ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

স্ত্রীকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেন স্বামী: পিবিআই


স্ত্রীকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেন স্বামী: পিবিআই

জান্নাতুল ফেরদৌস প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর স্বামীর অন্য একটি বিয়ের তথ্য জানার পর তাদের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। এর পরই স্বামী রাজা মিয়া পরিকল্পিতভাবে নৌকায় ঘুরতে নিয়ে জান্নাতুলকে হত্যা করে হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দি মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. মুসলিম উদ্দিন ও শুক্কুর আহমদকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। তাদের মধ্যে একজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: হিন্দু সম্প্রদায় কোনো দলের দাসত্ব করে না: মীর শাহে আলম

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, জান্নাতুল ফেরদৌস (২৮) একটি জুতার কারখানায় কর্মরত ছিলেন। তিন বছর আগে তার প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এরপর প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রাজা মিয়াকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি সাত বছর বয়সী মেয়ে তানিসাকে নিয়ে রাজা মিয়ার সঙ্গে নগরের বহদ্দারহাট সিগন্যাল এলাকায় বসবাস শুরু করেন। বিয়ের সময় রাজা মিয়া নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি শপিং ব্যাগ তৈরি করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করতেন। একসময় জান্নাতুল জানতে পারেন, রাজা মিয়া পূর্বে আরেকটি বিয়ে করেছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

পিবিআই জানায়, বিরোধের জেরে রাজা মিয়া জান্নাতুলকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। তিনি তার পূর্বপরিচিত মো. মুসলিম উদ্দিনের সঙ্গে পরামর্শ করেন। পরে মুসলিম উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে কালুরঘাট ব্রিজ এলাকার এক কবিরাজের কাছে যান। সেখানে ঝাড়ফুঁক ও বিভিন্ন তান্ত্রিক পদ্ধতির আশ্রয় নেন। সমস্যার সমাধান না হওয়ায় জান্নাতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রাজা মিয়া। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে জান্নাতুলকে বেড়ানোর কথা বলে কর্ণফুলী নদীর ব্রিজঘাট এলাকায় নিয়ে যান রাজা মিয়া। সেখানে মো. মুসলিম উদ্দিন, আরমান ও রাজা মিয়ার প্রথম স্ত্রীর ভাই শুক্কুর আহমদ তার মালিকানাধীন স্যাম্পান নৌকা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। এরপর বেড়ানোর কথা বলে জান্নাতুলকে নৌকায় তুলে আসামিরা কর্ণফুলী ব্রিজের নিচ দিয়ে শিকলবাহা খালে প্রবেশ করেন। সেখানে মুসলিম উদ্দিন ও অপর আসামি শুক্কুর উপস্থিত ছিলেন।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে জান্নাতুলের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান রাজা মিয়া। এক পর্যায়ে তিনি জান্নাতুলের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে শিকলবাহা খালে ফেলে দেন। এরপর রাজা মিয়া জান্নাতুলের মুখ চেপে ধরেন। আরমান নামের আরেক ব্যক্তি রশি দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরেন। এতে কিছুক্ষণের মধ্যে জান্নাতুলের মৃত্যু হয়। পরে রাজা মিয়া ও আরমান জান্নাতুলের হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে লাশটি বস্তাবন্দি করেন। এরপর কর্ণফুলী থানাধীন কালারপোল এলাকায় লাশ ফেলে তারা পালিয়ে যান।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ঘটনার চার দিন পর, ২ আগস্ট, কর্ণফুলী থানার শিকলবাহা খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জান্নাতুলের পরিবারের সদস্যরা লাশটি শনাক্ত করেন। জান্নাতুলের পরিবার রাজা মিয়াকে হত্যাকাণ্ডের জন্য সন্দেহ করে। কারণ, ঘটনার পর থেকে রাজা মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল।

আরও পড়ুন: জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ নার্স রীপা গোমেজের পাশে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

এ ঘটনায় জান্নাতুলের মা ছায়রা খাতুন বাদী হয়ে রাজা মিয়া ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কর্ণফুলী থানায় মামলা করেন। পরে গত ৬ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় সদরঘাট নৌ পুলিশ থেকে তদন্তের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়।

পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ থানা এলাকায় আত্মগোপনে থাকা আসামি মো. মুসলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর আসামি শুক্কুর আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত স্যাম্পান নৌকাটি জব্দ করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, মুসলিম উদ্দিন বুধবার আদালতে নিজের সম্পৃক্ততা ও হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটির তদন্ত চলছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘সারের ডিলারশিপ না, বিষের ডিলারশিপ দিন’ ছাত্রদল নেতার মন্তব্য ভাইরাল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিরাজগঞ্জে ৪০০ গ্যাস সিলিন্ডার লুট, ডাকাত দলের ৩ সদস্য গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৭ পি.এম


সিরাজগঞ্জে ৪০০ গ্যাস সিলিন্ডার লুট, ডাকাত দলের ৩ সদস্য গ্রেফতার

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ডাকাত দলের তিন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় লুট হওয়া ৪০০ সিলিন্ডার গ্যাসের মধ্যে ৪৮টি উদ্ধার করা হয়েছে এবং একটি মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার (১৪ অক্টোবর) গভীর রাতে শাহাজাহানপুর ও বগুড়া সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান জানান, "এ ঘটনায় আমরা এখন পর্যন্ত লুণ্ঠিত গ্যাস সিলিন্ডারের মধ্যে ৪৮টি উদ্ধারসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছি। লুণ্ঠিত সব মালামাল উদ্ধারের জন্য আমাদের পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।"

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ডিক্রির চর (গোপচর) এলাকার মৃত মোহাম্মদ পান্না উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ শফিউল্লাহ (৩০) বাদী হয়ে থানায় একটি ডাকাতির মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে পাঠায়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বগুড়া জেলার শাহাজাহানপুর উপজেলার ট্রাকচালক মহিদুল ইসলাম (২৬), চালকের সহকারী সাকিব হোসেন (২০) এবং বগুড়া সদর উপজেলার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা (৪৬)।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর রাত ৩টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার চকনুর গ্রাম এলাকার তালুকদার ফিলিং স্টেশন থেকে একটি ট্রাকে ৪০০টি বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাসের সিলিন্ডার লোড করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ট্রাকটি রৌহা বীজ এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি ডাকাত দল পথরোধ করে। এ সময় তারা ট্রাকের চালক আসিফসহ গাড়িতে থাকা অন্যদের ধারালো ছুরি দিয়ে হত্যার হুমকি দেয় এবং ডাকাত দলের দুজন চালকের পাশের আসনে বসে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

পরে ভোররাত ৪টার দিকে ষোলমাইল ফায়ার সার্ভিস এলাকার কবরস্থান সংলগ্ন ফাঁকা রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে ডাকাতরা দুটি মিনি ট্রাকে করে ৪০০ বোতল সিলিন্ডার গ্যাস, চালক ও সহকারীর তিনটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৮৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বুলডোজারে ধ্বংস বাগান, গাজার কৃষকদের বাঁচার জন্য সংগ্রাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৭ পি.এম


বুলডোজারে ধ্বংস বাগান, গাজার কৃষকদের বাঁচার জন্য সংগ্রাম

গাজার জলপাই তোলার মৌসুম শুরু হয়েছে, যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং দীর্ঘস্থায়ী অবরোধের মধ্য দিয়ে। তবে ঐতিহ্যবাহী এই সুজলা বাগানের চিত্র এখন সম্পূর্ণ বিপরীত। ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলার ফলে হাজার হাজার জলপাই গাছ বুলডোজারের দ্বারা মাটির সাথে মিশে গেছে। যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তার ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন ফিলিস্তিনিরা টিকে থাকার শেষ সম্বলটুকু সংগ্রহ করছে।

রয়টার্সের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে গাজার জলপাই চাষিদের এই মর্মস্পর্শী চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যুদ্ধের আগে গাজায় জলপাই ছিল স্থানীয় কৃষির অন্যতম প্রধান গর্ব। বিস্তীর্ণ সবুজ এই বাগানগুলো স্থানীয়দের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গাজার ঘনবসতিপূর্ণ জনগণের জন্য শান্তির আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করত।

স্থানীয় কৃষি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এক সময় প্রায় ২০ লাখ জলপাই গাছ ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেগুলোর মধ্যে মাত্র দেড়ে লাখের মতো গাছ কোনোমতে টিকে রয়েছে। ফলন বিপর্যয়ের এই মৌসুমে যেখানে অতীতে প্রায় ৪০ হাজার টন জলপাই উৎপাদিত হত, সেখানে এবার তা নেমে মাত্র ৫ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে তেল উৎপাদনও ৫ হাজার টন থেকে কমে মাত্র ৭০০ টনে নেমে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মধ্য গাজার দেইর এল-বালাহ এলাকায় এখনও বেঁচে থাকা কিছু বাগানে ভিন্ন এক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। পরিবারের ছোট সদস্যরা মই বেয়ে উঁচু ডালে উঠছে, আর নিচে শিশুরা সবুজ জলপাই কুড়াচ্ছে। বাগানের ছায়ায় তারা ছোট্ট একটি পারিবারিক পিকনিকের আয়োজন করেছে।

তবে এই আনন্দ কেবল ক্ষণিকের স্বস্তি। শ্রমজীবী আহমেদ খাদার জানান, অতীতে জলপাই মরশুমে শ্রমিকরা দুই থেকে তিন মাস কাজ পেতেন। কিন্তু আজ এক দিনের মজুরি মিললেই তারা কৃতজ্ঞতা অনুভব করছেন। তিনি বলেন, “সন্তানদের মুখে এক মুঠো খাবার তুলে দিতে এবং দৈনিক রুটি-রুজির যোগান পেতেই আমরা আজও মাঠে নামতে বাধ্য হচ্ছি।”

দীর্ঘ সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে জলপাই গাছের এই ধ্বংসাবশেষ কেবল একটি ফসলের ক্ষতি নয়, এটি ফিলিস্তিনিদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ভূমির সাথে তাদের সম্পর্কের ওপর একটি চরম আঘাত। সূত্র: রযটার্স।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হুমকি নেই: ন্যাটো মহাসচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৭ পি.এম


রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হুমকি নেই: ন্যাটো মহাসচিব

ন্যাটো জোটের ভূখণ্ডে মস্কোর পক্ষ থেকে কোনো আসন্ন বা তাৎক্ষণিক সামরিক হুমকি নেই, এমন মন্তব্য করেছেন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে। তবে তিনি একই সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের মুখে নিজেদের প্রস্তুতি আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন।

এ কথা সম্প্রতি এস্তোনিয়ার রাজধানী তাল্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান ন্যাটো প্রধান। ন্যাটোর প্রেস সার্ভিস থেকে তাঁর এই বক্তব্য সম্প্রচার করা হয়েছে।

মার্ক রুটে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোকে এস্তোনিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "পরিস্থিতি শান্ত রেখে নিজেদের প্রতিরক্ষা খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে এবং সবচেয়ে বড় কথা হলো—ইউক্রেন যেন তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।"

এদিকে রাশিয়া বরাবরই ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে হামলার কোনো আশঙ্কা বা পরিকল্পনা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। গত বছর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন, এ বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ দূর করতে তিনি পারস্পরিক আক্রমণ না করার চুক্তিতে সই করতে প্রস্তুত।

পরবর্তীতে তাস (TASS) আয়োজিত বিশ্বের শীর্ষ সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রধানদের এক বৈঠকে রুশ নেতা স্পষ্ট করে বলেন, "ইউরোপে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা সংক্রান্ত দাবিগুলো কেবল ভিত্তিহীন কথাই নয়, বরং এটি পশ্চিমা জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো এক ধরনের উসকানি ও প্রোপাগান্ডা।" সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রক্তরোগ চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘হেমাটোকন-২০২৬’ অনুষ্ঠিত, তরুণ চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৮ পি.এম


রক্তরোগ চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘হেমাটোকন-২০২৬’ অনুষ্ঠিত, তরুণ চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা আলোচনা

রক্তরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গবেষণার পরিমাণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তরুণ চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যও কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। দেশে রক্তরোগ চিকিৎসা খাতকে আরো শক্তিশালী করার জন্য শিগগিরই বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের (এইচএসবি) উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী ৭ম বার্ষিক সম্মেলন ‘হেমাটোকন-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এসব মন্তব্য করেন।

শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল Shaping Tomorrow’s Haematology। সম্মেলনে বাহরাইন, ভারত, যুক্তরাজ্য, ইতালি, পাকিস্তান ও সিঙ্গাপুর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্যাকাল্টিবৃন্দের পাশাপাশি দেশের বিশিষ্ট হেমাটোলজিস্ট, চিকিৎসক ও গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন।

হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি ও হেমাটোকন-২০২৬-এর আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. আমিন লুৎফুল কবিরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন। সম্মেলনের মেম্বার সেক্রেটারি ও সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. আদনান হাসান মাসুদ, বৈজ্ঞানিক কমিটির কনভেনার ডা. মুজাহিদা রহমান এবং হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের বৈজ্ঞানিক সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মনিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দেশের বিশিষ্ট হেমাটোলজিস্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, রক্তরোগে আক্রান্ত রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় আরো জোরদার করতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এম এ রশিদ গ্রান্টের বিজয়ীদের হাতে অনুদান তুলে দেওয়া হয়, যাতে তারা দেশে হেমাটোলজি গবেষণায় অবদান রাখতে পারেন। এ ছাড়া Haematology Journal of Bangladesh-এ রিভিউয়ারদের সার্টিফিকেট ও সম্মানি প্রদান করা হয়। গবেষণাপত্র মূল্যায়নে তাদের একাডেমিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. আমিন লুৎফুল কবির সম্মেলন আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সকলের অবদান, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ এবং হেমাটোলজি চিকিৎসা ও গবেষণার উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে ডা. গোলজার হোসেন উজ্জলের পরিকল্পনা ও সঞ্চালনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যসহ ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো তুলে ধরা হয়।

সম্মেলনের প্রথম দিনে থ্যালাসেমিয়া, লিম্ফোমা, ক্রনিক মাইলয়েড লিউকেমিয়া (পিএমএল) ও অ্যাকিউট মাইলয়েড লিউকেমিয়া (এএমএল) বিষয়ে বৈজ্ঞানিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিনে প্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া (এএএল), হেমাটোপয়েটিক স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টেশন (এইচএসসিটি) এবং সেলুলার থেরাপি ও ক্যান্সার ইমিউনোথেরাপি বিষয় বিভিন্ন সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে তরুণ হেমাটোলজিস্টরা তাদের গবেষণাপত্র ও পোস্টার উপস্থাপনার সুযোগ পান। এসব অধিবেশনে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময়ের সম্ভাবনা, নির্ভুল রোগ নির্ণয়, ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা এবং টার্গেটেড থেরাপি নিয়ে আলোচনা হয়।

সম্মেলনে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছেন দেশের হেমাটোলজিস্টরা। বিশেষ করে তরুণ চিকিৎসক, প্রশিক্ষণার্থী ও গবেষকরা। তারা রক্তরোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সাম্প্রতিক অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে এবং পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হন। হেমাটোলজি গবেষণার প্রসার, চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রক্তরোগে আক্রান্ত রোগীদের আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করাই এ সম্মেলনের লক্ষ্য বলে জানান আয়োজকরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%