০৫:৪৭ এম
প্রকৃতির আশীর্বাদ হচ্ছে— ফল। কিন্তু এই ফল সবার জন্য একটি নয়। যদি আপনার শরীরে এ তিনটির কোন একটি রোগ থাকে, তাহলে আপনাকে সেই ফল 'উপকারী' মনে করে ইচ্ছামতো তা খেতে হবে না। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সবসময় চিকিৎসক বা একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে আপনি আপনার শরীরের জন্য কতটুকু ফল খাওয়া দরকার, ততটুকুই ফল খেতেই হবে।
এজন্যই ফল শরীরের জন্য খুব উপকারী হলেও নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যায় কিছু ফল নেতিবাচক বা 'বিষ'-এর মতো হয়ে উঠতে পারে। শর্করার অতিরিক্ত উপস্থিতির কারণে ভুল ফল নির্বাচন রোগব্যাধি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সুতরাং, আপনার সুস্থতার জন্য ফল খাওয়ার বিকল্প নেই। তবে, আমরা অনেকেই জানি না যে, একজনের জন্য যে ফলটি অমৃত, অন্যজনের জন্য সেটিই বিষের মতো কাজ করতে পারে।
আরও পড়ুন: শীতের ছুটিতে ঘুরে আসুন বাংলাদেশের ৮ দর্শনীয় স্থান
বিশেষত যদি আপনি ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা অথবা আইবিএসে (পেটের রোগ) ভোগেন, তাহলে যে কোনো ফল আপনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সুতরাং ফল খাওয়ার ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন থাকা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফল খাওয়া উচিত।
জেনে নিন কোন রোগে কোন ফল খাবেন—
ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ফলের সতর্কতা
অনেকের মনে ভুল ধারণা থাকে যে, ফলের মিষ্টি যেহেতু প্রাকৃতিক, তাই এটি ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষতি করে না। এটি একেবারেই ভুল ধারণা। ফলের মাঝে এক ধরনের শর্করা বা চিনি থাকে, যাকে বলা হয় ফ্রুক্টোজ। কিছু কিছু ফল খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা খুব দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: মেঘমুক্ত আকাশে পঞ্চগড় থেকে দৃশ্যমান কাঞ্চনজঙ্ঘা, উচ্ছ্বসিত প্রকৃতিপ্রেমীরা
যেমন— পাকা আম, কাঁঠাল, পাকা কলা, লিচু, আতা ফল, খেজুর এবং কিসমিসের মতো এই ফলগুলোতে শর্করার পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এসব ফল 'গ্লাইসেমিক ইনডেক্স' অনেক বেশি। এগুলো খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তে সুগারের ঝড় বয়ে যায়, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তোলে। এজন্য ডায়াবেটিস রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দিনে অল্প পরিমাণে আপেল, পেয়ারা, নাশপাতি, জাম অথবা জামরুল খেতে পারেন।
কিডনি রোগীর জন্য ফল যেন 'নীরব ঘাতক'
কিডনি রোগীর জন্য ফল খাওয়ার নিয়ম সাধারণ মানুষের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। কিডনি যখন দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন শরীর থেকে বাড়তি খনিজ ও বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে কলা, ডাবের পানি, কমলালেবু, মালটা, আঙুর, আমড়া এবং শুকনো ফল সাবধানে খেতে হবে। সবচেয়ে মারাত্মক ফল হলো কামরাঙা। এই ফলগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। সুস্থ কিডনি পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখে, কিন্তু অসুস্থ কিডনি তা করতে পারে না। রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে গেলে বুক ধড়ফড় করা থেকে শুরু করে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে। এবং কামরাঙায় এক ধরনের বিষাক্ত উপাদান (টক্সিন) থাকে, যা কিডনি রোগীকে সরাসরি মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে। আরও কিছু বিষয় হচ্ছে, কিডনি রোগীর রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসকরা ফল খাওয়ার অনুমতি দেন।
আইবিএস বা পেটের রোগীর সমস্যা
আরও পড়ুন: বুধবার ১২ রাশির অর্থভাগ্যে সতর্কতা, জেনে নিন রাশিফল
আইবিএস হলো একটি সমস্যা, যেখানে মানুষের পরিপাকতন্ত্র বা পেট অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। কিছু নির্দিষ্ট ফল খেলে তাদের পেটে তীব্র গ্যাস, পেট ফাঁপা, মোচড় দিয়ে ব্যথা অথবা বারবার পাতলা মলত্যাগ শুরু হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আপেল, নাশপাতি, তরমুজ, চেরি, পিচ এবং যে কোনো অতিরিক্ত মিষ্টি ফল বা ফলের রস এই সমস্যা বাড়ায়।
এ ছাড়া এসব ফলে এমন কিছু শর্করা কিংবা সুগার অ্যালকোহল থাকে, যা আইবিএস রোগীর অন্ত্র সহজে হজম করতে পারে না। বিজ্ঞানী ভাষায় এগুলোকে বলা হয়, হাই-ফডম্যাপ খাবার। এগুলো পেটে গিয়ে গ্যাস তৈরি করে, যার ফলস্বরূপ প্রচুর গ্যাস এবং পেটের অস্বস্তি তৈরি হয়। আইবিএস রোগীরা পাকা পেঁপে, পাকা কলা, ডালিম অথবা লেবুর রস খেতে পারেন। এগুলোকে বলা হয় 'লো-ফডম্যাপ' খাবার, যা পেটে সহজে গ্যাস তৈরি করে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন