ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভয় দেখানোর শর্তে তিন তালাক পতিত হবে: মুফতি তাওহীদুল ইসলাম


ভয় দেখানোর শর্তে তিন তালাক পতিত হবে: মুফতি তাওহীদুল ইসলাম

এক প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন, তার স্বামী বলেছেন, যদি তিনি কখনো তাকে ‘তুই’ বলেন, তাহলে যেদিন বলবেন, সেদিনই তালাক, তালাক, তালাক, তালাক হবে।

প্রশ্নকারী জানতে চান, এই কথার মাধ্যমে শর্ত ভঙ্গ হলে কত তালাক পতিত হবে? তার স্বামী বর্তমানে বলছেন, তাকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে এবং কথার ওপর জোর দেওয়ার জন্য তিনি ‘তালাক, তালাক, তালাক, তালাক’ বলেছেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, এর মাধ্যমে তিনি এক তালাক বোঝাতে চেয়েছেন।

উত্তরে ঢাকার মুহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার ফতোয়া বিভাগের মুফতি তাওহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তালাকের স্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করে তালাক দিলে অথবা তালাককে কোনো শর্তের সঙ্গে যুক্ত করলে, শুধুমাত্র ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বলার কারণে তালাক বাতিল হয়ে যাবে না। তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত না থাকলেও তালাকের সারিহ (স্পষ্ট) শব্দ দ্বারা তালাক সংঘটিত হয়।

আরও পড়ুন: নবাবি আমলের ঐতিহাসিক দোলেশ্বর জামে মসজিদে দর্শনার্থীদের ভিড়

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

ثَلَاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ، وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ: النِّكَاحُ، وَالطَّلَاقُ، وَالرَّجْعَةُ

অর্থ: ‘তিনটি বিষয় এমন, যেগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে করলে যেমন কার্যকর হয়, ঠাট্টা-তামাশা করে করলেও তেমনই কার্যকর হয়: বিবাহ, তালাক ও রুজু।’ (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২১৯৪)

অতএব, যদি স্বামী শর্তসাপেক্ষে বলেন, আমি যদি ‘তুই’ বলি, তাহলে তালাক, তালাক, তালাক—এরপর যদি স্ত্রীকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করেন, তাহলে শর্ত পূর্ণ হওয়ার কারণে তিন তালাক কার্যকর হবে। পরবর্তীতে যদি তিনি বলেন যে, ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে কথাটি বলেছেন অথবা এক তালাক বোঝাতে চেয়েছেন, তাহলেও এর দ্বারা তালাকের হুকুম পরিবর্তিত হবে না।

আরও পড়ুন: মহানবী (সা.)-এর শেখানো দোয়া দিয়ে ঋণ পরিশোধের প্রেরণা

الھندیة: (الفصل الثالث في تعلیق الطلاق، ৪২০/১، ط: دار الفکر)

و وإذا أضافه إلى الشرط وقع عقيب الشرط اتفاقا مثل أن يقول لامرأته: إن دخلت الدار فأنت طالق।

الدر المختار مع رد المحتار: (باب التعلیق مطلب فیما لوتعدد الاستثناء، ৩৭৬/৩)

وقد عرف في الطلاق أنه لو قال: إن دخلت الدار فأنت طالق، إن دخلت الدار فأنت طالق، إن دخلت الدار فأنت طالق وقع الثلاث

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী: সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সব ধর্মের মূল উপজীব্য

يعني بدخول واحد

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঋতু পরিবর্তনে সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৮ এম


ঋতু পরিবর্তনে সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার

ঋতু পরিবর্তনের সময় আবহাওয়ার তাপমাত্রা ও পরিবেশে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে যখন ঠান্ডা বাড়তে শুরু করে, তখন সর্দি, কাশি, গলাব্যথা কিংবা নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো সমস্যায় ভোগেন অনেকে। এই সময় শরীরকে সুস্থ রাখতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রতি বাড়তি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সুষম ও পুষ্টিকর খাবার শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সচল রাখতে সহায়তা করে। যদিও কোনো একটি খাবারই সব ধরনের রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে পারে না, তবে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে শরীরের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ঋতু পরিবর্তনের সময় খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন এমন পাঁচটি খাবার।

১. লেবুজাতীয় ফল

কমলা, লেবু ও জাম্বুরার মতো লেবুজাতীয় ফলে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে। এই ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রয়োজনীয় শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভিটামিন সি সহায়ক।

প্রতিদিনের খাবারে এসব ফল যুক্ত করা বেশ সহজ। সকালের নাশতায় কমলা বা জাম্বুরা খাওয়া কিংবা পানীয়তে লেবুর রস মেশানোর মাধ্যমে ভিটামিন সি গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানো যায়। তবে সর্দি-কাশি প্রতিরোধে ভিটামিন সি যে পুরোপুরি কার্যকর, এমন নয়।

২. রসুন

রান্নার পরিচিত উপাদান রসুনে রয়েছে অ্যালিসিনসহ বিভিন্ন জৈব সক্রিয় যৌগ। এসব উপাদানের সম্ভাব্য জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। পাশাপাশি রসুন সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবেও উপকারী।

তরকারি, স্যুপ, সস কিংবা অন্যান্য রান্নায় রসুন ব্যবহার করা যেতে পারে। রসুন কুচি বা থেঁতো করে কিছুক্ষণ রেখে রান্না করলে অ্যালিসিন তৈরির প্রক্রিয়া সহজ হয়। তবে রসুন খেলেই সংক্রমণ থেকে নিশ্চিতভাবে রক্ষা পাওয়া যাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়।

৩. আদা

আদা শুধু খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ায় না, এতে রয়েছে জিঞ্জেরলের মতো বিভিন্ন উপাদান, যেগুলোর প্রদাহবিরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। আদা গলাব্যথা বা বমি বমি ভাবের মতো কিছু অস্বস্তি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।

ঋতু পরিবর্তনের সময় আদা চা, স্যুপ কিংবা রান্নায় আদা ব্যবহার করা যেতে পারে। গরম আদা চা গলায় আরাম দিতে পারে এবং শরীরকে উষ্ণ অনুভূতি দেয়। তবে আদাকে কোনো রোগের বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

৪. দই

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দইয়ে থাকা জীবিত উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাভাবিক জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে সব ধরনের দইয়ে একই পরিমাণ বা ধরনের উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে না।

চিনি ছাড়া সাধারণ দই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। চাইলে এর সঙ্গে তাজা ফল, বাদাম কিংবা অল্প মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানও পাওয়া যায়। তবে দই খেলেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

৫. পালং শাক

পালং শাক ভিটামিন সি, বিটা-ক্যারোটিন, ফোলেট ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও কোষের কার্যক্রম বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ তৈরিতে সহায়তা করে, যা ত্বক ও শ্লেষ্মাঝিল্লির স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজনীয়।

পালং শাক ভাজি, স্যুপ, ডাল কিংবা অন্যান্য রান্নায় যোগ করা যায়। অল্প সময় রান্না করলে শাকের স্বাদ ও পুষ্টিগুণের অনেকটাই বজায় রাখা সম্ভব। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় অন্যান্য সবুজ শাকসবজিও রাখুন।

সুস্থ থাকতে খাবারের পাশাপাশি যা জরুরি

ঋতু পরিবর্তনের সময় শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম, শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া এবং অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে সতর্ক থাকাও সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

মনে রাখতে হবে, পুষ্টিকর খাবার শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করে; তবে তা সব রোগ প্রতিরোধ করতে পারে না। দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, শ্বাসকষ্ট কিংবা গুরুতর অসুস্থতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে হারাল পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৮ এম


ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে হারাল পাকিস্তান

পাকিস্তান শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় লাভ করেছে। রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিকরা সফরকারীদের ৪ উইকেটে পরাজিত করেছে। লাহিরু উদারার দুর্দান্ত ৯১ রানের ইনিংস সত্ত্বেও শ্রীলঙ্কা পাকিস্তানের জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাতের ঝোড়ো অর্ধশতক পাকিস্তানকে ৭ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।

টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শ্রীলঙ্কা শুরুতেই ধাক্কা খায়। নাসিম শাহের প্রথম ওভারে অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস বিদায় নেন। এরপর মোহাম্মদ ইমরানের বলে কামিল মিশারাও ফিরে গেলে শ্রীলঙ্কা চাপে পড়ে যায়। তবে লাহিরু উদারা কামিন্দু মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।

শ্রীলঙ্কা পাওয়ারপ্লেতে উদারার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যায়। প্রথম ছয় ওভারে তারা দুই উইকেট হারিয়ে ৪৫ রান সংগ্রহ করে। কামিন্দু মেন্ডিস ১৮ বলে ২৩ রান করে ফিরে গেলে তাদের জুটি ভেঙে যায়। এরপর সাহান আরাচ্চি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।

উদারা দাসুন শানাকাকে নিয়ে পালটা আক্রমণে নামেন। তিনি মাত্র ৩২ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন। শানাকার সঙ্গে তার ৩৭ বলে ৬০ রানের জুটি শ্রীলঙ্কাকে বড় সংগ্রহের পথে রাখে। তবে শেষ দিকে আর কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা।

শ্রীলঙ্কার হয়ে ৫৫ বলে ১১টি চার ও একটি ছক্কায় ৯১ রান করে অপরাজিত থাকেন উদারা। পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে নাসিম শাহ ৩৬ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। মোহাম্মদ ইমরান দুটি উইকেট শিকার করেন।

১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করে। দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান দ্রুত রান তুলতে থাকেন। তবে ফখর ১৩ বলে চারটি চারে ২১ রান করে ঈশান মালিঙ্গার বলে আউট হন।

এরপর ক্রিজে এসে পালটা আক্রমণ চালান মাজ সাদাকাত। তার সঙ্গে অধিনায়ক ফারহানের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারেই ৭০ রান তুলে নেয় পাকিস্তান। দুই ব্যাটারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে মাত্র ৯.২ ওভারেই দলীয় সংগ্রহ ১০০ ছুঁয়ে ফেলে। ফারহান ৩৩ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন, আর সাদাকাত ২৮ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন।

দুজনের ৯২ রানের জুটি ভাঙেন মহীশ থিকশানা। এরপর দুশমন্থ চামিরার শিকার হয়ে ফেরেন হাসান নওয়াজ। থিকশানার বলে সাইম আইয়ুবও বোল্ড হলে কিছুটা চাপে পড়ে পাকিস্তান। তবে ততক্ষণে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন ফারহান ও সাদাকাত।

শেষ দিকে খাজা নাফেকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তান অধিনায়ক দলকে জয়ের আরও কাছে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ৫৩ বলে ১০টি চার ও চারটি ছক্কায় ৮৯ রান করে অপরাজিত থাকেন ফারহান। তার দায়িত্বশীল ও আক্রমণাত্মক ইনিংসে ভর করে পাকিস্তান ৭ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খালি পেটে চা পান করলে অন্ত্রের ক্ষতির সম্ভাবনা: বিশেষজ্ঞদের মতামত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৯ এম


খালি পেটে চা পান করলে অন্ত্রের ক্ষতির সম্ভাবনা: বিশেষজ্ঞদের মতামত

দিনের শুরুতে কিংবা বিকেলের অবসরে এক কাপ চা অনেকের কাছে পছন্দের পানীয় হয়ে উঠেছে। কর্মব্যস্ত দিনের মাঝে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে আড্ডা দেওয়ার অভ্যাসও বেশ জনপ্রিয়। তবে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর খালি পেটে চা পান করার স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে, এ অভ্যাসের ফলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও হজমের প্রক্রিয়ায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কি না, তা জানা জরুরি।

চা পান করলেই যে অন্ত্রের ক্ষতি হবে, এমন কোনো প্রমাণ নেই। তবে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, চায়ের ধরন, ঘনত্ব এবং ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতার ওপর নির্ভর করে খালি পেটে চা পান করলে কারও কারও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

খালি পেটে চা পান করলে কী সমস্যা হতে পারে?

অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকার পর কড়া চা পান করলে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের পেটে অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই অ্যাসিডিটি বা হজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বুকজ্বালা, বমি বমি ভাব, পেট ফাঁপা কিংবা পেটে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

তবে সবার ক্ষেত্রে এমন সমস্যা হয় না। যারা খালি পেটে চা পান করেও কোনো অস্বস্তি অনুভব করেন না, তাদের জন্য এই অভ্যাসের কারণে চা খাওয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই।

চা কি অ্যাসিডিটি ও পেট ফাঁপা বাড়ায়?

চায়ে থাকা ক্যাফেইন এবং অন্যান্য উপাদান কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের উপসর্গ বাড়াতে পারে। যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বা বুকজ্বালার প্রবণতা রয়েছে, তাদের কড়া চা পান করার পর অস্বস্তি হতে পারে।

এ ছাড়া চায়ের সঙ্গে দুধ মিশিয়ে খেলে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতায় ভোগা ব্যক্তিদের পেট ফাঁপা, পেটে ব্যথা কিংবা পাতলা পায়খানা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ চা নয়, বরং দুধের ল্যাকটোজ হতে পারে।

তাহলে চা পানের পর নিয়মিত অস্বস্তি হলে চায়ের ঘনত্ব কমানো, দুধ ছাড়া চা পান করা কিংবা খাবারের পরে চা খেয়ে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।

যাদের খালি পেটে চা পান এড়িয়ে চলা ভালো

অ্যাসিড রিফ্লাক্স, গ্যাস্ট্রাইটিস, বদহজম কিংবা পেটের অন্যান্য সমস্যায় ভুগছেন—এমন ব্যক্তিদের খালি পেটে কড়া চা পান না করাই ভালো হতে পারে। একইভাবে, যারা ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল, তাদের চা পানের পরিমাণ ও সময়ের দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

বিশেষ করে বিকেল বা সন্ধ্যার পর বেশি চা পান করলে কারও কারও ঘুমের সমস্যা হতে পারে। ক্যাফেইনের প্রভাব ব্যক্তিভেদে আলাদা হওয়ায় ঘুমের সমস্যা থাকলে শোয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই চা এড়িয়ে চলা উপকারী হতে পারে।

চায়ের সঙ্গে কী খাওয়া ভালো?

খালি পেটে চা পান করলে অস্বস্তি হয়, এমন ব্যক্তিরা চায়ের সঙ্গে হালকা নাশতা খেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি ভালো বিকল্প হলো—

এসব খাবার পুষ্টি সরবরাহের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ক্ষুধা কমাতেও সাহায্য করতে পারে। তবে নাশতা খেলেই চায়ের কারণে হওয়া সব ধরনের অস্বস্তি দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

অন্ত্রের স্বাস্থ্যে চায়ের ভূমিকা কী?

চা শুধু জনপ্রিয় পানীয়ই নয়, এতে এমন কিছু উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে, যা অন্ত্রের অণুজীবের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। নিউট্রিয়েন্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় চায়ের পলিফেনল এবং অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম বলতে পরিপাকতন্ত্রে বসবাসকারী অসংখ্য অণুজীবের সমষ্টিকে বোঝায়। এগুলো হজম, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গ্রিন টি-তে ক্যাটেচিন এবং কালো চায়ে থিয়াফ্ল্যাভিনের মতো পলিফেনল রয়েছে। এসব উপাদান অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে। আবার অন্ত্রের কিছু ব্যাকটেরিয়া পলিফেনল ভেঙে বিভিন্ন বিপাকজাত উপাদান তৈরি করে। এভাবে চা ও অন্ত্রের অণুজীবের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

কিছু গবেষণায় গ্রিন টি পান করার সঙ্গে উপকারী অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। চা পান করলেই অন্ত্রের স্বাস্থ্য নিশ্চিতভাবে ভালো হবে, কিংবা প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ চা সবার জন্য উপকারী—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর যথেষ্ট প্রমাণ নেই।

সুস্থ থাকতে কী করবেন?

চা সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার পরিবর্তে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। খালি পেটে চা পান করলে বুকজ্বালা, বমি বমি ভাব বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হলে খাবারের পরে চা পান করুন এবং অতিরিক্ত কড়া চা এড়িয়ে চলুন। পাশাপাশি ক্যাফেইনের পরিমাণ ও চিনি ব্যবহারের দিকেও নজর দিন।

সবশেষে মনে রাখা প্রয়োজন, অন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু চায়ের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি, আঁশসমৃদ্ধ খাবার এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ। চা পান করার পর বারবার পেটে ব্যথা, বুকজ্বালা বা অন্য কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যালন ডি’অর দেখতে কেইনের প্রতি আকৃষ্ট বেলিংহ্যাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২০ এম


ব্যালন ডি’অর দেখতে কেইনের প্রতি আকৃষ্ট বেলিংহ্যাম

হ্যাটট্রিক, বিশ্বকাপে গোল এবং বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স—এই সবকিছুর মধ্যে দিয়ে দুর্দান্ত সময় কাটাচ্ছেন হ্যারি কেইন। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে তার সাফল্যে মুগ্ধ সতীর্থ জুড বেলিংহ্যাম। বেলিংহ্যামের বিশ্বাস, ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জেতার সামর্থ্য কেইনের রয়েছে।

মঙ্গলবার উয়েফা নেশনস লিগে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে ইংল্যান্ড। ম্যাচের পর কেইনের প্রশংসা করে রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার বেলিংহ্যাম জানান, ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি কেইনের হাতে উঠলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এ বিষয়ে গোল ডটকম -এর এক প্রতিবেদনে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে।

কেইনের কঠোর পরিশ্রম, ব্যক্তিত্ব ও অর্জনের প্রশংসা করে বেলিংহ্যাম বলেন, কেইনের পারফরম্যান্স তাকে সব সময় বিস্মিত করে। তিনি মনে করেন, ইংল্যান্ড অধিনায়ক একজন অসাধারণ মানুষ ও আদর্শ ব্যক্তিত্ব। একই মাঠে খেলতে পারাকে তিনি নিজের জন্য সম্মানের বিষয় হিসেবেও উল্লেখ করেন। কেইন যে সাফল্য অর্জন করেছেন, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সেগুলোর যোগ্যতা তিনি প্রমাণ করেছেন বলেও মনে করেন এই মিডফিল্ডার।

কেইনের ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা নিয়েও ইতিবাচক বেলিংহ্যাম। তার মতে, এই পুরস্কার জেতা কেইনের পক্ষে অবশ্যই সম্ভব।

চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে মাঠে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন বায়ার্নের এই স্ট্রাইকার। ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের ৩-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেন তিনি। এই ম্যাচের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডে সাবেক গোলরক্ষক পিটার শিলটনের পাশে জায়গা করে নেন কেইন। জাতীয় দলের জার্সিতে দুজনেরই ম্যাচসংখ্যা এখন ১২৫। ইংল্যান্ডের হয়ে কেইনের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১-এ।

আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এবারের পুরস্কারের আলোচনায় কেইনের পাশাপাশি রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের এই স্বীকৃতি, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%