ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দিল্লিতে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে আটক, ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত


দিল্লিতে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে আটক, ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পূর্বঘোষিত ‘লেহরো দো তিরঙ্গা’ (Lehra Do Tiranga) মার্চ বা জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি শুরুর প্রাক্কালে দিল্লি পুলিশ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে আটক করেছে। এই ঘটনা ঘটে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ১৪৪ ধারা বা ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারির মধ্যেই। পুলিশের এমন পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে কনট প্লেসের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় পুলিশ দীপকে তার নিজ বাসভবন থেকেই আটক করে। এর আগে দিল্লি পুলিশ তাকে একটি নোটিশে নির্দেশ দিয়েছিল যে, তিনি এমন কোনো কার্যকলাপে অংশ না নেন যা নাগরিক, পথচারী, রোগী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াত বা অধিকারে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। সূত্র জানায়, এনসিপি-এসসি (NCP-SP) মুখপাত্র অনীশ গাওণ্ডের বাসভবন ছাড়ার সময়ই তাকে প্রিভেনটিভ ডিটেনশনে (নিবর্তনমূলক আটক) নেওয়া হয়।

এদিকে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক ও এর আশপাশের এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রেখেছে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী। নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের ঘোষণা অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির কারণে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বিতর্কের জেরে প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়াকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প

নেতৃত্বের ওপর আকস্মিক এই পুলিশি হস্তক্ষেপে বিপাকে পড়লেও সিজেপি দমে যায়নি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিজিৎ দীপকে আটকে দেওয়া হতে পারে এমন আশঙ্কা তাদের আগেই ছিল। সেই অনুযায়ী তারা বিকল্প পরিকল্পনা বা ‘প্ল্যান বি’ তৈরি রেখেছে। দলের মিডিয়া উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নেতা-কর্মীরা যাতে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে (পাঁচ জনের কম) কনট প্লেসে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকার সঙ্গে ছবি তুলে তা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন, সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ এই তিরঙ্গা মার্চটি মূলত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবির প্রেক্ষিতে ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচির একটি অংশ ছিল। একই দিনে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনও (AISA) মান্ডি হাউস মেট্রো স্টেশনের সামনে একই দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দেয়। সিজিপির অন্যান্য শীর্ষ নেতারা ইতোমধ্যে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকায় অভিজিৎ দীপের এই আটকের পর দলটি তাদের বিকল্প কৌশলের মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সূত্র: আউটলুক ইন্ডিয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নরসিংদীতে শিয়ালের কামড়ে নারীসহ ১০ জন আহত, আতঙ্ক বিরাজমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ পি.এম


নরসিংদীতে শিয়ালের কামড়ে নারীসহ ১০ জন আহত, আতঙ্ক বিরাজমান

নরসিংদীর পলাশে পৃথক ঘটনার মধ্যে শিয়ালের কামড়ে ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার আটিয়াগাঁও এবং ডাঙ্গা ইউনিয়নের খিলপাড়া-কান্দাপাড়া ও কামতাল গ্রামে এই ঘটনাগুলো ঘটে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন মো. সাইফুল্লাহ (৪০), হেলেনা বেগম (৪৫), হাফিজা বেগম (৬০), খালেক মিয়া (৪০), মো. আল আমিন (৪০), তাসলিমা বেগম (৪৮), আনোয়ারা বেগম (৪৫), শাহিদা বেগম (৪৩), আবদুস সাত্তার (৬৫) এবং সালেহা বেগম (৪৫)। তারা ঘোড়াশাল পৌর এলাকা ও ডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা।

আহত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত আটিয়াগাঁও, খিলপাড়া ও কামতাল এলাকায় একাধিক শিয়াল একের পর এক মানুষকে কামড়াতে শুরু করে। তবে শিয়ালের সংখ্যা কত ছিল, তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেননি। ভোরে কেউ ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে যাচ্ছিলেন, আবার সকালে কেউ বাড়ির আঙিনা বা আশপাশে কাজ করছিলেন। এ সময় তাদের ওপর শিয়ালগুলো হামলা চালায়।

আহত মো. আল আমিন জানান, ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার পথে হঠাৎ একটি শিয়াল তার পায়ে কামড় দেয়। আশপাশের লোকজন ছুটে এলে শিয়ালটি পালিয়ে যায়। পরে তিনি নরসিংদী সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন এবং টিকা গ্রহণ করেন। তিনি জানান, এলাকায় শিয়ালের আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আটিয়াগাঁওয়ের বাসিন্দা এইচ এম কাউসার হোসেন বলেন, ভোরে ওই গ্রামের খালেক মিয়া ও আরো দুই নারীকে একটি শিয়াল কামড় দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন শিয়ালটিকে ধাওয়া করে গ্রামের একটি বাড়ির পাশের গর্তে ফেলে হত্যা করেন।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিপাশা মাসুক জানান, শিয়ালের কামড়ে আহত ১০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালের র‍্যাবিস ভ্যাকসিন কেন্দ্র থেকে তাদের প্রত্যেককে টিকা দেওয়া হয়েছে। পরে তারা বাড়ি ফিরে গেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা বঞ্চিত করে গুলিবর্ষণ দুঃখজনক ও নিন্দনীয়: বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ পি.এম


গাজীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা বঞ্চিত করে গুলিবর্ষণ দুঃখজনক ও নিন্দনীয়: বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি

গাজীপুরের শ্রীপুরে আন্দোলনরত সি স্টেজ (বিডি) লিমিটেডের শ্রমিকদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগ ও গুলির অভিযোগে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, "শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে তাঁদের দাবি আদায়ের আন্দোলনে আহত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।"

তিনি আরও বলেন, "ঊর্ধ্বমুখী দ্রব্যমূল্যের বাজারে শ্রমজীবী মানুষের জীবন এমনিতেই দুর্বিষহ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সামলাতে যেখানে তাঁদের প্রতিদিন হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে মাসের পর মাস বেতন আটকে রাখা শ্রমিকদের পরিবারকে আরও গভীর সংকটে ঠেলে দেয়।" গাজীপুরের শ্রীপুরে সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা না দেওয়ায় শ্রমিকেরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। মহাসচিব বলেন, "তাদের ন্যায্য পাওনা সময়মতো পরিশোধ করা হলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।"

মহাসচিব গত ১৫ অক্টোবর বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের সময় পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলি ছোড়ার ফলে ৯ জন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, "শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে ব্যর্থ কারখানা কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হলে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হবে।" আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনের নামে শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলা যায় না। তিনি সরকারের প্রতি সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেন, "যদি সরকার মানুষের ন্যায্য অধিকার রক্ষা করতে না পারে, তবে শ্রমিকবান্ধবতার প্রতিশ্রুতি প্রশ্নবিদ্ধ হবে।"

মাওলানা মুসা বিন ইযহার অবিলম্বে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা, গুলি ছোড়ার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

একই সঙ্গে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৭ পি.এম


নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ : সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম মন্তব্য করেছেন যে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবতা, সাম্য এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার আদর্শ নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি উল্লেখ করেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধুমাত্র বিদ্রোহের কবি নন, বরং তিনি সাম্য, সম্প্রীতি, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের কবিও। তাঁর সাহিত্য ও সংগীত বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সমৃদ্ধ করেছে। নজরুলের জীবনদর্শন এবং সৃষ্টিকর্ম যথাযথভাবে চর্চা করে সমাজে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘আবর্তনের নিবেদন : চিরদিনের নজরুল’ শীর্ষক এই আয়োজনে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত, জীবনদর্শন এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে কবির সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে তাঁর মানবতাবাদী এবং অসাম্প্রদায়িক দর্শন তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা, গান এবং অন্যান্য সাহিত্যকর্মে মানুষের মুক্তি, অধিকার এবং মর্যাদার কথা বারবার উঠে এসেছে। অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান আজও সমান প্রাসঙ্গিক। সমাজে যখনই বিভেদ, অসহিষ্ণুতা এবং বৈষম্য দেখা দেয়, তখন নজরুলের সাহিত্য মানুষকে ঐক্য এবং সম্প্রীতির পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়।

তিনি বলেন, নজরুলের সৃষ্টিকর্ম কোনো নির্দিষ্ট সময় বা প্রজন্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর সাহিত্য এবং সংগীতের আবেদন সর্বকালীন। নতুন প্রজন্মকে নজরুলের রচনা পড়তে, তাঁর গান শুনতে এবং তাঁর জীবনসংগ্রাম সম্পর্কে জানতে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে নজরুলচর্চা আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, একটি জাতির আত্মপরিচয় নির্মাণে তাঁর সাহিত্য এবং সংস্কৃতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাঙালির ভাষা, সাহিত্য এবং সংগীতের ঐতিহ্যকে ধারণ করে জাতীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্ম গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, নজরুল তাঁর লেখনী এবং সংগীতের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বিভেদ দূর করে ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। ধর্ম, বর্ণ এবং শ্রেণির বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়ার যে শিক্ষা তিনি দিয়েছেন, তা সমাজে শান্তি এবং সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নজরুলের এই দর্শনকে কেবল আলোচনা সভা কিংবা আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন জীবনেও ধারণ করা উচিত।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নজরুলের সাহিত্যকর্মের যথাযথ সংরক্ষণ, গবেষণা এবং প্রচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁর অপ্রচলিত গান, কবিতা এবং অন্যান্য রচনা সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সহজলভ্য করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আরও উদ্যোগী হতে হবে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরুলের সৃষ্টিকর্ম দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগও কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এসব সংগঠন নিয়মিত আলোচনা সভা, সংগীতানুষ্ঠান, আবৃত্তি এবং গবেষণামূলক আয়োজনের মাধ্যমে জাতীয় কবির জীবন এবং কর্ম সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়াতে পারে। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মের মধ্যে সাহিত্য এবং সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগ তৈরিতেও সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য এবং সংগীতের বহুমাত্রিকতা তুলে ধরে বলেন, তাঁর রচনায় একদিকে যেমন প্রতিবাদ এবং মুক্তির আকাক্সক্ষা রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে প্রেম, প্রকৃতি, আধ্যাত্মিকতা এবং মানবিক অনুভূতির গভীর প্রকাশ। বাংলা সাহিত্য এবং সংগীতের বিকাশে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি এবং অন্যান্য পরিবেশনার মাধ্যমে জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান জাতীয় কবির সাহিত্য এবং সংগীতের ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং তাঁর আদর্শকে সমকালীন সমাজে প্রাসঙ্গিক করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকদের প্রত্যাশা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাতিয়ায় ৮০ লাখ টাকার ইলিশে জেলেকে স্বর্ণের আংটি উপহার আড়তদারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৭ পি.এম


হাতিয়ায় ৮০ লাখ টাকার ইলিশে জেলেকে স্বর্ণের আংটি উপহার আড়তদারের

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় এক মৌসুমে ৮০ লাখ টাকার ইলিশ ধরার জন্য জেলে মো. সামসুদ্দিনকে স্বর্ণের আংটি উপহার দিয়েছেন মো. সালাউদ্দিন নামে এক আড়তদার। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের চর হেয়ার গ্রামে গিয়ে আড়তদার সামসুদ্দিনের হাতে আংটি পরিয়ে দেন।

সামসুদ্দিন জাহাজমারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর হেয়ার গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ‘এমবি নিহা-১’ নামের মাছ ধরার নৌকার মালিক এবং মাঝি। তার নেতৃত্বে ২০ জন মাঝিমাল্লা মিলে এ মৌসুমে সমুদ্র থেকে ৮০ লাখ টাকার ইলিশ ধরেছেন। ধরা সব ইলিশ চেয়ারম্যান ঘাটের সাদিয়া ফিশ এজেন্সির স্বত্বাধিকারী আড়তদার মো. সালাউদ্দিনের আড়তে বিক্রি করেছেন তারা।

জেলে সামসুদ্দিন বলেন, “ইলিশের মৌসুমে আমরা সবাই মিলে অনেক পরিশ্রম করেছি। সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। তারপরও আল্লাহর রহমতে ভালো মাছ পেয়েছি। আমাদের পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে আড়তদার আমাকে স্বর্ণের আংটি উপহার দিয়েছেন। এতে আমি খুব খুশি হয়েছি। এই ভালোবাসা আগামী দিনেও আরো উৎসাহ নিয়ে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।”

আড়তদার মো. সালাউদ্দিন বলেন, মাঝি সামসুদ্দিন ও তার দলের জেলেরা এ মৌসুমে ভালো পরিমাণ ইলিশ ধরেছেন। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা এ সাফল্য অর্জন করেছেন। তাদের পরিশ্রমের স্বীকৃতি দিতেই সামসুদ্দিনকে স্বর্ণের আংটি উপহার দিয়েছেন তিনি। জেলেরা অনেক কষ্ট করে মাছ ধরে দেশের মৎস্য খাতে অবদান রাখেন। তাদের উৎসাহিত করতে পারলে ভালো লাগে।

সাদিয়া ফিশ এজেন্সির ব্যবস্থাপক কুতুব উদ্দিন বলেন, প্রতিষ্ঠানের মালিক জেলেদের উৎসাহিত করতে এ ধরনের উপহার দিয়েছেন। সামসুদ্দিনের নৌকার জেলেরা এ মৌসুমে ভালো মাছ পেয়েছেন, যা নিঃসন্দেহে আনন্দের। একজন মাঝির পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে আড়তদারের এমন উদ্যোগ অন্য জেলে ও মাঝিদেরও উৎসাহিত করবে। এতে তাদের ভালো কাজ করার আগ্রহ বাড়বে।

নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, জেলেরা দেশের মৎস্যসম্পদ আহরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাদের পরিশ্রম ও সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়া ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে ইলিশের উৎপাদন ও মৎস্যসম্পদের স্থায়িত্ব বজায় রাখতে সবাইকে মৎস্য সংরক্ষণ আইন মেনে চলতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%