০৩:৩৫ পি.এম
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের বিস্তারের কারণে উদ্ভূত নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালা সময়োপযোগী করা হবে। প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগও নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন যে, বিভিন্ন দেশের আইন পর্যালোচনা করে বাস্তবতার নিরিখে যুগোপযোগী সুপারিশ প্রণয়নের কাজ করতে হবে। আজ (রোববার) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে আইন সময়োপযোগীকরণ এবং নতুন আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনযাপন, চিন্তাভাবনা, যোগাযোগ ও সামাজিক আচরণের সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তি খুব গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। প্রযুক্তি মানুষের জন্য যেমন আশীর্বাদ হয়ে এসেছে, তেমনি এর সঙ্গে নতুন ধরনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে সেগুলোকে একটি কার্যকর আইনি কাঠামোর আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।’
আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পর্যালোচনা করতে কমিটি গঠন
তিনি আরও বলেন, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিদ্যমান সব আইন, বিধি, প্রবিধান ও নীতিমালা পর্যালোচনার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কোন আইন আধুনিকায়ন প্রার্থনীয়, কোথায় নতুন আইন প্রয়োজন, এবং কোন ক্ষেত্রে আইনি ঘাটতি রয়েছে সেসব উপাদান পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সুপারিশ দেবেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একসময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধি মূলত প্রিন্ট মিডিয়া ও সম্প্রচারমাধ্যমের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের বিকাশের ফলে অসংখ্য নতুন মাধ্যম সৃষ্টি হয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোই প্রচলিত আইনের আওতার বাইরে রয়েছে। তাই পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের আইনি কাঠামো আধুনিকায়ন করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। এসব দেশের আধুনিক আইন ও অভিজ্ঞতার অধ্যয়ন ও পর্যালোচনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের দেওয়া হয়েছে, যাতে বাংলাদেশের নিজস্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যকর আইনি কাঠামো গড়ে তোলা যায়।
তিনি যোগ করেন, সাইবার জগৎ, ডিজিটাল ট্রান্সমিশন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভিন্ন ভিন্ন সেবাকে সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আনতে হলে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সংস্থা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, টেলিযোগাযোগ ও অবকাঠামো-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মতামত গ্রহণেরও প্রয়োজন রয়েছে।
আরও পড়ুন: মৃত চেয়ারম্যানের নামে ১০৭ বস্তা চাল উত্তোলনের অভিযোগ, গুদাম কর্মকর্তা প্রত্যাহার
তথ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নতুন চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত শনাক্ত করতে, অংশীজন নির্ধারণ করতে, দায়িত্ব বণ্টন ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণেরও নির্দেশনা দেন।
সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, অতিরিক্ত সচিব শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী প্যানেলের সদস্যবৃন্দ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন