০৫:০৫ পি.এম
কুলাউড়া উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং ৬৫টি স্কুল চরম জনবল সংকটে ভুগছে। এই সংকটের কারণে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো শিক্ষাক্ষেত্রে মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ৯ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার মধ্যে ২ জন কর্মরত থাকলেও ৭ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। উপজেলা জুড়ে ১৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৫টি স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকারা। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা পদে ১০১টি পদও শূন্য রয়েছে।
কুলাউড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পদে ৯ জনের বিপরীতে মাত্র ২ জন কর্মরত আছেন। তারা হলেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ খোরশেদ আলম এবং মো. মাহমুদ হোসাইন। এছাড়াও উচ্চমান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক পদে ১ জন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে ৪ জনের মধ্যে ৩ জন, হিসাব সহকারী পদে ১ জন এবং অফিস সহায়ক পদে ১ জন পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
ফলে ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বৃহত্তম কুলাউড়া উপজেলার স্কুলগুলো তদারকি করতে হিমশিম খাচ্ছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা এবং ২ সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা। কুলাউড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৯৩টি, এর বিপরীতে ১২৮টি স্কুলে পূর্ণাঙ্গ প্রধান শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। ৬৫টি প্রাথমিক স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের প্রশাসনিকসহ সকল কার্যক্রম চলছে। অপরদিকে কুলাউড়ায় সহকারী শিক্ষকের ৯৮৯টি পদের মধ্যে বর্তমানে ৮৮৮ জন কর্মরত আছেন, যার ফলে সহকারী শিক্ষক পদে ১০১টি পদ শূন্য রয়েছে।
আরও পড়ুন: দায়িত্ব পেলে মোহাম্মদপুরকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে চান কাওসার খান
এদিকে, সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে বিভিন্ন স্কুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার কারণে শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে স্থানীয় অধিকাংশ লোকজন জানান। বিশেষ করে প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কুলাউড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা বলেন, "বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক পদ শূন্য থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। শূন্য পদে নিয়োগ ও পদায়ন হলে শিক্ষক সংকট অনেকটাই কমে আসবে।"
মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আনিছুর রহমান জানান, "সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পদে পুরো জেলায় ৪৪ জনের মধ্যে মাত্র ১১ জন কর্মরত রয়েছেন। তাই কুলাউড়ায় এই সংকট। এছাড়াও সহকারী শিক্ষক পদে পুরো জেলায় নতুন করে ৩৩৩ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই তাদের ট্রেনিং কার্যক্রম শেষ করে বিভিন্ন স্কুলে দায়িত্ব দেওয়া হবে। প্রধান শিক্ষক পদে যে সংকট রয়েছে সেগুলো পূরণ করতে ইতিমধ্যে শিক্ষকদের মধ্যে প্রমোশন দেওয়ার জন্য আমাদের একটি টিম কাজ করছে। অচিরেই ওই সকল স্কুলে ভারপ্রাপ্তদের চাপ কমিয়ে নতুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: বিএনপি'র নারায়ণগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে লিফলেট বিতরণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন