ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পশ্চিমবঙ্গে আদালতের রায়ে যোগ্য ভোটারদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত আপিল


পশ্চিমবঙ্গে আদালতের রায়ে যোগ্য ভোটারদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত আপিল

পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী দুটি বিধানসভা আসন—মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জ এবং মালদার সুজাপুর—ভোটার তালিকা সংশোধনের একটি অস্বাভাবিক ও বিতর্কিত চিত্র প্রকাশ করেছে। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষকে বাদ দেওয়ার উদাহরণ এই দুটি আসন।

সামসেরগঞ্জে বিচারিক কর্মকর্তারা ৭৭,৭৭৫ জন ভোটারকে 'অযোগ্য' হিসেবে চিহ্নিত করে বাদ দিয়েছেন—যা রাজ্যের মধ্যে সর্বাধিক। অন্যদিকে, সুজাপুরে বিচারকরা তুলনামূলকভাবে কম ভোটার বাদ দিলেও, ভারতের নির্বাচন কমিশন আদালতের বিচারে 'যোগ্য' প্রমাণিত ৬১,০৬৬ জন ভোটারের অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপিল বা চ্যালেঞ্জ দায়ের করেছে। এটি রাজ্যের যেকোনো একক আসনের জন্য সর্বোচ্চ।

'সিভিক রিসার্চ গ্রুপ'-এর সংগৃহীত ও দ্য ওয়্যার এর মাধ্যমে যাচাইকৃত নথি বিশ্লেষণে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। দুটি আসনেই নির্বাচন কমিশন যে সকল ভোটারদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আপিল করেছে, তাঁদের ৯৯ শতাংশেরও বেশি মুসলিম ধর্মাবলম্বী। আরও বিস্ফোরক তথ্য হলো, এই হাজার হাজার আপিলের প্রায় সবই ২০২৬ সালের ৫ এপ্রিল বিকেলে একটিমাত্র টাইমস্ট্যাম্পে দায়ের করা হয়েছিল—যা বিধানসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকা চূড়ান্তভাবে ফ্রিজ করার মাত্র দুই দিন আগে।

আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনে চাপের মুখে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস

দুই পথ, একই গন্তব্য

সামসেরগঞ্জ: বিচারিক প্যানেল বা বিচারকরা পর্যালোচনায় থাকা ১,০৮,৪০০ জন ভোটারের মধ্যে ৬৯% ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেন এবং ৩৩,১৫২ জনকে বৈধ হিসেবে ছাড়পত্র দেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এখন বিচারকদের ছাড়পত্র পাওয়া সেই ৩৩,১৫২ জনের মধ্যে ১৫,১৯৫ জনের (৪৭.৬%) বিরুদ্ধে নতুন করে আপিল করেছে।

সুজাপুর: এখানে বিচারকরা পর্যালোচনায় থাকা ১,৩৪,৫২১ জনের মধ্যে মাত্র ২০% বাতিল করেছিলেন এবং ১,০৭,৬৯০ জন ভোটারকে যোগ্য হিসেবে বহাল রেখেছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সেই বহাল রাখা ভোটারদের থেকে ৬১,০৬৬ জনের (৫৬.৭%) বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেছে—যা বিচারকদের বাতিল করা সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি।

যদি নির্বাচন কমিশনের এই সমস্ত আপিল চূড়ান্ত ট্রাইব্যুনালে গৃহীত হয়, তবে দুই আসনেই ফলাফল প্রায় একই রকম দাঁড়াবে। সামসেরগঞ্জে মূল তালিকার ৮৩% এবং সুজাপুরে ৬৫% ভোটার তালিকাচ্যুত হবেন। এর ফলে কেবল সুজাপুরেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের সংখ্যা ২৬,৮২৯ থেকে লাফিয়ে ৮৭,৮৯৫ জনে গিয়ে ঠেকবে।

আরও পড়ুন: জাপানের উইক ও গ্রামীণ গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে ‘গ্রামীণ-উইক’ প্রতিষ্ঠা

টার্গেটে নির্দিষ্ট এক সম্প্রদায়?

কমিশনের আপিল তালিকার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সামসেরগঞ্জে নির্বাচন কমিশন যাদের বিরুদ্ধে আপিল করেছে, সেই ১৫,১৯৫ জনের মধ্যে ১৫,১৭৭ জনই সাধারণ নিয়মে চিহ্নিত মুসলিম নামের মানুষ (৯৯.৯%)। সুজাপুরে ৬১,০৬৬ জনের মধ্যে ৬০,৮২৩ জনই মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত (৯৯.৬%)।

যদিও সামসেরগঞ্জে প্রায় ৭২% এবং সুজাপুরে প্রায় ৭৫% সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বসবাস, তবে এই ব্যবধানের সূচনা হয়েছিল একদম প্রাথমিক পর্যায় থেকে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত এপ্রিলে সামসেরগঞ্জের যেসব বুথে ৫০% বা তার বেশি মুসলিম ভোটার ছিলেন, সেসব বুথে গড়ে ৪৬৭ জন ভোটারকে পর্যালোচনায় পাঠানো হয়েছিল, যেখানে অন্য বুথগুলোতে এই গড় ছিল মাত্র ৬৫ জন। ফলে যারা বিচারকদের যাচাই-বাছাই পার হয়ে যোগ্য বিবেচিত হয়েছিলেন, তাঁদের প্রায় সবাই ছিলেন মুসলিম—আর কমিশন এখন তাঁদেরকেই তালিকা থেকে বাদ দিতে আপিল দায়ের করেছে।

এক বিকেলে ৭২ হাজার আপিল: সিস্টেমে কারসাজি?

আরও পড়ুন: ভ্যান্সের চিঠির সত্যতা স্বীকার, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাবে ইরানের প্রতিক্রিয়া কী?

পেন্ডিং বা বিচারাধীন থাকা প্রতিটি আপিলের একটি নির্দিষ্ট 'আইডি' থাকে। সিভিল রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট ও দ্য ওয়্যার-এর যৌথ বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই আইডিগুলোর কোড নম্বর বিশ্লেষণ করলে আপিল দায়েরের নিখুঁত তারিখ ও সময় জানা যায়।

বিশ্লেষণভিত্তিক নথিতে দেখা গেছে, সুজাপুরের ৬০,৯৭৭টি এবং সামসেরগঞ্জের ১৫,১৭৯টি বিচারাধীন আপিলের (মোট ৭৬,১৫৬টি) মধ্যে ৯৬% আপিল (৭২,৮৩৮টি) ২০২৬ সালের ৫ এপ্রিল বিকেলের এক একক 'টাইমস্ট্যাম্পে' নিবন্ধিত হয়েছে।

সিরিয়াল নম্বর বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বুথ ধরে ধরে অত্যন্ত সুবিন্যস্তভাবে একের পর এক আপিল জেনারেট করা হয়েছে। এটি পরিষ্কার নির্দেশ করে যে, প্রতিটি ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য বা কেস ধরে ধরে পৃথক তদন্তের মাধ্যমে এই আপিলগুলো করা হয়নি; বরং বাল্ক আকারে (একযোগে কম্পিউটার সিস্টেমের মাধ্যমে) শত শত পৃষ্ঠা ও পার্ট ধরে ধরে এক ক্লিকে আপিলগুলো ফাইল করা হয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাবের শঙ্কা

আরও পড়ুন: ইরানে ৫০০ রুশ পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া

যদিও ২০২৬ সালের এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে এই দুটি আসনই তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে গেছে এবং দ্বিতীয় স্থানে ছিল কংগ্রেস, তবে ভবিষ্যতে এই আসনগুলোতে নির্বাচনের ফলাফল কী হবে—তা এই আপিলগুলোর ওপরই নির্ভর করছে।

সামসেরগঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী মাত্র ৭,৫৮৭ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন, অথচ নির্বাচন কমিশন যে ভোটারদের বাদ দিতে আপিল করেছে তার সংখ্যা এই জয়ের ব্যবধানের দ্বিগুণেরও বেশি।

সুজাপুরে জয়ের ব্যবধান ছিল ৬০,২৮৭ ভোট, আর কমিশনে ঝুলে থাকা আপিলের সংখ্যা ৬১,০৬৬—যা সম্পূর্ণ ব্যবধানকে ছাড়িয়ে যায়। উল্লেখ্য, সুজাপুরের মোট ২,৫৬,২৭৬ জন খসড়া ভোটারের প্রায় চারভাগের একভাগ ভোটারকেই এখন বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

চলতি বছরের নভেম্বরেই রাজ্যে পৌর নির্বাচনের সময়সূচী ঘোষণা করার কথা রয়েছে। ফলে কমিশন সফল হলে এই বিরাটসংখ্যক ভোটার মিউনিসিপ্যালিটি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ

ঝুলন্ত বিচার ও নিরব কমিশন

৭৬,২৬১টি আপিলের মধ্যে এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল মাত্র ১০৫টি নিষ্পত্তি করতে পেরেছে। বাকি হাজার হাজার আবেদন কলকাতা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে—যা এই সীমান্ত এলাকাগুলো থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তদুপরি, গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ই-পোর্টাল সিস্টেমে আধার সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে বিচারকদের আপত্তির পর থেকে ট্রাইব্যুনালগুলো নতুন কোনো নির্দেশ জারি বা আপলোড করতে পারছে না।

যে ভোটাররা একবার বুথ লেভেল অফিসার এবং পরবর্তীতে বিচারিক কর্মকর্তাদের কাছে নিজেদের সমস্ত প্রমাণপত্র জমা দিয়ে দুই দুই বার নাগরিকত্ব ও ভোটার হওয়ার যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন, নির্বাচন কমিশন ঠিক কী যুক্তিতে তাঁদের পুনরায় চ্যালেঞ্জ করছে—তা স্পষ্ট নয়। কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো উত্তর দেয়নি যে কেন একই সময়ের টাইমস্ট্যাম্পে হাজার হাজার মানুষের বিরুদ্ধে পাইকারি হারে এই আপিল দায়ের করা হলো।

আরও পড়ুন: আলাস্কায় দুই প্রার্থীর নাম নিয়ে বিতর্ক শুরু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা: ফরহাদ হোসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৬ পি.এম


তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা: ফরহাদ হোসেন

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা চলছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আজ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি এ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে কোনো অপশক্তি ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ষড়যন্ত্রে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে তিস্তা ব্যারেজ এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, "তিস্তাকে নিয়ে আজ দেশে-বিদেশে নানা কথা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে যদি কোনো অপশক্তি আমাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তিস্তাকে ঘিরে আরও সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করে, তাহলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।"

তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) প্রতিবেদন তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইতোমধ্যে সম্মতি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিতে স্বাক্ষর করেছেন। অর্থমন্ত্রী দেশে ফেরার পর আগামী সপ্তাহে স্বাক্ষর করলে পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রতিবেদন চূড়ান্ত হওয়ার পর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির জন্য বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯ থেকে ১০ মাস সময় লাগতে পারে। এরপর শুরু হবে দরপত্র প্রক্রিয়া। এসব ধাপ সম্পন্ন করে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে বিক্ষোভের ডাক জামায়াতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৭ পি.এম


ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে বিক্ষোভের ডাক জামায়াতের

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যজোট ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি, পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং প্রধান নির্বাচন এজেন্টের ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ৯টায় ঠাকুরগাঁও জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগগুলি তুলে ধরেন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী ও জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন।

নির্বাচন প্রত্যাখ্যান ও এসব ঘটনার প্রতিবাদে আগামীকাল (শুক্রবার) বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে দেলোয়ার হোসেন উল্লেখ করেন, ভোটের দিন বিকাল চারটা পর্যন্ত প্রশাসন কোনো অনিয়মের সুরাহা দিতে পারেনি। সকালে যে পরিস্থিতি ছিল, বিকাল চারটায় ভোট শেষ হওয়ার পরও একই অবস্থা বিরাজমান ছিল। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাদের পোলিং এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে। অনেক স্থানে এজেন্টদের বের করার পর তারা নিজেদের মতো করে ফলাফল তৈরি করেছে। এমনকি কিছু সেন্টারে ফলাফল না দিয়েই পুরো বাক্সে করে ব্যালট নিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, রাজাগাঁও ইউনিয়নের খড়িবাড়ি হাই স্কুল কেন্দ্রে প্রকাশ্যে টেবিলের ওপর ধানের শীষে সিল মারার প্রতিবাদ করায় প্রধান নির্বাচনি এজেন্টের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে প্রশাসন এসে তাকে উদ্ধার করে। একজন প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট যদি অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিরাপদ না থাকেন, তবে নির্বাচন কতটা একতরফা হয়েছে তা সহজেই অনুমেয়।

ফলাফল ঘোষণার আগেই বিজয় র‍্যালি ও মিষ্টি বিতরণের প্রসঙ্গ টেনে দেলোয়ার হোসেন বলেন, এটি অত্যন্ত হাস্যকর ও পূর্বপরিকল্পিত। ফলাফল চূড়ান্তভাবে ঘোষণা হওয়ার আগেই বিভিন্ন মাধ্যমে দেখলাম তাদের প্রার্থীকে মালা পরানো হচ্ছে, মিষ্টি খাওয়ানো হচ্ছে এবং বিজয় র‍্যালি করা হচ্ছে। এতেই প্রমাণিত হয় সবকিছু আগে থেকেই গোছানো ছিল। তারা বিভিন্ন প্রচারণায় আগেই বলে বেড়াত যে গতবারের চেয়ে এবার এক থেকে দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবে।

নির্বাচন-পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত পুরো ফলাফল তাদের হাতে আসেনি। বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের আহত নেতাকর্মীরা আসছেন। সবকিছু পর্যালোচনা করে এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তারা এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- দিনভর চলা অনিয়ম, হামলা ও কারচুপির ঘটনায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন পোলিং এজেন্টের ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে চারজন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন এবং অনেকে নিরাপত্তার অভাবে বাড়ি ফিরতেও পারছেন না।

সার্বিক এই নজিরবিহীন অনিয়ম, কর্মী-সমর্থকদের বাসাবাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর এবং হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল (শুক্রবার) ঠাকুরগাঁওয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি পালন করবে ১১ দলীয় ঐক্যজোট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নলডাঙ্গায় মোবাইল কোর্টের অভিযানে সোহাগ সরদারকে ২০ দিনের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৭ পি.এম


নলডাঙ্গায় মোবাইল কোর্টের অভিযানে সোহাগ সরদারকে ২০ দিনের কারাদণ্ড

নলডাঙ্গা উপজেলার সোনাপাতিল এলাকায় মোবাইল কোর্টের অভিযানের মাধ্যমে সোহাগ সরদার (৩৩) নামের একজনের বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত আটটায় এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন নলডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীম হোসেন।

মোবাইল কোর্টের সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ সরদারকে মাদক সেবনের অপরাধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর (৩৬) ৫ ধারার অধীনে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সোহাগ সরদার পূর্ব সোনাপাতিল গ্রামের আফাজ সরদারের পুত্র।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় রফিক বাহিনীর প্রধানের খামার থেকে পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৮ পি.এম


খুলনায় রফিক বাহিনীর প্রধানের খামার থেকে পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

খুলনার বটিয়াঘাটায় কথিত ‘রফিক বাহিনী’র প্রধান রফিকের দখলে থাকা একটি কৃষি খামারে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ পিস্তলের ছয়টি ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড গুলি, পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। তবে এই ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের বিরাট গ্রামের ওই কৃষি খামারের ঘেরের একটি ঘরে অভিযান চালিয়ে এসব সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, রফিকের ঘের থেকে তার পরিচয়পত্র, পিস্তলের ম্যাগাজিন ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় এবং পরদিন বিকেলে পৃথক ঘটনায় দুই যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ হন।

ওই দুই নেতাকে গুলি করার ঘটনার পর বটিয়াঘাটা থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে খুলনা জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার স্থলে পাইকগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম মিজানুর রহমানকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়।

নতুন ওসি দায়িত্ব গ্রহণের এক দিনের মাথায় রফিকের খামার থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনা ঘটল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%