বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৫২ এম
দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছিলেন নিহত অঙ্কিতা ভাণ্ডারির বাবা-মা, যারা মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে আন্দোলন করছেন। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে তাদের আটক করে দিল্লি পুলিশ।
২০২২ সালে ভারতের উত্তরাখণ্ডে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ১৯ বছর বয়সী অঙ্কিতা ভাণ্ডারি। বিজেপি নেতা দুষ্মন্ত কুমার গৌতম, যিনি সম্প্রতি সিকিমের রাজ্যপাল হয়েছেন, তাকে অঙ্কিতাকে নির্যাতন ও হত্যার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবাদস্বরূপ, বুধবার সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন অঙ্কিতার বাবা-মা।
আটকের সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস নেতা পবন খেড়া, দলের মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনতে, যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি উদয়ভানু চিবসহ কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী। যদিও প্রায় দুই ঘণ্টা পর সবাইকে মুক্তি দেওয়া হয়।
অঙ্কিতার বাবা-মা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মেয়ে হত্যার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। অঙ্কিতার মা জানিয়েছেন, যদি অবস্থান ধর্মঘট করতে না দেওয়া হয়, তাহলে তারা বাড়িতেই অনশন শুরু করবেন।
এদিকে, সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে কংগ্রেস তাদের আটক হওয়ার সমালোচনা করেছে। এতে বলা হয়েছে, ‘ভিআইপি দুষ্মন্ত গৌতমকে বাঁচাতে নরেন্দ্র মোদি সব সীমা অতিক্রম করলেন। ভোর ৪ টায় পুলিশ পাঠিয়ে অঙ্কিতার বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করা হল। প্রথমে দুষ্মন্তকে রাজ্যপাল করা হল। আর এখন মেয়ের জন্য বিচার চাওয়া বাবা-মায়ের কণ্ঠরোধ করা হল। লজ্জাজনক।’
চার বছর আগে ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উত্তরাখণ্ডে খুন হন অঙ্কিতা। ১৯ বছর বয়সী অঙ্কিতা হৃষীকেশের একটি রিসোর্টে রিসেপশনিস্ট হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। ২০ দিনের মাথায় নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। ছয়দিন পর একটি খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, ওই রিসোর্টে অঙ্কিতাকে ‘যৌন কাজে’ বাধ্য করা হত। ‘ভিআইপি’র সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরির জন্য তাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। রাজি না-হওয়ায় তাকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। হৃষীকেশের ওই রিসোর্টের ম্যানেজার ছিলেন সাবেক বিজেপি নেতা বিনোদ আর্যের ছেলে পুলকিত আর্য, যিনি অঙ্কিতাকে খুনের অভিযোগে কারাগারে রয়েছেন।
অঙ্কিতার পরিবার অভিযোগ করেছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিজেপির সাবেক সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা দলের তফসিলি জাতি মোর্চার সাবেক প্রেসিডেন্ট দুষ্মন্ত গৌতমের যোগসূত্র রয়েছে। তাদের দাবি, তদন্তে যে ‘ভিআইপি’র কথা উঠে এসেছে, অর্থাৎ যার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য অঙ্কিতাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল, তিনি এই দুষ্মন্ত। সম্প্রতি সেই দুষ্মন্তই সিকিমের রাজ্যপাল পদে নিযুক্ত হয়েছেন। অঙ্কিতার বাবা-মায়ের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডে সিবিআই তদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত রাজ্যপাল হিসেবে দুষ্মন্তের নিয়োগকে স্থগিত রাখা হোক। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবিপূরণ না হলে পুরো দেশে আন্দোলন শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অঙ্কিতার বাবা।
দুষ্মন্তকে রাজ্যপাল করার প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় অবস্থানে বসা অঙ্কিতার বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়ান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তারা ইন্ডিয়া গেটের সামনে প্রতিবাদে যোগ দেন।
সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণের হিসাব কিভাবে করা হবে এবং এর দায় কার ওপর বর্তাবে, তা নিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গবেষক ও পরিবেশকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিতর্ক জলবায়ু নীতিমালা, করপোরেট বিনিয়োগ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। কার্বন অ্যাকাউন্টিং নিয়ে চলমান এই বিতর্কের ফলে নতুন মতবিরোধের সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চললেও, কে কতটুকু কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী—তা নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, একটি পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ব্যবহার ও ভোগের শেষ ধাপ পর্যন্ত সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণের দায় কার ওপর বর্তাবে, তা নিয়ে মতভেদ বেড়ে চলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের অ্যাসপেনে গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে এ বিষয়ে আলোচনা করেন শিক্ষাবিদ, বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা। অ্যাসপেন ইনস্টিটিউটের একটি প্রতিবেদনে সম্মেলনের আলোচনা ও মতবিরোধের চিত্র উঠে এসেছে। কার্বন নিঃসরণ পরিমাপ ও দায় নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে চলমান এই বিতর্কের প্রভাব পড়বে জলবায়ু-সংক্রান্ত বিধিবিধান থেকে শুরু করে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর জ্বালানি কেনার সিদ্ধান্ত পর্যন্ত।
কার্বন নিঃসরণ হিসাবের প্রচলিত পদ্ধতি
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গ্রিনহাউস গ্যাস প্রটোকল (জিএইচজিপি) কার্বন নিঃসরণ হিসাবের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই পদ্ধতি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কীভাবে তাদের নিঃসরণ পরিমাপ ও প্রতিবেদন করবে, সেই কাঠামো নির্ধারণ করে। জিএইচজিপি অনুযায়ী, কার্বন নিঃসরণকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়।
প্রথমটি স্কোপ-১। কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কার্যক্রম থেকে সরাসরি যে নিঃসরণ ঘটে, তা এর আওতায় পড়ে। দ্বিতীয়টি স্কোপ-২। প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ, তাপ ও শীতলীকরণ সেবা কেনার মাধ্যমে যে পরোক্ষ নিঃসরণের সঙ্গে যুক্ত হয়, তা এখানে হিসাব করা হয়। আর স্কোপ-৩-এর আওতায় পড়ে প্রতিষ্ঠানের পুরো মূল্যশৃঙ্খলের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য পরোক্ষ নিঃসরণ—যেমন কাঁচামাল উৎপাদন, পণ্য পরিবহন ও ভোক্তার হাতে পৌঁছানোর পর পণ্য ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট নিঃসরণ।
এই কাঠামো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছায় কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগকে উৎসাহিত করেছে। বিশেষ করে, নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ কেনার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট হিসাবপদ্ধতি অনুসরণ করার সুযোগ দিয়েছে এটি। ফলে দীর্ঘমেয়াদি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
তবে এই পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি অংশ মনে করে, বর্তমান নিয়মে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তাদের মতে, নিঃসরণ হিসাবের পদ্ধতিতে অস্পষ্টতা ও একাধিক প্রতিষ্ঠানের একই নিঃসরণের দায় নিজেদের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
একই নিঃসরণের দায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের?
প্রচলিত পদ্ধতির অন্যতম সমালোচনা হলো, এতে একই কার্বন নিঃসরণ একাধিক প্রতিষ্ঠানের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। একে বলা হয় ‘ডাবল কাউন্টিং’ বা দ্বৈত গণনা।
উদাহরণ হিসেবে একটি ভবন নির্মাণের কথা ধরা যাক। ভবন তৈরিতে ব্যবহৃত ইস্পাত উৎপাদনের সময় কার্বন নিঃসরণ হয়। প্রচলিত হিসাবপদ্ধতিতে ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এবং ভবনের মালিক—তিন পক্ষই নিজ নিজ নিঃসরণ হিসাবের আওতায় ওই ইস্পাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিঃসরণকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
সমালোচকদের মতে, এতে প্রকৃত নিঃসরণের পরিমাণ ও দায় সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমান ব্যবস্থার সমর্থকেরা বলছেন, একাধিক প্রতিষ্ঠানের হিসাবে একই নিঃসরণ অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানেই বায়ুমণ্ডলে নিঃসরণ দ্বিগুণ হওয়া নয়। বরং উৎপাদন ও সরবরাহের বিভিন্ন ধাপে কারা নিঃসরণের সঙ্গে যুক্ত, তা বোঝার সুযোগ তৈরি হয়।
বিকল্প পদ্ধতি ‘ই-লেজার’
প্রচলিত কাঠামোর বিকল্প হিসেবে আলোচনায় এসেছে ‘ই-লেজার’ পদ্ধতি। শিক্ষাবিদদের গবেষণা থেকে উঠে আসা এই ধারণার পক্ষে এখন কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও অবস্থান নিয়েছে।
ই-লেজার পদ্ধতিতে প্রতিটি নিঃসরণকে আলাদাভাবে হিসাব করা হবে। কোনো পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে সরবরাহ ও বিক্রির বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করার সময় সংশ্লিষ্ট কার্বন নিঃসরণের হিসাবও পণ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। অর্থাৎ, প্রতিটি নিঃসরণের জন্য একটি নির্দিষ্ট হিসাব থাকবে এবং পণ্য এক পক্ষ থেকে অন্য পক্ষের কাছে গেলে সেই হিসাবও স্থানান্তরিত হবে।
এই পদ্ধতির সমর্থকদের দাবি, এতে একই নিঃসরণ একাধিকবার গণনার ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কার্যক্রমে কোথায় কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব, তা আরও স্পষ্টভাবে শনাক্ত করতে পারবে। পণ্য কেনার সময় সরবরাহকারীদের নিঃসরণ-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করাও সহজ হতে পারে।
তবে এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, একটি পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি পক্ষকে এই পদ্ধতিতে অংশ নিতে হবে। সরবরাহশৃঙ্খলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ হিসাবের বাইরে থাকলে পুরো ব্যবস্থার কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তেল কোম্পানি, নাকি ভোক্তা—দায় কার?
কার্বন নিঃসরণের দায় নির্ধারণ নিয়ে সবচেয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে পণ্য ব্যবহারের পর্যায়ে। বিশেষ করে, তেল ও গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রচলিত জিএইচজিপি কাঠামোর স্কোপ-৩ অনুযায়ী, একটি তেল কোম্পানিকে তার বিক্রি করা পেট্রল গ্রাহকেরা ব্যবহার করে যে কার্বন নিঃসরণ করেন, তা-ও হিসাবের আওতায় আনতে হয়। তেল কোম্পানিগুলোর সামগ্রিক কার্বন নিঃসরণের হিসাব বড় হওয়ার পেছনে এটি অন্যতম প্রধান কারণ।
কিন্তু ই-লেজার পদ্ধতিতে পণ্য ব্যবহারের সময় সৃষ্ট নিঃসরণের দায় মূলত সেই পক্ষের ওপর বর্তাবে, যারা জ্বালানি পোড়ায়। অর্থাৎ, তেল কোম্পানির পরিবর্তে গাড়িচালক বা জ্বালানি ব্যবহারকারী ভোক্তার ওপর সরাসরি দায় বেশি পড়তে পারে।
এখানেই বিতর্কের মূল প্রশ্ন। ভোক্তা জ্বালানি ব্যবহার করলেও জ্বালানির বিকল্প, গণপরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধরন কিংবা অবকাঠামো নির্ধারণের মতো বৃহত্তর ব্যবস্থার ওপর তার নিয়ন্ত্রণ সীমিত। ফলে নিঃসরণের দায় ভোক্তার ওপর বেশি করে চাপানো হলে, যেসব প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকের হাতে ব্যবস্থাগত পরিবর্তনের ক্ষমতা রয়েছে, তাদের দায় তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পেতে পারে—এমন উদ্বেগ রয়েছে।
পরিবর্তনের পক্ষে বড় প্রতিষ্ঠানের সমর্থন
২০২১ সাল থেকে একাধিক গবেষণাপত্রে ই-লেজার পদ্ধতির ধারণা আলোচনায় আসে। পরে ২০২৫ সালে এক্সনমোবিল, ব্ল্যাকরকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই পদ্ধতির পক্ষে প্রচার চালাতে একটি ব্যবসায়িক জোট গঠনে সমর্থন দেয়।
অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে জনআলোচনায় আগের মতো গুরুত্ব না পাওয়ায় কিছু প্রতিষ্ঠান কার্বন নিঃসরণ হিসাব ও প্রতিবেদন তৈরিতে প্রয়োজনীয় অর্থ ও জনবল ব্যয় করতে কম আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রচলিত ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি আরো জোরালো হয়েছে।
জিএইচজিপিও এ বিষয়ে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন প্রধান নির্বাহী নিয়োগের পাশাপাশি বেশ কিছু সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে।
সমঝোতার পথ খুঁজছেন সংশ্লিষ্টরা
অ্যাসপেনের সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনা শেষ হয়েছে একটি সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে। তারা কার্বন নিঃসরণ হিসাবের বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।
সম্মেলনে কিছু অংশগ্রহণকারী এমন একটি সম্ভাবনার কথাও বলেছেন, যেখানে পণ্যের কার্বন নিঃসরণ অনুসরণে ই-লেজার পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে, আর পুরো প্রতিষ্ঠানের নিঃসরণ হিসাবের জন্য জিএইচজিপির বৃহত্তর কাঠামো বহাল রাখা যেতে পারে।
এতে দুই পদ্ধতির সুবিধা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত নয়।
জলবায়ু নীতিতে পড়বে বড় প্রভাব
কার্বন নিঃসরণ হিসাবের এই বিতর্ক শুধু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ হিসাবের বিষয় নয়। এর প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের বিধিবিধানেও।
একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো কোন খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ নেবে, কোন সরবরাহকারীর কাছ থেকে পণ্য কিনবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কতটা বিনিয়োগ করবে—এসব সিদ্ধান্তও প্রভাবিত হতে পারে।
ভবিষ্যতে কার্বন নিঃসরণের দায় কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার কৌশলকেও প্রভাবিত করবে। নিঃসরণের দায় উৎপাদক, সরবরাহকারী, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ভোক্তার মধ্যে কীভাবে ভাগ হবে, সেই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে পারে কারা নিঃসরণ কমানোর জন্য সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়বে। তাই কার্বন নিঃসরণ পরিমাপের পদ্ধতি নিয়ে এই আপাতদৃষ্টিতে কারিগরি বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে একটি বড় প্রশ্ন—জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় দায় ও দায়িত্ব কীভাবে ন্যায্যভাবে বণ্টন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভায় হামে আক্রান্ত হয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইসা তানিয়া রাধিকার মৃত্যু ঘটেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরের দিকে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রাধিকা দোহাজারী জামিজুরী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। সে জামিজুরী ঘোড়াপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর কন্যা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল তিনটার সময় রাধিকার মৃতদেহ একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনা হয়। প্রিয় সহপাঠীর নিথর দেহ দেখে শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষ্ণু যশা চক্রবর্তী জানান, প্রায় ২০ দিন আগে রাধিকা একবার অসুস্থ হয়েছিল। পরে সুস্থ হয়ে সে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। এরপর হামে আক্রান্ত হয়ে আবার অসুস্থ হলে তাকে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
তিনি আরও বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও রাধিকা পারদর্শী ছিল। তার অকাল মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের সকলেই শোকাহত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ : বারনই নদী, যা রাজশাহী ও নাটোর জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তার স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার, দূষণ রোধ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে নদী পুনরুজ্জীবিতকরণ প্রকল্পের এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে, রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় ‘রাজশাহী ও নাটোর জেলার অন্তর্গত বারনই নদী পুনরুজ্জীবিত, দূষণমুক্ত ও দখলমুক্তকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতাধীন এলাকা পরিদর্শনকালে, প্রতিমন্ত্রী নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
পরিদর্শনকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন, পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজশাহীর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মেহেদী হাসানসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের সাবেক সেনা সদস্য মার্ক ব্রডহার্স্টকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে অস্ত্র রাখার দায়ে প্রায় চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।
বুধবার ইংল্যান্ডের শেফিল্ড ক্রাউন কোর্টে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
ব্রডহার্স্ট, যিনি ২৮ বছর বয়সী, একসময় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে রাঁধুনি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুই বছর আগে পুলিশের তদন্তে তার কিছু অনলাইন বার্তা পাওয়া যায়, যেখানে তিনি বর্ণবাদী মনোভাব প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, তিনি ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর কাছে নিজের তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির ইচ্ছার কথাও জানান।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রডহার্স্টকে গ্রেপ্তারের সময় তার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল ছুরি, ক্রসবো, কালো বারুদ, গুলি, এয়ার পিস্তল এবং কর্মকর্তাদের ভাষায়, ‘নিজের তৈরি একটি অস্থায়ী কামান’।
ব্রডহার্স্ট অনলাইনে আরো তিন ব্যক্তির সঙ্গে একটি আলাপচারিতা গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন। গত বছর ওই তিনজনকে মসজিদ বা উপাসনালয়ে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার দায়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাদের বিশ্বাস ছিল, সামনে একটি ‘জাতিগত যুদ্ধ’ শুরু হতে যাচ্ছে এবং সেই যুদ্ধের অংশ হিসেবে তারা হামলার পরিকল্পনা করেছিল।
যুক্তরাজ্যের সরকারি কৌঁসুলি সংস্থা ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের বিশেষ অপরাধ বিভাগের প্রধান ফ্র্যাঙ্ক ফার্গুসন মন্তব্য করেন, ব্রডহার্স্টের মধ্যে সহিংসতার প্রতি স্পষ্ট আগ্রহ ছিল। তার অস্ত্র তৈরির আগ্রহ নিরীহ মানুষের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে।
দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশি কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট জেমস ডানকারলি বলেন, ব্রডহার্স্টের মধ্যে উগ্র ডানপন্থি মানসিকতার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তিনি বিস্ফোরক তৈরির উপকরণও সক্রিয়ভাবে সংগ্রহ করছিলেন।
ব্রডহার্স্ট দোষ স্বীকার করেন আগ্নেয়াস্ত্র রাখা এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক রাখার অভিযোগে। তবে তিনি অস্বীকার করেন যে, এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল। বিচারক তার অপরাধের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের যোগসূত্র রয়েছে বলে রায় দেন।
যুক্তরাজ্যে বর্ণবাদী উত্তেজনা ও বিদ্বেষমূলক অপরাধ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ রায় এসেছে। দেশটিতে প্রান্তিক জনগণের মানুষ ক্রমেই এসব অপরাধের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন।
গত জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলে একটি ইসলামি সমাবেশকে লক্ষ্য করে উগ্র ডানপন্থি সন্ত্রাসী হামলার হুমকির ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে ব্রিটিশ পুলিশ। এর ছয় মাস আগে দেশটির কৌঁসুলিরা জানিয়েছিলেন, পুলিশের কাছ থেকে বিদ্বেষমূলক অপরাধের যত মামলা তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে, তা ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যা।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ