ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিমানবন্দরের আয়নায় বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি


বিমানবন্দরের আয়নায় বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি

একটি রাষ্ট্রে সরকার পরিবর্তন হওয়া এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার চরিত্র বদলানো একসাথে ঘটে না। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার চেয়ার পরিবর্তিত হতে পারে, মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যুক্ত হতে পারে, রাজনৈতিক স্লোগানও পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু যদি দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক আনুগত্য এবং অপরাধের পৃষ্ঠপোষকতার পুরোনো কাঠামো অক্ষত থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের জীবনে পরিবর্তনের সুফল আসবে না। তখন রাষ্ট্রের বাহ্যিক রঙ পরিবর্তিত হয়, কিন্তু ভেতরের দেয়ালে পুরোনো দাগ রয়ে যায়।

বিরোধী দলে থেকে অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলা একটি বিষয়, কিন্তু ক্ষমতার কেন্দ্রে বসে নিজের দলের লোকজনসহ সবাইকে একই আইনের আওতায় আনাটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রথমটি রাজনৈতিক বক্তব্য; দ্বিতীয়টি রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিকতা ও গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতার পরীক্ষা।

জনগণ কোনো সরকারকে কেবল তার অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য অনির্দিষ্টকাল ছাড় দেয় না। বরং যে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি দল ক্ষমতায় আসে, সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায় সময়ের সঙ্গে। কারণ, জনগণের কাছে রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল্যায়ন হয় বক্তৃতার মঞ্চে নয়, দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতায়।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্র সংস্কারে চিন্তা ও মূল্যবোধের পুনর্গঠন জরুরি

একজন যাত্রী বিমানবন্দরে নামবেন, নিজের লাগেজ সংগ্রহ করবেন এবং স্বজনদের জন্য আনা উপহার নিয়ে বাড়ি ফিরবেন—এটি নাগরিক জীবনের একটি সাধারণ প্রত্যাশা। কিন্তু দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে বিলম্ব, ট্রলির সংকট, যাত্রী হয়রানি এবং মালামাল চুরির অভিযোগ বারবার সামনে আসলে প্রশ্নটি আর নিছক যাত্রীসেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রশ্ন ওঠে রাষ্ট্রের সক্ষমতা, প্রশাসনের জবাবদিহি এবং নাগরিকের অধিকার রক্ষায় সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে।

বিগত মাফিয়া সরকারের আমলের মাফিয়া সিন্ডিকেটের বিমানবন্দর শাখার দৌরাত্ম্য কতটুকু নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া যাত্রীদের লাগেজ কাটার ভিডিওর বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা কী? অতীতের দুর্নীতি ও এসব প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা কতটা পূরণ হয়েছে?

বিমানবন্দরে অনিয়মের বিরুদ্ধে একজন প্রতিবাদকারীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে যে তৎপরতা দেখা গেছে, নাগরিকসেবায় ব্যর্থতার জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও কি একই তৎপরতা দেখা যাচ্ছে? রাষ্ট্রের কাছে একজন নাগরিকের প্রতিবাদ গ্রহণযোগ্য কি না, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—প্রতিবাদের পেছনে থাকা সমস্যাটির বাস্তবতা কতটুকু। প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রশ্নের উত্তর যদি প্রশাসনিক ব্যাখ্যার বদলে শুধু পাল্টা আইনি পদক্ষেপের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে জনমনে সন্দেহ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

যে দল দীর্ঘকাল রাজনৈতিক অধিকার, প্রশাসনের দলীয়করণ এবং বিরোধী মতের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করেছে, সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থেকে তার কাছে জনগণের প্রত্যাশাও বেশি।

আরও পড়ুন: ইসলামি ব্যাংকিং ও ইসলামি অর্থায়ন ভিন্ন: বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা

সরকার যদি অতীতের রাজনৈতিক হয়রানির সংস্কৃতি থেকে সত্যিকার অর্থে বেরিয়ে আসতে চায়, তাহলে তাকে প্রমাণ করতে হবে—ক্ষমতার পালাবদল শুধু শাসকের পরিচয় বদলায়নি, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিতেও পরিবর্তন এনেছে।

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিয়ে আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। একজন ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পর পদত্যাগের ঘটনা রাজনৈতিক জবাবদিহির একটি পদক্ষেপ হতে পারে। কিন্তু এখানেই কি রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ? সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দিলেই কি কোনো ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন নিষ্পত্তি হয়ে যায়? পদত্যাগ কি ফৌজদারি তদন্তের বিকল্প, নাকি এটি তদন্তের পাশাপাশি চলার মতো পৃথক কোনো রাজনৈতিক পরিণতি? পদত্যাগের মাধ্যমে রাজনৈতিক পদটির অবসান ঘটতে পারে; কিন্তু ঘটনার সঙ্গে কার কী ভূমিকা ছিল, কে নির্দেশ দিয়েছেন, কে অংশ নিয়েছেন, কারা সুবিধা পেয়েছেন এবং কার কী আইনি দায়—এসব প্রশ্নের উত্তর পদত্যাগপত্রের সঙ্গে জমা পড়ে না। জনগণ শুধু পদত্যাগের খবর শুনতে চায় না; জানতে চায়, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত কোথায় পৌঁছেছে। জনগণ শুধু দলীয় শাস্তির ঘোষণাই নয়, পাশাপাশি দেখতে চায়, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে কি না।

বাংলাদেশে পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট শাসনামলের দুর্নীতি, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, স্বজনপ্রীতি এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ক্ষমতার পালাবদলের পর সেই সুবিধাভোগী নেটওয়ার্ক, প্রশাসনিক যোগাযোগ ও অনিয়মের সুযোগগুলো কতটা ভেঙে দেওয়া হয়েছে?

দুর্নীতির কাঠামো রাতারাতি তৈরি হয় না। অর্থনৈতিক ক্ষমতা, প্রশাসনিক যোগাযোগ, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং দুর্বল জবাবদিহির সমন্বয়ে তা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে। সরকার পরিবর্তনের পরও যদি এসব নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে পুরোনো সুবিধাভোগীরা নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারে। এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি।

আরও পড়ুন: প্রকৃতির রঙিন শিকারি মাছরাঙা, জলাশয় ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

তবে প্রমাণ ছাড়া বর্তমান সরকারকে পুরোনো দুর্নীতির চক্রের পৃষ্ঠপোষক বলে ঘোষণা করাও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক বিশ্লেষণ নয়। বরং প্রয়োজন—কোন খাতে কী অনিয়ম ঘটেছে, কারা সুবিধা পেয়েছে, তদন্ত কতদূর এগিয়েছে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা তথ্যের ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা। সরকার পরিবর্তনের প্রকৃত অর্থ এখানেই। পুরোনো সিন্ডিকেটের সাইনবোর্ড বদলে নতুন সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিলে সংস্কার হয় না। ক্ষমতার করিডরে নতুন মুখ এলেও পুরোনো নিয়মেই যদি অনিয়মের সুযোগ বহাল থাকে, তবে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি একসময় ফাঁকা বুলিতে পরিণত হয়।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনাও তাই শুধু একটি স্থাপনা ভাঙচুরের মামলা নয়; এটি রাজনৈতিক প্রভাব, জনসম্পদ ও জনস্বার্থের প্রশ্নে ক্ষমতাসীনদের দায়বদ্ধতা যাচাইয়ের একটি উপলক্ষ। একইভাবে, বিমানবন্দরের ঘটনাও শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে বিমানবন্দর কর্মকর্তার বিরোধ নয়; এটি নাগরিকসেবা ও প্রশাসনিক জবাবদিহির এক বিরাট পরীক্ষা।

কিন্তু একটি বিষয়ে প্রশ্ন তোলা যায়—রাষ্ট্র কি ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে এমন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছে, যাতে নাগরিকদের মনে দলীয় পরিচয়ভিত্তিক বিচার পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি না হয়?

যদি পুরোনো প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক ভাঙার ঘোষণা বাস্তবে কার্যকর করতে হয়, তবে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অন্যথায় দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নীতির পরিবর্তে রাজনৈতিক সুবিধা বণ্টনের কৌশল হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

আরও পড়ুন: জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও বর্তমান বাস্তবতা: নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন

রাষ্ট্রের পরিবর্তন সেদিনই দৃশ্যমান হবে, যেদিন নাগরিককে আর প্রশ্ন করতে হবে না—কে ক্ষমতাসীন, কে বিরোধী, কে প্রভাবশালী। বরং সবাই নিশ্চিতভাবে বলতে পারবে : অভিযোগ যার বিরুদ্ধেই উঠুক, তদন্ত হবে নিরপেক্ষ; অপরাধ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা হবে আইনানুগ; আর জনস্বার্থের প্রশ্নে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাষ্ট্রের জবাবদিহির ঊর্ধ্বে থাকবে না।

ক্ষমতার পালাবদল তখনই অর্থবহ হবে, যখন ক্ষমতার সঙ্গে দায়বদ্ধতাও বদলাবে। অন্যথায় চেয়ার বদলাবে, সাইনবোর্ড বদলাবে, স্লোগান বদলাবে—কিন্তু নাগরিকের ভাগ্যে সেই পুরোনো অপেক্ষাই থেকে যাবে : ন্যায়বিচারের অপেক্ষা, প্রতিকারের অপেক্ষা আর রাষ্ট্র সত্যিই বদলেছে কি না—তার উত্তরের অপেক্ষা।

লেখক : গবেষক

আরও পড়ুন: শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের দাবি সংবিধান সংশোধনে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ এম


ঢাকা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে।

এ তালিকা সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত হয়। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মেধা ও সাধারণ—দুই শ্রেণিতে নির্ধারিত হারে মাসিক বৃত্তি এবং বইপত্র ও যন্ত্রপাতি কেনার জন্য এককালীন অর্থ সহায়তা পাবে।

বোর্ডের প্রকাশিত শর্তাবলীর ভিত্তিতে, মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসে ৬০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসে ৩৫০ টাকা করে পাবেন। এছাড়া, বইপত্র ও যন্ত্রপাতি কেনার জন্য, মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বছরে এককালীন ৯০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ৪৫০ টাকা পাবেন।

বৃত্তির অর্থ প্রাপ্তির জন্য শিক্ষার্থীদের অবশ্যই উচ্চ শ্রেণিতে পড়াশোনার জন্য অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়ে বিধি অনুযায়ী বৃত্তির অর্থ উত্তোলন করতে হবে।

এছাড়া, শিক্ষার্থীর সদাচরণ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি এবং সন্তোষজনক পাঠোন্নতির ভিত্তিতে বৃত্তি প্রদান করা হবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হলে বৃত্তির যোগ্যতা বাতিল হয়ে যাবে।

বাংলাদেশের ভেতরে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ বৃত্তি কার্যকর হবে। অননুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পাওয়ার যোগ্য হবে না। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নকাল পাঠবিরতি হিসেবে গণ্য হবে বলেও শর্তাবলিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃত্তিপ্রাপ্ত সব শিক্ষার্থী বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের কাছ থেকে মাসিক বেতন নিতে পারবে না। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর কাছে বেতন দাবি করে, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শর্তাবলিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বৃত্তির সংখ্যা, হার ও মেয়াদ আপাতত নির্ধারিত। প্রয়োজন হলে সরকার কোনো কারণ না দেখিয়েও এসব পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সালাহকে ছুঁয়ে ইতোর রেকর্ডের কাছে পৌঁছালেন আশরাফ হাকিমি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ এম


সালাহকে ছুঁয়ে ইতোর রেকর্ডের কাছে পৌঁছালেন আশরাফ হাকিমি

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলে পরাজিত করার রাতে আশরাফ হাকিমি একটি অসাধারণ মাইলফলক অর্জন করেছেন। প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) এই মরক্কান রাইট-ব্যাক সতীর্থের গোলের জন্য সহায়তা করে মিসরীয় ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহকে ছুঁয়ে ফেলেছেন। এখন প্রতিযোগিতাটিতে উভয়েরই ১৯টি করে অ্যাসিস্ট রয়েছে।

প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের ম্যাচে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে পিএসজির ৪-২ গোলের বিজয়ে হাকিমির অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে তার অসাধারণ ক্রস থেকে ফাবিয়ান রুইজ বলটি জালে পাঠান। এই মুহূর্তে তিনি চ্যাম্পিয়নস লিগে তার ১৯তম অ্যাসিস্টের কীর্তি স্থাপন করেন।

এই পারফরম্যান্সের ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে আফ্রিকান ফুটবলারদের মধ্যে সর্বাধিক অ্যাসিস্টের তালিকায় হাকিমি ও সালাহ যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ক্যামেরুনের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার স্যামুয়েল ইতো, যার অ্যাসিস্ট সংখ্যা ২০টি। হাকিমি যদি আর একটি গোল করান, তবে তিনি আফ্রিকান হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বাধিক অ্যাসিস্টের রেকর্ডে ইতোকে স্পর্শ করবেন।

অন্যদিকে, সালাহর বর্তমান ক্লাব তুরস্কের ত্রাবজোনস্পোর এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে অংশগ্রহণ না করায় তিনি ইউরোপের তৃতীয় স্তরের প্রতিযোগিতা ‘কনফারেন্স লিগে’ অংশ নিচ্ছেন, ফলে আপাতত হাকিমিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তার নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের হামলার শঙ্কায় বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেট বিপর্যয়ের আশঙ্কা : কাতারের সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ এম


ইরানের হামলার শঙ্কায় বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেট বিপর্যয়ের আশঙ্কা : কাতারের সতর্কতা

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালির তলদেশে অবস্থিত সমুদ্রের নিচের যোগাযোগ ক্যাবলকে নতুন লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করার হুমকি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হুমকির ফলে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কাতার সতর্ক করে বলেছে, যদি এসব ক্যাবলে হামলা হয়, তাহলে ইরানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের তুলনায় অধিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। একই সঙ্গে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে দোহা।

সউদী গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাতটি প্রধান ডেটা যোগাযোগ ক্যাবলের কথা উল্লেখ করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, তেহরানের স্যাক্রেড ডিফেন্স জাদুঘরে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

মোহেব্বি বলেন, ‘আমরা শুধু তাদের জানাতে চাই, নতুন লক্ষ্যবস্তু প্রকাশ করা হবে। নতুন অস্ত্রেরও আত্মপ্রকাশ ঘটবে।’ তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অবশিষ্ট প্রভাব অঞ্চল থেকে দূর করার অঙ্গীকার করেছে ইরান। তবে ক্যাবলগুলোতে হামলার জন্য নির্দিষ্ট সময় বা পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।

পূর্বে, গত মার্চের শুরুতে, ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে অবকাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে এবং ক্লাউড সেবায় সমস্যা দেখা দেয়। নতুন হুমকির পর গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

টেলিযোগাযোগ খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে ডেটা পরিবহনে লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ফাইবার-অপটিক ক্যাবল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমুদ্রের তলদেশে স্থাপিত এসব ক্যাবলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা পরিচালিত হয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে একাধিক দেশের যোগাযোগব্যবস্থা ও অনলাইন সেবা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক ইব্রাহিম আল-হাশমি বলেন, হরমুজ প্রণালির তলদেশে থাকা ইন্টারনেট ক্যাবলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ইরানসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, ইরানের পক্ষের কেউ যদি পরিস্থিতি নিয়ে সৎভাবে চিন্তা করেন, তাহলে তাঁর প্রশ্ন করা উচিত, ‘সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত কে?’ আল-হাশমির মতে, এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপরই বেশি পড়তে পারে।

কাতার আরও সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে শুধু যোগাযোগব্যবস্থা নয়, পানির নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। এ অঞ্চলের দেশগুলো সেচ, লবণ উৎপাদন ও মৎস্য আহরণের মতো কর্মকাণ্ডে প্রণালির পানির ওপর নির্ভরশীল। তাই জলপথটিকে লক্ষ্য করে হামলা ও হুমকি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে দোহা।

এর আগে ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে এ অঞ্চলের ইন্টারনেট ক্যাবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অবকাঠামো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এসব অবকাঠামোতে হামলা হলে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল সেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

কাতার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। দেশটির মতে, সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে হরমুজ প্রণালির ক্যাবলে হামলা হলে বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেট সেবা কতটা ব্যাহত হবে, তা নির্ভর করবে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাবলের সংখ্যা, বিকল্প সংযোগের সক্ষমতা এবং মেরামতের সময়ের ওপর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সম্প্রীতির বন্ধনে আলফাডাঙ্গা, পূজামণ্ডপে পূজামণ্ডপে উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হেমায়েত হোসেনের আর্থিক সহায়তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৬ এম


সম্প্রীতির বন্ধনে আলফাডাঙ্গা, পূজামণ্ডপে পূজামণ্ডপে উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হেমায়েত হোসেনের আর্থিক সহায়তা

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা নিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট হেমায়েত হোসেন। এ সময় তিনি পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পূজার আয়োজনকে আরও উৎসবমুখর করতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে গিয়ে তিনি পূজার সার্বিক আয়োজনের খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখার আহ্বান জানান।

এ সময় অ্যাডভোকেট হেমায়েত হোসেন বলেন, দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আমাদের সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আমি চাই, আলফাডাঙ্গার প্রতিটি পূজামণ্ডপে আনন্দ, উৎসাহ ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপিত হোক।

তিনি আরও বলেন, আমি সব সময় মানুষের পাশে থাকতে চাই। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এবং এলাকার শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নে কাজ করাই আমার লক্ষ্য। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য বজায় থাকলে আলফাডাঙ্গা আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত হবে। ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে সাধ্যমতো সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে তাঁর সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় হয়। আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি তিনি দুর্গোৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এলাকাবাসীর মধ্যে সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে অ্যাডভোকেট হেমায়েত হোসেন বলেন, সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই গড়ে উঠতে পারে শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ আলফাডাঙ্গা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%