ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শার্শায় ট্রলির সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ২ যুবক নিহত


শার্শায় ট্রলির সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ২ যুবক নিহত

যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়নের সালামের মোড়সংলগ্ন রুদ্রপুর গ্রামের শেষ সীমানায় একটি স্যালোচালিত ট্রলি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ যুবক নিহত হয়েছেন।

এটি ঘটেছে সোমবার (২০ জুলাই) সকালে।

এ ঘটনার ফলে মোটরসাইকেলের অপর আরোহী, ট্রলির চালক এবং হেলপারসহ আরো তিনজন আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম রেঞ্জের ৪,৮৯৬ পূজামণ্ডপে ২০ হাজার পুলিশের নিরাপত্তাব্যবস্থা

নিহত যুবক দুজন হলেন বেনাপোল পোর্ট থানার দৌলতপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর ভান্ডারীর ছেলে মৃদুল হাসান নাহিদ (২৫) এবং একই গ্রামের জমাত আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন ঊষা (২৭)। এছাড়া আহতদের মধ্যে রয়েছেন একই গ্রামের শাহাজাহানের ছেলে রুবেল (৩০), ট্রলিচালক আমিরুল ও হেলপার নিরব। উল্লেখ্য, আমিরুল ও নিরব শার্শা উপজেলার রুদ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, রবিবার (১৯ জুলাই) রাতে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যে ফুটবল ফাইনাল ম্যাচ দেখার পর ভোরে নাহিদ, ঊষা ও রুবেল একটি মোটরসাইকেলে করে রুদ্রপুর বাজারে চা খেতে যাচ্ছিলেন। একই সাথে, ইটভাটা থেকে ইট নিয়ে দ্রুতগতিতে একটি স্যালোচালিত ট্রলি গোগা ইউনিয়নের দিকে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই, রুদ্রপুর গ্রামের শেষ সীমানায় আসলে উভয় যানবাহনের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে একটি মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষের ফলে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।

ঘটনাস্থলেই নাহিদ ও ঊষার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত রুবেলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।এছাড়া, আহত ট্রলিচালক আমিরুল ও হেলপার নিরবকেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে সকালে শার্শা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীমুল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, ‘দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’

আরও পড়ুন: পিরোজপুরের কৃষকরা ভাসমান কৃষির মাধ্যমে বদলে দিচ্ছেন দৃশ্যপট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎকে আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৩ পি.এম


ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎকে আটক

ভারতের যুব-নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ মুভমেন্ট’ সোমবার (২০ জুন) দাবি করেছে যে তাদের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে পুলিশ আটক করেছে। এই দাবি সামনে আসার পর, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে সংগঠনের দুই নেতা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বৈঠকের পর আন্দোলনের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান যে, তারা মন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি চিঠি দিয়েছি এবং নাড্ডা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করবেন। বর্তমানে সেই প্রক্রিয়া চলছে।’

মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলনটি শুরু হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি করছে।

এই দাবির প্রেক্ষিতে, হাজার হাজার সমর্থক সোমবার সংসদের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করলে রাজধানী দিল্লিতে একটি উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দিল্লির জন্তর মন্তরে সোমবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবং তাদের সমর্থকরা ‘চলো সংসদে’ কর্মসূচি শুরু করার জন্য জড়ো হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকলে তাদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে।

এর আগে, রবিবার দিল্লি পুলিশ এই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি এবং এলাকায় বড় ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দিল্লির পাঁচটি মেট্রো স্টেশন, রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থ বন্ধ রাখা হয়। এর ফলে রাজধানীর বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে যাত্রীদের ভোগান্তি এবং বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে।

স্টেশনগুলো বন্ধ থাকার কারণে শত শত যাত্রী আটকা পড়েছেন। অনেককে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য বিকল্প ও দীর্ঘ পন্থা ব্যবহার করতে হয়েছে।

দিল্লির অন্যতম ব্যস্ত ইন্টারচেঞ্জ স্টেশন রাজীব চকে বন্ধ প্রবেশ ও বের হওয়ার গেটের সামনে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি এবং ভিড় দেখা গেছে।

এর আগে শনিবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল, যখন সিজেপি-সমর্থিত আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২১ দিন ধরে অনশনরত শিক্ষাবিদ ও কর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালেও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিজিৎ দীপকের প্রতিষ্ঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে চলতি বছরের মে মাসে একটি অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং আন্দোলনকারীরা নিজেদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা নামে পরিচয় দেন।

গত এক মাস ধরে তারা দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন। তাদের সঙ্গে কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের সদস্যরাও যোগ দিয়েছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষাবিদ ও কর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে তার ৯ কেজির বেশি ওজন কমে গিয়েছে এবং তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন।

শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও সোনম ওয়াংচুক সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি রসিকতা করে বলেন, প্রয়োজনে মৃত্যুর পরও তার আত্মা এই আন্দোলনের সঙ্গে থাকবে।

আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুক দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে একটি হাতে লেখা বার্তা প্রকাশ করেছেন। যেখানে তিনি দাবি করেন, তাকে অবৈধভাবে আটক করা হয়েছিল। জন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তিনি এখনও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সমর্থকদের সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলকে সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন।

টানা তিন সপ্তাহের অনশনের কারণে ওয়াংচুক বর্তমানে শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই পরিস্থিতিতে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

কথিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ওয়াংচুক এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন। তার বার্তায় তিনি আন্দোলনটিকে ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অবিচার এবং তার ভাষায় অবৈধ আটকের মতো ভয়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পেনের জয়ে যা লিখলেন শাকিব-বুবলী-অপু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৫ পি.এম


স্পেনের জয়ে যা লিখলেন শাকিব-বুবলী-অপু

বিশ্বজুড়ে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৬ সালের আসরে স্পেনের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খবর বাংলাদেশে বিনোদন অঙ্গনেও পৌঁছে গেছে।

প্রিয় দলের জয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় তারকারা।

স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর সুপারস্টার শাকিব খান তার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, ‘২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের জন্য স্পেনকে অভিনন্দন।’

চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীও স্পেনের সাফল্যে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘স্পেনকে অনেক অনেক অভিনন্দন! তারা সত্যিই এটার যোগ্য। ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬ চ্যাম্পিয়নস।’

অন্যদিকে, চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসও স্পেনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সংক্ষিপ্ত এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘অভিনন্দন স্পেন।’

নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে শুরু থেকেই শক্ত অবস্থানে ছিল স্পেন।

বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণের ধার এবং মাঠের কৌশলে এগিয়ে থেকে দলটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা তাদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেনি।

ফাইনালে হারের ফলে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের আর্জেন্টিনার আশা শেষ হয়ে যায়। অন্যদিকে, দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শিরোপা জিতে স্পেন বিশ্বফুটবলে নিজেদের আধিপত্যের নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে।

স্পেনের এই সাফল্যে বিশ্বজুড়ে ফুটবলভক্তদের পাশাপাশি বাংলাদেশের তারকারাও নিজেদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুদানের আকাশ থেকে নেমে আসে মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৮ পি.এম


সুদানের আকাশ থেকে নেমে আসে মৃত্যু

আফ্রিকার দেশ সুদান, যা তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধে ভুগছে, তা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছে, তাদের সংখ্যা দেড় লাখ থেকে ৪ লাখ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, আর অন্তত ৪৫ লাখ মানুষ দেশের বাইরে প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সুদানের ৩ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন, এবং প্রায় ২ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অর্থনীতি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিক্ষা এবং চিকিৎসাসহ সব স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ভেঙে পড়েছে।

বর্তমানে সুদান এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের সম্মুখীন। দুর্ভিক্ষের পাশাপাশি কলেরাসহ ছড়িয়ে পড়া নানা মহামারি সংকটকে আরো জটিল করে তুলেছে।

এই ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বে সুদানের নিয়মিত সেনাবাহিনী সুদান সশস্ত্র বাহিনী-এসএএফ রয়েছে। তার প্রতিপক্ষ হল আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস-আরএসএফ, যার নেতৃত্বে আছেন হেমেদতি নামে পরিচিত জেনারেল মোহামেদ হামদান দাগালো।

একসময় এই দুই জেনারেল ছিলেন সহযোদ্ধা। ২০১৯ সালে গণ-অভ্যুত্থান এবং সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন প্রায় ৩০ বছরের স্বৈরশাসক ওমর আল-বশির। সে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন এসএএফ প্রধান জেনারেল বুরহান এবং আরএসএফ প্রধান জেনারেল হেমেদতি।

বশিরের পতনের পর বুরহান দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হন এবং হেমেদতি হন তার ডেপুটি। ২০২১ সালে তারা দুজনে মিলে সামরিক শাসন জারি করেন।

এক লাখ সদস্যের আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফকে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয় নিয়ে দ্বিমত দেখা দেয়। বুরহান চাচ্ছিলেন ২ বছরের মধ্যে একত্রীকরণ সেরে ফেলতে, তবে হেমেদতির চাওয়া ছিল ১০ বছর।

একত্রীকরণের পর কে বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন তা নিয়েও দ্বন্দ্ব শুরু হয়, কেউ কাউকে ছাড় দিতে প্রস্তুত ছিলেন না। উত্তেজনার এক পর্যায়ে, ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল সকালে খার্তুমের একটি সামরিক ঘাঁটিতে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা দ্রুত রক্তক্ষয়ী দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশ সমঝোতার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও এই যুদ্ধ থামাতে পারেনি। বরং যত দিন যাচ্ছে, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নতুন কৌশল নিয়ে মাঠে নামছে দুই পক্ষই।

যুদ্ধ শুরুতে স্থলেই সীমাবদ্ধ ছিল, ক্রমেই তা আকাশেও ছড়িয়ে গেছে। ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার যুদ্ধকে আরো অনিশ্চিত এবং প্রাণঘাতী করে তুলেছে। ড্রোনের ব্যবহার সুদান গৃহযুদ্ধের ছন্দই বদলে দিয়েছে।

আগে বর্ষাকালে যুদ্ধ প্রায়শই মন্থর হয়ে পড়ত। কারণ বন্যায় রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় সৈন্য, ভারী অস্ত্র এবং রসদ পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ত। তবে আবহাওয়ার কারণে স্থলবাহিনী থমকে গেলেও ড্রোনগুলো সচল থাকতে পারে। চলাচলের জন্য ড্রোনকে রাস্তার ওপর নির্ভর করতে হয় না, এগুলো অসুস্থ হয় না এবং কাদার মধ্যেও আটকে যায় না।

ড্রোন যুদ্ধক্ষেত্রকে যেমন প্রসারিত করেছে, তেমনি এটি যুদ্ধকে বেসামরিক জীবনে আরো গভীরে নিয়ে গেছে। বর্তমানে সুদান গৃহযুদ্ধে আর ফ্রন্ট লাইন বলেই কিছু নেই। ঘরবাড়ি, বাজার এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্রমশ ড্রোনের আঘাতের সীমানার মধ্যে চলে আসছে। ফলে গোটা সুদান এক উন্মুক্ত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে।

বর্তমানে বিদেশে তৈরি ড্রোনের সরবরাহ বাড়তে থাকায় জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে, এই সংঘাত আরো একটি নতুন এবং মারাত্মক ধাপে প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। শুধুমাত্র ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে ড্রোন হামলায় অন্তত ৮৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

নিরাপত্তা বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘আফ্রিকা ডিফেন্স ফোরাম-এডিএফ’ জানায়, তুরস্কের সরবরাহ করা ড্রোন এসএএফকে শক্তিশালি করেছে। তুরস্কের বানানো ড্রোন দীর্ঘ সময় উড়তে পারে, বিস্ফোরক বহন করতে পারে এবং খরচও তুলনামূলক কম। তুরস্ক জানিয়েছে যে তারা সুদানের সার্বভৌমত্ব এবং শান্তি প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।

অন্যদিকে, আরএসএফও তাদের ড্রোন কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছে। তারা চীনে তৈরি দূরপাল্লার ড্রোন পাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে, যদিও সংযুক্ত আরব আমিরাত আরএসএফকে ড্রোন সরবরাহের কথা অস্বীকার করেছে।

প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রকাশনা ‘মিলিটারি আফ্রিকা’ জানিয়েছে যে, তুর্কি ড্রোন আরএসএফ-এর পক্ষেও দেখা গেছে, ফলে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্দিষ্ট হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সুদানের আরেক শহরের মত অবরুদ্ধ আল-উবাইদের মানুষের জীবনে ড্রোন এখন এক ভয়াবহ বাস্তবতা। এখানে জীবনযাত্রার সবচেয়ে সাধারণ নিয়মগুলোর মধ্যেও লুকিয়ে থাকে আকস্মিক মৃত্যুর আতঙ্ক।

গত জুনে, ৪২ বছর বয়সী পয়োনিষ্কাশন ট্রাকচালক আহমাদো একটি পানির ট্রাক স্টেশনে কাজ করছিলেন। আকস্মিক ড্রোন হামলায় স্কুল শেষে তার সঙ্গে দেখা করতে আসা তার ৯ বছরের ছেলে এবং দুই সহকর্মী নিহত হন।

আহমাদো বলেন, ‘আমার দিনটি অন্য যেকোনো দিনের মতোই শুরু হয়েছিল। আমাদের মাথার ওপর ড্রোন উড়ছিল, কিন্তু আমি কখনোই ভাবিনি যে আমার সন্তান বা আমি এর লক্ষ্যবস্তু হবো।’

ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক ‘আফ্রিকা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’-এর নিরাপত্তা বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক নেট অ্যালেনের মতে, ড্রোন সুদানের যুদ্ধক্ষেত্রকে নতুন রূপ দিয়েছে এবং এটি প্রক্সি যুদ্ধের ভবিষ্যতের একটি রূপরেখা দেখাচ্ছে।

আল-উবাইদ এবং সমগ্র সুদানজুড়ে বাসিন্দারা বলছেন যে মাথার ওপর ড্রোনের আওয়াজ এখন তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আল-উবাইদ শহরে পরিস্থিতির অবনতি বিশেষভাবে তীব্র রূপ ধারণ করেছে। শহরটি গত ১৮ মাস ধরে এসএএফ-এর নিয়ন্ত্রণে অবস্থান সত্ত্বেও এক দুর্বিষহ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা জাতিসংঘ ‘অবরোধের মতো পরিস্থিতি’ বলে উল্লেখ করেছে।

উত্তর কর্দোফানের রাজধানী আল-উবাইদ প্রধান কিছু সড়কের ওপর অবস্থিত, যা খার্তুমের সঙ্গে দারফুর, বৃহত্তর কর্দোফান অঞ্চল এবং সুদানের দক্ষিণাঞ্চলকে যুক্ত করে। এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শহরটি দুই পক্ষের জন্য কৌশলগত লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক জানিয়েছেন, জুন মাসে তার কার্যালয় শহর এবং এর আশেপাশে ১৫টি ড্রোন হামলা নিশ্চিত করেছে, যাতে অন্তত ৪৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তিনি সতর্ক করে দেন যে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা সম্ভবত আরও অধিক। ক্রমবর্ধমান ড্রোন হামলা ত্রাণ সহায়তা মোতায়েনেও বাধা সৃষ্টি করছে। এই মাসের শুরুর দিকে, বাস্তুচ্যুত প্রতিবেশীদের জন্য ৫০ টন ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার একটি ট্রাক ড্রোন আঘাত হানে। সংস্থার মতে, চলতি বছরে এটি জাতিসংঘের ত্রাণবাহী ট্রাকে ড্রোন হামলার দ্বিতীয় ঘটনা।

নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাশ্বত সরাফ জানিয়েছেন, ‘আল-উবাইদের পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের, হাত-পা এবং ঘরবাড়ি হারাচ্ছে। কোনো কিছুই রেহাই পাচ্ছে না এবং যারা এই হামলা থেকে বেঁচে ফিরছে, তারা অনাহারে দিন কাটাচ্ছে, তাদের আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।’

২৭ বছর বয়সী যুবক এল সাদিক এর আগে তিনবার ড্রোন হামলা থেকে বেঁচে গেছেন। কিন্তু গত জুনে চতুর্থ হামলায় তার বাম পা উড়ে গেছে। এল সাদিক বলেন, ‘ড্রোনের হামলা থেকে আপনি লুকিয়ে থাকতে পারবেন না। যখন আমরা শুনি যে আকাশে ড্রোন আছে, তখন আমরা কোনো কংক্রিটের ভবনের নিচে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এটি হঠাৎ করেই চলে আসে; আমরা জানি না কখন বা কোথায় এটি আঘাত হানবে।’

এল সাদিকের জন্য এখন বাইরে বের হওয়া মানে চরম আতঙ্ক। তিনি বলেন, ‘আপনি যখন বাইরে যান, তখন জানেন না যে আপনি আর ফিরে আসতে পারবেন কিনা। হয়তো আপনি কোথাও বসে আছেন, আর হঠাৎ করেই আপনার পাশে একটি ড্রোন এসে পড়ল। আপনি বেঁচেও থাকতে পারেন, আবার মারাও যেতে পারেন। আপনি কিছুই জানেন না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্রোহীদের হামলায় মালিতে অন্তত ৫০ সেনা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৯ পি.এম


বিদ্রোহীদের হামলায় মালিতে অন্তত ৫০ সেনা নিহত

মালির ৫০ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায়। উত্তর মালির আনেফিস শহর থেকে সরে যাওয়ার সময় তুয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জিহাদি যোদ্ধাদের হামলার ফলে অন্তত ৫০ জন সেনা নিহত হয়।

গতকাল রবিবার (১৯ জুন) কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

কয়েক সপ্তাহ ধরে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ চলার পর শনিবার আনেফিস ত্যাগ করা সেনাবাহিনীর একটি বহরে এই হামলাটি ঘটেছে। জুলাইয়ের শুরুতে তুয়ারেগ বিদ্রোহী গোষ্ঠী এফএলএ এবং আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট জেএনআইএম অল্প সময়ের জন্য শহরটি দখল করে নিয়েছিল।

তারা মালির সেনাবাহিনী ও রুশ-সমর্থিত আফ্রিকা কোর বাহিনীর ব্যবহৃত একটি সামরিক ঘাঁটিও ঘিরে ফেলেছিল। পরে জেএনআইএম ও এফএলএ উভয়ই এই হামলার দায় স্বীকার করে।

সামরিক সরকারের ঘনিষ্ঠ এক স্থানীয় কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, হামলায় ৫০ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ২৪ জনকে বন্দি করা হয়েছে। তার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালির সেনাবাহিনীর ওপর এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন।

মালির সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানান, হামলায় তাদের সদস্যদের সরাসরি লক্ষ্য করে হত্যা করা হয়েছে। কী কারণে সেনারা এতটা অরক্ষিত হয়ে পড়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।

সূত্রগুলোর মতে, সেনাবাহিনীকে সহায়তাকারী রুশ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা হামলার আগেই গাও শহরে পৌঁছে গিয়েছিলেন, ফলে তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। গাও অঞ্চলের এক কমিউনিটি নেতা বলেন, নিহতদের মধ্যে কেউ রুশ নাগরিক নন। সবাই মালির সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্র-সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্য।

শনিবার মালির সেনাবাহিনী স্বীকার করে, তাদের বহর একটি অতর্কিত হামলার মুখে পড়েছিল। তবে তারা হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। ২০২০ ও ২০২১ সালে পরপর দুটি সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মালি সামরিক সরকারের অধীনে অবস্থিত। দীর্ঘদিনের জিহাদি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতা দমনে এবং দেশের নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে সামরিক জান্তা এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%