০৭:১৪ পি.এম
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পৌর শহরের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেও জ্বর ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। সরকারের দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় গফরগাঁও রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় প্রতি শনিবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে জমে থাকা পানি অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং স্টেশন এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। গফরগাঁও পশু হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা মো. ফয়জুল্লাহ বলেন, “আমার মা গত সাত দিন ধরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। আমাদের আশপাশেও জ্বরের রোগী দেখা যাচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু পৌর এলাকায় নয়, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেও জ্বর ও ডেঙ্গু নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
বিশেষ করে বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি, অপরিষ্কার নালা-নর্দমা, পরিত্যক্ত পাত্র ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা আবর্জনা নিয়ে সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাবলছেন তারা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর তিন মাসব্যাপী দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এরই অংশ হিসেবে জনবহুল গফরগাঁও রেলস্টেশন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: হাসনাত আব্দুল্লাহ: সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় উগ্রবাদ আ.লীগের রাষ্ট্রীয় মদদে সাজানো
গফরগাঁও রেলস্টেশন দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে বিপুলসংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করেন। বিভিন্ন মেইল ও আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি থাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় মানুষের উপস্থিতি থাকে। গফরগাঁও রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. হানিফ আলী বলেন, “সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। গফরগাঁও রেলস্টেশন একটি অত্যন্ত জনবহুল এলাকা। এখান থেকে প্রতিদিন শত শত যাত্রী ঢাকা, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। যাত্রীদের জন্য পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। প্রতিটি বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। গফরগাঁওয়ের সচেতন মহল মনে করেন, রেলস্টেশনের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পৌরসভা ও উপজেলার গ্রামাঞ্চলেও মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, গফরগাঁও হাসপাতালের উপজেলা স্ব্যস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো. তাওহিদ হাসান শাওন বলেন, গফরগাঁও উপজেলার মধ্যে ডেঙ্গু প্রার্দুভাব ছিল। তবে আস্তে আস্তে কিছুটা কমতেছে বলে দাবী করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন