মোঃ রাসেল সরকার , (স্টাফ রিপোর্টার) প্রতিনিধি
০৫:০৪ পি.এম
সমৃদ্ধ সাংবাদিকতা, জ্ঞানচর্চা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির প্রত্যয়ে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের লাইব্রেরি ও অবকাঠামোগত সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় শাহজাদপুর প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে লাইব্রেরি ও সংস্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
প্রেসক্লাবের লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা ও অবকাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগকে স্থানীয় সাংবাদিকদের জ্ঞানচর্চা, পেশাগত উৎকর্ষ সাধন এবং উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংবাদকর্মীরা। সংশ্লিষ্টদের আশা, এ উদ্যোগ সাংবাদিকদের নিয়মিত অধ্যয়ন, তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশন এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের সহধর্মিণী স্থপতি ফাহমিদা মুহিত, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন হিরু, সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আরিফ, শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ জাফর লিটন, সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন হোসেনসহ অন্যান্য অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
প্রেসক্লাবের লাইব্রেরি ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে শাহজাদপুরের সাংবাদিকদের পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্বশীল ও সমৃদ্ধ সাংবাদিকতা চর্চার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইতালির ঐতিহ্যবাহী ও বিখ্যাত ওয়াইন প্রস্তুতকারক কম্পানি ‘মার্কেসি আন্তিনোরি’র গুদাম থেকে প্রায় ৫০ লাখ ইউরো মূল্যের (প্রায় ৭০ কোটি টাকা) ৩০ হাজার বোতল দামি ওয়াইন চুরি হয়েছে। শনিবার টাস্কানি অঞ্চলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ইতালির ইতিহাসে ওয়াইন চুরির সবচেয়ে বড় ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন কম্পানির প্রধান নির্বাহী।
বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইতালীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে পাঠানোর উদ্দেশ্যে ওয়াইনের চালান প্রস্তুতির সময় এই চুরির ঘটনা ঘটে। অন্তত সাতজন মুখোশধারী ব্যক্তি গুদামে প্রবেশ করে অ্যালার্ম ও নিরাপত্তা ক্যামেরা অকার্যকর করে দেয়। এরপর তারা কম্পানির নিজস্ব ফর্কলিফট ব্যবহার করে দুটি বড় ট্রাকে মূল্যবান ওয়াইনের বোতল বোঝাই করে পালিয়ে যায়। চুরি হওয়া ওয়াইনের মধ্যে রয়েছে কম্পানির বিখ্যাত ব্র্যান্ড টিনিয়ানেলো, সোলাইয়া ও গুয়াদো আল তাসো। প্রতি বোতলের বাজারমূল্য ১৫০ থেকে ৫০০ ইউরো।
কম্পানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, এটি কোনো সাধারণ চোর চক্রের কাজ নয়। চোরেরা নিশ্চিতভাবেই ওয়াইন বিশেষজ্ঞ ছিল এবং তাদের কাছে কম্পানির ভেতরের গোপন তথ্য ও যাতায়াতের খবর ছিল। কারণ, তারা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও মূল্যবান বোতলগুলোই বাছাই করে চুরি করেছে। সোমবার সকালে কর্মীরা গুদামে পৌঁছানোর পর চুরির বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
বিখ্যাত ইতালীয় পত্রিকা ‘করিয়েরে দেল্লা সেরা’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধান নির্বাহী রেনজো কোতারেলা বলেন, ‘ইতালিতে এত বড় মাপের এবং এত মূল্যবান চুরির ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।’
ফিনান্সিয়াল টাইমস-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই ওয়াইনগুলোর অনেক মূল্য আছে এবং আমি জানি না কিভাবে তারা কারো নজরে না পড়েই সারা বিশ্বে এত ওয়াইন বিক্রি করে।’ তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতি আস্থা রেখে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, টাস্কানের ক্যামেরাভর্তি রাস্তায় ট্রাক দুটি শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং কিছু বোতল উদ্ধার করা যাবে।
১৩৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন এই পারিবারিক ওয়াইন কম্পানিটি বিশ্বের ১৭০টি দেশে পণ্য রপ্তানি করে। গত বছর তাদের মোট রাজস্ব ছিল ২৬৩ মিলিয়ন ইউরো (২২৩ মিলিয়ন পাউন্ড)। উল্লেখ্য, চলতি বছর ইতালিতে ওয়াইন চুরির হার বেশ বেড়েছে। এর আগে উত্তরাঞ্চলীয় পিডমন্ট অঞ্চলেও এমন বড় চুরির ঘটনা ঘটেছিল, যেখান থেকে লক্ষাধিক ইউরোর ওয়াইন চুরি হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের সাফারি পার্ক থেকে দুটি লেমুর চুরির ঘটনায় তদন্তের কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই ঘটনার জন্য যারা দায়ী থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সাফারি পার্ক পরিদর্শনের সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, সাফারি পার্ক থেকে বন্যপ্রাণী চুরি হওয়া একটি ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, "মারা গেলেও বলা হচ্ছে চুরি হয়েছে।" এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, পরিচর্যার অভাবে যেন কোনো বন্যপ্রাণী মারা না যায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি লেমুরের বাংলাদেশে আগমনের বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না। যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, লেমুর দুটি বাংলাদেশে আসার বিষয়টিও অবৈধ ছিল। পরবর্তীতে সেগুলো সাফারি পার্ক থেকে চুরি হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কাবাডিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার শাহ গরীবুল্যাহ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের মেয়েরা। জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে তারা চাঁপা দলের হয়ে খেলে রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলের সমন্বয়ে টানা তিনটি জয় অর্জন করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব লাভ করে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ খেলায় চাঁপা দল খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের সমন্বয়ে গঠিত গোলাপ দলকে পরাজিত করে। এর আগে বৃহস্পতিবার কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের সমন্বয়ে গঠিত বকুল দলকে এবং বুধবার ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের পদ্ম দলকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে এগিয়ে যায় তারা।
বিজয়ী দলের শিক্ষার্থী নুরে মুমতারিন জিন্নাত ও জাকিয়া সুলতানা জিম বলেছেন, ‘আমরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ করতাম। আমাদের স্কুলের শিক্ষক ও কোচের আন্তরিকতার কারণে এই বিজয় পেয়েছি। আমরা জাতীয় দল ও দেশের বাইরে খেলতে চাই।’
চাঁপা দলের কোচ ফয়জুন নেছা মনা জানিয়েছেন, শাহ গরীবুল্যাহ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের পাশে তাঁর মানচিত্র স্পোর্টস ক্লাব নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নেওয়ার ফলে মেয়েরা ভালো করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই মেয়েরা একদিন জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবে। কাবাডি ছাড়াও তারা বিভিন্ন খেলায় পারদর্শী।
তিনি আরও বলেন, মেয়েদের অধিকাংশই নিম্নবিত্ত পরিবারের। খাবার ও ক্রীড়াসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করা হলে তারা আরো ভালো করবে।
শাহ গরীবুল্যাহ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তবিবুর রহমান জানিয়েছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্প করে মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তাঁরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এসেছিলেন। কোচ ফয়জুন নেছা মনাসহ সবার সহযোগিতায় এই সাফল্য এসেছে। এ জন্য তাঁরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানিয়েছেন।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সহকারী ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. সাঈম মিয়া বলেছেন, প্রতিযোগিতার খেলাগুলো লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজয়ী চাঁপা দলসহ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। শনিবার চ্যাম্পিয়ন দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির উদ্যোগে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) শারীরিক শিক্ষা বিভাগ ও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের যৌথ ব্যবস্থাপনায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সারা দেশ থেকে বাছাই করা ৩৬৮ জন প্রতিভাবান শিক্ষার্থী জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানে সংবিধান রক্ষা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানসহ রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর ডাকা লংমার্চে এবার পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেছে দেশটির শীর্ষ আইনজীবী সংগঠন 'অল পাকিস্তান লয়ার্স অ্যাকশন কমিটি'। সংগঠনটির নেতারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এই লংমার্চ একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে।
বৃহস্পতিবার কোয়েটায় প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে কমিটির চেয়ারম্যান আলী আহমেদ কুর্দসহ বিভিন্ন বার অ্যাসোসিয়েশন ও আইনজীবী পরিষদের প্রতিনিধিরা এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কথা জানান।
বিবৃতিতে আইনজীবী নেতারা উল্লেখ করেন, পিটিআইয়ের এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো সংবিধানের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং সার্বভৌম সংসদ নিশ্চিত করা। দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, ক্রমাগত অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক ও মানবাধিকারকর্মীদের বেআইনি গ্রেপ্তারের ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তারা ইমরান খানসহ দেশজুড়ে আটক পিটিআইয়ের সব নেতাকর্মীর অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি এবং পিটিআইয়ের দাবিসমূহ দ্রুত মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে আইনজীবীরা সতর্ক করে বলেছেন, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে যদি অন্যায্যভাবে গভর্নরের শাসন জারি করা হয় বা অন্য কোনো ‘অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ’ নেওয়া হয়, তবে আইনজীবীরা দেশজুড়ে কঠোর প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি গড়ে তুলবেন। পাশাপাশি তারা পিটিআইয়ের শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
পাকিস্তানে লংমার্চকে কেন্দ্র করে যখন দেশজুড়ে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখন শীর্ষ আইনজীবীদের এই প্রকাশ্যে সমর্থন ইমরান খানের দলের দাবিসমূহকে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে নতুন শক্ত ভিত প্রদান করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া বা সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। সূত্র: ডন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ