০৯:৪০ এম
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য এবং লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছে দেশের বিচার বিভাগ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দাবি করছে, ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তি ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন, যারা সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। বিচার বিভাগ সতর্ক করেছে যে, যদি তাদের ভোট গণনা করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় আইন ভঙ্গের কাজে সহায়তার দায়ে অভিযুক্ত হতে পারেন।
শুক্রবার, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির সহকারী আইন উপদেষ্টা পিটার বলিঞ্জারকে এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের তিন সপ্তাহেরও কম সময় আগে এ ঘটনা ঘটেছে।
কিছু দিন আগে, বিচার বিভাগ ক্যালিফোর্নিয়াকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কথিত ‘অ-মার্কিন’ নাগরিক ভোটারদের একটি তালিকা যাচাই করতে বলেছিল। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার, ক্যালিফোর্নিয়ার বিরুদ্ধে এসব ভোট গণনা বন্ধের দাবিতে মামলা করে বিচার বিভাগ।
আরও পড়ুন: বেনজির-নওয়াজের মতো ইমরান খানকে দেশ ছাড়ায় বাধ্য করার অভিযোগ
শুক্রবার প্রকাশিত চিঠিতে ভারপ্রাপ্ত মার্কিন উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল ট্রেন্ট ম্যাককটার উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নির্বাচনে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়া একটি অপরাধ। তিনি বলেন, "জেনেশুনে এ কাজে সহায়তা করাও বেআইনি।"
ভোট জালিয়াতি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ম্যাককটার ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবার এবং লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ নিতে অস্বীকৃতি জানানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে চিঠিটি শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘তাদের সবাইকে দীর্ঘ সময়ের জন্য কারাগারে যেতে হবে!!!’
ম্যাককটারের চিঠির অনুলিপি পেয়েছেন শার্লি ওয়েবার এবং লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির নির্বাচনী নিবন্ধন ও রেকর্ড বিভাগের প্রধান ডিন লোগান। কাউন্টির আইন উপদেষ্টার কার্যালয় এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।
আরও পড়ুন: সারের অতিরিক্ত দাম নিয়ে প্রতিবাদ করায় বিহারের সাংবাদিক মোঈদ আলম গ্রেপ্তার
ওয়েবারের কার্যালয় এ বিষয়ে আগে দেওয়া একটি বিবৃতি দেখার পরামর্শ দিয়েছে। ওই বিবৃতিতে ওয়েবার বলেন, বিচার বিভাগের অঙ্গরাজ্যগুলোর সুরক্ষিত ভোটার-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। এতে নির্বাচনের প্রতি মানুষের আস্থাও কমছে।
এর আগে মঙ্গলবার ওয়েবার ও লোগানকে পাঠানো চিঠিতে ম্যাককটার জানান, কেন্দ্রীয় সরকার যাদের সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক বলে মনে করছে, তাদের একটি তালিকা লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে। তালিকাটি পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত একটি পেনড্রাইভে সরবরাহ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে এসব ব্যক্তির কাছে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যালট পাঠানো হয়েছিল।
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির আইন উপদেষ্টা ডওয়েন আর. হ্যারিসন বৃহস্পতিবার বলেন, বিচার বিভাগের অনুরোধ রাখা কাউন্টির পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন কীভাবে তালিকাটি তৈরি করেছে, তা ব্যাখ্যা করেনি। তবে শুক্রবারের চিঠিতে ম্যাককটার দাবি করেন, তালিকাটি তৈরি করতে বিচার বিভাগ অভিবাসন-সংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে যাচাই করেছে।
জুলাই মাসে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তার প্রশাসন ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি অ-মার্কিন নাগরিকের বিষয়ে প্রমাণ পেয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেননি, তাদের মধ্যে কতজন সত্যিই ভোট দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: আজারবাইজানে হিজাব নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে রাস্তায় স্কুল শিক্ষার্থীরা
এর আগে বিভিন্ন ঘটনায় দেখা গেছে, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ব্যবস্থায় ভুলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়া কিছু ব্যক্তিকেও অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অ-মার্কিন নাগরিক হয়েও অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ বাড়িয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দেখা একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইল অনুযায়ী, ভোটার তালিকা পর্যালোচনার কাজ দ্রুত শেষ করতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর ওপর চাপ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর অন্তত ৪৭টি অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকা সংগ্রহ করেছে। এসব তালিকা দ্রুত পর্যালোচনা করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: সফল অস্ত্রোপচারের পর ভ্যাটিকানে ফিরলেন পোপ লিও
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন