শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:৩২ এম
রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ এলাকায় দুই বাসের পাল্লাপাল্লিতে চাপা পড়ে মো. শহীদুল্লাহ (৩৭) নামের এক ইলেকট্রিশিয়ান নিহত হয়েছেন। পুলিশ রাইদা পরিবহনের একটি বাস জব্দ করেছে। পাশাপাশি, বাসটির চালককে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় শহীদুল্লাহকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শহীদুল্লাহ ডেমরার নড়াইবাগ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবার নাম হারুন আর রশিদ।
শহীদুল্লাহর ছোট ভাই জুয়েল রানা জানিয়েছেন, তার বড় ভাই কুয়েত মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজের ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন। গত শনিবার প্রতিষ্ঠানের কাজে চীন সফরে যান তিনি। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে দেশে ফেরেন। দুপুরে বাসায় ফেরার পথে রামপুরা ব্রিজ এলাকায় একটি বাস থেকে নামার পর দুই বাসের পাল্লাপাল্লিতে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এ ঘটনায় রাইদা পরিবহনের বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালককে আটক করা হয়েছে। পরিবারের লিখিত আবেদনের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার রাতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্পেনে দুটি উচ্চগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ৬৯-এ পৌঁছেছে। বুধবারের এই দুর্ঘটনার পর বৃহস্পতিবারও উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন। স্পেন সরকার এ ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।
বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় তোলেদো প্রদেশের দুর্ঘটনাস্থলে রাতভর ক্রেনের সাহায্যে ট্রেনের ধ্বংসাবশেষ সরানো হয়েছে। উল্টে যাওয়া একটি বগিতে বিশেষভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। উদ্ধারকাজে ক্রেনের পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কুকুরও ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইউরোপে ২০১৩ সালে স্পেনের সান্তিয়াগো দে কমপোস্তেলায় ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বহু মানুষের প্রাণহানির পর এটিকে মহাদেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে স্পেনের সাবেক শ্রমমন্ত্রী ফাতিমা বাঞেজও রয়েছেন, যিনি দেশটির নিয়োগকর্তাদের সংগঠনের সামাজিক ও করপোরেট দায়বদ্ধতা বিভাগের প্রধান ছিলেন।
স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় সাতটি দেশের ৪২ জন বিদেশি নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে তাদের মধ্যে একজন নিহত এবং অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর দেশটির রেল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বুধবার পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে সংকেতব্যবস্থার ত্রুটির কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, কয়েকটি ট্রেন সংকেতজনিত সমস্যার কারণে থেমে গিয়েছিল, পরে রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেনফের একটি ট্রেনকে স্বাভাবিক গতিতে চলার অনুমতি দেওয়া হয়, যদিও সামনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইরিও পরিচালিত একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল।
তবে সরকার বলেছে, রেনফের ট্রেনটিকে চলতে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল ‘ব্যাখ্যাতীত’। পরিবহনমন্ত্রী স্পেনের রেলব্যবস্থাকে অনিরাপদ বলার সমালোচনা নাকচ করেছেন।
রেলচালকদের সংগঠন সেমাফের প্রতিনিধি দিয়েগো মার্তিন বলেন, রেল খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। দুর্ঘটনার পরও আগে থেকে নির্ধারিত ধর্মঘট চালিয়ে যান রেলচালকেরা, যা দেশের বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়।
রেল ইউনিয়নগুলোর অভিযোগ, নিরাপত্তা বাড়াতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। জানুয়ারির আরেকটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু হলেও এপ্রিলে তা বন্ধ হয়ে যায় বলে তাদের দাবি।
দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে ৮০০-এর বেশি সামরিক ও পুলিশ সদস্য, দুই শতাধিক যানবাহন, তিনটি হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রশিক্ষিত কুকুর মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে দুর্ঘটনাস্থলের দুই পাশে দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন তোলেদোর একজন বিচারক।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, হতাহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে কর্তৃপক্ষ দিনরাত কাজ করছে। দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শোক জানিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন পোপ লিও।
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ কাস্টমসের নতুন নির্দেশনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারত থেকে সব ধরনের পণ্যবাহী ট্রাকের প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভারতীয় পক্ষ ট্রাক পাঠানো বন্ধ করে দেওয়ার ফলে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
সোনামসজিদ বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার মো. কামাল হোসেন দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বন্দর দিয়ে কোনো ভারতীয় ট্রাক প্রবেশ করেনি।
সোনামসজিদ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমিন জানান, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে বন্দরে প্রবেশের পর খালাসের জন্য অপেক্ষা করা ট্রাকের চালক ও সহকারীরা সাধারণত রাতে ভারতে ফিরে যেতেন। কিন্তু পরে বাংলাদেশে পুনরায় প্রবেশের সময় তাদের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য বহনের অভিযোগ ওঠে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কয়েকজন আটক হন। এই পরিস্থিতি এড়াতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিয়ম করে দেয় যে, পণ্য খালাস না হওয়া পর্যন্ত ভারতীয় চালক ও সহকারীদের বন্দরের ভেতরেই অবস্থান করতে হবে অথবা খালি ট্রাক নিয়ে তখনই ভারতে ফিরে যেতে হবে। এই নিয়মের প্রতিবাদে ভারতীয় ট্রাকচালকরা সোনামসজিদে পণ্যবাহী ট্রাক পাঠানো বন্ধ রেখেছেন।
পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার মো. কামাল হোসেন আরও জানান, সম্প্রতি কাস্টমসের পক্ষ থেকে একটি চিঠি দিয়ে জানানো হয় যে, পণ্য খালাসের পর চালক ও সহকারীরা খালি ট্রাক নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ভারতে ফিরে যাবেন অথবা বন্দরে অবস্থান করবেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সকাল থেকে ভারতীয় পক্ষ পণ্যবাহী ট্রাক পাঠানো স্থগিত করে। বর্তমানে ভারতের মোহন্দীপুর অংশে পণ্য নিয়ে অন্তত ৫০০ ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আটকা পড়ে আছে। অন্যদিকে বন্দরের অভ্যন্তরে ২৪০টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক এবং এর চালক-সহকারীরা অবস্থান করছেন। পণ্য খালাস শেষে তারা ট্রাক নিয়ে ভারতে ফিরে যাবেন। উদ্ভূত এই জটিলতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও দুই দেশের কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে গেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নভেম্বরের পরিবর্তে বাংলাদেশ ২০২৯ সালের নভেম্বরে এলডিসি থেকে উত্তরণ করবে। নেপালের জন্যও একইভাবে তিন বছরের সময়সীমা পিছানো হয়েছে।
জাতিসংঘে এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কোনো দেশ আপত্তি জানায়নি। ফ্রান্স, কানাডা এবং আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর পক্ষে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। তবে তাঁদের বক্তব্যে বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের গুরুত্বও উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে গত ২১ জুলাই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সুপারিশ পাঠায় জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)। এর আগে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশের আবেদন পর্যালোচনা করে জানায়, বাংলাদেশ ও নেপালের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধ সাধারণ পরিষদে বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা উচিত। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে বিষয়টি সাধারণ পরিষদে পাঠায় ইকোসক।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর অগ্রগতি প্রতি তিন বছর পরপর মূল্যায়ন করে সিডিপি। এই মূল্যায়নে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক—এই তিনটি মানদণ্ডকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। যদি কোনো দেশ অন্তত দুটি সূচকে নির্ধারিত মান অর্জন করে অথবা মাথাপিছু আয় নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ হয়, তবে উত্তরণের সুপারিশ করা হয়। বাংলাদেশ তিনটি মানদণ্ডেই উত্তীর্ণ হয়েছে।
বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে এলডিসির তালিকাভুক্ত হয়। এরপর থেকে দেশটি পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ বিভিন্ন বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছে। ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে বাংলাদেশ তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়। এই ভিত্তিতে ২০২১ সালে ২০২৪ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ করা হয়। তবে করোনাভাইরাস মহামারির অভিঘাত মোকাবিলা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির জন্য উত্তরণের সময় দুই বছর বাড়ানো হয়। সেই অনুযায়ী, বাংলাদেশের উত্তরণের সর্বশেষ নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৬ সালের নভেম্বর।
বাংলাদেশ জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে জানায়, উত্তরণের তিনটি মানদণ্ড পূরণ করা সত্ত্বেও ধারাবাহিক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটে প্রস্তুতি গুরুতরভাবে ব্যাহত হয়েছে। কভিড-১৯-এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি ও খাদ্যের বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, বৈশ্বিক আর্থিক পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্য ও লোহিত সাগর অঞ্চলের সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির মধ্যে আর্থিক খাতের অনিয়ম, গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তন এবং রোহিঙ্গাদের জন্য জাতীয় বাজেট থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয়ের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশের আবেদনে বলা হয়, এসব কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমেছে, মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর-জিডিপি অনুপাতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি এবং বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাংক ও পুঁজিবাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংকটে দারিদ্র্য হ্রাসের অগ্রগতিও ব্যাহত হয়েছে। ফলে উত্তরণের প্রস্তুতির পরিবর্তে সরকারকে সংকট মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে বেশি মনোযোগ দিতে হয়েছে।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব বিবেচনায় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং উত্তরণ-পরবর্তী ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ অতিরিক্ত তিন বছর সময় চেয়েছিল।
দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও দীর্ঘদিন ধরে এলডিসি উত্তরণ তিন থেকে পাঁচ বছর পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল। ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের আশঙ্কা, এলডিসি-সুবিধা হারালে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে রপ্তানি খাতে।
তাঁদের মতে, উত্তরণের পর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আওতায় পাওয়া শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। ওষুধশিল্পে মেধাস্বত্ব-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরও কঠোরভাবে প্রযোজ্য হবে। উৎপাদিত পণ্য ও সেবায় নগদ সহায়তা এবং বিভিন্ন ধরনের ভর্তুকি দেওয়ার সুযোগও সীমিত হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যসহ বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে বাংলাদেশি পণ্যে সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ হতে পারে। এতে দেশের রপ্তানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কাঁচামাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে উৎসবিধি আরও কঠোর হলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে তৈরি পোশাকশিল্পে।
বাড়তি সময়ে সরকারের পরিকল্পনা
অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়তি প্রস্তুতিকালে অন্তত ২৫টি সংস্কার ও প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে সরকার। বাণিজ্য, আর্থিক খাত, রাজস্বব্যবস্থা, বিনিয়োগ পরিবেশ ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনার আওতায় দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মুক্ত বাণিজ্য বা সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া ব্যাংক খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি ক্ষমতা বাড়ানো, সংকটাপন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়ন এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস গরম পানি পান করার অভ্যাস অনেকের মধ্যে দেখা যায়। কিছু মানুষ মনে করেন, এটি পেট পরিষ্কার রাখতে সহায়ক, আবার অন্যরা বিশ্বাস করেন, গরম পানি শরীরের মেদ কমাতে সাহায্য করে। তবে, খালি পেটে গরম পানি পান করলে শরীরে আসলে কী ঘটে? এর উপকারিতা কেমন, এবং কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখা প্রয়োজন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে কুসুম গরম পানি পান করা শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে। তবে, শুধুমাত্র গরম পানি পান করলেই শরীরের সব সমস্যা সমাধান হবে, এমন কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
১. শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে
রাতে দীর্ঘ সময় ঘুমানোর ফলে শরীরে পানির ঘাটতি হতে পারে। সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করলে শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সহায়তা হয়। পানি শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে, রক্ত সঞ্চালন এবং বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমের জন্য অপরিহার্য।
গরম পানি না ঠান্ডা—এটি তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ, বরং পর্যাপ্ত পানি পান করাই বেশি জরুরি।
২. কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক হতে পারে
যাঁরা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা উপকারী। শরীরে পানির অভাব হলে মল শক্ত হয়ে যেতে পারে। নিয়মিত পানি পান, আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
সকালে কুসুম গরম পানি পান করলে কিছু মানুষের মলত্যাগে স্বস্তি অনুভব হতে পারে। তবে, শুধুমাত্র গরম পানি পান করলেই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
৩. হজমে স্বস্তি দিতে পারে
সকালে পানি পান করলে পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা হয়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কুসুম গরম পানি পান করলে পেটের অস্বস্তি কম মনে হতে পারে।
তবে, গরম পানি ঠান্ডা পানির তুলনায় হজমশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়—এমন শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। হজম ভালো রাখতে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
৪. ওজন কমাতে কি সাহায্য করে?
অনেকের ধারণা, সকালে খালি পেটে গরম পানি পান করলে পেটের মেদ গলে যায়। বাস্তবে, এর পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
তবে, পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় থাকে। খাবারের আগে পানি পান করলে কিছু মানুষের সাময়িকভাবে পেট ভরা অনুভূতি হতে পারে, যা অতিরিক্ত খাওয়া কমাতে সহায়ক হতে পারে।
ওজন কমানোর জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যালরি গ্রহণ অপরিহার্য।
৫. গলা ও নাকের অস্বস্তিতে সাময়িক আরাম দিতে পারে
সর্দি-কাশি বা গলাব্যথার সময় কুসুম গরম পানি পান করলে গলায় আরাম অনুভব হতে পারে। উষ্ণ তরল গলার শুষ্কতা কমাতে এবং সাময়িক স্বস্তি দিতে সাহায্য করে।
তবে, গরম পানি ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ সারিয়ে তোলে না। উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৬. শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই দাবি করা হয়, সকালে গরম পানি পান করলে শরীরের সব বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায়। কিন্তু এই দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ অপসারণে যকৃৎ ও কিডনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পর্যাপ্ত পানি পান কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে, কিন্তু গরম পানি আলাদাভাবে শরীরকে বিষমুক্ত করে—এমন কোনো প্রমাণ নেই।
কীভাবে পান করবেন?
সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করতে পারেন।
পানি যেন অতিরিক্ত গরম না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। খুব গরম পানি মুখ, জিহ্বা ও খাদ্যনালিতে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
শুধু সকালে নয়, সারা দিন শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করুন।
পানি পানের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ