মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০২ পি.এম
আবহাওয়া অধিদপ্তর বৃষ্টির বিষয়ে বড় ধরনের দুঃসংবাদ জানিয়েছে।
সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই বৃষ্টিভেজা আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদান করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে সারা দেশে দমকা হাওয়া সহ হালকা থেকে মাঝারি এবং কিছু কিছু স্থানে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও পরবর্তী দিনগুলোতে তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে অথবা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম কর্তৃক প্রদত্ত পূর্বাভাসে এই তথ্য উঠে এসেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া সহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসাথে দেশের কিছু কিছু স্থানে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং রংপুর ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া সহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া সহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসাথে রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া সহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসাথে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া সহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসাথে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ঝালকাঠি জেলার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, উন্নয়নকাজে অনিয়ম, অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং বিপুল সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ঝালকাঠিতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকালে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে ঠিকাদারি ও উন্নয়নকাজে প্রভাব বিস্তার করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে ঝালকাঠিতে দায়িত্ব পালনকালে শহিদুল ইসলাম প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে কোনো বক্তব্য বা নথি পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক কিছু ঠিকাদার জানিয়েছেন যে তাহার সকল প্রমাণ আদি আপনারদের কাছে দিব একটু সময় দিতে হবে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শহিদুল ইসলাম স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে নতুন রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে সরকারি উন্নয়নকাজে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।
ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশনের অভিযোগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদারের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঝালকাঠি জেলায় বিভিন্ন উন্নয়নকাজের বিপরীতে শহিদুল ইসলামের কাছে কথিতভাবে ৫ শতাংশ হারে অর্থ দিতে হতো। তাঁর দাবি, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই হার বেড়ে ৭ শতাংশ হয়েছে।
তবে ওই ঠিকাদারের করা এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা এখনো সম্ভব হয়নি। যে কারণে ধারাবাহিক প্রতিবেদনে প্রচার করা হবে। অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণও প্রতিবেদকের হাতে আসেনি তবে অতি দ্রুত ঘুষের লেনদেনের ভিডিও তাহা প্রচার করা হবে।
প্রকল্প পরিচালক হওয়ার পরও অভিযোগ
পরবর্তীতে শহিদুল ইসলাম ‘বরিশাল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের’ প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পাওয়ার পর বিভিন্ন উন্নয়নকাজের অনুমোদন, বাস্তবায়ন ও ঠিকাদারি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠতে থাকে।
কয়েকজন অভিযোগকারীর ভাষ্য, নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে কথিত কমিশনের হার প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত ছিল। প্রকল্প পরিচালক হওয়ার পর সেই হার আরও বেড়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, যারা তুলনামূলক বেশি অর্থ দিতে সম্মত হন, তাঁদের কাজ অগ্রাধিকার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীন ও নথিভিত্তিক যাচাই এই প্রতিবেদনে সম্ভব হয়নি।
ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের অভিযোগ
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, দেশের বিভিন্ন জেলার কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে শহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এই যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রভাবশালী ঠিকাদারি গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নকাজে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে।
তাঁদের ভাষ্য, অতীতে গড়ে ওঠা কথিত প্রভাববলয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরও সক্রিয় রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি নথি বা তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
নামে-বেনামে সম্পদ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ
শহিদুল ইসলাম এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি, ফ্ল্যাটসহ বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন অভিযোগকারী। এমনকি বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, সম্পদ বিবরণী কিংবা সরকারি তদন্তের নথি এই প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
বক্তব্য জানতে ফোন, সাড়া মেলেনি
উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে মো. শহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। ফোনে রিং হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
তদন্তের দাবি
সংশ্লিষ্টদের দাবি, শহিদুল ইসলামের দায়িত্ব পালনকালের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন, দরপত্র, কার্যাদেশ, বিল পরিশোধ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তালিকা এবং আর্থিক লেনদেনের নথি পর্যালোচনা করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হতে পারে।
তাঁরা অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, তদন্তে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। তদন্ত বা আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া এসব অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।তাহার এই দুর্নীতির সংবাদ প্রচার কারনে আজ তালাশ বিডি সম্পাদকের কাছে একজন সংবাদ কর্মীকে দিয়ে নিউজ না করার জন্য অনুরোধ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জনগণ বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জ্বালানি খাতের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার মাশুল দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা সদরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার অর্থনীতিকে সচল রাখার চেষ্টা করছে, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়ছে। এর ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নানা সংকটের সম্মুখীন হয়েছেন। জ্বালানি খাতের সংকটও সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, গত ১৭ বছরে জ্বালানি খাতে ব্যাপক দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত অনেকেই তাদের নেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পালিয়ে বিদেশে অবস্থান করছেন। তারা এখন সেই টাকা বিদেশে বসে ভোগ করছেন।
এদিকে, দেশের সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ জ্বালানি সংকট মোকাবেলা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিএনপির এই নেত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জ্বালানি খাতে যে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা সৃষ্টি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনও বিদ্যমান। দায়িত্বে থাকা সরকারও এ সংকট সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি।
বিএনপির ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের যেকোনো সংকট ও দুর্যোগে বিএনপি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই বিএনপির নেতাকর্মীরা মানুষের অধিকার রক্ষায় রাজপথে নেমেছেন।
দেশের মাটি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলনে বিএনপির বহু নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, তিনি মাত্র সাড়ে তিন বছর রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েও দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কৃষি, শিল্প, কলকারখানা, মৎস্য, প্রবাসী আয় ও খাল খননসহ বিভিন্ন খাতে তার নেওয়া উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের লক্ষ্য ছিল উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা। পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন খাতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তার অনেক ক্ষেত্রেই সেই সময়ের উদ্যোগের প্রভাব রয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এরশাদ সরকারের সময়ে যখন দেশে স্বৈরশাসন জেঁকে বসেছিল, তখন খালেদা জিয়া ঘরের বাইরে এসে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামকে এগিয়ে নেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন, তাদের দেশের অতীতের রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাসও মনে রাখতে হবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপির দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। জনগণের স্বার্থে দলটি ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে।
সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পর ফেব্রুয়ারি মাসে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই নির্বাচনে দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ও নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের মানুষকে হতাশ হলে চলবে না। চলমান সংকট মোকাবেলায় সরকারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ধৈর্য ও সততার সঙ্গে কাজ করলে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং জ্বালানি সংকটসহ অন্যান্য সমস্যারও সমাধান সম্ভব হবে।
সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদারের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান মোল্যা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মন্তব্য করেছেন যে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে গত ১৫ বছর ধরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং অর্থপাচারের মতো বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে।
আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের বাংলাদেশে আগমনের উপলক্ষ্যে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত এক সংগীত সন্ধ্যা ও নৈশভোজ অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ এবং তার প্রতিনিধিদল সংগীত সন্ধ্যা ও নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন।
স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারকে অবশ্যই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আইপিইউ ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে সংসদীয় সম্পর্ক বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সুরক্ষায়ও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
স্পিকার আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিকভাবে পরিবেশগত বিপর্যয়প্রবণ দেশ হওয়ায় আইপিইউ এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আইপিইউ বিশ্বে সংসদীয় নেতৃত্ব তৈরির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামোতে এসব সমস্যা কার্যকরীভাবে মোকাবেলা করতে পারে।
আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ বলেন, বাংলাদেশে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণ তাদের ভাগ্যোন্নয়নে এবং মানবিক মর্যাদা সুরক্ষায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। তিনি বলেন, সংসদ হলো গণতন্ত্রের ভিত্তি এবং এটি মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুরক্ষায় অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে।
আলোচনা শেষে নেত্রকোনার বিরিশিরি একাডেমির মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় স্পিকারসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ সংগীত সন্ধ্যা উপভোগ করেন।
পরে, আইপিইউ মহাসচিব নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ