০৬:৩৯ পি.এম
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী তাপপ্রবাহ ও তীব্র গরমের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা গর্ভবতী নারীদের এবং তাদের অনাগত শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলে গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব, উচ্চ রক্তচাপ এবং নির্ধারিত সময়ের আগে সন্তান প্রসব বা অপরিণত শিশু জন্ম নেওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষ মাসে অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের প্রভাবে অপরিণত সন্তান জন্মের হার ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সাম্প্রতিক গবেষণা ও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ নির্দেশ করছে যে, বসবাসের এলাকার গড় তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে পরবর্তীতে অপরিণত সন্তান প্রসবের আশঙ্কা ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যা তাপপ্রবাহের পরবর্তী সপ্তাহে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
অতিরিক্ত গরমের ফলে প্রি-এক্লাম্পসিয়ার মতো গুরুতর গর্ভকালীন জটিলতা, জন্মগত ত্রুটি এবং প্লাসেন্টা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। চীনে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, অস্বাভাবিক গরমের কারণে প্রি-এক্লাম্পসিয়ার ঝুঁকি ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। মেক্সিকোর ৮০ হাজার জন্মসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, সন্তান জন্মের আগের চার সপ্তাহে তাপপ্রবাহের উপস্থিতি অপরিণত শিশু জন্মের হার গড়ে প্রায় ৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে।
আরও পড়ুন: ইরান: যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতি বিপর্যস্ত করতে চায়
গর্ভবতী নারীদের জন্য এই ঝুঁকি বেশি থাকে বেশি বয়সি, দরিদ্র, ধূমপায়ী এবং পূর্বে শারীরিক জটিলতা থাকা নারীদের ক্ষেত্রে। জোহানেসবার্গের গবেষক ও চিকিৎসক দর্শনিকা লাখুর মতো অনেক নারীও তীব্র গরমের কারণে যমজ সন্তান নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম নেওয়ার মতো জটিলতার সম্মুখীন হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে তাপপ্রবাহের সময় গর্ভবতী নারীদের জরুরি বিভাগে যাওয়ার, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কিংবা নবজাতকদের আইসিইউতে নেওয়ার হার বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, শরীরকে ঠান্ডা রাখতে গিয়ে অতিরিক্ত গরমে মায়ের শরীর জরায়ু বা প্লাসেন্টায় রক্ত সরবরাহ কমিয়ে দেয়, যা ভ্রূণের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে। তাপমাত্রা হরমোনের কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটানোর পাশাপাশি ভ্রূণের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠনে জিনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে অতিরিক্ত গরম জন্মগত ত্রুটি ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ালেও শেষের দিকে তা মৃত সন্তান প্রসবের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য চিকিৎসকেরা গর্ভবতী নারীদের অতিরিক্ত গরম থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকার, পর্যাপ্ত পানি পান করার, ঢিলেঢালা পোশাক পরার এবং ঠান্ডা পরিবেশে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সেইসঙ্গে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
গবেষকদের মতে, কেবল ব্যক্তিগত সচেতনতাই নয়, বরং গর্ভাবস্থায় নারীদের ছুটির সুযোগ বৃদ্ধি, নিরাপদ পানি ও শীতলীকরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি নীতিমালায় জরুরি পরিবর্তন আনার মাধ্যমেই অনাগত শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।
আরও পড়ুন: মণিপুরে জাতিগত সহিংসতায় নিহত ৫, বিক্ষোভ অব্যাহত
সূত্র: জিও টিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন