শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৩৭ পি.এম
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ : সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম মন্তব্য করেছেন যে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবতা, সাম্য এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার আদর্শ নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধুমাত্র বিদ্রোহের কবি নন, বরং তিনি সাম্য, সম্প্রীতি, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের কবিও। তাঁর সাহিত্য ও সংগীত বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সমৃদ্ধ করেছে। নজরুলের জীবনদর্শন এবং সৃষ্টিকর্ম যথাযথভাবে চর্চা করে সমাজে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘আবর্তনের নিবেদন : চিরদিনের নজরুল’ শীর্ষক এই আয়োজনে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত, জীবনদর্শন এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে কবির সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে তাঁর মানবতাবাদী এবং অসাম্প্রদায়িক দর্শন তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা, গান এবং অন্যান্য সাহিত্যকর্মে মানুষের মুক্তি, অধিকার এবং মর্যাদার কথা বারবার উঠে এসেছে। অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান আজও সমান প্রাসঙ্গিক। সমাজে যখনই বিভেদ, অসহিষ্ণুতা এবং বৈষম্য দেখা দেয়, তখন নজরুলের সাহিত্য মানুষকে ঐক্য এবং সম্প্রীতির পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়।
তিনি বলেন, নজরুলের সৃষ্টিকর্ম কোনো নির্দিষ্ট সময় বা প্রজন্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর সাহিত্য এবং সংগীতের আবেদন সর্বকালীন। নতুন প্রজন্মকে নজরুলের রচনা পড়তে, তাঁর গান শুনতে এবং তাঁর জীবনসংগ্রাম সম্পর্কে জানতে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে নজরুলচর্চা আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, একটি জাতির আত্মপরিচয় নির্মাণে তাঁর সাহিত্য এবং সংস্কৃতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাঙালির ভাষা, সাহিত্য এবং সংগীতের ঐতিহ্যকে ধারণ করে জাতীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্ম গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, নজরুল তাঁর লেখনী এবং সংগীতের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বিভেদ দূর করে ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। ধর্ম, বর্ণ এবং শ্রেণির বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়ার যে শিক্ষা তিনি দিয়েছেন, তা সমাজে শান্তি এবং সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নজরুলের এই দর্শনকে কেবল আলোচনা সভা কিংবা আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন জীবনেও ধারণ করা উচিত।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নজরুলের সাহিত্যকর্মের যথাযথ সংরক্ষণ, গবেষণা এবং প্রচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁর অপ্রচলিত গান, কবিতা এবং অন্যান্য রচনা সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সহজলভ্য করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আরও উদ্যোগী হতে হবে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরুলের সৃষ্টিকর্ম দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগও কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এসব সংগঠন নিয়মিত আলোচনা সভা, সংগীতানুষ্ঠান, আবৃত্তি এবং গবেষণামূলক আয়োজনের মাধ্যমে জাতীয় কবির জীবন এবং কর্ম সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়াতে পারে। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মের মধ্যে সাহিত্য এবং সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগ তৈরিতেও সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য এবং সংগীতের বহুমাত্রিকতা তুলে ধরে বলেন, তাঁর রচনায় একদিকে যেমন প্রতিবাদ এবং মুক্তির আকাক্সক্ষা রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে প্রেম, প্রকৃতি, আধ্যাত্মিকতা এবং মানবিক অনুভূতির গভীর প্রকাশ। বাংলা সাহিত্য এবং সংগীতের বিকাশে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি এবং অন্যান্য পরিবেশনার মাধ্যমে জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান জাতীয় কবির সাহিত্য এবং সংগীতের ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং তাঁর আদর্শকে সমকালীন সমাজে প্রাসঙ্গিক করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকদের প্রত্যাশা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় এক মৌসুমে ৮০ লাখ টাকার ইলিশ ধরার জন্য জেলে মো. সামসুদ্দিনকে স্বর্ণের আংটি উপহার দিয়েছেন মো. সালাউদ্দিন নামে এক আড়তদার। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের চর হেয়ার গ্রামে গিয়ে আড়তদার সামসুদ্দিনের হাতে আংটি পরিয়ে দেন।
সামসুদ্দিন জাহাজমারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর হেয়ার গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ‘এমবি নিহা-১’ নামের মাছ ধরার নৌকার মালিক এবং মাঝি। তার নেতৃত্বে ২০ জন মাঝিমাল্লা মিলে এ মৌসুমে সমুদ্র থেকে ৮০ লাখ টাকার ইলিশ ধরেছেন। ধরা সব ইলিশ চেয়ারম্যান ঘাটের সাদিয়া ফিশ এজেন্সির স্বত্বাধিকারী আড়তদার মো. সালাউদ্দিনের আড়তে বিক্রি করেছেন তারা।
জেলে সামসুদ্দিন বলেন, “ইলিশের মৌসুমে আমরা সবাই মিলে অনেক পরিশ্রম করেছি। সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। তারপরও আল্লাহর রহমতে ভালো মাছ পেয়েছি। আমাদের পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে আড়তদার আমাকে স্বর্ণের আংটি উপহার দিয়েছেন। এতে আমি খুব খুশি হয়েছি। এই ভালোবাসা আগামী দিনেও আরো উৎসাহ নিয়ে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।”
আড়তদার মো. সালাউদ্দিন বলেন, মাঝি সামসুদ্দিন ও তার দলের জেলেরা এ মৌসুমে ভালো পরিমাণ ইলিশ ধরেছেন। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা এ সাফল্য অর্জন করেছেন। তাদের পরিশ্রমের স্বীকৃতি দিতেই সামসুদ্দিনকে স্বর্ণের আংটি উপহার দিয়েছেন তিনি। জেলেরা অনেক কষ্ট করে মাছ ধরে দেশের মৎস্য খাতে অবদান রাখেন। তাদের উৎসাহিত করতে পারলে ভালো লাগে।
সাদিয়া ফিশ এজেন্সির ব্যবস্থাপক কুতুব উদ্দিন বলেন, প্রতিষ্ঠানের মালিক জেলেদের উৎসাহিত করতে এ ধরনের উপহার দিয়েছেন। সামসুদ্দিনের নৌকার জেলেরা এ মৌসুমে ভালো মাছ পেয়েছেন, যা নিঃসন্দেহে আনন্দের। একজন মাঝির পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে আড়তদারের এমন উদ্যোগ অন্য জেলে ও মাঝিদেরও উৎসাহিত করবে। এতে তাদের ভালো কাজ করার আগ্রহ বাড়বে।
নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, জেলেরা দেশের মৎস্যসম্পদ আহরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাদের পরিশ্রম ও সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়া ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে ইলিশের উৎপাদন ও মৎস্যসম্পদের স্থায়িত্ব বজায় রাখতে সবাইকে মৎস্য সংরক্ষণ আইন মেনে চলতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের মন্তব্য করেছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে তারেক রহমানকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য এ দেশের মানুষ জীবন দেয়নি। বাংলাদেশে বসে নতুন করে কাউকে স্বৈরাচারী হতে দেব না।’
শুক্রবার বিকেলে গাইবান্ধায় এক সমাবেশে তিনি এই কথা বলেন।
হাদি হত্যাসহ জুলাই, শাপলা চত্বর ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গাইবান্ধা পৌর পার্কের জুলাই-৩৬ স্মৃতিস্তম্ভে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন জাবের।
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কথা শুনলেই একটি পক্ষের গাজ্বলে। তারা মনে করে, ১৭ বছর পর লন্ডন ও ভারত থেকে তাদের ফিরিয়ে এনে মানুষ জোর করে ক্ষমতায় বসিয়েছে। কেউ আবার ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম বা গুম-খুনের রাজনীতি শুরু করতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তাদের দিল্লির টিকিট কেটে প্রস্তুত রাখতে হবে।’
হাদি হত্যার বিচার প্রসঙ্গে জাবের অভিযোগ করেন, ‘এ মামলার আসামিরা ভারতে পালিয়ে থাকলেও তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।’ তিনি উল্লেখ করেন, বিচার দাবিতে যখন তারা সারা দেশে কর্মসূচি পালন করছেন, তখন আওয়ামী লীগ সরকারের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা জুলাই যোদ্ধাদের হুমকি দিচ্ছেন। এসব ঘটনায় বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দিকে যথাযথ নজর দিচ্ছে না। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতাকারী এবং আন্দোলনকারীদের হত্যা ও পঙ্গুত্বের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কেউ কেউ পদোন্নতি পাচ্ছেন। অন্যদিকে, নিজ দলের দীর্ঘদিনের কর্মীদের সরিয়ে অন্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে। এসব সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না।
দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট থাকলেও সরকার সেদিকে নজর দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন ইনকিলাব মঞ্চের এই নেতা। তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর অনেক প্রয়োজনীয় বিষয় দেখতে পাচ্ছে না।
সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, সংগঠনটির সদস্য সাফিন ও সাব্বির এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদ সজলের মা শাহানা প্রমুখ।
এর আগে রংপুর থেকে পীরগঞ্জ হয়ে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি গাইবান্ধায় পৌঁছান তিনি। পরে কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাইবান্ধা শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন অংশগ্রহণকারীরা।
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৭৩ বছর পর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের (WBG) বোর্ড অব গভর্নরসের আগামী বছরের জন্য চেয়ারপারসন বা সভাপতি হিসেবে পাকিস্তান নির্বাচিত হয়েছে। ১৯৫৩ সালের পর এই প্রথম দেশটি ঐতিহাসিক এই মাইলফলক অর্জন করল।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলমান ২০২৬ সালের বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বার্ষিক সাধারণ সভার প্লেনারী অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এই নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে পাকিস্তান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ এবং উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনায় সরাসরি অবদান রাখার সুযোগ পাবে। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ ত্বরান্বিত করারও সুযোগ সৃষ্টি হবে। ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপে পাকিস্তানের গভর্নর আহাদ খান চিমা এই দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
বর্তমানে পাকিস্তান আইএমএফ-এর ৭ বিলিয়ন ডলারের এক্সটেনডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (EFF) এবং ১.৪ বিলিয়ন ডলারের রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (RSF)-এর আওতায় আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাসমূহের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই নতুন দায়িত্ব অর্জনের ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোরালো কণ্ঠস্বর তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: ডন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় (১৬ অক্টোবর) রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানাধীন রিভার সিটি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাহবুব হাসান জানান, তিনি রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার উত্তর বালিয়া এলাকার বাসিন্দা।
তাঁর দাবি, কাঠালবাড়িয়া এলাকার মোসাঃ আফরোজা খাতুন, তাঁর স্বামী শহীদুল ইসলাম ও ছেলে তানিমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা গত ১০ দিন ধরে তাঁর ক্রয়কৃত পৌনে তিন শতক জমি এবং ওই জমির ওপর নির্মিত আটটি দোকানঘর জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও অভিযোগ করেন, চলতি মাসের ১০ অক্টোবর ২৫ থেকে ৩০ জন লোক নিয়ে তাঁর জমি ও দোকানঘর দখলের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় তিনি আইনের আশ্রয় নেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় পিটিশন মামলা নং ৩৪৩পি/২০২৬ দায়ের করা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার এবং সম্পত্তিতে কোনো ধরনের কার্যক্রম না চালানোর বিষয়ে সতর্ক করে।
মাহবুব হাসানের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনা ও পুলিশের সতর্কতা সত্ত্বেও গত ১৪ অক্টোবর প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর বসতঘর ও দোকানের তালা ভেঙে নতুন তালা লাগিয়ে দেন। একই সঙ্গে তাঁর লাগানো সাইনবোর্ড ভাঙচুর করা হয়। এ সময় বাড়িতে বসবাসরত শিশুসহ ছয়জনকে আটকে রাখা এবং খাবার পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাঁদের উদ্ধার করা হয় বলে জানান মাহবুব হাসান।
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে তাঁকে, তাঁর পরিবারের সদস্যদের এবং বাড়ি ও দোকানের ভাড়াটিয়াদের প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে। জমি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, জমি ক্রয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মাহবুব হাসান নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও ভূমিমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আফরোজা খাতুন, শহীদুল ইসলাম ও তানিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।#
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ