০৭:৫০ পি.এম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘আমরা তাদের পতন চাইনি, বরং তাদের সফলতা চেয়েছিলাম। তাদের সফলতা মানে দেশের সফলতা। এতদিন আমরা বলতাম, আমরা সরকারকে সহযোগিতা করব। আজ থেকে আমি ঘোষণা দিচ্ছি, ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করব। এই সরকার আমাদের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ। তাদের বিরোধী দলের সহযোগিতা নেওয়ার কোনো যোগ্যতা নেই।’
রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি আয়োজিত ‘জুলাই সনদের ১ বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘তারা সবার আগে বাংলাদেশের স্লোগান দিলেও সবার আগে বাংলাদেশ নয়। সবার আগে তারা নিজে, নিজের পরিবার, তার সন্তান, তার ভাগনা, তার ভাতিজা, তার শ্বশুর, তার স্ত্রী—এগুলো সবার আগে। আমরা সিন্ডিকেটের কাছে প্রিয় বাংলাদেশকে তুলে দেব না। ওই দিন শেষ। যুবকরা জেগে উঠেছে, পূর্ণ মুক্তি না আসা পর্যন্ত ওরা ঘুমাবে না। আর আমরা যুবকদের সঙ্গে তাদের চেয়েও আরও শক্তিশালী যুবক হয়ে কাজ করব ইনশাআল্লাহ।’
আরও পড়ুন: ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক, থানায় হস্তান্তর
তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা ২৪-এ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জ্বালাও-পোড়াও লাগে না, খালি হাতে ঈমানি বল ও দেশপ্রেম বুকে নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গেলেই ফ্যাসিবাদের পতন হয়। এটা আমাদের জন্য শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা। এ পথ ধরেই আমরা এগিয়ে যাব এবং নব্য ফ্যাসিবাদেরও পতন হবে ইনশাআল্লাহ।’
বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ৫ আগস্ট দুপুরবেলা পর্যন্ত বিএনপি একটি মজলুম দল ছিল। এরপর রাতারাতি তারা অতীত ভুলে গেছে। জুলাই সনদের কিছু বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করলেও গণভোটের ব্যাপারে বিএনপি কোনো ভিন্নমত জানায়নি। জামায়াত চেয়েছিল, গণভোট আগে হোক, যাতে এটি অনিশ্চয়তায় না পড়ে। কিন্তু বিএনপি একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের দাবি জানায়।
শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, একই দিনে একই ব্যক্তি দুটি শপথ নেবেন। কিন্তু বিএনপি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি।
তার অভিযোগ, এর মধ্য দিয়ে বিএনপি জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার তিন দাবি
তিনি বলেন, ‘জাতি ভোট দিয়েছে একটি সরকার গঠন করে পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার জন্য, আরেকটি ভোট দিয়েছে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য। দুই ভোটের মূল্যায়ন যদি বিএনপি করত, আমাদের এক সেকেন্ডের জন্যও সংসদের বাইরে আপাতত আন্দোলন করার প্রয়োজন হতো না। এরাই তো আমাদের আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছেন।’
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম) এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন