ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শেষ মুহূর্তে নতুন কমিটির আলোচনায় সামনে আসছে পাঁচ ছাত্রনেতার নাম


শেষ মুহূর্তে নতুন কমিটির আলোচনায় সামনে আসছে পাঁচ ছাত্রনেতার নাম

ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা। নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে কারা আসছেন, তা নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়ছে কৌতূহল। বিশেষ করে শীর্ষ নেতৃত্বে কারা জায়গা করে নিতে পারেন, তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

কমিটি গঠনকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের আলোচনায় উঠে এসেছে সংগঠনের সাবেক পাঁচ ছাত্রনেতার নাম। তাদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, অতীতের দায়িত্ব পালন এবং ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ততা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

আলোচনায় থাকা পাঁচ ছাত্রনেতা হলেন— আকরাম আহমেদ, সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক; কাউসার খান, সাবেক ১ নম্বর সহ-সভাপতি; ইকবাল হোসেন সোহেল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক; কাজী শাওন আলম, সাবেক সহ-সভাপতি; এবং শহিদুল ইসলাম, সাবেক দপ্তর সম্পাদক।

আরও পড়ুন: কুলঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আনহার মিয়া জনগণের সেবা ও এলাকার উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ

সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের আলোচনায় এই পাঁচজনের নাম উঠে এলেও নতুন কমিটিতে তাঁদের অবস্থান বা পদ-পদবি কী হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে নতুন কমিটির নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা নিয়ে আগ্রহ ও প্রত্যাশা দুটোই বাড়ছে।

দলীয় সূত্রে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নতুন কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। এখন নেতাকর্মীদের নজর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের দিকে। শেষ পর্যন্ত কারা নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‎সিসি ব্লকে বদলে যাচ্ছে বালিয়াকান্দির মডেল মসজিদের নির্মাণচিত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৯ এম


‎সিসি ব্লকে বদলে যাচ্ছে বালিয়াকান্দির মডেল মসজিদের নির্মাণচিত্র

‎জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় নির্মিত হচ্ছে আধুনিক মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। প্রাথমিক নানা জটিলতা কাটিয়ে বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে নির্মাণকাজ।

 

‎রাজবাড়ী গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রধান সড়কের পাশে ৪০ শতক জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে চারতলা বিশিষ্ট এই মডেল মসজিদ। ১৪ কোটি ০৪ লাখ ৭৫হাজর ৮৫ টাকা ৩৩ পয়সা চুক্তিমূল্যে থাকলেও তবে বালিয়াকান্দি মডেল মসজিদের প্রাক্কলিত মূল্য ১৫ কোটি ৬০ লক্ষ ৮৩হাজার ৪২৮টাকা ১৫ পয়সা ব্যয় নির্মিত হবে বালিয়াকান্দি মডেল মসজিদে, দেশব্যাপী ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবনটির প্রতিটি তলার ফ্লোর আয়তন প্রায় ৮ হাজার ৭০০ বর্গফুট। মসজিদটিতে একসঙ্গে প্রায় ১ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।

‎প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পোড়ামাটির ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কনক্রিট সিসি ব্লক ব্যবহার করে ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে নির্মাণকাজ যেমন পরিবেশবান্ধব হচ্ছে, তেমনি স্থাপনাটির স্থায়িত্বও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

‎মডেল মসজিদটিতে আধুনিক ও আন্তর্জাতিকমানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রাখা হচ্ছে। প্রথম তলায় থাকবে ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অটিজম কর্নার, জানাজার স্থান, গোসল ও কাফনের ব্যবস্থা এবং গাড়ি পার্কিং। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক নামাজের কক্ষ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ও লাইব্রেরি থাকবে। চতুর্থ তলায় থাকবে হিফজখানা ও পরিদর্শন বাংলো।

‎এছাড়া পুরো ভবনে সেন্ট্রাল এসি, লিফট, সিসিটিভি ক্যামেরা, নিজস্ব বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন এবং বিশেষ দিনগুলোতে দৃষ্টিনন্দন নাইট-লাইটিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

‎‎স্থানীয়রা জানান, পরিবেশবান্ধব সিসি ব্লক দিয়ে নির্মাণ করা মসজিদটি শুধু টেকসই ও মজবুতই হবে না, এটি বালিয়াকান্দির অন্যতম দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাতেও পরিণত হবে।

‎রাজবাড়ী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশবান্ধব সিসি ব্লকের মান যাচাইয়ের টেস্ট রিপোর্ট ভালো এসেছে। কোনো ধরনের নিম্নমানের কাজ বরদাস্ত না করে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। নির্মাণকাজ শেষ হলে এটি রাজবাড়ী জেলার মধ্যে একটি দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ হিসেবে পরিচিতি পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি চাকরিজীবীদের সন্তানদের জন্য স্কুলে ৫% অতিরিক্ত আসন বরাদ্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৮ এম


সরকারি চাকরিজীবীদের সন্তানদের জন্য স্কুলে ৫% অতিরিক্ত আসন বরাদ্দ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি হলে তাদের সন্তানদের জন্য আলাদা ভর্তির সুযোগ থাকবে। সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রতি শ্রেণির শাখায় মোট আসনের ৫ শতাংশ অতিরিক্ত আসন রাখা হবে। এই বিধান সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নীতিমালার ১৮ ধারায় বদলির কারণে ভর্তির সুযোগ ও শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। সুবিধাটি পেতে হলে, বদলির আদেশের তারিখ থেকে ১২ মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদনটি ভর্তি কমিটির সভাপতির কাছে করতে হবে এবং সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রমাণ প্রদান করতে হবে।

মহানগর, সিটি কর্পোরেশন ও বিভাগীয় শহরের জন্য একটি আলাদা শর্ত প্রযোজ্য। যদি নতুন কর্মস্থল আগের জায়গা থেকে ১০ কিলোমিটারের বেশি দূরে হয়, তাহলে সন্তান ভর্তির সুযোগ পাবে। দূরত্ব গুগল ম্যাপ অনুযায়ী মাপা হবে। ভর্তি হবে কর্মস্থলের নিকটবর্তী সরকারি বা বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। জেলা, উপজেলা ও থানার ক্ষেত্রেও সন্তান কর্মস্থলের নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে।

সরকারি বিদ্যালয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা এই ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী আগের কর্মস্থলে আবার বদলি হন, তাহলে তার সন্তান আগের স্কুলে পুনরায় ভর্তি হতে পারবেন। বিভিন্ন কোটায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মূল কাগজপত্র যাচাই করবেন প্রতিষ্ঠান প্রধান। এরপর ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে।

একই শ্রেণিতে পারস্পরিক বদলির সুযোগও বিদ্যমান। এজন্য দুই বিদ্যালয়ের সম্মতি প্রয়োজন। শিক্ষার্থী বা অভিভাবককে ভর্তি কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করতে হবে। কমিটি নীতিমালা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও অতিরিক্ত আসন সংরক্ষিত থাকবে। ভর্তির উপযুক্ত সন্তানের সংখ্যার সমান আসন রাখা হবে। শিক্ষক যদি বালক বিদ্যালয়ে কাজ করেন এবং সন্তান মেয়ে হয়, তাহলে কাছের সরকারি বালিকা বা সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে আসন রাখতে হবে। একইভাবে, শিক্ষক যদি বালিকা বিদ্যালয়ে কাজ করেন এবং সন্তান ছেলে হয়, তাহলে কাছের সরকারি বালক বা সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে আসন রাখতে হবে। শিক্ষক সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে থাকলে সন্তানের আসন সেই বিদ্যালয়েই রাখা হবে। যদি সেই স্কুলে কাঙ্ক্ষিত শ্রেণি না থাকে, তাহলে কাছের অন্য উপযুক্ত বিদ্যালয়ে আসন রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধান ব্যবস্থা নিয়ে ভর্তি কমিটিকে জানাবেন।

কর্মরত অবস্থায় যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী মারা যান, তাহলে তার সন্তান ভর্তির সুযোগ পাবেন। সন্তান যে এলাকায় স্থায়ীভাবে থাকবে, সেখানকার সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে পারবেন। ভর্তি কমিটি এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সরকারি স্কুলের যে শিক্ষার্থীর বাবা-মা নেই, তার জন্যও সুযোগ রাখা হয়েছে। সে যদি বাসস্থান বদলায়, তাহলে নতুন এলাকার সরকারি স্কুলে একই শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে। বাবা-মায়ের মৃত্যুর কারণে বাসস্থান বদলালেও একই সুযোগ পাওয়া যাবে। ভর্তি কমিটি এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তর কোরিয়া সাবমেরিন থেকে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষে-প-ণা-স্ত্র ছু-ড়-ল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ এম


উত্তর কোরিয়া সাবমেরিন থেকে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষে-প-ণা-স্ত্র ছু-ড়-ল

উত্তর কোরিয়া তাদের পূর্ব উপকূলের নিকটবর্তী সমুদ্রে সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য দুই ধরনের কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানায়।

কেসিএনএ উল্লেখ করেছে, বুধবারের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ-প্রতিরোধক ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা এবং কৌশলগত মিশন পরিচালনার ক্ষেত্রে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি ছিল ‘পুলহওয়াসাল-৩-৩১’ (Pulhwasal-3-31), যা একই ধরনের কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা পূর্বে উত্তর কোরিয়া স্থলভাগ থেকে পরীক্ষা করার কথা জানিয়েছিল।

পূর্ব উপকূলের অদূরে সমুদ্রে পরিচালিত পরীক্ষাগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন দেশটির উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা। কেসিএনএ আরও জানায়, এই পরীক্ষাগুলোর ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়নি।

এটি ধারণা করা হচ্ছে যে, উত্তর কোরিয়া এখন পর্যন্ত কোনো আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন সম্পূর্ণ কার্যকর অবস্থায় মোতায়েন করেনি। তবে, এটি দেশের নেতা কিম জং উনের সামরিক অগ্রাধিকারের তালিকার শীর্ষে রয়েছে; তিনি নিজে বিভিন্ন ধরনের কৌশলগত ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিষয়টি তদারকি করে আসছেন।

গত বছর কিম জং উন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে একটি পারমাণবিক সাবমেরিন চুক্তির সমালোচনা করেন। এ সময় তিনি নিজের দেশের একটি সাবমেরিন উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন; রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে সেখানে ৮ হাজার ৭০০ টন ওজনের পারমাণবিক শক্তিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী একটি সাবমেরিন নির্মাণাধীন অবস্থায় দেখা যায়।

সূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লবণ শিল্প সংকটে, উৎপাদনে বাড়তি খরচ ও আর্থিক চাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ এম


লবণ শিল্প সংকটে, উৎপাদনে বাড়তি খরচ ও আর্থিক চাপ

উৎপাদনে বাড়তি খরচ, আর্থিক সংকট এবং বাজারের প্রতিযোগিতার কারণে খুলনা অঞ্চলের লবণ মিলগুলো একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এক সময় ৩২টি মিল সক্রিয় ছিল, বর্তমানে টিকে আছে মাত্র নয়টি। এই মিলগুলোতেও নিয়মিত উৎপাদন না হওয়ার ফলে শ্রমিকদের কাজ ও আয় কমে যাচ্ছে।

উদ্যোক্তারা শিল্পটি পুনরুজ্জীবিত করতে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর, সহজ শর্তে ঋণ এবং আধুনিকায়নে সহায়তা চাচ্ছেন। তাদের মতে, অপরিশোধিত লবণ আমদানির সুযোগ থাকলেও এই সুবিধা দীর্ঘমেয়াদী সংকট সমাধান করবে না। কাঁচামাল সংগ্রহ, পরিবহন, পরিশোধন এবং বাজারজাতকরণের ব্যয় কমানো প্রয়োজন। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করা জরুরি।

ভৈরব নদীর তীরে গড়ে ওঠা লবণ কারখানাগুলো ভোজ্য এবং শিল্প লবণ উৎপাদন করে, যা নদীপথে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাজারে পৌঁছায়। তবে বাড়তি ব্যয়ের চাপের কারণে সেই বাজার ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পুরবী সল্টের ম্যানেজার আখিল হোসেন জানিয়েছেন, কক্সবাজার থেকে কাঁচামাল আনতে বাড়তি পরিবহন খরচ বহন করতে হয়। অনিয়মিত সরবরাহ এবং পরিশোধনের ব্যয় যুক্ত হওয়ায়, যদিও সক্ষমতা রয়েছে, নিয়মিত উৎপাদন চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। কারখানাগুলো আধুনিকায়নেও পিছিয়ে রয়েছে।

উদ্যোক্তাদের মতে, ভ্যাকুয়াম পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদনে বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন, কিন্তু আর্থিক সংকটে থাকা স্থানীয় অনেক প্রতিষ্ঠানের সেই সামর্থ্য নেই। গ্যাসের অভাবও একটি বাধা হিসেবে কাজ করছে। ফলে বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে খুলনার মিলগুলো।

রমনা সল্টের স্বত্বাধিকারী সালাহ উদ্দিন আহমেদ কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও আনুষঙ্গিক ব্যয় কমানোর দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, সহজ শর্তে ঋণ এবং সাশ্রয়ী জ্বালানির ব্যবস্থা করা গেলে উদ্যোক্তাদের সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করা সম্ভব।

পুরবী সল্টের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কামরুল ইসলাম আধুনিকায়নে বিনিয়োগের সংকটের কথা তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, স্থানীয় মিলগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থা উন্নত করা প্রয়োজন, যাতে তারা বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে।

শ্রমিকদের সংসারে এই শিল্পের সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে। কারখানায় গুদাম থেকে কাঁচা লবণ বহন, পরিশোধনের যন্ত্রে দেয়া এবং প্যাকেটজাত করার কাজ চললেও আগের কর্মব্যস্ততা নেই। এক সময় যেখানে শতাধিক শ্রমিক কাজ করতেন, বর্তমানে সেখানে হাতে গোনা কয়েকজন কাজ করছেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, মাসে ১৫ দিনও কাজ পাওয়া যায় না। কাজের সঙ্গে আয় কমে যাওয়ায় সংসারের খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। যদি চলমান মিলগুলোও বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তাদের জীবিকা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

রাজাপুর সল্ট কারখানার শ্রমিক আবুল হাসান জানিয়েছেন, আগে মাসে ২৫ দিন কাজ থাকতো, কিন্তু এখন মাসে ১৫ দিনও কাজ মেলে না। কাজ কমে যাওয়ায় আয়ও কমেছে এবং সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

একই মিলের আরেক শ্রমিক হারুনুর রশীদ বলেন, গত কয়েক বছরে ভৈরব নদীর তীরে বেশ কয়েকটি লবণ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আগে এসব মিলে তিন হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করতেন, কিন্তু কিছু মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকের সংখ্যা নেমে এসেছে কয়েকশ’তে। বর্তমানে চালু থাকা মিলগুলোতে নিয়মিত কাজ না থাকায় পরিবারের খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি আশা করেন, কারখানায় উৎপাদন বাড়লে কাজের সুযোগও বাড়বে।

গফুর হাওলাদার নামের আরেক শ্রমিক বলেন, ‘আমরা তো আর কোনো কাজ জানি না। ৮-১০ বছর ধরে লবণ ফ্যাক্টরিতেই কাজ করছি। এখন যদি কাজ বন্ধ হয়ে যায়, আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) খুলনা অঞ্চলের লবণ শিল্পের সংকট স্বীকার করছে। সংস্থাটির খুলনার উপ-মহাব্যবস্থাপক গোলাম সাকসায়েন জানান, উদ্যোক্তাদের সমস্যা সরকারের উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরা হবে। তিনি সহায়তা ও সংকট সমাধানে উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন।

গোলাম সাকসায়েন বলেন, ‘আমরা নিয়মিত উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা মাঝে মধ্যেই মতবিনিময় করি। তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ঋণ বা অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বাড়াতে আমরাও চেষ্টা করছি। এজন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের উদ্যোগ নেব। আশা করছি খুলনা অঞ্চলের লবণ শিল্প আবারও হারানো দিনের ঐতিহ্য ফিরে পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%