১০:২৫ এম
উইঘুর সেন্টার ফর ডেমোক্রেসির সভাপতি দোলকুন ঈসা নাভি পিল্লাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উইঘুর মানবাধিকারকর্মীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি এই প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
ঈসা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, জাতিসংঘে উইঘুরদের অধিকার নিয়ে কথা বলার সময় তিনি চীনের চাপ, নজরদারি এবং তাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা মোকাবেলা করেছেন।
ঈসা আরও অভিযোগ করেন যে, ২০১৭ সালে তাকে জোর করে জাতিসংঘের চত্বর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। পিল্লাইয়ের দায়িত্ব পালনের সময়, বিশেষ করে ২০১২ ও ২০১৩ সালে, জাতিসংঘে প্রবেশ এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে তাকে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল।
আরও পড়ুন: সৌদির ৪ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে রেড অ্যালার্ট জারি
ঈসা দাবি করেন, পিল্লাইয়ের নেতৃত্বাধীন দপ্তর তার এবং অন্যান্য মানবাধিকারকর্মীদের অংশগ্রহণসংক্রান্ত তথ্য চীন সরকারের কাছে তাদের অনুমতি ছাড়া পাঠিয়েছিল। তার মতে, এইভাবে তথ্য প্রকাশ করা ছিল বিশ্বাসের গুরুতর লঙ্ঘন। তিনি এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান।
ঈসা প্রশ্ন করেন, কেন মানবাধিকারকর্মীদের তথ্য চীনের কাছে পাঠানো হয়েছিল এবং এর অনুমতি কে দিয়েছিল। যাদের সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল, তারা কেন তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন, সেই প্রশ্নও তিনি তুলেছেন।
পিল্লাইয়ের অন্য কাজের প্রশংসা করলেও ঈসা বলেন, এসব অর্জন তার দায়িত্ব পালনের সময় উইঘুর অধিকারকর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ মুছে দিতে পারে না। উইঘুরদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় পিল্লাইয়ের কাছ থেকে জোরালো ও স্পষ্ট সমর্থন না পাওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি উইঘুরদের ওপর চালানো নিপীড়নকে গণহত্যা বলে উল্লেখ করেন।
ঈসা জানান, উইঘুরদের অধিকার নিয়ে কাজ করার কারণে তার পরিবারও ভুগতে হয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে চীনের একটি বন্দিশিবিরে তার মায়ের মৃত্যু হয়। তার দুই ভাই এখনো চীনে বন্দি রয়েছেন। ঈসা বলেন, বিষয়টি তার কাছে অত্যন্ত ব্যক্তিগত। চীনের কর্মকাণ্ড তার পরিবারের ওপর কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা বোঝাতেই তিনি এ কথা তুলে ধরেছেন।
আরও পড়ুন: কাসগঞ্জে সন্তানকে দুই লাখে বিক্রি করে অপহরণের নাটক সাজালেন নারী
ঈসার মতে, নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেও কেউ প্রশ্ন ও জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নন। তিনি মানবাধিকার সবার জন্য সমান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, এই অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতিতে উইঘুর জনগণকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন