শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪১ পি.এম
ছয় মাস আগে শুরু হওয়া ইরানের সঙ্গে মার্কিন ও ইসরায়েল যুদ্ধ সাম্প্রতিক সময়ে নতুন মাত্রা পেয়েছে। হামলা-পাল্টা হামলার এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে কবে, তার উত্তর জানা নেই খোদ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সেরও। এদিকে, টানা যুদ্ধের জেরে এবং হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েই চলেছে জ্বালানির দাম। সাধারণ মার্কিনিদের ক্ষোভও বাড়ছে। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে দীর্ঘ বক্তব্য দেওয়ার সময় ভ্যান্স বরাবরের মতো সংঘাত বজায় থাকার পুরো দায়ভার চাপিয়েছেন ইরানের ওপর।
তার দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে কোনোভাবেই ‘যুদ্ধ’ বলা চলে না, কারণ কয়েক মাস আগেই দুই পক্ষের মধ্যকার বড় ধরনের ‘সক্রিয় সামরিক অভিযান’ বন্ধ হয়ে গেছে। উপকূলীয় এলাকা ও হরমুজ প্রণালিতে সপ্তাহজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা তিন দিন তুমুল গোলাগুলি হলেও ভ্যান্স দাবি করেন, এই মুহূর্তে কোনো সক্রিয় যুদ্ধ বা সরাসরি গুলিবিনিময় চলছে না। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুই মাস আগে মার্কিন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যের এই প্রাণঘাতী সংঘাতকে হালকা ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখানোর জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছে। যদিও মাঠপর্যায়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রতিনিয়ত ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার পেন্টাগন থেকে প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগে এই সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৯০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন। গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির কাছে বিস্তৃত একটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করে মার্কিন বাহিনী। এই অভিযানে তারা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষাকেন্দ্র, রাডার ব্যবস্থা, নৌ সরঞ্জাম, মাইন স্থাপনার ক্ষমতা ও যোগাযোগকেন্দ্রসহ প্রায় ৬০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। একই সময়ে মার্কিন সামরিক পাহারা ও পাহারাদারি দিয়ে ওই প্রণালি দিয়ে বিভিন্ন জাহাজ পারাপার করানো হয়। তবে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান খুব দ্রুত তাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করে ফেলায় এই প্রণালি-সংলগ্ন এলাকায় আগ্রাসী হামলা চালিয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের উপায় নেই। কর্মকর্তাদের ভাষায়, এটি এখন অনেকটা আগাছা কাটার মতো কিংবা একের পর এক বের হওয়া মাথা ছাঁটার খেলায় পরিণত হয়েছে।
মঙ্গলবারের এই বিশাল অভিযান সফল হলেও মার্কিন কর্মকর্তারা খুব ভালো করেই জানেন যে, এই সংঘাতের দ্রুত কোনো সমাধান আপাতত নেই। আর মার্কিন নৌবাহিনীর কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি পরিবহনকারী বিশ্বখ্যাত সংস্থাগুলো এই প্রণালি দিয়ে তাদের জাহাজ পাঠাতে তীব্র আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে হু হু করে বেড়েছে গ্যাস ও জ্বালানির দাম। এতে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে, যা কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে থাকা রিপাবলিকান নেতাদের তীব্র চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনের আগে যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য তিনি কোনো রাজনৈতিক চাপ অনুভব করছেন না। তবে তার দলের মিত্র ও রাজনৈতিক উপদেষ্টারা স্বীকার করেছেন যে, নভেম্বরের ভোটের আগে সংঘাতের খবর গণমাধ্যম ও জনসম্মুখ থেকে যত দূরে থাকবে, দলের জন্য ততই মঙ্গল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যুদ্ধের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করেছিলেন জেডি ভ্যান্স নিজেই। পরবর্তীতে এ বছরের শুরুর দিকে এক কূটনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেন তিনি। তবে তার মধ্যস্থতায় হওয়া সেই যুদ্ধবিরতি মাত্র দুই সপ্তাহ স্থায়ী হয়েছিল। হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে ইরান মরিয়া হয়ে উঠলে দুই পক্ষ ফের হামলা-পাল্টা হামলার পুরোনো বৃত্তে ফিরে যায়। আগস্ট মাসের অধিকাংশ সময় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও চলতি সপ্তাহে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হরমুজ প্রণালিতে ইরান মাইন ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন অভিযোগ এনে ফের মার্কিন বিমান হামলা শুরু হয়।
এই হামলায় হরমুজ প্রণালির কাছের একটি গ্রামে বিবাহানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অন্তত চারজন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর এসেছে। ভ্যান্স জানিয়েছেন, মার্কিন প্রশাসন এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করছে। বেসামরিক লোক নিহত হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে না দিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী লড়াইয়ের সময় কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না। "আমরা এমন কাজ কখনো করিনি এবং করবও না। তবে দুর্ভাগ্যবশত অনেকসময় অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটে যায়।" যদিও এই নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ বা চূড়ান্ত কোনো তথ্য এখনো আমাদের হাতে আসেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সর্বসাম্প্রতিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, এই মুহূর্তে তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের আলোচনা বা কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে না। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বার্তা খুব পরিষ্কার। "তারা যতক্ষণ পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বা গুলি চালানো বন্ধ না করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছি না এবং ভবিষ্যতেও করব না।" আলোচনা বন্ধ থাকায় এই যুদ্ধ কবে শেষ হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ থামবে কি না—এমন প্রশ্নে ভ্যান্স বলেন, "এই যুদ্ধ কখন শেষ হবে জানতে চাওয়া আর ইরানিরা কখন জাহাজে গুলি চালানো বন্ধ করবে তা জানতে চাওয়া একই কথা। বাস্তব সত্য হলো, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর আমার জানা নেই। এর জবাব জানতে হলে আপনাদের ইরানিদেরই জিজ্ঞাসা করতে হবে।" পাশাপাশি মার্কিন বাজারে তেলের দাম কবে আবার আগের মতো গ্যালনপ্রতি ৩ ডলারে নেমে আসবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি হননি তিনি। তিনি কেবল বলেন, "আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা কেন এই লড়াই করছি। প্রথম ও প্রধান কারণ হলো, ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে না পারে।"
হোয়াইট হাউসের মূল সংবাদ সম্মেলনকক্ষে ভ্যান্সের এই উপস্থিতি ছিল বেশ দীর্ঘ বিরতির পর। টানা ৪২ দিন ধরে ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রেস ব্রিফিং রুমটি ব্যবহার করেনি। গত সপ্তাহে ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট পদত্যাগ করার পর এখনো সেখানে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে এসে ভ্যান্স প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কথা বলেন। ইরান সংঘাত থেকে শুরু করে নিজের হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া ও সুস্বাস্থ্যের বিষয়ে নানা প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। ভ্যান্স জানান, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক মন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের দেওয়া ডায়েট চার্ট মেনে চলাই তার শারীরিক পরিবর্তনের কারণ। তিনি উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার ও প্রচুর সোরক্রট খাচ্ছেন জানিয়ে রসিকতা করে বলেন, "খাওয়ার স্বাদ উপভোগ করতে চাইলে ভুলেও ববি কেনেডিকে ফোন দেবেন না।"
সংবাদ সম্মেলনে নিজের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের পক্ষে জোরালো সাফাই গান ভাইস প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি পেন্টাগনে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করা, পদোন্নতি আটকে দেওয়া এবং ঢালাও পদত্যাগের ঘটনায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এমনকি ভ্যান্সের ইয়েল ল স্কুলের বন্ধু ও ঘনিষ্ঠ সঙ্গী আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল চলতি সপ্তাহে পদত্যাগ জমা দিয়েছেন, যা মার্কিন সেনাবাহিনীকে অভিভাবকহীন করে তুলেছে। সেনাবাহিনীর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হেগসেথ গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতৃত্বকে বরখাস্ত করেছেন।
রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের বিদায়ী অনেক আইনপ্রণেতাও হেগসেথের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তাকে অপসারণের দাবি তুলেছেন। নর্থ ক্যারোলাইনার সিনেটর থম টিলিস মন্তব্য করেছেন, "দেশকে সেবা দেওয়া বীর সেনাসদস্য ও কর্মকর্তাদের এমন অপেশাদার ও অদক্ষ পরিচালনা তিনি ক্যারিয়ারে কখনো দেখেননি।" হেগসেথ সেনাকর্মকর্তাদের মেধা ও দক্ষতায় নিজের অস্তিত্বের জন্য হুমকি বোধ করেন বলেও তোপ দাগেন টিলিস। তবে এসব বিতর্ককে আমলে না নিয়ে ভ্যান্স দাবি করেন, হেগসেথ মূলত মার্কিন সামরিক ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক সংস্কার আনার লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন। ভ্যান্স তার ৪২ বছরের জীবনের কথা উল্লেখ করে বলেন, "আমার জীবদ্দশায় যুক্তরাষ্ট্র প্রচুর যুদ্ধ লড়েছে, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে আমরা তার একটিতেও বিজয়ী হতে পারিনি।"
সূত্র: সিএনএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উৎসব আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্যে উদযাপিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় বান্দরবান রাজার মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য মহাশোভাযাত্রা বের করা হয়।
পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন এবং মহাশোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করতে বেলুন উড়িয়ে দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সজীব কান্তি রুদ্র, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য জসিম উদ্দিন তুষার, সদস্য চনুমং মারমা, বান্দরবান সার্বজনীন কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দিরের সভাপতি বিপ্লব কান্তি দাশ রাজেশ্বর, বান্দরবান কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি রিটল কান্তি বিশ্বাস এবং সাধারণ সম্পাদক অলক ধরসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, জেলার বিভিন্ন মন্দিরের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সনাতনী সমাজের নেতৃবৃন্দও এতে অংশ নেন।
মহাশোভাযাত্রাটি রাজার মাঠ থেকে শুরু হয়ে বান্দরবান শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উৎসব প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় সনাতন ধর্মাবলম্বী শিশু-কিশোর ও বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ দেব-দেবীর নানারূপ প্রতিকৃতিতে সেজে অংশগ্রহণ করেন। রঙ-বেরঙের পোশাক ও সাজসজ্জায় পুরো শহর উৎসবে মুখরিত হয়ে ওঠে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালানোর সাহস করে, তাহলে তা হবে দেশটির শাসনব্যবস্থার অন্যতম ‘শেষ সিদ্ধান্ত’—এমন সতর্কতা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার, সদেরোত এলাকার আফিকি দাত হেজদের ইয়েশিভা পরিদর্শনের সময় তিনি গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ এবং তেহরানের সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে কথা বলেন।
নেতানিয়াহু উল্লেখ করেন, ইরান পুরো অঞ্চলে এবং আশপাশের সব দেশকে আক্রমণ ও হুমকি দিচ্ছে, তবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পরিণাম সম্পর্কে তারা সচেতন হওয়ায় এখানে কোনো উসকানি দেওয়ার সাহস দেখাচ্ছে না।
সদেরোতের ওই ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গাজা উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিবর্তনের দাবি করে নেতানিয়াহু বলেন, গাজাজুড়ে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং যারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হুমকি সৃষ্টি করছে তাদের বেছে বেছে নির্মূল করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, আগের দিন গাজায় হামাসের শিন বেত প্রধানকে হত্যা করা হয়েছে এবং এখন গাজায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। এ সময় ৭ অক্টোবরের গণহত্যার পর থেকে নিহত হামাস ও হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের একটি তালিকা তুলে ধরেন তিনি। তালিকায় ইয়াহিয়া সিনওয়ার, মোহাম্মদ দেইফ, ইসমাইল হানিয়াহ, মোহাম্মদ সিনওয়ার, হাসান নাসরুল্লাহ এবং ইজ্জ আল-দ্বীন আল-হাদ্দাদের নাম উল্লেখ করে বলেন, ইসরায়েল তার চারপাশের বাস্তবতা বদলে দিচ্ছে এবং রাষ্ট্রটির প্রতি তৈরি হওয়া প্রতিটি হুমকিকে একে একে উপড়ে ফেলছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে হেজদের ইয়েশিভার শিক্ষার্থীদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং সাহসিকতার প্রশংসা করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারা তোরাহ শিক্ষা, আত্মত্যাগ ও বীরত্বের এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছে এবং যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই ইসরায়েলি জনগণের সুরক্ষায় সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে, হিব্রু সংবাদমাধ্যম এন১২ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদেরোতের মেয়র আলোন দাবিদির উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান চলাকালে শিক্ষার্থীদের একাংশকে নেতানিয়াহুর সামনে ফিলিস্তিনবিরোধী চরমপন্থী গান গাইতে দেখা যায়। তারা ১৯৯৬ সালে ফিলিস্তিনিদের হামলায় নিহত এক ইসরায়েলি দম্পতির স্মরণে তৈরি ডোভ শুরিনের বিতর্কিত গান রিমেক করে প্রতিশোধের ডাক দেয় এবং ফিলিস্তিনের নাম মুছে ফেলার মতো উগ্র স্লোগান সংগীতে তুলে ধরে।
এদিকে, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ইরানের যেকোনো হামলা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে একাধিক নিরাপত্তা সূত্র নিশ্চিত করেছে। আল-মনিটরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক উচ্চপদস্থ ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, তারা যেকোনো মুহূর্তে এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের নোটিশে তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে হামলা চালানোর মতো সক্ষমতা ও প্রস্তুতি রাখে। গত ১৩ এপ্রিল মার্কিন নৌবাহিনী কর্তৃক প্রবর্তিত অর্থনৈতিক অবরোধ শুরুর পর থেকে তেহরান কেবল উপসাগরীয় অঞ্চল ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছে, কিন্তু ইসরায়েলে হামলা করা থেকে বিরত রয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ইরান হয়তো ইসরায়েলকে পরবর্তী কোনো কৌশলী সময় ব্যবহারের জন্য রেখে দিয়েছে, নয়তো ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পাল্টা জবাবের তীব্রতাকে ভয় পাচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ইরানের সঙ্গে পুনরায় সংঘাত শুরু হলে ইসরায়েল মূলত দেশটির অবশিষ্ট পরমাণু প্রকল্পগুলোকে একবারে ধূলিসাৎ করাকে প্রাধান্য দেবে। বিগত জুন মাসে এবং চলতি বছরের বিভিন্ন অভিযানে ইরানের অস্ত্র-মানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যেটুকু অবশিষ্ট রয়েছে, তা ধ্বংস করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। তেহরানের মূল শাসনব্যবস্থা বা সাধারণ অবকাঠামোতে হামলা চালানোকে তারা দ্বিতীয় সারির লক্ষ্য হিসেবে দেখছে। এমনকি হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর গৃহীত সামরিক পদক্ষেপ কিংবা মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার কাজগুলোকেও নিজেদের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে না জেরুজালেম।
নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ একটি কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ইসরায়েলের মূল মনোযোগের কেন্দ্রে তা নেই। তাদের কৌশলগত হিসেব অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বড় কোনো সামরিক অভিযানে যাবেন না, বরং বর্তমান অর্থনৈতিক অবরোধের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্যগুলোকে ধরে রাখার চেষ্টা করবেন। কারণ, এই অর্থনৈতিক অবরোধের ফলে ইরান ইতিমধ্যেই মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইংল্যান্ডের একটি ডিপো থেকে চোরেরা দুইটি লরি ব্যবহার করে ৮০০ ব্যারেলেরও বেশি গিনেস বিয়ার চুরি করেছে। চুরি হওয়া বিয়ারের মোট পরিমাণ প্রায় ৭০ হাজার পাইন্ট, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ১৫ হাজার পাউন্ড।
চেশায়ার পুলিশ জানায়, সোমবার চেশায়ারের রানকোর্নের অ্যাস্টন লেনের হোয়াইটহাউস ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট থেকে এই বিয়ারগুলো চুরি করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম লরিটি সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে এবং দ্বিতীয় লরিটি রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিয়ে যায় চোরেরা। প্রতিটি ব্যারেলে গিনেস বিয়ার ছিল প্রায় ৮৮ পাইন্ট। এসব বিয়ার বিভিন্ন পানশালায় সরবরাহ করার উদ্দেশ্যে ছিল।
চেশায়ার পুলিশের ডিটেকটিভ সার্জেন্ট ম্যাকক্ল্যাচি মন্তব্য করেন, "একটি বিখ্যাত কথা আছে, গিনেস আপনার জন্য উপকারী। তবে সেটি কেবল তখনই প্রযোজ্য, যখন তা অর্থ দিয়ে যথাযথভাবে কেনা হয়।"
পুলিশ জানায়, প্রথম লরিটিকে মার্সি গেটওয়ে সেতুর দিকে যেতে দেখা গেছে। দ্বিতীয় লরিটি রেইনহিল ও ওয়াটকিনসন ওয়ের দিকে গিয়েছিল।
পুলিশের ধারণা, দুটি লরির চালকই পুরুষ ছিলেন। প্রথম চালকের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি শ্বেতাঙ্গ, ছোট কালো দাড়ি ছিল এবং মাথায় বিনি টুপি পরা ছিলেন। দ্বিতীয় চালকের মাথায় একটি ক্যাপ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চুরি হওয়া গিনেস বিয়ার ও দুটি ট্রেইলারসহ মোট চুরি হওয়া পণ্যের মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার পাউন্ড, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা।
চুরি হওয়া ট্রেইলার দুটি সাদা রঙের এবং তিন অ্যাক্সেলবিশিষ্ট। এগুলোতে পর্দা রয়েছে এবং পাশের পর্দা ও পেছনের দরজায় লজিস্টিকস কোম্পানি জিএক্সওর ব্র্যান্ডিং রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ট্রেইলারগুলোর পেছনের দরজার ওপরের বাম পাশে স্বতন্ত্র নম্বর রয়েছে। চুরি হওয়া ট্রেইলার দুটির নম্বর DL736 অথবা DL542।
চেশায়ার পুলিশ চুরি হওয়া বিয়ার ও ট্রেইলার উদ্ধারে তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে দুই লরির চালকদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন জানিয়েছেন, ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) বা খুরা রোগের কারণে কৃষকদের গবাদিপশুর মৃত্যু হবে না। তিনি উল্লেখ করেছেন, এসব রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেশে যথেষ্ট ভ্যাকসিন উৎপাদিত হচ্ছে। কুমিল্লায় অবস্থিত ভ্যাকসিন কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে কয়েক মাসের জন্য সার মজুদ রয়েছে। কিন্তু একটি বিশেষ শ্রেণি সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করছে এবং সারের সংকটের গুজব ছড়াচ্ছে।
শুক্রবার কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার রায়ঁচু ঈদগাহ মাঠে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) উদ্ভাবিত ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ও গোটপক্স ভ্যাকসিনের টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, গত বছর পাঁচ লাখ ভ্যাকসিন উৎপাদন করা হয়েছিল এবং এ বছর প্রায় ২০ লাখ ভ্যাকসিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পূর্বে আমদানি করা ভ্যাকসিনের মূল্য ছিল প্রায় ২৫০ টাকা, কিন্তু এখন দেশীয় উৎপাদনের ফলে প্রতিটি ভ্যাকসিনের দাম মাত্র ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে কৃষক ও গৃহস্থরা কম খরচে গবাদিপশুকে টিকা দিতে পারবেন।
তিনি বলেন, ল্যাম্পি স্কিন ও খুরা রোগ নিয়ে কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
মন্ত্রী আরও জানান, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তিনি আবারও উল্লেখ করেন, দেশের জন্য কয়েক মাসের জন্য যথেষ্ট সার মজুদ রয়েছে। তবে একটি শ্রেণি সরকারকে বিব্রত করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে এবং সারের সংকটের গুজব ছড়াচ্ছে।
ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান তুহিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ