০৫:২০ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে দাঁড়িয়ে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছিলেন অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ। মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন নিখিল। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার এই ভূমিকা স্বাভাবিক মনে হলেও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার দলীয় পরিচয় নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
নিখিল কুমার নাথ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের সদস্য। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী হাছান মাহমুদের নির্বাচনি এলাকা রাঙ্গুনিয়ার রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তিনি যুক্ত। স্থানীয় রাজনীতিতে হাছান মাহমুদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও বেশ আলোচিত। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি সরকারি বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একটি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্বও পেয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত একজন নেতার সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী। তাদের প্রশ্ন—বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে নানা সুবিধাভোগী ও পদপ্রাপ্ত এক ব্যক্তি কীভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও অবস্থান পেলেন?
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না
তবে নিখিল কুমার নাথের দাবি, পূজা উদযাপন পরিষদের দায়িত্বশীল নেতা হিসেবেই তিনি অনুষ্ঠানে এ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করলেও দাবি করেন, তিনি কখনো কারো কোনো ক্ষতি করেননি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে আমার দেশকে নিখিল কুমার নাথ বলেন, ‘বিএনপির লোকেরা আমাকে ভালোবাসেন। আমাদের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসেছেন। তিনি তো সবার। সে হিসেবে আমাদেরও। এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবিটি আওয়ামী লীগ এলে কেউ যদি দেখিয়ে বলে আমি বিএনপি করতাম, তাহলে কী শোভা পায়?’
নিখিল কুমার নাথ পেশায় চট্টগ্রামের একজন আইনজীবী। পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। ২০২১ সালের ২২ জুন প্রকাশিত স্থানীয় একটি সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, তাকে উত্তর রাঙ্গুনিয়া কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময়ে তিনি চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং উত্তর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়
ছাত্রজীবনেও তার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে। উত্তর জেলা ছাত্রলীগ, আইন কলেজ ছাত্রলীগ এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলা, ইউনিয়ন ও কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল।
পরবর্তী সময়ে তিনি পূজা উদযাপন পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক হন। মঙ্গলবার জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে এই সাংগঠনিক পরিচয়েই দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে নিখিল কুমার নাথের উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রশ্ন তুলেছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের পাঠাগার সম্পাদক মাসুদ উল হক চৌধুরী। তার পোস্টের মূল প্রশ্ন ছিল, ‘প্রধানমন্ত্রীর পাশে আওয়ামী লীগ নেতা কীভাবে?’
পোস্টে মাসুদ উল হক চৌধুরী দাবি করেন, নিখিল কুমার নাথ কেবল রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যই নন, তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো মেয়াদে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এ কারণে তাকে তৎকালীন সরকারের প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী হিসেবে আখ্যা দেন তিনি।
আরও পড়ুন: লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে ছাত্রদলের এই নেতা আরও বলেন, এ ধরনের দলীয় পরিচয়ের একজনকে প্রধানমন্ত্রীর অত কাছাকাছি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হলো কীভাবে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিষয়টি রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর নজরে আনারও আহ্বান জানান তিনি।
নিখিল কুমার নাথের সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদের সম্পর্ক বেশ পুরোনো। হাছান মাহমুদ দীর্ঘদিন রাঙ্গুনিয়া আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ওই এলাকার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় নিখিল নাথ তার বিশ্বস্ত বলয়ের অংশ হিসেবে পরিচিতি পান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন মন্ত্রী হাছান মাহমুদের ডিও লেটারের ভিত্তিতেই নিখিল কুমার নাথ উত্তর রাঙ্গুনিয়া কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদ পেয়েছিলেন।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি শুধু জানান, তিনি বর্তমানে একটি বৈঠকে ব্যস্ত রয়েছেন।
আরও পড়ুন: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরে এই প্রথম, এসসিও’র বৈঠকে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ ভারত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন