শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:০৮ এম
আজ শুক্রবার ভারত থেকে ১৮টি নতুন ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচ বাংলাদেশে আসছে। এই কোচগুলো চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলপথের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করবে। কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নেওয়া হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে নতুন কোচ যুক্ত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই প্রথম চালান আসছে।
দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, গত ১২ অক্টোবর ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের কাপুরথালা এলাকা থেকে কোচগুলো পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সেগুলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাট স্টেশনে অবস্থান করছে। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে সেখান থেকে ছেড়ে গেদে চেকপোস্টে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে দর্শনা রেলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করার কথা রয়েছে। দুপুর ১টার দিকে কোচগুলো দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলস্টেশনে পৌঁছাতে পারে।
তিনি আরও জানান, দর্শনায় কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে কোচগুলো সৈয়দপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিজস্ব কারখানায় নেওয়া হবে।
ভারতের রাইটস লিমিটেড নামের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ এসব ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচ সংগ্রহ করছে। বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সম্পাদিত মোট ২০০টি ব্রডগেজ রেল কোচ সরবরাহের এই বৃহৎ চুক্তির অধীনে প্রথম চালানে চার ধরনের মোট ১৮টি কোচ রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি নন-এসি শোভন চেয়ারের কোচ, ৩টি এসি চেয়ারের কোচ, ২টি এসি স্লিপার কোচ এবং ২টি এসি পাওয়ার কার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তা ও বহুমুখী ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে এই পাওয়ার কারগুলোর মধ্যে গার্ডদের জন্য পৃথক কামরা এবং সাধারণ যাত্রীদের মালামাল বা লাগেজ বহনের জন্য নির্দিষ্ট স্থানের সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এছাড়া যাত্রীদের দীর্ঘ ভ্রমণের আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনা করে আসন ব্যবস্থায় আধুনিকতা আনা হয়েছে। কোচগুলোতে বিশেষভাবে ডিজাইন করা রেক্লাইনিং চেয়ারের ব্যবস্থা রয়েছে, যেগুলোতে স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি আর্মরেস্ট ও ফুটরেস্ট রয়েছে, ফলে যাত্রীরা তাদের সুবিধামতো বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল বা পজিশনে হেলান দিয়ে বসতে পারবেন। এসব কোচ যুক্ত হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীবাহী কোচের বহর আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেইয়ের কঠোর ব্যয় সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দেশটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ফুঁসে উঠেছেন। তারা রাজপথে নেমে এসেছেন শিক্ষা খাতে বাজেট ছাঁটাই, বেতন ও বৃত্তির সংকট এবং গবেষণার সুযোগ সংকুচিত হওয়ার প্রতিবাদে। রাজধানী বুয়েনস এইরেসে চলমান বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিরাপত্তাকর্মীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় অন্তত ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
বিক্ষোভের অংশ হিসেবে আন্দোলনকারীরা বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞান অনুষদের একটি ভবন এক দিনের জন্য দখল করেন। সেখানে তারা সরকারের নীতির বিরুদ্ধে ব্যানার টানিয়ে স্লোগান দেন, ‘এভাবে আর চলতে পারে না’। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, কারণ সরকারি বাজেট কাটের ফলে ফ্রিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ এখন চরম হুমকির মুখে রয়েছে। উপযুক্ত বেতন না পাওয়ার কারণে অনেক শিক্ষক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চলে যাচ্ছেন।
২০২৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রেসিডেন্ট মাইলেই সরকারি খাতে হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই, একাধিক মন্ত্রণালয় বিলুপ্ত এবং সার্বিক ভর্তুকি কমানোর মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ফলে মাসে মূল্যস্ফীতি কমে প্রায় ২ শতাংশে নেমে আসলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক ও ওয়াশিংটন সফরকালে প্রেসিডেন্ট মাইলেই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দাবি করলেও বিরোধীদের অভিযোগ, সাধারণ জনগণের ওপর অস্বাভাবিক খরচের বোঝা চাপিয়ে এই হিসাব দেখানো হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থায়ন বজায় রাখতে কংগ্রেসে একটি বিল পাস হলেও প্রেসিডেনশিয়াল ভেটো এবং সরকারের অর্থ ছাড় না করার অজুহাতে তা থমকে রয়েছে। এ বিষয়ে দেশটির এক ফেডারেল আদালত সরকারকে প্রতিদিন ১ লাখ পেসো জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে শিক্ষা খাতে নিয়মিত বাজেট বরাদ্দ ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছেন।
বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মারিয়া তেরেসা দে হেসুস জানান, মাসে প্রায় ৭০০ ডলার আয় করেও সংসারের খরচ চালানো তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘শেষ চেষ্টা হিসেবে আমি এই বিক্ষোভে এসেছি। আমি একজন অধ্যাপক। শিক্ষকতা ও গবেষণা করতে ভালোবাসি। আমার এখানে থাকার কথা নয়।’
অন্যদিকে, অনেকেই সরকারের পরিকল্পনার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। তাদের অভিযোগ, মাইলেই সরকার একটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করছে, আর তার অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ব্যয় সাধারণ জনগণকে বহন করতে হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রবেশ ও প্রতিযোগিতাকে স্বাগত জানিয়েছে মুকেশ আম্বানির নেতৃত্বাধীন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, যা ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান ‘স্টারলিংক’-এর কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে।
ধনকুবের ইলন মাস্কের এক সপ্তাহের তীব্র আক্রমণের পর, ভারতীয় এই শিল্পগোষ্ঠী তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক ও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কাকতালীয়ভাবে, রিলায়েন্সের ডিজিটাল শাখা ‘জিও প্ল্যাটফর্মস’ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রেকর্ড ১০৮ বিলিয়ন ডলারের আইপিও বাজারে ছাড়তে যাচ্ছে।
স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক সম্প্রতি ভারত সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ১৩০ কোটিরও বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর বিশাল ভারতীয় বাজারে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরু করার প্রক্রিয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধীরগতির করে রাখা হচ্ছে।
এদিকে, ভারতের টেলিকম খাতে জিও বর্তমানে সর্ববৃহৎ মোবাইল অপারেটর, যাদের গ্রাহকসংখ্যা ৫৩ কোটি ছাড়িয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রিলায়েন্স জানিয়েছে, ‘প্রতিযোগিতাকে আমরা সব সময় স্বাগত জানাই। আর জিও-র নিজস্ব স্যাটেলাইট পরিষেবাও এখনো সরকারি চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।’
তবে প্রকাশিত বিবৃতিতে সরাসরি ইলন মাস্কের নাম উল্লেখ করা হয়নি। রিলায়েন্স স্পষ্ট করেছে, ‘রিলায়েন্স এবং ভারতের বাজার নিয়ে সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সঠিক ও প্রকৃত তথ্য রেকর্ডে রাখার লক্ষ্যেই’ তারা এই প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিক্ষোভের পূর্বে বিরোধী ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন ককরোচের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সিজেপির শনিবারের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ ইন্ডিয়া জোটের বেশ কিছু নেতা ও নেত্রী আটক হন। আটক করা হয় দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে। তবে শনিবারের ওই বিক্ষোভে কংগ্রেস কিছুটা পিছিয়ে ছিল। অনেকের মতে, দেশের যুব সমাজ সিজেপিকে সমর্থন করলে কংগ্রেসের প্রতি তাদের মনোভাব পরিবর্তিত হতে পারে কি না, তা নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সংশয় ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তারা বুঝতে পারছেন যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে হলে সিজেপির অবস্থানকে আরো দৃঢ় করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার রাহুলের মন্তব্যে তার ইঙ্গিত স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘ব্যানার ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু লক্ষ্য একটাই। সব প্রতিবাদই আসলে এক দাবিতে—নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।’
বুধবার বিকেলে রাহুল তার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত চা চক্রে দীপকেকে আমন্ত্রণ জানান। তবে মহারাষ্ট্রে অবস্থান করায় ককরোচের প্রধান সেখানে যোগ দিতে পারেননি। এরপর বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সব বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান দীপকে। তিনি ছাত্র ও যুবসমাজের কাছে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন।
সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি, তিনি পরিষ্কার করেছেন যে, ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামে পরিচিত বিশাল ক্ষমতাসম্পন্ন বোমাটি আসলে পারমাণবিক অস্ত্র নয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিউজম্যাক্সকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের বিষয়টি তাঁর প্রশাসন বিবেচনা করছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘মাদার অব অল বম্বস’ আসলে পারমাণবিক অস্ত্র নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত বড় আকারের প্রচলিত বোমা। পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে তিনি বলেন, “না, আমি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করব না। আমাদের তা করার প্রয়োজন নেই।”
মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে এ ধরনের হামলা চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এমন তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি।
‘মাদার অব অল বম্বস’ বা এমওএবি হলো যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের সবচেয়ে বড় প্রচলিত বোমাগুলোর একটি, যা পারমাণবিক নয়। এর আনুষ্ঠানিক নাম জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট। এটি পারমাণবিক বিস্ফোরণের মাধ্যমে নয়, বরং প্রচলিত বিস্ফোরক ব্যবহার করে বিস্ফোরণ ঘটায়।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করেন। জবাবে তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, আমি কাউকেই বিশ্বাস করি না।” রাজনীতির জগতে কাউকেই বিশ্বাস করেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তথ্যসূত্র: আনাদোলু, রয়টার্স, আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ