ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সেবার মান বাড়ানো গেলে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমবে: রাষ্ট্রপতি


সেবার মান বাড়ানো গেলে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমবে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে একটি বিশ্বমানের চিকিৎসাব্যবস্থা বিদ্যমান। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সেবার মান যদি আরও উন্নত করা যায়, তাহলে রোগীদের বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার প্রবণতা কমে যাবে।

রোববার (১১ অক্টোবর) হেপাটোলজি সোসাইটি ঢাকা, বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলমের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এই তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: ১৬৯০ ইবতেদায়ি শিক্ষকের অনুদান ছাড়ের দাবি জানাল শিক্ষক কল্যাণ কমিটি

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, পেশাজীবীদের রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করা উচিত, যাতে তারা আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম রাষ্ট্রপতিকে জানান, বর্তমানে দেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। ডায়াবেটিস, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে দেশে ফ্যাটি লিভারের রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একইসঙ্গে, হেপাটাইটিস-বি রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।

এ সময় অধ্যাপক শাহিনুল আলম রাষ্ট্রপতিকে আসন্ন এশিয়ান প্যাসিফিক অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার (এপাসল) সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব এবং হেপাটোলজি সোসাইটি ঢাকা বাংলাদেশের সদস্য লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগকে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভিষেক শর্মার বিশ্বরেকর্ডের ধারেকাছেও কেউ নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ এম


অভিষেক শর্মার বিশ্বরেকর্ডের ধারেকাছেও কেউ নেই

অভিষেক শর্মা যেন নতুন রেকর্ডের প্রতীক!

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২ হাজার রান পূর্ণ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম বল খেলার বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন ভারতের এই বাঁহাতি ব্যাটার। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ফলে পিছনে পড়ে গেছেন ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।

গতকাল রাতে ইন্দোরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এই কীর্তি গড়েন অভিষেক। ২ হাজার রান পূর্ণ করতে তার প্রয়োজন পড়েছে মাত্র ১০২৪ বল। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল সূর্যকুমারের দখলে, যিনি ১১৬৪ বল খেলে এই মাইলফলকে পৌঁছেছিলেন। অর্থাৎ, টি-টোয়েন্টিতে বলের হিসাবে দ্রুততম ২ হাজার রানে অভিষেকের ধারেকাছেও কেউ নেই।

গত রাতের ম্যাচে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেন অভিষেক। মাত্র ১৮ বলে তিনি ফিফটি তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত ৩০ বলে ৬৯ রান করে থামেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার এবং ৫টি ছক্কা।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অল্প সময়ের মধ্যে নিজেকে দলের অন্যতম ভরসা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অভিষেক। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত রান তুলে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন যে, রেকর্ডের পাতায় নিজের নাম আরো উজ্জ্বল করার সামর্থ্য তার রয়েছে।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ২ হাজার রান

অভিষেক শর্মা (ভারত) ১০২৪ বল

সূর্যকুমার যাদব (ভারত) ১১৬৪ বল

করণবীর সিং (অস্ট্রিয়া) ১১৮০ বল

অ্যারন ফিঞ্চ (অস্ট্রেলিয়া) ১২৮৩ বল

মোহাম্মদ ওয়াসিম (আরব আমিরাত) ১২৯৩ বল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্রদল নেতাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার হুমকির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ এম


ছাত্রদল নেতাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার হুমকির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল

চট্টগ্রাম সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে বহিরাগতদের নিয়ে অনুষ্ঠান করতে বাধা দেয়ায় ছাত্রদল নেতাকে হুমকি দেওয়ার এবং ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত নেতা হলেন চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব প্রকৌশলী জমির উদ্দিন নাহিদ। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

গত শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অডিটোরিয়ামে এই ঘটনা ঘটে। তবে গতকাল রোববার ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পলিটেকনিক সূত্র জানায়, শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত বিকেএ মেধাবৃত্তির সনদ, পুরস্কার বিতরণ ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব জমির উদ্দিন নাহিদ। তিনি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ রেজাউল করিম।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পলিটেকনিক ছাত্রদল নেতা রাকিব ফেসবুকে লাইভ করছেন। স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা জমির উদ্দিনের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার এক পর্যায়ে রাকিব লাইভে বলেন, পলিটেকনিকে এসে প্রভাব বিস্তার করছে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা নাহিদ। তিনি কোনো ছাত্র না হয়েও এখানে আসেন। আমাকে মারধর করেছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতার কাজ কী? এ সময় জমির উদ্দিনকে তার দিকে তেড়ে আসতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, পলিটেকনিকে বাইরের কোনো প্রোগ্রাম করার অনুমতি নেই। অথচ অধ্যক্ষ স্যারসহ ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচি সেখানে করা হয়।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‍সুস্থ ধারার রাজনীতি হবে। কিন্তু অনেকে প্রভাব সৃষ্টি করতে তা মানছেন না।

এ বিষয়ে মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব জমির উদ্দিন নাহিদ বলেন, যেই ছেলেটি আমার সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছিল সে ছাত্রলীগ করত। ১২ ফেব্রুয়ারির আগে করত শিবির। এর আগে বিশৃঙ্খলার দায়ে তাকে চট্টগ্রাম থেকে ফেনী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে বদলি করা হয়। এমনকি এক ছাত্রকে হুমকির মামলায় তাকে কারাগারেও যেতে হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাইরের কর্মসূচি হলেও সেটি শিক্ষামূলক কর্মসূচি ছিল। আমি মনে করি এতে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা প্রকৌশলী হতে উদ্বুদ্ধ হবে। তারা দেখবে পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানটি কেমন। তাছাড়া আমি পলিটেকনিকের একজন সাবেক ছাত্র। প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সত্য নয়।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ রেজাউল করিমকে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুদানের বিমান হামলায় ৭২ খনিশ্রমিক নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ এম


সুদানের বিমান হামলায় ৭২ খনিশ্রমিক নিহত

সুদানের বিতর্কিত সীমান্তের নিকটবর্তী একটি স্বর্ণখনিতে বিমান হামলায় অন্তত ৭২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই তথ্য একটি মানবাধিকার সংস্থা সুদানের পক্ষ থেকে প্রকাশ করেছে।

ইমার্জেন্সি লইয়ার্স, যা সুদানের সংঘাতকালীন বিভিন্ন নৃশংসতার নথিপত্র সংরক্ষণ করে, মিশরীয় সেনাবাহিনীকে এই হামলার জন্য দায়ী করেছে।

খার্তুম-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি রোববার সামাজিকমাধ্যম এক্সে একটি বার্তায় জানায়, “মিশরীয় যুদ্ধবিমানগুলো সুদানের ভূখণ্ডের ভেতরে উত্তরাঞ্চলীয় ওয়াদি এলাকায় বেসামরিক খনিশ্রমিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এতে ৭২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।”

শনিবারের হামলার খবরটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে মিশর কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

স্বর্ণ উত্তোলনের জন্য পরিচিত পাহাড়ি সীমান্ত অঞ্চল জাবাল আল-উকাইদাতে এটি ছিল এ বছরের দ্বিতীয় হামলা। এর আগে জুন মাসে একই স্বর্ণখনি এলাকায় হামলায় ২৩ জন শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই হামলাও মিশর চালিয়েছিল।

সুদান ও মিশরের মধ্যে সীমান্ত এলাকা বিতর্কিত; উভয় দেশই খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হালাইব ট্রায়াঙ্গেল অঞ্চলের মালিকানা দাবি করে আসছে।

সূত্র: আল জাজিরা

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোদির বিরুদ্ধে ১৩ কোটি মানুষের ভোটাধিকার হরণের অভিযোগে তরুণদের আন্দোলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪২ এম


মোদির বিরুদ্ধে ১৩ কোটি মানুষের ভোটাধিকার হরণের অভিযোগে তরুণদের আন্দোলন

ভারতের বিভিন্ন স্থানে তরুণদের মধ্যে একটি উত্তাল আন্দোলন চলছে। অভিযোগ উঠেছে যে নির্বাচন কমিশন বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (Special Intensive Revision) বা সংক্ষেপে এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। বাদ পড়া জনগণের মধ্যে প্রধানত মুসলিম, স্থানান্তরিত মানুষ, দলিত, নারী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী রয়েছে। আন্দোলনটি দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে পশ্চিমবঙ্গ, কর্ণাটকসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে আন্দোলনের মূল দাবি হচ্ছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। অক্টোবর মাসে এই আন্দোলন গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে জেনজি, ককরোচ জনতা পার্টি, বিরোধী দলগুলোর জোট বা ইন্ডিয়া ব্লক। আন্দোলনের মুখপাত্র হিসেবে বর্তমানে নিখিল ভারত ছাত্র সমিতি বা আইসার সভাপতি ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা রয়েছেন। এসআইআর-এর বিরুদ্ধে নারী অধিকার সংগঠনগুলোও সোচ্চারভাবে দাঁড়িয়ে গেছে। কারণ, এসআইআর সরাসরি নারী, বিশেষ করে মুসলিম এবং প্রান্তিক নারীদের ভোটের অধিকার এবং নাগরিকত্বকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে। বাদ পড়া ১৩ কোটি ভোটারের মধ্যে নারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যার মধ্যে ৬২ শতাংশ নারী। একইভাবে উত্তরপ্রদেশ, বিহারে নারী ভোটার বাদ পড়ার হার ৬০ শতাংশ, আসামে ৭০ শতাংশ।

যদিও এসআইআর-এর উদ্দেশ্য হিসেবে অনুপযুক্ত এবং ডুপ্লিকেট ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু নির্বাচন কমিশন কাদের ‘অনুপযুক্ত’ বলে চিহ্নিত করেছে, তা দেখলে উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভিন্ন ধারণা তৈরি হয়। নারীবিরোধী আচরণ এখানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জনগণ এই বিষয়টি বুঝতে পেরে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছে। বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০২৫ সালে বিহারে এসআইআর হওয়ার পর ৬৫ লাখ নাম বাদ পড়েছিল, যার মধ্যে নারীর সংখ্যা ছিল ৩১ লাখ। নারী-পুরুষ অনুপাত প্রতি হাজার পুরুষের ৮৯২ নারী হয়ে যায়, যা আগে ছিল প্রতি হাজার পুরুষে ৯০৭ নারী। গুজরাটে নারী-পুরুষ অনুপাত ৯৩৮, মধ্যপ্রদেশে ৯৩৪ এবং রাজস্থানে ৯২০ নারীতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ১২টি রাজ্যে নারীরা পুরুষের তুলনায় বেশি বাদ পড়েছেন, ফলে নারী-পুরুষ ভোটারের অনুপাতও কমে গেছে।

নারীদের বাদ দেওয়ার কারণ বৈষম্যমূলক এবং যে প্রক্রিয়ায় এটি করা হয়েছে, তাতে এই বৈষম্যের প্রকাশ স্পষ্ট। বিবাহিত নারীদের বাবা-মায়ের নাম ছাড়াও তাদের বাপের বাড়ির ঠিকানা যাচাই করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এটি প্রান্তিক নারীদের জন্য অনেক কঠিন। শ্রমজীবী নারীদের নিজস্ব স্থায়ী নথিপত্র দেখাতে বলা হচ্ছে এবং না দিতে পারলে বাদ দেওয়া হচ্ছে। নারীবাদী নেটওয়ার্ক, বিশেষ করে অল-ইন্ডিয়া ফেমিনিস্ট অ্যালায়েন্স (ALIFA-NAPM) এই নথিপত্র চাওয়ার বিষয়টিকে পিতৃতান্ত্রিক বংশধারা অনুসরণ করছে বলে অভিযোগ করেছে, যা মূলত পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় বিবাহিত, প্রান্তিক এবং মাইগ্রেন্ট নারীকে বৈষম্যের মধ্যে ফেলে।

বিবাহিত নারীদের সমস্যা প্রান্তিক জনগণের মধ্যে অনেক জটিল। বিয়ের পর তাদের নামের পদবি পরিবর্তন হয়ে যায় এবং ঠিকানা বদলে যায়। সবকিছু স্বামীর নাম ও ঠিকানার সঙ্গে যুক্ত থাকে। যারা গরিব এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, তাদের জন্মনিবন্ধন খুঁজে পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। ভারতের আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকায় নাম রাখতে গিয়ে বাবার বাড়ির নথিপত্র দিতে বাধ্য করা নারীদের বাদ দেওয়ার ইচ্ছাকেই প্রতিফলিত করে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বিশেষ বাংলাদেশের মানুষ বলেও ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অজুহাত দেওয়া হয়।

যারা নারীরা বাদ পড়ছেন, তারা অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল, শিক্ষার দিক থেকে পিছিয়ে আছেন এবং তাদের সরকারের প্রশাসনিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ সীমিত। এদের মধ্যে অধিকাংশ আদিবাসী, দলিত এবং শ্রমজীবী নারী। এই জনগণের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অর্থ হচ্ছে তাদের প্রতিনিধিত্ব নির্বাচিত করার পথ বন্ধ করে দেওয়া। নারীদের ভোটাধিকার হরণ ছাড়াও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই নারীরা সোচ্চার হয়েছেন। ঠিক যেমন নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন বা Citizen Amendment Act CAA এবং জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (National Register of Citizens NRC) নিয়ে হাজার হাজার আন্দোলনে তীব্র শীতের মধ্যে রাস্তায় বসে প্রতিবাদ করেছেন। ২০১৯ সালের ওই আন্দোলন সাধারণ নারীদের নেতৃত্বে হয়েছিল। শিক্ষক, ছাত্রী, গৃহিণী, তরুণ এবং বৃদ্ধ নারীরা এক হয়ে গিয়েছিলেন। ধর্মীয় পরিচয়ে অধিকাংশ ছিলেন মুসলমান। আন্দোলন ছিল অহিংস এবং শান্তিপূর্ণ। তারা শুধু রাস্তায় বসে থাকেননি, বাড়ি বাড়ি গিয়েও প্রচার চালিয়ে ছিলেন। আন্দোলনের মূল কেন্দ্র ছিল দিল্লির শাহীনবাগ, যেখানে টানা ১০০ দিন তীব্র শীতের মধ্যেও ধর্মঘট পালন করেছিলেন। আন্দোলনে নেতৃত্বে যেমন তরুণ নারী ছিলেন, তেমনি ৮২ বছর বয়সি বিলকিস বানু বা বিলকিস দাদির মতো প্রবীণ নারীরাও ছিলেন। ভারত এই আন্দোলন নিয়ে যথেষ্ট বিপাকে পড়েছিল, তবে ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারি ও লকডাউনের কারণে আন্দোলনটি সমাপ্ত হয়েছিল। জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তার জন্য পুরো এলাকাটি ফাঁকা করে দেওয়া হয়।

ভারতে নারীরা যখন রাজনীতিতে নিজেদের যোগ্যতায় এগিয়ে আসছেন, তখন নারীদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার এই ঘটনা ঘটে গেছে এবং এটি একবিংশ শতাব্দীর প্রথম অংশেই ঘটেছে। এখন নারী আন্দোলন ভোটার তালিকার বিষয়টির সংস্কার দাবি করছে। তারা দাবি করছে, যেসব কারণে নারী ভোটারদের নাম অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাদ পড়েছে, তা চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে বাদ পড়া ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা। প্রান্তিক নারীদের যেসব নথি চাওয়া হয়েছে, অথচ তারা সেগুলো দিতে পারছে না, তার বাস্তব কারণ রয়েছে। এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের আইনি অস্তিত্ব প্রমাণের নথি সহজে পাওয়া যায় না। তাদের জন্য বিকল্প পদ্ধতিতে নথিভুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। শুধু তাই নয়, ট্রান্সজেন্ডার এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের আইডি কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে এই এসআইআর শুধু ভোটের অধিকার হরণ মনে হলেও এর পরিণাম আরো সুদূরপ্রসারী। সরকারের কাছে সুবিধা পেতে হলে ভোটার আইডি কিংবা নাগরিকত্বের প্রমাণ প্রয়োজন। নারীদের ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ভাতা, বিধবা ভাতা বা রেশন সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত হতে পারে। তাদের ভারতের নাগরিক নয় বলে অন্য দেশে পাঠিয়ে দিতে পারে। মুসলমান এবং বাংলাভাষী হলে তাদের জন্য ঝুঁকি আরো অনেক বেশি।

এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা নারীদের এবং প্রান্তিক মানুষকে নিশ্চিহ্ন করার নগ্ন চেষ্টা। প্রতিরোধকারীদের জয় হোক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%