০৫:৩৮ পি.এম
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে খনিতে কর্মরত ৮৭ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন। কর্মচারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে দাবি আদায় না হলে তারা কঠোর আন্দোলনের পাশাপাশি খনি অচল করে দেবেন।
রবিবার (৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় খনির প্রধান ফটকের সামনে এ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে কর্মচারী নেতা তোফায়েল আহম্মেদ, সাইদার রহমান, আবু বক্কর সিদ্দীক, আবুল খায়ের, সাখাওয়াত হোসেন, গোলাম মোস্তফা, এরশাদ বুলবুল ও মোশাররফ হোসেন বক্তব্য দেন। কর্মচারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম শাহ, দীপঙ্কর শাহা, শরিফুল ইসলাম, মমিনুল ইসলাম ও রবিউল ইসলাম বাবুসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।
আরও পড়ুন: জিয়ানগরে ইউপি নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল জলিল শেখের সমর্থকদের নিয়ে জনসংযোগ ও পথসভা
কর্মচারীরা জানান, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে বর্তমানে নিয়োগ কার্যক্রম চলছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, খনিতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত দক্ষ ৮৭ জন আউটসোর্সিং কর্মচারীকে নিয়োগ দিতে খনি কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে সারা দেশ থেকে ৬০৯ জন আবেদন করেন। লিখিত পরীক্ষায় ৫৩ জন উত্তীর্ণ হন, তবে তাদের মধ্যে খনিতে কর্মরত ৮৭ জন আউটসোর্সিং কর্মচারীর মাত্র আটজন রয়েছেন।
সমাবেশে কর্মচারী নেতা তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, আদালত খনিতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত অভিজ্ঞ আউটসোর্সিং কর্মচারীদের নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, তাদের বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে শিথিলতার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ লিখিত পরীক্ষা নেওয়ায় অধিকাংশ আউটসোর্সিং কর্মচারী উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
তিনি আরো বলেন, খনির জন্য এলাকার মানুষ জমি দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অথচ এলাকার কর্মচারীদের স্থায়ী নিয়োগ না দিয়ে বহিরাগতদের নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ৮৭ কর্মচারীকে নিয়োগ না দিলে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে এবং প্রয়োজনে খনি অচল করে দেওয়া হবে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বলেন, খনির কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবি কর্তৃপক্ষকে মেনে নিতে হবে। অন্যথায় দাবি আদায়ে উপজেলা বিএনপি শ্রমিকদের পাশে থাকবে।
আরও পড়ুন: চলতি বছরে ৯ মাসে ‘মব’ সহিংসতায় নিহত ১৮৭ জন
বিএনপি নেতা দীপঙ্কর শাহা বলেন, ‘খনিতে এখনো ফ্যাসিস্টরা বসে আছে। কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া না হলে কয়লাখনিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ছানাউল্লাহ কালের কণ্ঠকে জানান, আদালত খনিতে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মচারীদের পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দিতে বলেছেন। তবে বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে শিথিল করে তাদের অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। বর্তমানে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী তারা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
তিনি আরো বলেন, আদালত ৮৭ জনকে নিয়োগ দিতে বললেও বর্তমানে খনিতে পদ রয়েছে মাত্র ২২টি। সে অনুযায়ীই নিয়োগ কার্যক্রম চলছে।
আরও পড়ুন: ফরিদগঞ্জে জালটাকা দিয়ে কেনাকাটার অভিযোগে ৪ নারী আটক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন