্রোপচার করেন কি না এবং তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা কর্তৃপক্ষের নথি ও বক্তব্য প্রয়োজন।
ভ্যাট-ট্যাক্স ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ: নোটিশে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এবং আয়কর আইন, ২০২৩ লঙ্ঘনের অভিযোগও করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, সরকারি রাজস্ব ও ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন না করেও চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে নোটিশে রাজস্ব ফাঁকির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, সংশ্লিষ্ট করবর্ষ, তদন্ত প্রতিবেদন বা এনবিআরের কোনো সিদ্ধান্ত উল্লেখ করা হয়নি। সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ: নোটিশে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান, ভুল পরীক্ষা বা কথিত ভুয়া চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়লে তা নাগরিকের জীবন ও আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
সংগঠনটি দাবি করেছে, চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানবাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাঁচ ধরনের নথি চাওয়া হয়েছে নোটিশে ডাঃ লায়লা পারভীন বানুকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে নিম্নলিখিত নথিগুলোর সত্যায়িত কপি জমা দিতে বলা হয়েছে-১. ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের হালনাগাদ ফায়ার সেফটি লাইসেন্স। ২. স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ ক্লিনিক ও প্যাথলজিক্যাল ল্যাব লাইসেন্স। ৩. নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স। ৪. আয়কর ও ভ্যাট পরিশোধের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হালনাগাদ চালানের অনুলিপি। ৫. বিএমডিসি নিবন্ধনের কপি এবং সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার পরিচালনার উপযোগী শারীরিক সক্ষমতার ডাক্তারি সনদপত্র। সাত দিনের মধ্যে জবাবের নির্দেশ: নোটিশে জানতে চাওয়া হয়েছে, উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হবে না। এ জন্য নোটিশ প্রাপ্তির সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টে রিটের হুঁশিয়ারি: নোটিশে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সাত কার্যদিবসের মধ্যে নথিপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হলে সাধারণ মানুষের জীবন ও মৌলিক অধিকার রক্ষার স্বার্থে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন/জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সিভিল সার্জন, ফায়ার সার্ভিস, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) অভিযোগ পাঠানোর কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি: নোটিশে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে মেডিস্টার হসপিটাল এন্ড রেনেসাঁ ল্যাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাঃ লায়লা পারভীন বানু বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য ওই নোটিশের সঙ্গে সংযুক্ত নেই। অভিযোগগুলোর বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স, সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স এবং এনবিআরের রাজস্ব-সংক্রান্ত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রনি শিকদার স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে জনস্বার্থ ও মানবাধিকার সুরক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত বা আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই গণ্য করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজনযোগ্য। চলবে..........
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ