১১:১৩ এম
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিসা ‘এইচ-১ বি’ বন্ধ রাখার উদ্যোগ প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নিয়েছে। ‘এইচ-১ বি’ ভিসা কর্মসূচি অন্তত তিন বছরের জন্য স্থগিত রাখার এবং নিয়ম আরও কঠোর করার প্রস্তাব দিয়ে সিনেটে বিল উত্থাপন করেছেন রিপাবলিকান সিনেটর টিম শিহি। এই বিল পাস হলে বিদেশি কর্মী নিয়োগ, গ্রিন কার্ডের সুযোগ, এবং পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য বড় ধাক্কার একটি ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় ‘এইচ-১ বি’ ক্যাটাগরির ভিসা কর্মসূচিতে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থনে রিপাবলিকান সিনেটর টিম শিহি সেনেটে ‘এন্ড এইচ-১বি অ্যাবিউজ অ্যাক্ট’ শীর্ষক একটি বিল উত্থাপন করেছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী তিন বছরের জন্য নতুন কোনো এইচ-১ বি ভিসা ইস্যু করা হবে না। এই সময়কালে, পুরো কর্মসূচিটি পুনর্মূল্যায়ন করা হবে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর শর্তে ভিসা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বিলটির সমর্থকদের দাবি, এইচ-১ বি কর্মসূচি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণের জন্য চালু হলেও বহু প্রতিষ্ঠান কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করার ফলে মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগগুলো কমে যাচ্ছে। সিনেটর টিম শিহির ভাষায়, এই কর্মসূচির অপব্যবহার বন্ধ করে মার্কিন কর্মীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়াই নতুন আইনের উদ্দেশ্য। প্রস্তাবিত বিলে ট্রাম্প প্রশাসনের আগে ঘোষিত প্রতিটি এইচ-১ বি আবেদনের জন্য এক লাখ ডলার ফি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান লটারি পদ্ধতি বাতিল করে বেতনভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। তৃতীয় পক্ষের স্টাফিং এজেন্টের মাধ্যমে নিয়োগ, একাধিক প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে কাজের সুযোগ এবং এইচ-১ বি ভিসাধারীদের গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার বর্তমানে সুবিধাগুলোও সীমিত বা বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া, পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার সুযোগও বন্ধ হতে পারে। শুধু কর্মী ভিসা নয়, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও কঠোর অবস্থান সংক্রান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এই বিলে। অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি কর্মসূচি বাতিল এবং নির্দিষ্ট এক্সচেঞ্জ ভিসাধারীদের কাজের অনুমতি প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ফেডারেল সরকারি সংস্থাগুলোতে অ-অভিবাসী ভিসাধারীদের নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, এসব পরিবর্তন কার্যকর হতে হলে বিলটি প্রথমে সিনেটে, এরপর প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়ে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর পেতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন