ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিরাপদ খাদ্য আইনে ৭ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা জরিমানা


নিরাপদ খাদ্য আইনে ৭ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

ঢাকা, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ : জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে এবং সাতটি মামলা দায়ের করে।

সংস্থাটির ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর আওতায় এসব জরিমানা করা হয়।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, ৯ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা, বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, বাজার ও খাদ্য প্রতিষ্ঠানে মনিটরিং এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়।

আরও পড়ুন: মহানগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন রাসিক প্রশাসক রিটন

এ সময় ঢাকা মেট্রোপলিটনে সাতটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তিনটি মামলা করা হয়। এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজার, ঢাকা ও মানিকগঞ্জে চারটি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মোট ছয় লাখ টাকা জরিমানা এবং চারটি মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে একই সময়ে সারাদেশে ১৩০টি খাদ্য স্থাপনার মনিটরিং কার্যক্রম সংঘটিত হয়েছে। এসব কার্যক্রমের আওতায় বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারী, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানে তদারকি করা হচ্ছে।

এছাড়া, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের পৃষ্ঠপোষকতায় গত ১৪ আগস্ট জয়পুরহাটে ‘খোলা ভোজ্যতেল বিক্রয় বন্ধের লক্ষ্যে স্থানীয় স্টেকহোল্ডারদের ভূমিকা’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি কর্তৃপক্ষের মোবাইল ল্যাবরেটরি ভ্যানের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ট্রান্সফ্যাটবিষয়ক ১৪ মিনিটের বার্তা এবং বাংলাদেশ বেতারে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক তিনটি পৃথক বার্তা ৩৫ মিনিট প্রচার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা

পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক বিভিন্ন বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, খাদ্য নিরাপদতা ব্যবস্থার উন্নয়ন, ঝুঁকি নিরূপণ এবং নীতিনির্ধারণে সহায়ক তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফীকুল ইসলাম বলেছেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে আইন প্রয়োগ, নিয়মিত মনিটরিং, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, গবেষণা, গণসচেতনতার প্রচারণা এবং অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যবসায়ী, উৎপাদক, ভোক্তা ও সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম আরও ব্যাপক ও কার্যকরভাবে অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে বান্দরবানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃ-ত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮০৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩১ পি.এম


২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃ-ত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮০৫

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর ফলে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে মোট প্রাণহানি ৭০ জনে দাঁড়াল। অন্যদিকে, গত একদিনে নতুন করে ৮০৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া তিনজনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। পাশাপাশি, এই সময়ে ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি ৪১৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে ৯৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮২, বরিশাল বিভাগে ৮০, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৫, রাজশাহী বিভাগে ৫৫, রংপুর বিভাগে ৭ এবং সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু নিয়ে ২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে রোববার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ৩৩ জন মারা গেছেন। এছাড়া, উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ১৫ জন, বরিশাল বিভাগে ৮, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ জন এবং রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুতে একজন করে মোট ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেছারাবাদে জমি বিরোধে ইট-স্লাব ও রিং ভাঙচুরের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩৮ পি.এম


নেছারাবাদে জমি বিরোধে ইট-স্লাব ও রিং ভাঙচুরের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সুটিয়াকাঠী ইউনিয়নে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে ইট, টয়লেটের স্লাব ও রিং ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে এবং এরপর পাশের পুকুরে ভাঙচুর করা সামগ্রী ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিকার এবং আইনগত সহায়তা চেয়ে নেছারাবাদ থানায় এক লিখিত আবেদন করেছেন ৬২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, যার নাম সামসুল হক।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে নেছারাবাদ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগটি থেকে জানা যায় যে, সুটিয়াকাঠী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. মিরাজ (৩৬), মোসা. পুতুল এবং মোসা. নুরুন্নাহারের সঙ্গে সামসুল হকের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। তিনি দাবি করেছেন যে, এই বিরোধীয় সম্পত্তির উপর তার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে, যা তিনি ক্রয় সূত্রে অর্জন করেছেন। সামসুল হক অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন যে, গত ১৫ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৬টার দিকে অভিযুক্তরা আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে তার জায়গায় রাখা ইট, টয়লেটের স্লাব ও রিং ভাঙচুর করে ফেলেন এবং সেগুলো পাশের পুকুরে ফেলে দেন। এতে সামসুল হকের আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে, যা তিনি দাবি করছেন।

অভিযোগকারী বলেছেন যে, ঘটনার পর তিনি বিষয়টি জানতে চাইলে অভিযুক্তরা তার সাথে ঝগড়া ও গালিগালাজ করতে শুরু করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এমনকি, জমির কাছে গেলে তাকে গুরুতর ক্ষতির হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তার অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

সামসুল হকের দাবি, ঘটনার সময় নেছারাবাদ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও অভিযুক্তরা কারও কথা শুনতে রাজি হয়নি। তিনি ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. মিরাজ বলেছেন যে, অভিযোগগুলো তিনি অস্বীকার করেন এবং জামা নিয়ে সামসুল হকের সঙ্গে তাদের বিরোধ রয়েছে বলেও জানান। তবে, তিনি ইট, টয়লেটের স্লাব ও রিং ভাঙচুর কিংবা তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবী করেছেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে আইন কার্যক্রম শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন।

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান মন্তব্য করেছেন যে, এই বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের দাবিতে মহিলা পরিষদের মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩৮ পি.এম


কাউখালীতে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের দাবিতে মহিলা পরিষদের মানববন্ধন

সারাদেশ জুড়ে নারীর প্রতি অব্যাহত সহিংসতা, ধর্ষণ, হত্যা ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে পিরোজপুরের কাউখালীতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কাউখালী সাংগঠনিক জেলা শাখা।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে মহিলা পরিষদের নিজস্ব কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং নারী অধিকারকর্মীরা অংশ নেন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কাউখালী সাংগঠনিক জেলা শাখার সাবেক সভাপতি জাহানুর বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কাউখালী মহিলা কলেজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ও নারী নেত্রী কুমকুম ভট্টাচার্য, শিউলি কর্মকার, চায়না মজুমদার, মৌমিতা সাহা, নিতু মন্ডল, শামীম আরা এবং রেক্সোনা খানম।

বক্তারা এতে বলেন, সারাদেশে নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন, ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কাউখালী সাংগঠনিক জেলা শাখার সাবেক সভাপতি জাহানুর বেগম বলেন, “নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করতে হবে। শুধু মানববন্ধন নয়, প্রতিটি পরিবার ও সমাজকে সচেতন হতে হবে। আমরা চাই প্রতিটি নারী ও শিশু নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে এবং নির্যাতনের ঘটনায় কোনো অপরাধী যেন আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে। অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

কাউখালী মহিলা কলেজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ও নারী নেত্রী কুমকুম ভট্টাচার্য বলেন, “নারীর প্রতি সহিংসতা কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিষয় নয়, এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। ধর্ষণ, হত্যা ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ প্রতিরোধে রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা চাই নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত হোক এবং অপরাধীরা রাজনৈতিক বা সামাজিক কোনো পরিচয়ে যেন ছাড় না পায়।”

মানববন্ধন থেকে নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, হত্যা এবং শিশু নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেসরকারিভাবে জ্বালানি আমদানিতে আপত্তি নেই, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে পূর্ণ আস্থা: অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪১ পি.এম


বেসরকারিভাবে জ্বালানি আমদানিতে আপত্তি নেই, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে পূর্ণ আস্থা: অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন

বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের মহাসচিব ও জেওসিএল লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ এয়াকুব জানিয়েছেন, "সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানও বর্তমানে তেল আমদানি করছে।" তিনি বলেন, "তারেক রহমানের সরকার, জনগণের সরকার। জ্বালানি তেলের সংকট নিরসনে তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটার সঙ্গে আমরা একমত।"

মুহাম্মদ এয়াকুব আরও বলেন, "বাংলাদেশের অনেক ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি করে। সেই তেল তারা পরিশোধন করেন। সেই তেলও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মাধ্যমে আমরা বিক্রি করি। অর্থাৎ ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তেল আমদানি এখন চলমান রয়েছে।"

তিনি বলেন, "সরকার যদি বেসরকারিভাবে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করার উদ্যোগ নেয়, তাহলে তাদের আপত্তি নেই। আমাদের মতামত হচ্ছে—আমরা প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নেবেন তার সঙ্গে একমত।" কারণ, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, "উন্নয়নের জন্য, দেশকে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছেন। তার কথার ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে।"

রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে যমুনা অয়েল কম্পানি লিমিটেড (জেওসিএল) কার্যালয়ে 'যমুনা ভবনে'র অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের হয়রানি, অস্থায়ী শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ীকরণসহ বিভিন্ন দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে জেওসিলসহ জ্বালানি খাতের সর্বস্তরের শ্রমিক-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

ফেডারেশনের মহাসচিব বলেন, "দেশের আয়তনের চাইতে জনসংখ্যা অনেক বেশি। তাই এই জনসংখ্যার মৌলিক অধিকার পূরণ করতে গিয়ে সরকারকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের সংকট নিরসনের জন্য দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করে যে ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে সেটার সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করি।"

তিনি বলেন, "যেহেতু তারেক রহমানের সরকার জনগণের সরকার, শ্রমিকবান্ধব সরকার। আমরা মনে করি, এমন কোনো কিছু তিনি চাপিয়ে দেবেন না, যেটায় এই সেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হবে, দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।"

জেওসিএল-এর এই নেতা অভিযোগ করেন, "সরকারে ঘাপটি মেরে থাকা একটি কুচক্রী মহল শ্রমিক অধিকার খর্ব করে জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে।

সেই লক্ষ্যে, অযাচিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শ্রমিকদের বিদ্যমান ২২টি সুনির্দিষ্ট সুবিধা কর্তনের পাঁয়তারা, দ্বিপক্ষীয় চুক্তিনামার মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা যুগোপযোগী করায় গড়িমসি, জ্বালানি খাতে শ্রম আইনকে শ্রমিকবান্ধবের পরিবর্তে শ্রমিকবিরোধী আইনে পরিণত করার তোড়জোড় চলছে।"

শ্রমিক নেতা এয়াকুব বলেন, ‘সরকার শ্রমিকদের নায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলছে। এ জন্য নানামুখী উদ্যোগও গ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু জ্বালানি খাতে এর উল্টোটাই ঘটছে। বিপিসির আওতাধীন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, এসএওসিএল, এলপিজিসহ বিভিন্ন কম্পানিতে শ্রমিকদের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিবর্তে কমানোর পাঁয়তারা চলছে।’

তিনি যোগ করেন, "শ্রমিক নেতাদের নানাভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের নায্য অধিকার আদায়ের পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টাও হচ্ছে। শ্রমিক-কর্মচারীরা জ্বালানি খাতে শান্তি চায়।"

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "আমরা জানিয়ে দিতে চাই, জ্বালানি খাতে কাউকে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা কেবল তাদের নায্য অধিকার চায়। হয়রানি বন্ধ চায়। অযাচিত হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশ চায়।"

সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি থেকে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। সেগুলো হলো- দুই বছর পর পর দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে বিপিসির তেল বিপণন কম্পানিগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা যুগোপযোগী করা হয়। কিন্তু সর্বশেষ চুক্তির মেয়াদ ১৯ মাস পার হতে চললেও কম্পানিসমূহের অবহেলা ও গড়িমসির কারণে নতুন চুক্তি করা যাচ্ছে না।

এ ছাড়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে গত ১৭ জুন বিপিসির আওতাধীন কম্পানিগুলোর প্রান্তিক সুবিধা নীতিমালা-২০২৬ (খসড়া) প্রণয়ণের নামে শ্রমিক-কর্মচারীদের বিদ্যমান ২২টি সুবিধা কাটছাঁট করতে চাইছে।

একইভাবে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ (অদ্যাবধি সংশোধিত) এর ২ (৬২) ধারায় সংজ্ঞায়িত ‘শিল্প বিরোধ এবং শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তি’ সংক্রান্ত ধারা- ২০৯, ২১০ ও ২১১ রহিতকরণের মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার আদায়ে প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা সিবিএ নেতাদের ক্ষমতা খর্ব করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।

আবার খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকেই গত ২৬ জুলাই জারি করা এক অফিস আদেশের মাধ্যমে বিপিসির পরিচালককে (অপারেশন) আহ্বায়ক করে আট সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে তেল বিপণন কম্পানিগুলোতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের কার্যক্রম মনিটরিং এবং জবাবদিহির সুপারিশ চাওয়া স্পর্শকাতর এই খাতের শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন কম্পানিতে বেশকিছু সংখ্যক শ্রমিক কম্পানি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার শ্রমিক হিসেবে ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ ভিত্তিতে খুবই অল্প বেতনে চাকরি করে আসলেও লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না।

যমুনা অয়েল কম্পানি লেবার ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন পদ্মা অয়েল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন সভাপতি জসিম উদ্দিন, এলপিজি শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন সভাপতি মনির হোসেন, বিপিসির শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, পদ্মা অয়েল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক সেলিম কবির চৌধুরী, যমুনা অয়েল লেবার ইউনিয়নের সহসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ মন্নান প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড ওয়ার্কার্স ফেডারেশন হচ্ছে জ্বালানি তেল ও গ্যাস খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের শীর্ষ সংগঠন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, পদ্মা অয়েল কম্পানি লিমিটেড, মেঘনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশন লিমিটেড, যমুনা অয়েল কম্পানি লিমিটেড, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কম্পানি লিমিটেড ও এলপি গ্যাস লিমিটেডের সিবিএ সংগঠনগুলো নিয়ে সম্মিলিত সংগঠন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%