ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নজরুল বর্ষ উপলক্ষে জেলা পর্যায়ের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় ত্রিশালের রিতিকা ইসলাম তোয়া মনি


নজরুল বর্ষ উপলক্ষে জেলা পর্যায়ের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় ত্রিশালের রিতিকা ইসলাম তোয়া মনি

 ‎দেশব্যাপী নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত জেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার চিত্রাঙ্কন বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বড়মা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী রিতিকা ইসলাম তোয়া মনি।
‎
‎প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় চিত্রাঙ্কন (কারিগরি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়—গ্রুপ ‘ক’) বিভাগে ত্রিশাল উপজেলা থেকে অংশ নিয়ে এ কৃতিত্ব অর্জন করে সে।
‎
‎রিতিকা ইসলাম তোয়া মনির এ সাফল্যে তার বিদ্যালয়, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। তার এ অর্জন ভবিষ্যতে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চায় আরও এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
‎

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৈয়দপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৮ মাদক কারবারি গ্রেফতার, উদ্ধার ট্যাপেন্ডাডল ও ইয়াবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​ প্রতিবেদক, নীলফামারী: জেলা প্রতিনিধি রায়হান আলী

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০০ পি.এম


সৈয়দপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৮ মাদক কারবারি গ্রেফতার, উদ্ধার ট্যাপেন্ডাডল ও ইয়াবা

নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানা পুলিশের ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের নিকট থেকে ১৬ পিস ট্যাপেন্ডাডল ট্যাবলেট এবং ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
অভিযান ও আটকের বিষয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী আসামিদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং একজনকে সামারি ট্রায়ালের আওতায় আনা হয়েছে।
মামলা ও গ্রেফতারকৃতদের বিবরণ:
১. সৈয়দপুর থানার মামলা নং-১০, তারিখ-১১/১০/২৬ খ্রি.:
ধারা: ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ৩৬(১) সারণির ২৯(ক)/৪১।
গ্রেফতারকৃত আসামি: মো. বারেক (২৭), পিতা- মো. মনতাজ আলী, সাং- উত্তরা আবাসন, ব্লক- ৮৯/৬, ০১ নং ওয়ার্ড পৌরসভা, থানা- সৈয়দপুর, জেলা- নীলফামারী।
২. সৈয়দপুর থানার মামলা নং-১১, তারিখ-১১/১০/২৬ খ্রি.:
ধারা: ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা:
মো. ইমতিয়াজ আহমেদ (৩৫), পিতা- মৃত নেছার আহমেদ, সাং- পুরাতন মুন্সিপাড়া ডোমপট্টি রোড।
মিনহাজুল হক (২৬), পিতা- মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, সাং- বাঙালিপুর নিজপাড়া (উভয় থানা- সৈয়দপুর, জেলা- নীলফামারী)।
৩. সৈয়দপুর থানার মামলা নং-১২, তারিখ-১১/১০/২৬ খ্রি.:
ধারা: ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ৩৬(১) সারণির ২৯(ক)/৪১।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা:
নুর মোহাম্মদ @ বদি (৪৮), পিতা- মৃত নৈমুদ্দিন, সাং- বাঙালিপুর নিচপাড়া।
মো. রায়হান ইসলাম (৩৫), পিতা- মো. রফিক ইসলাম, সাং- অফিসার্স কলোনী, ডাকবাংলো রোড।
মো. রাসেল (২৩), পিতা- মো. ইবরার, সাং- হাতিখানা (সর্ব থানা- সৈয়দপুর, জেলা- নীলফামারী)।
সামারি ট্রায়াল:
সৈয়দপুর থানার জিডি নং-৫২৮ (তারিখ-১০/১০/২৬ খ্রি.) মূলে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ৩৬(৫) ধারায় অপর এক আসামিকে সামারি ট্রায়ালের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি হলেন— মো. জিয়ারুল হক ওরফে আজম (৪৮), পিতা- মো. রফিক, সাং- হলদিয়াপাড়া, ০৮ নং ওয়ার্ড, কাশিরাম বেলপুকুর, থানা- সৈয়দপুর, জেলা- নীলফামারী।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূর্ব বাড্ডায় পাঁচ কাঠা জমি দখলের অভিযোগ, হামলা ও প্রাণ-না-শের হু-ম-কি-তে নিরা-পত্তাহীনতায় পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১০ পি.এম


পূর্ব বাড্ডায় পাঁচ কাঠা জমি দখলের অভিযোগ, হামলা ও প্রাণ-না-শের হু-ম-কি-তে নিরা-পত্তাহীনতায় পরিবার

রাজধানীর পূর্ব বাড্ডায় পাঁচ কাঠা জমি দখল, হামলা, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছেন একটি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। জমি উদ্ধার, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. হাবিবুর রহমান মিন্টু ও তাঁর স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার।

রোববার (১১ অক্টোবর) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় মো. শাহিন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পূর্ব বাড্ডার বৈঠাখালী এলাকার আলিফ নগরে তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থে কেনা পাঁচ কাঠা জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি পরিবারটিকে এলাকাছাড়া করার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হাবিবুর রহমান মিন্টু বলেন, জীবনের সর্বস্ব দিয়ে তাঁরা জমিটি কিনেছেন। অথচ এখন সেই জমি নিয়ে বিরোধের কারণে পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাতে হচ্ছে। জমি রক্ষার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

হামলার অভিযোগ, থানায় মামলা না নেওয়ার দাবি

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ৭ অক্টোবর মো. শাহিন ও তাঁর সহযোগীরা তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পর বাড্ডা থানায় মামলা করতে গেলে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান বলেও অভিযোগ করেন হাবিবুর রহমান মিন্টু।

তাঁর দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে গিয়েও তাঁরা প্রয়োজনীয় আইনি সহযোগিতা পাননি। এ ঘটনায় পরিবারটি আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

তবে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং পুলিশের বক্তব্য জানা গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

আগের অভিযোগেও প্রতিকার মেলেনি, দাবি পরিবারের

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জমি নিয়ে বিরোধ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হামলার ঘটনায় বাড্ডা থানায় গত ১৪ আগস্ট ও ৩ অক্টোবর দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৯ আগস্ট ও ২৩ সেপ্টেম্বর দুটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

পরিবারটির অভিযোগ, একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানিয়েও তাঁরা প্রত্যাশিত প্রতিকার পাননি। সংবাদ সম্মেলনে শাহিন ছাড়াও রুবেল, দুলাল, রাসেল ও ঈমান আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা

সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবার তাঁদের জমি উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, কথিত হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়।

হাবিবুর রহমান মিন্টু প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ও বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

হাবিবুর রহমান মিন্টু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তাঁরা কোনো সংঘাত চান না; নিজেদের বৈধ মালিকানাধীন জমি ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে চান।

এখন প্রশ্ন, একাধিক অভিযোগের পরও ভুক্তভোগী পরিবার কেন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে? জমি নিয়ে বিরোধ, হামলার অভিযোগ এবং মামলা গ্রহণ না করার দাবি—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা জরুরি। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পাবে—এমন প্রত্যাশা তাঁদের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজার সৈকতে ৫ টনের প্লাস্টিক দানব, মানুষের অসচেতনতার প্রতীক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৮ পি.এম


কক্সবাজার সৈকতে ৫ টনের প্লাস্টিক দানব, মানুষের অসচেতনতার প্রতীক

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে একটি ৫০ ফুট উচ্চতার দানব দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই দানবের হাতে উপড়ে ফেলা নারকেলগাছ এবং শরীরজুড়ে মানুষের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য রয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সমুদ্রের গভীর থেকে উঠে এসেছে একটি ভয়ংকর প্রাণী। তবে কাছে গেলে এটি বোঝা যায় যে, এটি কোনো কল্পকাহিনির দানব নয়; বরং মানুষের অসচেতনতার প্রতীক।

এই ভাস্কর্যটি সমুদ্র থেকে সংগ্রহ করা পাঁচ মেট্রিক টন প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। কক্সবাজারের ইনানী, টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিন সৈকত থেকে সংগৃহীত প্লাস্টিক দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিল্পীরা ২০ দিনের শ্রমে এটি নির্মাণ করেছেন।

কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা ও সিগাল পয়েন্টের মাঝামাঝি বালিয়াড়িতে ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছে। এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম দেখতে পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন ভিড় করছেন। মূল উদ্দেশ্য হলো প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরা এবং মানুষকে সচেতন করা।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন প্লাস্টিক দূষণবিরোধী প্রতীকী আন্দোলন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে এসে অনেক পর্যটক চিপসের প্যাকেট, পানির বোতলসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলে যান। এই দানবের মাধ্যমে পরিবেশের জন্য এসব বর্জ্য কতটা ক্ষতিকর, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হচ্ছে।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সাদিয়া তুষি বলেন, ‘পরিবেশের জন্য প্লাস্টিক কতটা ক্ষতিকর, এই ভাস্কর্যের মাধ্যমে তা তুলে ধরা হয়েছে। এটি দেখে মানুষ যেন দূষণের ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারে এবং সচেতন হয়। বিশেষ করে, এত দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত যেন আমরা নিজেরাই ময়লা করে না ফেলি। কোথাও বর্জ্য ফেলার আগে মানুষ যদি এই ভাস্কর্যটি দেখে সচেতন হয়, তাহলেই এ উদ্যোগ সার্থক হবে।’

পর্যটক ফারিয়া জান্নাত বলেন, ‘আমরা পর্যটকেরা সমুদ্রসৈকতে এসে অনেক সময় চিপসের প্যাকেট, পানির বোতলসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলে সৈকত নোংরা করি। মানুষের ফেলে দেওয়া সেই প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়েই তৈরি করা হয়েছে এই দানব। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, আমাদের অসচেতনতা পরিবেশের জন্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে।’

গাজীপুর থেকে আসা পর্যটক হারুন-অর-রশিদ বলেন, সমুদ্রসৈকত একটি প্রাকৃতিক ও নান্দনিক স্থান। অথচ মানুষ প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য ফেলে এই সুন্দর পরিবেশ নোংরা করছে। এসব বর্জ্য দিয়ে তৈরি ভাস্কর্যটির মূল বার্তা হলো, প্লাস্টিক ও অন্যান্য ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে।

পর্যটক হাবিবুর রহমান মনে করেন, প্লাস্টিক দূষণ রোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগও জরুরি। তিনি বলেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে। শুধু সরকারের উদ্যোগে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ জন্য সরকার ও জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক মুহাম্মদ মুবারক বলেন, ৫০ ফুট উচ্চতার এই প্লাস্টিক দানব তৈরিতে পাঁচ টন প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণ কীভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করছে, তা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

মুহাম্মদ মুবারক বলেন, ‘গাছ উপড়ে ফেলার প্রতীকী দৃশ্যের মাধ্যমে আমরা দেখাতে চেয়েছি, এই দূষণ কীভাবে আমাদের পরিবেশ ও অক্সিজেনের উৎসকে হুমকির মুখে ফেলছে। প্লাস্টিক দূষণের কারণে নীরবে যে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে, তা অনেক সময় আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। সেই অদৃশ্য বিপর্যয়কেই দৃশ্যমান করার চেষ্টা করেছি এই ভাস্কর্যের মাধ্যমে।’

তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীল পর্যটন ও পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে একটি চলচ্চিত্রও তৈরি করেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। এ বছর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহারের সক্ষমতা সীমিত। তাই এই দূষণ রোধে জনসম্পৃক্ততা ও সচেতনতা তৈরির বিকল্প নেই।

মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, ২০২২ সাল থেকে কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিনে প্লাস্টিকবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে চাল-ডাল দেওয়ার পাশাপাশি সংগৃহীত প্লাস্টিকের একটি অংশ পুনর্ব্যবহার ও ভাস্কর্য নির্মাণে কাজে লাগানো হয়।

তিনি বলেন, প্রতিবছর ভিন্ন ভিন্ন প্রতীকী ভাস্কর্যের মাধ্যমে মানুষের অবহেলায় ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক কীভাবে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে, তা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের মতে, প্লাস্টিক দূষণ রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো যত্রতত্র প্লাস্টিক না ফেলা এবং দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তোলা।

এই ৫০ ফুটের দানব সমুদ্রসৈকতে দাঁড়িয়ে থাকা কেবল একটি শিল্পকর্ম নয়; বরং এটি মানুষের ফেলে দেওয়া বর্জ্যের পরিণতির প্রতীক। যদি ভাস্কর্যটি দেখে মানুষ প্লাস্টিক ব্যবহারে সচেতন হয় এবং বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলে, তাহলেই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য সফল হবে বলে আশা আয়োজকদের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছুটি শেষে কাজে ফেরা হলো না শাহেদের, রিয়াদে হামলায় নিভে গেল প্রাণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৯ পি.এম


ছুটি শেষে কাজে ফেরা হলো না শাহেদের, রিয়াদে হামলায় নিভে গেল প্রাণ

স্বজনদের সঙ্গে আনন্দের ছুটি কাটানোর পর কর্মস্থলে ফিরছিলেন প্রবাসী শাহেদ আহমেদ (৩২)। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর পরও কাজে আর ফেরা হলো না তাঁর। সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় এই তরুণ প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা এলাকায় শাহেদের মৃত্যুর খবর পৌঁছালে পরিবার এবং পুরো গ্রামে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

নিহত শাহেদ আহমেদ বগুড়া পৌরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মাদলা মণ্ডলপাড়ার রফিকুল ইসলাম মিঠুর ছেলে। তিনি গত তিন বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।

পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, শাহেদের বাবা রফিকুল ইসলাম দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সৌদি প্রবাসে রয়েছেন। বাবার সুবাদে তিন বছর আগে সেখানে যান শাহেদ। দুই মাস আগে তিনি ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ছুটির মেয়াদ শেষে আবারও সৌদির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন তিনি। অপরদিকে, শাহেদের মা তিন মাস আগে ওমরাহ পালনে সৌদি আরব যান, যাঁর আগামী ১৪ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা ছিল। বর্তমানে বাবা-মা দুজনই সৌদির দাম্মাম শহরে অবস্থান করছেন এবং তারা নিরাপদ রয়েছেন।

নিহতের স্বজনরা জানান, শাহেদ দুই ভাইবোনের মধ্যে একজন। তাঁর ছয় ও দশ বছর বয়সী দুটি অবুঝ সন্তান রয়েছে। উর্পাজনক্ষম একমাত্র অবলম্বনকে হারিয়ে অবুঝ দুই সন্তানকে নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে অসহায় পরিবারটি। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

শাহেদের স্ত্রী কাকলি আক্তার আকুল কণ্ঠে বলেন, "শনিবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল পাঁচটার দিকেও তার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। এরপর আর কোনো যোগাযোগ করতে পারিনি। সরকারের কাছে আমার একটাই আকুতি, আমার স্বামীর মরদেহে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।"

এ বিষয়ে মাদলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি নিহতের বাড়িতে গিয়েছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল জানান, রিয়াদে হামলায় বগুড়ার শাহেদ নামে এক প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%