ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মিত্র হিজবুল্লাহ'র লেবানন, গাজা'কে বিপদে রেখে শান্তি আলোচনায় ইরান?


মিত্র হিজবুল্লাহ

পশ্চিমা শক্তির গোলামী করতে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম রাষ্ট্রগুলো তাদের নিজেদের মুসলিম নামের ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছে এ কথা আজকে বলা খুব বেশি বলা হবে না। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের স্কুলের কোমলমতি শিশুরা যখন রক্তাক্ত হয়ে নিহত হয়, শত শত ইরানি যখন নিহত হয়, যখন ফিলিস্তিনে যুগের পর যুগ অসংখ্য নারী-পুরুষ শিশু ধ্বংসস্ত স্তুপের নিচে চাপা পড়ে মারা যায় বিশেষ করে বিগত কয়েক মাসে ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নারী ও শিশু ধ্বংসস্তুপ এর নিচে চাপা পড়ে মারা যায়, কিংবা যখন ইরান ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় তখন মক্কা, মদিনার মত পবিত্র স্থানগুলোকে বুকে ধারণকারী এবং সংলগ্ন সৌভাগ্যবান আরবের মুসলিম রাষ্ট্রগুলো তার বিরুদ্ধে শুধু চুপ করেই থাকেনি বরং নির্যাতিত ফিলিস্তিনি, ইরানি কিংবা লেবানিজদের পক্ষে কথা বলা কিংবা ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা বরং তারা এসব রাষ্ট্র ধ্বংসের জন্য মুসলিম বিশ্বের প্রকাশ্য দুশমন ইজরায়েল ও আমেরিকা সহ বিধর্মী পশ্চিমা শক্তিগুলোকে নিজেদের মাটিতে জায়গা দিয়ে সামরিক ঘাঁটি দিয়ে সাহায্য করছে যাতে তারা মুসলিম বিশ্বের উদীয়মান সাহসী শক্তিগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। শুধু তাই নয়, ইরানকে ধ্বংস করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পাশাপাশি কিছু আরব দেশও ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেয়।

এমন সময় গোটা মুসলিম বিশ্বের পক্ষে পতাকা হাতে নিয়ে একাই বুক চিতিয়ে খালিদ বিন ওয়ালিদ এর মত, সাহাবী হানজালার মত, হযরত ওমর(রাঃ) কিংবা হযরত আলী(রাঃ)'র মত সাহস ও শক্তি নিয়ে প্রতিরোধশক্তিতে জেগে ওঠা একটি মুসলিম রাষ্ট্রের নাম হল ইরান। যাকে এই মুহূর্তে পশ্চিমা সমগ্র সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে ভয়ংকর প্রতিরোধশক্তি ও সক্ষমতার কারণে গোটা মুসলিম বিশ্ব এই ইরানকে মুসলিম বিশ্বের প্রতিরোধ শক্তির একটি বিস্ময়কর ও আল্লাহর সাহায্য প্রাপ্ত রাষ্ট্রের উদাহরণ হিসেবে দেখছে।

কিন্তু যুদ্ধের মাঝে ইরানের কঠোর প্রতিরোধের কারণে কঠিন বিপর্যয়ের মুখে থাকা পশ্চিমাদের  আহ্বানে যুদ্ধ বিরতির নামে থেমে গিয়ে ইরান কি সঠিক কাজ করলো? এমন প্রশ্ন আশা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কারণ যে হিজবুল্লাহ ইরানের অক্ষশক্তি হিসেবে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত মিত্র, এবারও তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেই হিজবুল্লাহ কিংবা লেবানন ধ্বংসে মরিয়া হয়ে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। একের পর এক হিজবুল্লার ঘাটি ধ্বংস করে লেবানন দখলের চেষ্টা করছে, যেভাবে ইহুদিবাদী ইসরাইল ফিলিস্তিনকে ধ্বংস করে ক্রমাগত নিজেদের গ্রেটার ইসরায়েল রাষ্ট্রের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের এমন অতি গুরুত্বপূর্ণ সময় যখন ইহুদীবাদী শক্তিকে ধ্বংস করে মুসলিম বিশ্বকে বাঁচানোর পথে একটি শক্ত প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে ইরান ঠিক সেই সময় পশ্চিমাদের যুদ্ধ বিরতির কৌশলের ফাঁদে পড়ে চুপ থাকার কারণে ইসরাইল অনবরত লেবানন ও ফিলিস্তিন দখলের মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে ইরানের কি করা উচিত তা ইরানি কর্তৃপক্ষই ভালো জানবে। তবে প্রশ্ন হল, তারা দীর্ঘদিন থেকে যে প্রতিরোধশক্তি হিসেবে পরিচিত মুসলিম মিত্রদের পাশে ছিল, যারা ইরানে ইসরায়েল-আমেরিকার হামলার পর নিজেদের জীবন বাজি রেখে ইরানের পক্ষে যুদ্ধে নামার কারণে আজ ধ্বংসের পথে। সেই হিজবুল্লাহর লেবানন কিংবা চিরকাল নির্যাতিত ফিলিস্তিন পুরোটাই দখলে নেওয়ার জন্য যখন চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরাইল তখন যুদ্ধ বিরতি বা আলোচনার নামে কেন ইরান চুপ হয়ে গেল?

কেন ইসরাইলকে থামাতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে না ইরান? পশ্চিমাদের যুদ্ধ বিরতির কৌশলকে কি তারা অনুমান করতে পারছে?
কারণ যখন যুদ্ধ বিরতি চলছে ঠিক তখনই ইরানের ওই মিত্র শক্তি হিজবুল্লাহ তথা লেবানন এবং নির্যাতিত মুসলিম বিশ্বের উদাহরণ ফিলিস্তিনের গাজা আরো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে, মারা যাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। তখন এই উদীয়মান শক্তির শক্তিমত্তা কেন হঠাৎ থেমে গেল?
যুদ্ধে জয়ের মূহুর্তে ইসরায়েল আমেরিকাকে পরাস্ত না করে বরং তাদের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ বিরতির নামে চুপ করে থেকে নিজেদের অক্ষমিত্র লেবানন ও ফিলিস্তিনিদের কে রক্ষায় কি ইরান ভূমিকা রাখবে না নাকি তারাও কৌশল করছে মধ্যপ্রাচ্যের নামধারী মুসলিম রাষ্ট্র গুলোর মত? বিশ্বের নির্যাতিত মুসলিমদের মনে এমন প্রশ্ন আসা অস্বাভাবিক কি? যখন পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে ইরান প্রতিরোধশক্তিতে সিংহের মতো দাঁড়িয়ে গেছে সেই সময় বিজয়ের পথে হঠাৎ থেমে যাওয়াটা কি বুদ্ধিমানের পরিচয় নাকি ফিলিস্তিন, লেবানন ধ্বংসের নীল নকশা-সমালোচকদের মনে এমন প্রশ্নের উদ্রেক হওয়াটা অস্বাভাবিক হবে কি?

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে গত দুই দশক ধরে একটি নাম বারবার উচ্চারিত হয়েছে—ইরান। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগ্রাম, লেবাননের হিজবুল্লাহর মিত্র, পশ্চিমা আধিপত্যবিরোধী অবস্থান এবং ইসরাইলবিরোধী রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে তেহরান নিজেকে মুসলিম বিশ্বের প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে এবং অন্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলো কিছু না করলেও ইরান সেই হিসেবে অনেক কিছু করে গেছে, এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। কিন্তু ইরানকে সহায়তাকারী হওয়ায় এই মুহূর্তে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় পড়া হিজবুল্লার লেবানন যখন আগ্রাসী শক্তির আক্রমণের শিকার এবং বিপদগ্রস্ত কিংবা ফিলিস্তিনের গাজা যখন ক্রমাগত ভূখণ্ড হারাচ্ছে তখন ইরানের মিত্রতার সেই বাস্তবতা এখন কি প্রশ্নের মুখে পড়েছে?

আজ সেই পরীক্ষার মুখোমুখি ইরান?

গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী জনগণ অসম শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে লেবানন ক্রমাগত সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে। হিজবুল্লাহ, যাকে বহু বছর ধরে ইরানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে দেখা হয়েছে, তার ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হচ্ছে, ইসরাইলের বর্বরতা কিংবা মুসলিম বিশ্ব ধ্বংসের কর্মকাণ্ড নয়; বরং ইসরাইল কর্তৃক হিজবুল্লাহ কিংবা লেবানন ধ্বংসের, অন্যদিকে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড হারানোর মুহূর্তে ইরানের চুপ করে থাকা অবস্থান।

সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে ইরান দেখিয়েছে যে তারা কোনো দুর্বল রাষ্ট্র নয়। কঠোর নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক চাপ এবং সামরিক হুমকির মধ্যেও তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধরে রেখেছে। শুধু তাই নয়, দশকের পর দশক ধরে বিশ্ব শাসন করা পরাশক্তি শাসক গোষ্ঠীকে একক রাষ্ট্র হিসেবে ইরান যেভাবে প্রতিরোধ করার সক্ষমতা দেখিয়েছে তা অকল্পনীয়। এর মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের একটি বড় অংশের মধ্যে ধারণা জন্মেছে যে, ইরান এখন মুসলিম বিশ্বের আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হিসাবে ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।
কিন্তু যদি সেই সক্ষমতা বাস্তব হয়, তাহলে প্রশ্নও বাস্তব-এখন কি সেই শক্তি হারিয়ে ফেলেছে?

যে হিজবুল্লাহ বহু বছর ধরে ইরানের কৌশলগত মিত্র হিসেবে পরিচিত, তাদের সবচেয়ে সংকটময় সময়ে তেহরানের দৃশ্যমান ভূমিকা কোথায়-ইরান তাদের রক্ষা করতে অগ্রসর হওয়ার পরিবর্তে পশ্চিমাদের আলোচনার টেবিলে কেন? যে ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়ানোর দাবিতে ইরানকে অসংখ্য বক্তব্য দিতে দেখা গেছে, সেই ফিলিস্তিন যখন অস্তিত্বের লড়াই করছে, তখন সেই সমর্থনে ইরানের কার্যকর রূপ কোথায়?

ইরানের সমর্থকেরা বলবেন, রাষ্ট্র পরিচালনা আবেগ দিয়ে নয়, হিসাব-নিকাশ দিয়ে চলে। তারা বলবেন, প্রত্যক্ষ যুদ্ধ মানেই সমাধান নয়। কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্নও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
যদি প্রতিরোধের নেতৃত্বের দাবি করা হয়, তবে প্রতিরোধের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে নেতৃত্বের উপস্থিতিও দৃশ্যমান হতে হবে। যদি মিত্রতার কথা বলা হয়, তবে সেই মিত্রতার মূল্যও সংকটের সময় পরিশোধ করতে হয়।

আজ অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে—কেন ইরান যুদ্ধ জয়ের এমন এক সময়ে পশ্চিমাদের পাতা ফাঁদ যুদ্ধ বিরতি কিংবা অপেক্ষার নীতি অনুসরণ করছে, যখন গাজা ও লেবাননের মানুষ ইরানের আরও দৃশ্যমান সমর্থন প্রত্যাশা করছে? কেন যুদ্ধক্ষেত্রে শক্তির প্রদর্শনের পরিবর্তে কূটনৈতিক মধ্যস্থতা ও সময়ক্ষেপণের পথকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে? কেন এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হলো, যেখানে ইসরাইলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের কঠোর বক্তব্য সত্ত্বেও গাজা ও লেবাননের বাস্তবতা পরিবর্তিত হচ্ছে না?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়তো তেহরানের কাছে আছে। কিন্তু সমস্যাটি হলো, রাজনীতিতে অনেক সময় উত্তর নয়, দৃশ্যমান কর্মকাণ্ডই মানুষের বিশ্বাস নির্ধারণ করে।

গাজার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বসে থাকা কোনো ফিলিস্তিনি শিশু কিংবা সীমান্ত অঞ্চলের আতঙ্কে থাকা কোনো লেবানিজ পরিবারের কাছে বিগত ৪০ দিনের যুদ্ধ অনেক আশার আলো দেখিয়েছিল যে, এবার তারা সেই মধ্যপ্রাচ্যের সিংহের গর্জনের সহায়তায় স্বাধীনভাবে মাথা তুলে বাঁচতে পারবে। ভূ-রাজনৈতিক তত্ত্বের মূল্য খুব কম। তারা দেখতে চায়, যারা বছরের পর বছর তাদের সংগ্রামের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে, তারা সংকটের সময় কতটা পাশে দাঁড়ায়।

ইতিহাসে মিত্রতা শুধু যৌথ শত্রুর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে টিকে থাকে না; মিত্রতা টিকে থাকে কঠিন সময়ে পারস্পরিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে। আর সেই কারণেই আজকের মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্নটি হচ্ছে—প্রতিরোধের ভাষা কি বাস্তব শক্তিতে রূপ নেবে, নাকি তা কেবল রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবেই থেকে যাবে?

তেহরান হয়তো এই নীরবতাকে কৌশল বলে ব্যাখ্যা করবে। কিন্তু ইতিহাসের আদালত সবসময় কৌশলের ভাষা বোঝে না; ইতিহাস ফলাফল দেখে। ইতিহাস দেখে কে কত বড় বক্তব্য দিয়েছে তা নয়, বরং সংকটের মুহূর্তে কে কী করেছে। সুতরাং আজকের প্রশ্নটি কেবল ইসরাইলকে নিয়ে নয়। প্রশ্নটি তেহরানকেও ঘিরে। কারণ গত ৪০ দিনের ভয়াবহ যুদ্ধে ইরান তার প্রতিরোধশক্তি প্রমাণ করার মাধ্যমে মুসলমানদের মনে আশার বীজ বপন করেছে।

যদি ইরান সত্যিই মুসলিম বিশ্বের প্রতিরোধের নেতৃত্ব দাবি করে, তাহলে গাজা ও লেবাননের বর্তমান সংকট সেই দাবির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আর যদি সেই পরীক্ষায় দৃশ্যমান ভূমিকার পরিবর্তে শান্তি পশ্চিমা দের সাথে আলোচনার নামে দীর্ঘ নীরবতা, অপেক্ষা এবং অস্পষ্টতা দেখা যায়, তবে শুধু শত্রুরাই নয়, বন্ধুদের মাঝেও প্রশ্ন উঠবে—প্রতিরোধের পতাকা কি এখনও উঁচু আছে, নাকি তা কেবল বক্তৃতার মঞ্চেই উড়ছে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জন্ম নিবন্ধনে অতিরিক্ত অর্থ দাবী করায় রাজবাড়ীতে ইউনিয়ন পরিষদের ২ জন উদ্যোক্তাকে মোবাইল কোর্টে জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


জন্ম নিবন্ধনে অতিরিক্ত অর্থ দাবী করায়  রাজবাড়ীতে ইউনিয়ন পরিষদের ২ জন  উদ্যোক্তাকে মোবাইল কোর্টে জরিমানা
 
 
 
 
জন্ম নিবন্ধনের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এতে সাধারণ ভূল থেকেই মাসের পর মাস ঘুরতে হচ্ছে সেবাগ্রহিতাদের। এ অভিযোগে রাজবাড়ীর কালুখালীতে জন্ম নিবন্ধনে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা অর্থ দাবী করার অভিযোগে ২ জন উদ্যোক্তাকে মোবাইল কোর্টের অভিযানে জরিমানা করেছে।  
গত মঙ্গলবার (০২ জুন) কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মেজবাহ উদ্দিন উপজেলার মদাপুর ও মৃগী ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে মদাপুর ইউনিয়নের উদ্যোক্তা শাহানা আক্তার ও মৃগী ইউনিয়নের উদ্যোক্তা রইসুল ইসলাম একই ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন সংশোধন করে দেওয়ার বিনিময়ে সরকার নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দাবী করার বিষয়টি হাতে নাতে ধরা পড়ে। 
কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ মোবাইল কোর্টের নিকট তাদের অপরাধ স্বীকার করায় এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে সরকারি কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অপরাধে তাদের প্রত্যেককে দশ হাজার টাকা করে  মোট বিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। অর্থদণ্ড তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।  

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিল পুল্টিকে জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


বিল পুল্টিকে জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের (ডিএনআই) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে বিল পুল্টিকে নিয়োগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বর্তমানে বিল পুল্টি যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গোয়েন্দা কার্যক্রমে তার কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও, ট্রাম্প তাকে দেশের ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রম তদারকির শীর্ষ পদে মনোনীত করেছেন। জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্ব পালন করেন।

গোয়েন্দা প্রধানের পদে বিল পুল্টিকে বেছে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত রাজনৈতিক মিত্রের ওপর আস্থা রেখেছেন।

পুল্টি এর আগে তৎকালীন ফেডারেল রিজার্ভ প্রধান জেরোম এইচ. পাওয়েলকে পদ থেকে সরানোর পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি ট্রাম্পের ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে আবাসন ঋণ (মর্টগেজ) জালিয়াতির অভিযোগও তুলেছিলেন।

গত মাসে গোয়েন্দা প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তুলসী গ্যাবার্ড। তিনি জানান, তার স্বামীর বিরল ধরনের হাড়ের ক্যানসার ধরা পড়ায় পরিবারের দেখাশোনার জন্য তিনি প্রশাসন ছেড়ে যাচ্ছেন। গ্যাবার্ড তার পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, তিনি ৩০ জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে চান। তুলসীর জায়গায় আসছেন বিল পুল্টি।

গত মঙ্গলবার (২ জুন) ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, বিল পুল্টির যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক বিষয় পরিচালনার ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বর্তমানে বাজারের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং ফ্যানি মে ও ফ্রেডি ম্যাকের ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ তদারকির দায়িত্ব পালন করছেন।

ট্রাম্প আরও জানান, নতুন দায়িত্বের পাশাপাশি পুল্টি ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সি (এফএইচএফএ)-এর পরিচালক এবং ফ্যানি মে ও ফ্রেডি ম্যাকের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। এই দুটি সরকারি সমর্থিত সংস্থা বাড়ি কেনা এবং আবাসন ঋণ (মর্টগেজ) ব্যবস্থাকে সহায়তা করে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক দেশের ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করেন। তবে তিনি সরাসরি কোনো গোপন গোয়েন্দা অভিযান পরিচালনা করেন না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:১০ পি.এম


একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন যে, একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া নতুন উপজেলা গঠনের অনুষ্ঠানে এলাকাবাসীর আয়োজনে রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করলেন।

মির্জা ফখরুল বলেছেন, 'আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। একটি মহল চেষ্টা করছে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য।' এজন্য তিনি সকলকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল আরও বলেছেন, 'যেসব কাজ অসমাপ্ত রয়েছে সেগুলো হয়ে যাবে।' তিনি উল্লেখ করেছেন, 'সবচেয়ে বড় জিনিস হচ্ছে আপনাদের নিজেদের তৈরি করতে হবে। দুঃখ হয় যখন শুনি তরুণরা মাদকাসক্ত হচ্ছে। আমাদের এ থেকে মুক্ত হতে হবে। তরুণরা যেন এ থেকে দূরে থাকে। আমাদের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে মাদক থেকে দূরে থাকার জন্য। খেলাধুলার চর্চা করতে হবে। নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে তাহলেই রুহিয়া উপজেলা সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।'

এ অনুষ্ঠানে আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক, পৌর বিএনপি সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ, বিএনপি নেতা মাহেবুল্লাহ আবু নুরসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএসএফকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:১৪ পি.এম


বিএসএফকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ‘পুশইন’ চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের লাগাতার হত্যার বিচার দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যার প্রতিটি ঘটনার জন্য ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। উত্তেজনাপূর্ণ এই সীমান্ত পরিদর্শনে দলটির নেতাকর্মী ছাড়াও স্থানীয় শত শত সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এ সময় ‘এ দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা, ঢাকা’, 'সীমান্ত হত্যা রুখে দিন, চলবে না চলবে না’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সীমান্ত এলাকা।

তিনি বলেন, ‘ভারত খুনি রাষ্ট্র ও বিএসএফ খুনি বাহিনী। তাদের বিচার হতে হবে।’

বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখার কেউ নেই। সেখানে পর্যাপ্ত হাসপাতাল, স্কুল কিংবা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। জীবিকার তাগিদে সীমান্তবাসী কোনো চোরাচালানে জড়ায় না, বরং ভারতীয়রা এই অপকর্ম করে বাংলাদেশের ওপর দোষ চাপায়।’

সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিজিবির পেছনে দেশের ১৮ কোটি মানুষের সমর্থন রয়েছে। বিজিবির হাতে খেলনা পিস্তল দিয়ে সীমান্ত রক্ষা করা যাবে না। তাদের আধুনিক ভারী অস্ত্র, পেট্রোলিং কার দিতে হবে এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা ও বেতন বাড়াতে হবে।’

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিগত দিনের বক্তব্যের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘কোনো বাংলাদেশি নাগরিক অপরাধ করলেও তাকে বিচার ছাড়া সীমান্তে গুলি করে হত্যা করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। সীমান্ত হত্যার প্রতিটি ঘটনার জন্য ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সবশেষে দল-মত নির্বিশেষে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ৭১, ৯০ কিংবা ২৪-এর গণ-আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের এক ইঞ্চি ভূখণ্ড বা সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো আঘাত দেশের মানুষ মেনে নেবে না। রক্ত দিয়ে হলেও দেশের সীমান্ত রক্ষা করা হবে।

এর আগে গত রোববার (৩১ মে) দিনগত রাত থেকে বেনাপোলের বিপরীতে ভারতের হরিদাসপুর সীমান্ত এলাকায় শতাধিক ব্যক্তিকে নিয়ে অবস্থান নেয় বিএসএফ। পরে তাদের সাদীপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবি বাঁধা দেয়। এতে কেউ বাংলাদেশে ঢুকতে পারেনি। সর্বশেষ বিএসএফ মঙ্গলবার রাতে জড়ো করা লোকজন ফিরিয়ে নেয়।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%