বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:০৬ পি.এম
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধের ফলস্বরূপ মর্নেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাসেম মিঠুসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার মর্নেয়া ইউনিয়নের কামদেব শেখপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, আফিজ, আকিব ও নিবিড় বিড়ির স্বত্বাধিকারী এবং মর্নেয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাসেম মিঠুর সঙ্গে ফ্রেশ বিড়ির স্বত্বাধিকারী রমজান আলী জিকুর মধ্যে বিড়ির বাজার নিয়ে পূর্ব থেকেই বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের কারণে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলাকালে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।
তবে মীর কাসেম মিঠুর অভিযোগ, মর্নেয়া ইউনিয়নে মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায় তার ওপর এই হামলা হয়েছে। এ বিষয়ে রমজান আলী জিকুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সময় মীর কাসেম মিঠু, ছোট আসাদ ও তৌফিক হোসেন বাবলু মারধরের শিকার হন বলে জানা গেছে। এ সময় বিএনপির কার্যালয়ে থাকা চেয়ার, ব্যানার এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মর্নেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, মর্নেয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাবুদ এবং জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি রুহুল আমীনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে চাঁদ সরকার দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও মীর কাসেম মিঠুর ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ জন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুছ ছবুর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের ব্যাটিং দুর্বলতা ওয়ানডে ম্যাচে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মাঠে ভালো পারফর্ম না করেও কিছু খেলোয়াড় একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন। বারবার ব্যাটিং পজিশনে পরিবর্তন এবং টিম সিলেকশনে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও রয়েছে। তামিমের বোর্ড দায়িত্বে আসার পর অনেকের ভাগ্য খুলে গেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে সাবেক টাইগার ওপেনার ইমরুল কায়েস সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নুরুল হাসান সোহান। প্রায় এক দশক আগে ওয়ানডে অভিষেক ঘটে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের। তিনি ১৫ ইনিংসে খেলে এখন পর্যন্ত একটি ফিফটি করতে পারেননি। ঘরোয়া লিগে নিয়মিত না হলেও ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে দলের নিয়মিত মুখ হয়ে উঠেছেন সোহান। তামিম ইকবালের বোর্ড দায়িত্বে আসার পর তার একাদশে জায়গা অনেকটা অটো চয়েজ হয়ে গেছে।
সৌম্য সরকার। তাকে আর কত সুযোগ দেওয়া হবে? এবছর ৯ ইনিংসে তার নামের পাশে কেবল একটি পঞ্চাশোর্ধ রান রয়েছে। কখনো তাকে পাঁচে, কখনো ওয়ান ডাউনে খেলানো হচ্ছে। ৫০ ওভারের এই ফরম্যাটে সাইফ হাসান এখনও নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। মেহেদী মিরাজ নামের অলরাউন্ডার হলেও ব্যাটিংয়ে ধার নেই। নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটেও ধারাবাহিকতার অভাব দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থায় ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে টাইগাররা কতদূর যেতে পারবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এদিকে, ঘরোয়া লিগে নিয়মিত পারফর্ম করেও জাতীয় দলের বিবেচনায় নেই বাংলাদেশের একমাত্র যুব-বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলী। ২০২৫ এশিয়া কাপের পর জাকের আলীকে আর জাতীয় দলের একাদশে দেখা যায়নি। বাংলাদেশ পাইপলাইনে আর কোনো ব্যাটসম্যান তৈরি করতে পারেনি। এই ব্যর্থতার দায়ভার কার? কেন একদিনের ম্যাচে এমন ভরাডুবি হচ্ছে? ইমরুল কায়েস উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দল নির্বাচন নিয়ে স্বজনপ্রীতি হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে টিম ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব নিয়ে তিনি কঠোর সমালোচনা করেছেন।
কায়েস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ক্রিকেট বোর্ডের উচিত যোগ্যতা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য সেরা একাদশ নির্বাচন করা। ক্রিকেট একটি গোটা জাতির প্রতিনিধিত্ব করে। তাই জাতীয় দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবেগের বশবর্তী হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। যথেষ্ট হয়েছে! এবার যোগ্যতা, ন্যায্যতা এবং দেশের স্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখার সময় এসেছে।’
ম্যাচের শুরুতে উইকেট বিলিয়ে দেওয়া, ম্যাচের মোমেন্টাম বুঝে না খেলা এবং জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং বিপর্যয়ে পরাজয় বরণ—এগুলো এখন বাংলাদেশের ওয়ানডে ফরম্যাটের নিয়মিত চিত্র। কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পারছেন এসব সমস্যার সমাধানে? যে বাংলাদেশ একসময় জিম্বাবুয়েকে সহজেই হারাত, তারা এখন নিয়মিত হারছে। বিশেষ করে টাইগারদের প্রিয় সংস্করণ একদিনের ম্যাচে। আশরাফুলের আমলে ওয়ানডে দুর্দশায় পড়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের আগে টাইগার ব্যাটসম্যানদের প্রস্তুতির ঘাটতি এখন দিবালোকের মতো সত্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদের ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকী ১৯ অক্টোবর পালন করা হয়। ১৯৭৪ সালের এই দিনে তিনি রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম এই কবির স্মরণে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, "বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি, মুসলিম জাগরণের অগ্রপথিক কবি ফররুখ আহমদের ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।"
তিনি আরও বলেন, বাংলার মুসলমানের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য ও নবজাগরণের আকাঙ্ক্ষাকে কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ করে ফররুখ আহমদ একটি অনন্য সাহিত্যিক ঐতিহ্য নির্মাণ করেছেন।
‘সাত সাগরের মাঝি’ এবং ‘পাঞ্জেরী’ এর মতো কালজয়ী সৃষ্টি দিয়ে তিনি ঘুমন্ত জাতিকে জাগরণের আহ্বান জানিয়েছেন। তার কবিতায় হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং নতুন ভোরের প্রত্যাশা একই সঙ্গে ধ্বনিত হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, রাষ্ট্রীয় অবহেলা এবং চরম দারিদ্র্যও ফররুখ আহমদের কলমকে থামাতে পারেনি। তার জীবন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রকৃত সাহিত্যিকের শক্তি ক্ষমতার আনুকূল্যে নয়, বরং আদর্শের প্রতি অবিচলতায় নিহিত। তার সাহিত্য ও জীবনদর্শন এখনও আমাদের আত্মপরিচয়ের সন্ধান দেয়।
মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা দোয়া করি, আল্লাহ যেন কবিকে জান্নাতের মেহমান করেন।
পোস্টে কবির ‘সাত সাগরের মাঝি’ কবিতার কয়েকটি লাইন অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেগুলো হলো-
‘যে পথে যদিও পার হতে হবে মরু,
সে পথে যদিও দরিয়ার নোনা পানি,
তবুও সে পথে আছে মঞ্জিল,
জানি আছে ছায়াতরু
পথে আছে মিঠে পানি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবে এক নারীসহ দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। কাজের জন্য গিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, বেতন না পাওয়া এবং যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে অনেক নারী দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। যদিও শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য সৌদি আরবে কিছু আইন ও বিধিবিধান সংশোধন করা হয়েছে, তবুও নির্যাতনের অভিযোগ থামছে না।
গত দুই বছরে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কাজ করতে যাওয়া নারী কর্মীদের মধ্যে বেশির ভাগই সৌদি আরবে গেছেন। জর্ডানের অবস্থান এর পরের স্থানে রয়েছে, তবে সৌদি আরবের তুলনায় জর্ডানে যাওয়া নারী কর্মীর সংখ্যা তিন ভাগের এক ভাগেরও কম। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি নারী কর্মী বিদেশে গেছেন, যার মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার সৌদি আরবে গেছেন।
অন্যদিকে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি নারী কর্মী বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন, এবং তাদের মধ্যে প্রায় এক হাজার সৌদি আরব থেকে ফিরেছেন। দেশে ফিরে আসা নারী কর্মীদের নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, বেতন না পাওয়া কিংবা বেতন চাইতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং যৌন নিপীড়নের কারণে অধিকাংশ নারী কর্মী দেশে ফিরতে বাধ্য হন।
অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম ওকাপের চেয়ারপারসন শাকিরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, "প্রতি বছর কত নারী বিদেশ থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হন, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায় না।" তিনি আরও বলেন, দেশে ফিরে আসা নারী কর্মীদের নিয়ে গত বছরের জুলাইয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের ৯০ শতাংশই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে দেশে ফিরেছেন।
সৌদি আরবে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহের মতে, প্রায় এক দশক আগে দুই দেশের মধ্যে গৃহকর্মী নিয়োগ নিয়ে যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে কর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়গুলো যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে।
আইন বদলেছে, নির্যাতনের অভিযোগ থামেনি
সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির আওতায় কয়েক বছর আগে শ্রম আইনে কিছু সংস্কার আনা হয়েছে। বিদেশি কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং চাকরি পরিবর্তন ও চলাচলের স্বাধীনতা বাড়ানো ছিল এসব সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সৌদি প্রেস এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গৃহকর্মী ও একই ধরনের কাজে নিয়োজিত কর্মীদের নিয়োগসংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধন করেছে সৌদি আরব।
সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, নিয়োগকর্তারা কর্মীদের চুক্তিতে উল্লেখ নেই—এমন কোনো কাজ করতে বাধ্য করতে পারবেন না। তৃতীয় কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করানোও নিষিদ্ধ। একইভাবে, কর্মীদের স্বাস্থ্য, শারীরিক নিরাপত্তা কিংবা মর্যাদার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা যাবে না।
তবে এসব পরিবর্তনের পরও সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের যাওয়া শুরুর সুনির্দিষ্ট সময় নিয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য খুব একটা পাওয়া যায় না। তবে কয়েকটি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই থেকে আড়াই দশক ধরে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক নারী সেখানে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন।
গত বছরের ৬ অক্টোবর সৌদি আরবের তৎকালীন মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়নমন্ত্রী আহমেদ আল-রাজহি এবং বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাধারণ শ্রমিক নিয়োগ নিয়ে একটি চুক্তিতে সই করেন। সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি হবে। এর আওতায় কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের অধিকার সুরক্ষা এবং তাদের মধ্যকার চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে শ্রমিক পাঠানো শুরু হয়। এরপর থেকে প্রায় ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক দেশটিতে কাজ করছেন। সৌদি আরব বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের অন্যতম প্রধান উৎস।
২০১৫ সালের চুক্তিতেও ছিল সীমাবদ্ধতা
গত দশকের শুরুর দিকে বিপুলসংখ্যক নারী কর্মী নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসার ঘটনায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে গৃহকর্মী নিয়োগ নিয়ে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি হয়। দুই বছর মেয়াদি ওই চুক্তি অনুযায়ী, সৌদি আরবে যাওয়া নারী গৃহকর্মীদের মাসে ৮০০ সৌদি রিয়াল বেতন পাওয়ার কথা ছিল। চুক্তিতে বলা হয়েছিল, গৃহকর্মীরা বিনা খরচে সৌদি আরবে যেতে পারবেন।
তবে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বেসরকারি সংস্থাগুলো বলছে, অনেক নারী কর্মী বেতন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বেতন চাইতে গিয়ে কেউ কেউ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। একপর্যায়ে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
প্রশিক্ষণ ও ভাষাগত দক্ষতার ঘাটতি
সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা কেন কমছে না, তা নিয়ে রিয়াদ ও জেদ্দায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সূত্রগুলো বলছে, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা ছাড়াই অনেক নারীকে পাঠানো হচ্ছে। এতে সংকট আরো জটিল হচ্ছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, গৃহকর্মী নিয়োগের চুক্তিতে কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা ও সুরক্ষার বিষয়গুলো যথাযথভাবে রাখা হয়নি। অন্যদিকে, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রামাঞ্চল থেকে নারীদের নিয়ে কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই সৌদি আরবে পাঠাতে শুরু করে।
তিনি বলেন, চুক্তিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এজেন্টরা গ্রামের সহজ-সরল নারীদের প্রশিক্ষণ ছাড়াই সৌদি আরবে পাঠানো শুরু করেন। ফলে তারা সেখানে গিয়ে বিপদের মুখে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ দূতাবাস নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বা সেফ হোম চালু করেছিল। একপর্যায়ে সেখানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নারী আশ্রয় নিতে শুরু করেন।
জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার হওয়ার কারণে ইন্দোনেশিয়া ২০১১ সালের আগস্টে সৌদি আরবে নারী কর্মী পাঠানো বন্ধ করে দেয়। এরপর সৌদি আরব ফিলিপাইন, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের ওপর নির্ভরতা বাড়ায়। নেপাল ও শ্রীলঙ্কা মাসে ১ হাজার ৭০০ রিয়ালের কম বেতনে কর্মী পাঠাতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে, ফিলিপাইন তাদের নারী কর্মীদের নিয়োগকর্তার বাসার বাইরে সৌদি প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত আবাসনে রাখার বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি করে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের চাপে বাংলাদেশ মাসে সাড়ে ৮০০ রিয়াল বেতনে গৃহকর্মী নিয়োগের চুক্তিতে রাজি হয়। পরে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের নির্যাতনের বিষয়টি সামনে আনায় ২০১৯ সালের আগস্টে বাংলাদেশের দূতাবাসের প্রতিনিধিদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন সৌদি আরবের তৎকালীন শ্রম ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশি কর্মীরা কেন সৌদি নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন এবং কেন দ্রুত দেশে ফিরতে চান, তা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।
তখন সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন গোলাম মসিহ। তার ভাষ্য, প্রশিক্ষণ ও ভাষাগত দক্ষতার অভাবকে সমস্যা হিসেবে দেখেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। মসিহ বলেন, সৌদি আরবে যাওয়ার আগে নারী কর্মীদের কাজের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানানো এবং সেখানকার বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত আধুনিক যন্ত্রপাতি চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি।
তিনি আরো বলেন, ফিলিপাইনের কর্মীরা যেভাবে নিয়োগকর্তার বাসার বাইরে নির্ধারিত আবাসনে থেকে কাজ করেন, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্যও তেমন ব্যবস্থা করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
চলতি বছরের ৯ জুলাই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সৌদি আরবে ফিলিপিনের নারী কর্মীদের বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনা তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে অতিরিক্ত কাজ করানো, শোষণ, মর্যাদাহানিকর আচরণ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠে আসে।
‘একবার যখন তাদের বাড়িতে ঢুকি, তারপর আমরা আর মানুষ থাকি না’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে ১৯ জন ভুক্তভোগী নারীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। তাদের অধিকাংশই ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশে ফিরে গেছেন।
নারী গৃহকর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৯৮ সালে নেপাল সৌদি আরবে নারী কর্মী পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। ওই বছর কুয়েতে নির্যাতনের শিকার এক নেপালি গৃহকর্মীর আত্মহত্যার ঘটনা দেশটিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
এরপর নেপাল সরকার সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে নারীদের কাজ করতে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০২২ সালে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও সৌদি আরবে নেপালি নারী গৃহকর্মী পাঠানো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নেপাল ও সৌদি আরব সাধারণ কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় একটি চুক্তি সই করে। তবে নারী গৃহকর্মীদের বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সমঝোতা হয়নি। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন পথে নেপালি নারীদের গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে যাওয়া অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার শ্রম মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গত ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, দেশটির গৃহকর্মীদের জন্য উচ্চ বেতন, উন্নত জীবনযাত্রার মান ও শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার সম্ভাবনা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে শ্রীলঙ্কা সরকার নারীদের গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে পাঠাতে আগ্রহী নয় বলে ওই তথ্যে উল্লেখ করা হয়।
সৌদি সরকারের বক্তব্য ও জবাবদিহির প্রশ্ন
দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে সৌদি আরব আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে ফিলিপিনের নারী কর্মীদের নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে সৌদি সরকারের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে সৌদি সরকার বলেছে, বিদ্যমান বিধিবিধানের আওতায় গৃহকর্মীরা সুরক্ষিত। নির্যাতনের যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত করা হয়।
গৃহকর্মীদের সুরক্ষা জোরদার এবং বিধিবিধানের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছে সৌদি সরকার। এসবের মধ্যে রয়েছে মানসম্মত কর্মচুক্তি, মজুরি সুরক্ষা ব্যবস্থা, বিমা কর্মসূচি, অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা এবং নির্যাতন বা বিধিবিধান লঙ্ঘনের ঘটনায় নিয়োগকর্তা পরিবর্তনের সুযোগ।
তবে সৌদি সরকারের এসব দাবি ও পদক্ষেপের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত চেয়ে পাঠানো অনুরোধের জবাব দেয়নি সৌদি সরকার। গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় নেওয়া সংস্কার ও অন্যান্য পদক্ষেপ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং সেগুলো কতটা কার্যকর, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত প্রশ্নের উত্তর দেয়নি দেশটির সরকার।
ফলে আইন ও বিধিবিধানে পরিবর্তন আনার পরও সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ অব্যাহত থাকা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলো কতটা কার্যকর—সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে হামলার শিকার হয়েছে কুয়েতের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকার। জাহাজটির নাম ‘এমটি আল দাসমা’, যেখানে ২১ জন ভারতীয় নাবিকসহ অন্যান্য ক্রু সদস্য উপস্থিত ছিলেন। হামলার পর ট্যাংকারটিতে আগুন লেগে গেলেও নাবিকেরা তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ভারত সরকার জানায়, জাহাজে থাকা সবাই নিরাপদে রয়েছে। খবরটি *টাইমস অব ইন্ডিয়া* থেকে প্রাপ্ত।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ট্যাংকারটিতে একটি ‘অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল’ আঘাত হানে। এই ঘটনা ঘটে ওমানের বুখা উপকূল থেকে প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে। তবে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি ক্ষেপণাস্ত্র নাকি ড্রোন ছিল, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথবিষয়ক মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল জানিয়েছেন, জাহাজে থাকা ২১ জন ভারতীয় নাবিকসহ সকল ক্রু সদস্য নিরাপদে আছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বার্তায় এ তথ্য প্রকাশ করেন।
হামলার পর ট্যাংকারটিতে আগুন ধরে যায়, কিন্তু জাহাজের কর্মীরা তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ইউকেএমটিও জানায়, হামলার পর জাহাজটি নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে। এ ঘটনায় সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ হামলার কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামুদ্রিক সংবাদমাধ্যম সিট্রেড মেরিটাইমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০ অক্টোবর ইরাকের আল ফাও বন্দরের দক্ষিণ-পূর্বে ‘সোইয়া’ নামের আরেকটি ট্যাংকার অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই জাহাজের নাবিকরাও নিরাপদ ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ