ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

রোবোটিক সার্জারিতে অধ্যাপক ডা. রফিকূল ইসলামের সনদপত্র হস্তান্তর


রোবোটিক সার্জারিতে অধ্যাপক ডা. রফিকূল ইসলামের সনদপত্র হস্তান্তর

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম চীনের সাংহাইয়ে অবস্থিত পুডং গংলি হাসপাতালে রোবোটিক সার্জারির ওপর বিশেষ উচ্চতর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছেন।

২৫ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে তিনি রোবোটিক সার্জারির আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যবহারিক প্রয়োগ ও উন্নত অস্ত্রোপচার পদ্ধতি সম্পর্কে উচ্চতর জ্ঞান ও হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করায় পুডং গংলি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রশিক্ষণের আনুষ্ঠানিক সনদপত্র বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। এরই ধারাবাহিকতায় অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলামের হাতে প্রশিক্ষণের সনদপত্র তুলে দিতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সনদপত্র হস্তান্তর করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

আরও পড়ুন: ১৫ মাসের বকেয়া বেতন ছাড়, ২১৪ স্বাস্থ্যকর্মীকে অব্যাহতির আদেশ

অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, "আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে নতুন নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ এবং তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।" তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উদ্ভাবন যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে রোবোটিক সার্জারি আধুনিক অস্ত্রোপচার চিকিৎসায় এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এ প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে আরও সূক্ষ্ম, নির্ভুল ও আধুনিক অস্ত্রোপচারের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। তাই আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থাকেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক করে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশে রোবোটিক সার্জারির যাত্রা শুরু হয়েছে, যা আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।" তবে তিনি সতর্ক করেন যে, শুধু অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করলেই হবে না, এসব প্রযুক্তি পরিচালনা ও ব্যবহারের জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং উন্নত বিশ্বের চিকিৎসাপদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলামের মতো অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণ অর্জন নিঃসন্দেহে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

উপাচার্য আশা প্রকাশ করে বলেন, "আমরা চাই বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় শুধু চিকিৎসাসেবা প্রদানেই নয়, বরং আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তির প্রয়োগেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করুক।" তিনি উল্লেখ করেন, রোবোটিক সার্জারির মতো উন্নত প্রযুক্তিতে দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করতে হলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে। চীনের পুডং গংলি হাসপাতালের সঙ্গে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময়ের উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুই দেশের চিকিৎসা ও চিকিৎসাশিক্ষা খাতের সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। তিনি আশা করেন, এ প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও রোবোটিক সার্জারির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম তার প্রশিক্ষণ অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি এবং সনদপত্র হস্তান্তরের আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জিত এ অভিজ্ঞতা দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও আধুনিক অস্ত্রোপচার চিকিৎসার উন্নয়নে কাজে লাগাতে আমি আগ্রহী।"

আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে ডেঙ্গুতে নতুন ২৯ আক্রান্ত, হাসপাতালে ৭৫ ভর্তি

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. ইরতেকা রহমানসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক ও শিক্ষকরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তালতলীতে দেড় মাসেই কোটি টাকার বাঁধে ধস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ পি.এম


তালতলীতে দেড় মাসেই কোটি টাকার বাঁধে ধস

বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় পায়রা নদীর ভাঙন রোধে ফেলা বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ মাত্র দেড় মাসের মধ্যে ধসের মুখে পড়েছে। এর ফলে বাঁধ সংলগ্ন নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভেকু (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে বেড়িবাঁধের সংলগ্ন নদীর তীর থেকে মাটি খনন করে বাঁধ নির্মাণ করেছে, যার ফলে মাত্র দেড় মাসের মধ্যে এটি পুনরায় নদীগর্ভে ধসে পড়েছে। এছাড়া, জিও ব্যাগগুলোতে নিয়মানুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণ বালু ভর্তি করার কথা থাকলেও, নামমাত্র বালু ও মাটি ভরে তা ডাম্পিং করা হয়েছে। কাজ শুরুর সময়েই নিম্নমানের কাজ নিয়ে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছিলেন।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় ৫টি প্যাকেজের আওতায় ৫৯০ মিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার ও জিও ব্যাগ ফেলার কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই কাজের জন্য ১ কোটি ৪৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, এবং এটি বাস্তবায়ন করে মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশন, মেসার্স আর.এস কনস্ট্রাকশন, মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ এবং মেসার্স মনি ট্রেডার্স। প্রকল্পের কাজ গত ২১ সেপ্টেম্বর সম্পন্ন হয়েছিল।

গত ০১ নভেম্বর সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দেড় মাস আগে নির্মিত বেড়িবাঁধের প্রায় ৩০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে ধসে যেতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের প্রায় ২০০ মিটার অংশে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধটি ভেঙে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়বে। বাঁধটি ভেঙে গেলে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া, বড় অঙ্কুজান, নলবুনিয়া ও আগাপাড়াসহ ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, আমন ধান এবং মাছের ঘের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাবুল হাওলাদার, মো. হাসান মিয়া, ও মো. নুর-আলম মাতুব্বর বলেন, "প্রতি বছরই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নামমাত্র বেড়িবাঁধ সংস্কার করে সরকারি অর্থ আত্মসাত করে। কাজ শুরুর সময়ই আমরা অনিয়মের প্রতিবাদ জানালেও কর্তৃপক্ষ কোনো কর্ণপাত করেনি। এখন জিও ব্যাগগুলো নদীতে ধসে যাচ্ছে এবং বাঁধে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করবে।"

বেড়িবাঁধে ভাঙন ও ধসের ঘটনায় মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ এবং মেসার্স মনি ট্রেডার্স-এর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অপর দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী লিমন জানান, "ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি নেই। যে জায়গাটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেটি আসলে একটি নদীর মোহনা। মোহনার এই জটিল প্রকৃতির কারণে সেখানে বারবার ভাঙন ধরছে। তাই নদীর এই পয়েন্টে স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ করা ছাড়া ভাঙন রোধ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।"

তবে দায় স্বীকার করে মেসার্স আর.এস. কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী রাসেল জানান, "বাঁধের একটি অংশে ধসের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হবে।"

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, "নদীভাঙন রোধে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নদীর তলদেশ থেকে ভাঙন শুরু হওয়ায় শুধু জিওব্যাগ ফেলে আপাতত বাঁধ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এই এলাকায় সিসি ব্লক ও জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে একটি টেকসই বাঁধ নির্মাণের লক্ষ্যে বৈদেশিক অর্থায়ন চেয়ে প্রধান কার্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চেয়ারে নয়, যানজট সামলাতে রাস্তায় মসিক প্রশাসক রোকন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৮ পি.এম


চেয়ারে নয়, যানজট সামলাতে রাস্তায় মসিক প্রশাসক রোকন

ময়মনসিংহ নগরীর যানজট সমস্যা সমাধান এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য এবার চেয়ার ত্যাগ করে সরাসরি রাস্তায় নেমেছেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ রুকুনোজ্জামান রোকন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে তিনি নগরীর ব্যস্ততম নতুনবাজার মোড়ে যানজট পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এই সময় তিনি যানজটের কারণ চিহ্নিত করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

রিকশা ও অটোরিকশার লাইসেন্স এবং চালকদের ডিজিটাল লাইসেন্স চালুর পরিকল্পনা সম্পর্কে মসিক প্রশাসক জানান। তিনি বলেন, "অ্যাপের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।" এর ফলে যানবাহন ও চালকদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নগরীর যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা, অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো।

নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা, জনদুর্ভোগ কমানো এবং ময়মনসিংহ নগরীকে আরও সুশৃঙ্খল ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা, পরিকল্পনাগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুনবাজারসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজট কমবে এবং স্বাভাবিক চলাচলের পরিবেশ ফিরে আসবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ছাড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৮ পি.এম


সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ছাড়

বাংলাদেশ ব্যাংক সিটি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে, যদিও প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণখেলাপি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক কোম্পানি আইনের একটি ধারার নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এর ফলে সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে আটটি ব্যাংক গ্রুপটির পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিতে পারবে। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সিটি গ্রুপের ঋণখেলাপি পাঁচটি প্রতিষ্ঠান—সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, সিটি ডাল মিলস লিমিটেড এবং শম্পা ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেডকে ৩ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণ দেওয়া যাবে। সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে গঠিত ব্যাংকগুলোর সিন্ডিকেটের জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক (৩) ধারার নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। এই সুবিধা আগামী ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭কক (৩) ধারায় খেলাপি ঋণগ্রহীতাকে নতুন করে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে সিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন ঋণ সুবিধা পাচ্ছিল না। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবার নির্দিষ্ট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ওই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে।

নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু শর্ত আরোপ করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ ঋণের বিপরীতে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় তৈরি হবে না। ভবিষ্যতে সিটি ব্যাংক বা সিন্ডিকেটভুক্ত অন্য কোনো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ ঋণের জন্য সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না।

এছাড়া, ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে সিটি গ্রুপকে এমন সম্পত্তি বন্ধক দিতে হবে, যা অন্য কোনো ঋণ বা দায়ের বিপরীতে আগে থেকে বন্ধক রাখা হয়নি। ঋণের টাকায় কেনা পণ্য বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে। ওই অর্থ থেকে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর পাওনা আনুপাতিক হারে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে ঋণের টাকায় আমদানি করা কাঁচামাল ব্যাংকগুলোর সিকিউরিটি এজেন্টের প্রতিনিধির মাধ্যমে কিনতে হবে এবং জামানত হিসেবে প্রক্রিয়াজাত করতে হবে।

প্রথম পর্যায়ে সিটি গ্রুপের পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণ দেবে আটটি ব্যাংক। সিটি ব্যাংক লিড অ্যারেঞ্জার এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক কো-অ্যারেঞ্জার। বাকি ব্যাংকগুলো হলো— প্রাইম ব্যাংক, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক। সিটি ব্যাংক ৩০০ কোটি টাকা দেবে, আর বাকি ব্যাংকগুলো ২০০ কোটি টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার জন্য সিন্ডিকেটের বাইরের আরও কয়েকটি ব্যাংকও আগ্রহ দেখাচ্ছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকও সিটি গ্রুপকে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে।

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের দিকনির্দেশনা এবং সহযোগিতায় ব্যাংক খাতের এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সচল রাখা এবং বৃহত্তর অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে দায়িত্বশীল উপায়। গ্রাহকদের পাশে থাকতে হবে শুধু তাঁদের ভালো সময়েই নয়, নানা কারণে যখন তাঁরা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন, তখনো। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া হলো, যা এ ব্যবসায়ী গ্রুপকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে।’

গত ৩১ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে সিটি গ্রুপ ঋণ শ্রেণিকরণ স্থগিত রাখাসহ সাত ধরনের নীতি সহায়তা চেয়ে চিঠি দেয়। পরে ব্যাংকগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) একই বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দেয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক সিটি গ্রুপের ঋণের বিদ্যমান শ্রেণিমান ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখার নির্দেশ দেয়। ফলে ওই সময়ের মধ্যে গ্রুপটির প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকরণ করতে হয়নি। তবে সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা আর বাড়ানো হয়নি। এতে গ্রুপটির অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ব্যাংকে খেলাপি হয়ে পড়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুয়েতে বন্ধুকে হত্যার দায়ে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে প্রকাশের জেরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ পি.এম


কুয়েতে বন্ধুকে হত্যার দায়ে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে প্রকাশের জেরে

কুয়েতের একটি ফৌজদারি আদালত বাংলাদেশি এক প্রবাসীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে, যার কারণ হলো স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে প্রকাশের জেরে বন্ধুকে হত্যার অভিযোগ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আদালত পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে এ রায় দেয়।

সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের একটি প্রতিবেদনে বুধবার (৪ নভেম্বর) এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, নিহত ব্যক্তি অভিযুক্ত বাংলাদেশির স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেছিলেন। একাধিকবার অনুরোধ করার পরও তিনি ছবিগুলো সরাতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনার ফলে দুই বন্ধুর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে হত্যার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত। নিহত ব্যক্তি কর্মস্থলে রয়েছেন নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্ত ছুরি নিয়ে বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন। পরে নিহত ব্যক্তি বেরিয়ে এলে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু ঘটে।

আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে অভিযুক্ত জানান, নিহত ব্যক্তির সঙ্গে তার পূর্বে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। একবার বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বন্ধু অনুমতি ছাড়া তার স্ত্রীর ছবি তুলেছিলেন। পরে সেসব ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়।

অভিযুক্তের দাবি, ছবিগুলো প্রকাশের পর সেগুলোতে আপত্তিকর মন্তব্য আসতে শুরু করে। এজন্য তিনি বন্ধুকে ছবিগুলো মুছে ফেলতে অনুরোধ করেন। কিন্তু বন্ধু তা না করে আরও ছবি প্রকাশ করেন। এতে তার ও স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয়।

আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তি জানান, এ ঘটনার জেরেই তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

মামলার সব পক্ষের বক্তব্য ও উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযুক্তকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

সূত্র: গালফ নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%