বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৫৫ এম
যুক্তরাজ্যের সাবেক সেনা সদস্য মার্ক ব্রডহার্স্টকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে অস্ত্র রাখার দায়ে প্রায় চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।
বুধবার ইংল্যান্ডের শেফিল্ড ক্রাউন কোর্টে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
ব্রডহার্স্ট, যিনি ২৮ বছর বয়সী, একসময় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে রাঁধুনি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুই বছর আগে পুলিশের তদন্তে তার কিছু অনলাইন বার্তা পাওয়া যায়, যেখানে তিনি বর্ণবাদী মনোভাব প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, তিনি ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর কাছে নিজের তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির ইচ্ছার কথাও জানান।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রডহার্স্টকে গ্রেপ্তারের সময় তার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল ছুরি, ক্রসবো, কালো বারুদ, গুলি, এয়ার পিস্তল এবং কর্মকর্তাদের ভাষায়, ‘নিজের তৈরি একটি অস্থায়ী কামান’।
ব্রডহার্স্ট অনলাইনে আরো তিন ব্যক্তির সঙ্গে একটি আলাপচারিতা গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন। গত বছর ওই তিনজনকে মসজিদ বা উপাসনালয়ে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার দায়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাদের বিশ্বাস ছিল, সামনে একটি ‘জাতিগত যুদ্ধ’ শুরু হতে যাচ্ছে এবং সেই যুদ্ধের অংশ হিসেবে তারা হামলার পরিকল্পনা করেছিল।
যুক্তরাজ্যের সরকারি কৌঁসুলি সংস্থা ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের বিশেষ অপরাধ বিভাগের প্রধান ফ্র্যাঙ্ক ফার্গুসন মন্তব্য করেন, ব্রডহার্স্টের মধ্যে সহিংসতার প্রতি স্পষ্ট আগ্রহ ছিল। তার অস্ত্র তৈরির আগ্রহ নিরীহ মানুষের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে।
দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশি কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট জেমস ডানকারলি বলেন, ব্রডহার্স্টের মধ্যে উগ্র ডানপন্থি মানসিকতার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তিনি বিস্ফোরক তৈরির উপকরণও সক্রিয়ভাবে সংগ্রহ করছিলেন।
ব্রডহার্স্ট দোষ স্বীকার করেন আগ্নেয়াস্ত্র রাখা এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক রাখার অভিযোগে। তবে তিনি অস্বীকার করেন যে, এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল। বিচারক তার অপরাধের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের যোগসূত্র রয়েছে বলে রায় দেন।
যুক্তরাজ্যে বর্ণবাদী উত্তেজনা ও বিদ্বেষমূলক অপরাধ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ রায় এসেছে। দেশটিতে প্রান্তিক জনগণের মানুষ ক্রমেই এসব অপরাধের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন।
গত জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলে একটি ইসলামি সমাবেশকে লক্ষ্য করে উগ্র ডানপন্থি সন্ত্রাসী হামলার হুমকির ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে ব্রিটিশ পুলিশ। এর ছয় মাস আগে দেশটির কৌঁসুলিরা জানিয়েছিলেন, পুলিশের কাছ থেকে বিদ্বেষমূলক অপরাধের যত মামলা তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে, তা ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যা।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহকারী প্রধান, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপার নিয়োগের জন্য মৌখিক পরীক্ষা বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৯টায় শুরু হয়েছে। এই পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কার্যালয়ে।
এনটিআরসিএর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১২টি বোর্ডে প্রতিদিন মোট ৪২০ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি বোর্ডে ৩৫ জন করে প্রার্থী অংশগ্রহণ করবেন। প্রতিদিন সকাল ৯টা এবং দুপুর ২টায় দুই গ্রুপের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী দিনগুলোর সূচিতে একই কাঠামো বজায় রাখা হবে।
সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডগুলোতে প্রার্থীদের দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। একটি গ্রুপে ১৭ জন এবং অপর গ্রুপে ১৮ জন প্রার্থী রয়েছেন।
এনটিআরসিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রত্যেক প্রার্থীকে তাদের মোবাইল নম্বরে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে মৌখিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান জানিয়ে দেওয়া হবে। প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদ ও নম্বরপত্রের মূল কপি এবং প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত এক সেট ফটোকপি সঙ্গে রাখতে হবে।
এর আগে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগে এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২২ এপ্রিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে ১৪ হাজার ৯৪২ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জামাল (৩২) নামে এক স্যানিটারি মিস্ত্রির মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি দোকানের পেছনের পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহত জামাল ঝিনাইগাতী সদর বাজারের গরুহাটি এলাকার মৃত ফকির আলীর ছেলে। তিনি এক সন্তানের জনক ছিলেন।
হাসান কন্সট্রাকশনের মালিক আবুল কাশেম জানান, জামাল গত চার বছর ধরে তার প্রতিষ্ঠানে স্যানিটারি মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালেও তিনি কাজে যোগ দেন। দুপুরে জামালকে কর্মস্থলে রেখে তিনি বাসায় চলে যান। সন্ধ্যায় দোকানে ফিরে জামালকে দেখতে না পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে দোকানের পেছনের পুকুরে জিআই তারে জড়ানো অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুকুর থেকে জামালের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে ওসি এসএম নূর মোহাম্মদ জানান, জামালের মৃত্যু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা চিকিৎসকের পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ তার মুঠোফোন জব্দ করেছে। এছাড়া, তার কয়েকজন আত্মীয়সহ এক ডজনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্র্যান্ড জুরির তলবপত্র পাঠানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে, যা তদন্ত সম্পর্কে অবগত একজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, মিনেসোটায় একটি গ্র্যান্ড জুরির জন্য প্রমাণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এসব তলবপত্র পাঠানো হয়েছে। এনডিটিভি জানায়, কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা ওমরের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে জালিয়াতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। তদন্তের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই ব্যক্তি নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি।
সোমবার, তদন্তের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ডিসিতে ওমরের বাড়িতে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় সংস্থার কর্মকর্তারা। এই ঘটনা ঘটে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে। ওই নির্বাচনে আবারও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য লড়ছেন ওমর।
তদন্তের পরিধি সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ওমরের পরিবারের অভিবাসনসংক্রান্ত নথির সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য অপরাধ খতিয়ে দেখছেন কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটন ডিসির কেন্দ্রীয় সরকারি কৌঁসুলি জেনিন পিরো বলেন, ওমরকে ঘিরে ‘বেশ কয়েকটি তদন্ত চলছে’। তার দপ্তর ওমরের আর্থিক বিবরণীসংক্রান্ত বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখছে।
পিরো বলেন, ‘যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে তার বিচার করা হবে।’ তবে ঠিক কী ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ওমরের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর ঘটনায় ডেমোক্র্যাটরা নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ওমরকে নিশানা করছে।
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওমর এই তল্লাশিকে ‘রাজনৈতিক শত্রুদের নিশানা করা এবং কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছর ধরে ট্রাম্প ভিত্তিহীন মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে আমাকে নিশানা করে আসছেন। রাজনৈতিকভাবে ভয় দেখানোর এই প্রচেষ্টায় এটি সর্বশেষ পদক্ষেপ। আমি চুপ করে থাকব না।’ এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বুধবার ওমরের এক প্রতিনিধির কাছে ফোনে বার্তা রেখে যাওয়া হয়েছে।
ওমরের পারিবারিক পটভূমি নিয়ে রিপাবলিকানদের আগ্রহ বহু বছরের। তবে এবারের তল্লাশি চালানো হয়েছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে। ওই নির্বাচনে আবারও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য লড়ছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ঐতিহাসিকভাবে কোনো প্রার্থীর প্রাথমিক বা সাধারণ নির্বাচনের ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে তদন্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছে। ২০১৮ সালে প্রথমবার প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন ইলহান ওমর। তিনি মিনেসোটার পঞ্চম নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। এ এলাকার মধ্যে মিনিয়াপোলিস শহরও রয়েছে।
ওমর কংগ্রেসের প্রগতিশীল আইনপ্রণেতাদের গোষ্ঠী ‘দ্য স্কোয়াড’-এর সদস্য। কংগ্রেসের বামপন্থী অংশে এই গোষ্ঠীর শক্ত অবস্থান রয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই গোষ্ঠীটির সদস্যরা বারবার তার আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
ওমর প্রতিনিধি পরিষদের প্রথম দুই মুসলিম-আমেরিকান নারী সদস্যের একজন। তিনি আফ্রিকা থেকে আসা প্রথম শরণার্থী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ