আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
০৮:৩৪ এম
টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌর শহরের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক সাথী সিনেমা হল রোড দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সড়ক উন্নয়নকাজের ধীরগতির কারণে বর্তমানে রাস্তাটি কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির উন্নয়নকাজ ধীরগতিতে চলছে। সপ্তাহে মাত্র দুই থেকে তিন দিন কাজ হলেও বাকি সময় নির্মাণকাজ বন্ধ থাকে। গত চার দিন ধরে রাস্তার মাঝখানে বালু ও খোয়া ফেলে রেখেই কাজ বন্ধ রয়েছে, ফলে সড়ক দিয়ে যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের চলাচলও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে রাস্তার পাশের নির্মাণাধীন ড্রেনের ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন বৃদ্ধ, নারী ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন চরম সংকটে। তাদের দাবি, সড়কটি দীর্ঘদিন অচল থাকায় ক্রেতাদের যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এ সড়কের প্রায় ৭০ শতাংশ দোকান নিয়মিত বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সড়ক নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-ও পৌর প্রশাসক এর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় জনগণ। তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগে দ্রুত সড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে এবং জনসাধারণ স্বস্তি ফিরে পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুসারে, আজ সোমবার (৩ আগস্ট) সর্বশেষ সমন্বয়কৃত দামে দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতু বিক্রি হচ্ছে।
শেষ শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি করেছে। সেই দিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়ে গেছে। এর ফলে সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হলো।
নতুন দাম অনুসারে, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। তদুপরী, সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের পূর্বের নিয়ম কার্যকর থাকবে।
এগ্র ২৮ জুলাই সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। ওই দিন ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
অন্যদিকে, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা কার্যকর হয়েছিল সকাল সাড়ে ১০টা থেকেই।
এখন পর্যন্ত চলতি বছরে দেশের বাজারে ৯৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে ৪৭ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৪৯ বার কমানো হয়েছে এবং ১ দফা ভ্যাট সমন্বয়ন হয়েছে। গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
যদিও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে, দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকায়। এছাড়াও ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৮৫৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
এ নিয়ে, চলতি বছরে দেশের বাজারে ৬০ দফা রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। যেখানে দাম ৩০ দফা বাড়ানো হয়েছে; এবং বাকি ৩০ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশে ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, এর মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার এবং কমেছিল মাত্র ৩ বার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইংলিশ ক্লাব চেলসি ঘোষণা দিয়েছে, তারা আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার ভ্যালেন্তিন বারকোকে দলভুক্ত করেছে।
রবিবার (২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তায় ক্লাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবরটি নিশ্চিত করেছে।
২১ বছর বয়সী এই ফুটবলার ফরাসি ক্লাব আরসি স্ট্রাসবুর্গ থেকে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে যোগ দিয়েছেন। গোল ডটকমের একটি প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
বারকো চেলসির সঙ্গে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। ব্লুকো মালিকানাধীন দুই ক্লাবের মধ্যে খেলোয়াড় স্থানান্তরের ধারাবাহিকতায়, স্ট্রাসবুর্গ থেকে চেলসিতে যুক্ত হওয়া তিনি সর্বশেষ ফুটবলার।
আর্জেন্টাইন এই আন্তর্জাতিক ফুটবলার আগামী ২০২৬-২৭ মৌসুমকে সামনে রেখে জাবি আলোনসোর দলে যুক্ত হচ্ছেন। তিনি প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির বাকি সূচিতে নতুন সতীর্থদের সঙ্গে যোগ দেবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের আলোচিত অভিনেত্রী ও ‘ড্রামা কুইন’খ্যাত রাখি সাওয়ান্ত আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন। সম্প্রতি তিনি বিবিসি হিন্দিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিজীবন ও ক্যারিয়ার নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন।
সাক্ষাৎকারে ধর্মীয় পরিচয় প্রসঙ্গে রাখি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করছেন। তিনি তার বিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, "আমি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী, নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি এবং এ পর্যন্ত আটবার উমরাহ পালন করেছি।"
ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রাখি উল্লেখ করেন, ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে বিয়ে নতুন কিছু নয়। তিনি উদাহরণ স্বরূপ বলিউডের দুই তারকা শাহরুখ খান ও আমির খানের নাম উল্লেখ করেন। সম্মিলিতভাবে তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে কোটি কোটি মানুষ আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক স্থাপন করছেন এবং ভালোবাসায় ধর্ম কোনো বাধা হওয়া উচিত নয়।"
আমির খানকে নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রাখি জানায়, “তার তো হিন্দু মেয়েই পছন্দ।”
নিজের ক্যারিয়ারের শুরুতে ধরন কিছু সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন রাখি। তিনি বলেন, এক সময় মানুষ তাকে ‘জোকার’ ও ‘কার্টুন’ বলে উপহাস করত, তবে সেই সময় থেকেই তিনি ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করা শুরু করেছিলেন এবং ধীরে ধীরে তিনি নিজের একটি আলাদা পরিচিতি সৃষ্টি করেন। তিনি বলেন, “আমি নিজেই একটা চলতি-ফিরতি কনটেন্ট।”
‘বিগ বস ১৫’-এ স্বামী হিসেবে পরিচিত রিতেশকে নিয়েও আলোচনার সূত্রপাত করেন রাখি। তিনি দাবি করেন, রিতেশ ছিলেন ‘ভাড়া করা স্বামী’। পরবর্তীতে রিতেশের আগের বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে তাকে শো থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমান প্রজন্মের ভাইরাল কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রসঙ্গ টেনে রাখি দাবি করেন, উর্বশী রাউতেলা ও ওরিসহ অনেকেই তার পথ অনুসরণ করেছেন। নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী এই অভিনেত্রী জানান, তিনি ‘ওজি রাখি সাওয়ান্ত’ এবং বিনোদন অঙ্গনে তার নিজস্ব একটি অবস্থান রয়েছে।
রাখির এসব বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ তার খোলামেলা বক্তব্যের প্রশংসা করছেন, আবার কেউ তার বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা করছেন। তবে বরাবরের মতো, নিজের বক্তব্য ও ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্বের কারণে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন রাখি সাওয়ান্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘আসবার কালে আসলাম একা…’—নগর বাউল জেমসের কণ্ঠে এই বহুল জনপ্রিয় গানের সুর বেজে উঠতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন হাজারো দর্শক। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উপকণ্ঠ সার্সেলের খোলা মাঠটি যেন মুহূর্তেই রূপ নেয় এক টুকরো বাংলাদেশে। এখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কণ্ঠ মিলিয়ে তারা গাইতে থাকেন।
এরপর একের পর এক জনপ্রিয় গানে প্রায় তিন হাজার দর্শককে মাতিয়ে রাখেন নগর বাউলখ্যাত এই রকশিল্পী। দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালি, উচ্ছ্বাস আর গানে গানে মুখর হয়ে ওঠে ‘ফ্রাঙ্কো-বাংলা সামার ফেস্ট-২০২৬’-এর পুরো আয়োজন।
রবিবার (২ আগস্ট) প্যারিসের উপকণ্ঠ সার্সেলের একটি খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হয় দিনব্যাপী এই সাংস্কৃতিক উৎসব। অনুষ্ঠানটি দুপুর ১২টায় নিবন্ধনের মাধ্যমে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলতে থাকে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এ আয়োজনে অংশ নেন তিন হাজারেরও বেশি দর্শক।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন ‘নগর বাউল’ ব্যান্ডের প্রধান জেমস। মঞ্চে উঠেই তিনি তার জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। দীর্ঘদিন পর প্রিয় শিল্পীকে সরাসরি দেখতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
জেমসের গানের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে, নেচে এবং করতালিতে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তারা।
জেমস ছাড়াও অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘জলের গান’ এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বাংলাদেশি শিল্পী বিন্তি। তাদের পরিবেশনায়ও উৎসবজুড়ে ছিল প্রাণবন্ত আবহ।
কনসার্টে অংশ নেওয়া দর্শক ইমাদ উদ্দিন বলেন, নগর বাউলের এই পরিবেশনা প্যারিসে বাংলাদেশি সংস্কৃতিকে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও এই কনসার্টের মাধ্যমে নিজেদের দেশ ও সংস্কৃতিকে অনুভব করার সুযোগ পেয়েছেন।
আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, ‘ফ্রাঙ্কো-বাংলা সামার ফেস্ট’ প্রতিবছর প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়। ২০২৩ সালে ফ্রান্সের তৎকালীন পরিস্থিতির কারণে এ আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর এবার সফলভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অফিওরা ও শাহ গ্রুপের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘ফ্রাঙ্কো-বাংলা সামার ফেস্ট-২০২৬’ শুধুমাত্র একটি কনসার্টে সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি পরিণত হয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক প্রাণের উৎসবে। সংগীত, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এই আয়োজন আবারও তুলে ধরেছে—হাজার মাইল দূরে থেকেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে প্রবাসীদের বন্ধন অটুট।
আয়োজকরা বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে, দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর। এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে, অনুষ্ঠানস্থলে দর্শনার্থীদের যাতায়াত সহজ করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ফ্রান্সের যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক কিছু সমস্যার কারণে নিকটবর্তী ট্রেন স্টেশন থেকে অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত তিনটি বিনামূল্যের বাসের ব্যবস্থা করা হয়। দিনভর এসব বাস দর্শকদের আনা-নেওয়ার কাজ করে।
সংগীতের পাশাপাশি উৎসবে ছিল বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা আয়োজন। দর্শনার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় বিভিন্ন দেশীয় খেলা। পাশাপাশি ছিল বাংলাদেশি পণ্য ও খাবারের স্টল। সমুচা, সিঙ্গাড়া, ঝালমুড়ি, পিঠা-পুলি, বিরিয়ানি, ডাবের পানি, বিভিন্ন ধরনের পানীয় এবং পান-সুপারির স্টলে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সার্সেলের ডেপুটি মেয়র, স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ ছিল র্যাফেল ড্র। এতে বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কারের পাশাপাশি প্রধান পুরস্কার হিসেবে রাখা হয় একটি ঝকঝকে বিএমডব্লিউ গাড়ি।
সব মিলিয়ে ‘ফ্রাঙ্কো-বাংলা সামার ফেস্ট-২০২৬’ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য হয়ে ওঠে সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও আনন্দের এক মিলনমেলা। প্যারিসের সার্সেলের সেই মাঠে একদিনের জন্য হলেও তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের আবহ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ