ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফ্যাটি লিভার থেকে ক্যানসার: নীরবে বিপদ বাড়ায় শরীরের লক্ষণগুলো


ফ্যাটি লিভার থেকে ক্যানসার: নীরবে বিপদ বাড়ায় শরীরের লক্ষণগুলো

লিভার বা যকৃত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে সহায়তা করে। এটি খাবার হজমে, পুষ্টি উপাদান সঞ্চয়ে, বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণে ভূমিকা রাখে। কিন্তু লিভারের সমস্যা দেখা দিলে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পায় না, ফলে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হতে পারে।

ফ্যাটি লিভার, হেপাটাইটিস এবং লিভার সিরোসিসের মতো রোগের সঙ্গে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘকাল ধরে লিভারের সমস্যা থাকলে শরীরের কিছু পরিবর্তন সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অকারণে ওজন কমে যাওয়া, ক্ষুধামন্দা, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি কিংবা পেটের ডান দিকে ব্যথার মতো উপসর্গকে অবহেলা করা উচিত নয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, লিভার ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ শারীরিক সমস্যার মতো মনে হয়। ফলে অনেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন না। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের পুকুরে মিঠাপানির মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত

ফ্যাটি লিভার থেকে কি ক্যানসার হতে পারে?
লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমলে তাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। বর্তমানে অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও বিপাকজনিত সমস্যার কারণে এ রোগের প্রবণতা বাড়ছে।

ফ্যাটি লিভারের সব রোগীর ক্যানসার হয় না। তবে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে লিভারে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, ক্ষত সৃষ্টি এবং পরবর্তী সময়ে সিরোসিস হতে পারে। এসব জটিলতা লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে বিপাকজনিত ফ্যাটি লিভারের গুরুতর রূপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

এ ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস বি ও সি সংক্রমণ এবং লিভার সিরোসিস লিভার ক্যানসারের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। তাই লিভারের সমস্যা শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

শরীরের যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না

আরও পড়ুন: বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

১. খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চায় পরিবর্তন না এনেও ওজন কমতে থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। অনেকেই কাজের চাপ, মানসিক উদ্বেগ কিংবা হজমের সমস্যাকে এর কারণ মনে করেন। কিন্তু কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

২. আগের তুলনায় খাওয়ার আগ্রহ কমে যাওয়া কিংবা অল্প খাবার খেয়েই পেট ভরে গেছে বলে মনে হওয়া লিভারের গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এর সঙ্গে ওজন কমে যাওয়া বা দুর্বলতা দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়।

৩. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও ক্লান্তি না কাটলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। লিভারের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে দুর্বলতা ও কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

তবে ক্লান্তি অনেক সাধারণ রোগের কারণেও হতে পারে। তাই শুধু এ লক্ষণ দেখে ক্যানসার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে মৃত্যু ১২০৭, নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ৩১

৪. লিভার ক্যানসার হলে পেটের ওপরের ডান দিকে, পাঁজরের নিচে ব্যথা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। কখনো পেটের ওই অংশে ভারী ভাব কিংবা ফোলাভাবও অনুভূত হয়।

রোগের অগ্রগতির সঙ্গে পেটে তরল জমে পেট ফুলে যেতে পারে। এ ছাড়া লিভার বড় হয়ে যাওয়ার কারণে পেটের ওপরের অংশে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গের অন্য কারণও রয়েছে। তাই সমস্যা স্থায়ী হলে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

৫. চোখের সাদা অংশ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া জন্ডিসের লক্ষণ। এর সঙ্গে প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া, মল ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া কিংবা ত্বকে চুলকানির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

লিভার ক্যানসার ছাড়াও হেপাটাইটিস, পিত্তনালির সমস্যা ও অন্যান্য রোগের কারণে জন্ডিস হতে পারে। তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন: হাম উপসর্গে দেশে আরও ২ জনের মৃত্যু, মোট শিশুর মৃত্যু ১২০৭

৬. লিভারের কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে গেলে শরীরে তরল জমে পা বা গোড়ালি ফুলে যেতে পারে। পাশাপাশি রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে সহজে কালশিটে পড়া বা রক্তপাতের প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ লিভারের বিভিন্ন জটিল রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৭. লিভারের গুরুতর রোগে বিভ্রান্তি, মনোযোগের ঘাটতি, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা কিংবা আচরণে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে আগে থেকেই লিভারের রোগ রয়েছে, এমন ব্যক্তির মধ্যে হঠাৎ মানসিক অবস্থার পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

লিভার ক্যানসার শনাক্ত করবেন যেভাবে

লিভার ক্যানসার শনাক্ত করতে চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ, পূর্ববর্তী রোগের ইতিহাস এবং অন্যান্য ঝুঁকির বিষয়গুলো বিবেচনা করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েক ধরনের পরীক্ষা করা হতে পারে। যেমন—

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে সাত, হাসপাতালে ভর্তি ১,৩৭৩ জন

রক্ত পরীক্ষা: লিভারের কার্যক্ষমতা যাচাই এবং আলফা-ফিটোপ্রোটিনের (এএফপি) মাত্রা পরীক্ষা।

আলট্রাসনোগ্রাম: লিভারের গঠন ও অস্বাভাবিক পরিবর্তন শনাক্ত করা।

সিটি স্ক্যান বা এমআরআই: লিভারে কোনো অস্বাভাবিক গঠন থাকলে তা আরও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা।

তবে কোনো একটি রক্ত পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই লিভার ক্যানসার নিশ্চিত করা যায় না। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করেন। দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি কিংবা লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী চিকিৎসক নির্দিষ্ট সময় পরপর আলট্রাসনোগ্রাম ও অন্যান্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।

আরও পড়ুন: রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০০ পদ শূন্য, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

ফ্যাটি লিভার ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে করণীয়
ফ্যাটি লিভার থাকলেই ক্যানসার হবে, এমন নয়। তবে লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা।
নিয়মিত হাঁটা ও শরীরচর্চা করা।
সুষম খাবার খাওয়া এবং অতিরিক্ত চিনি ও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার সীমিত রাখা।
ডায়াবেটিস ও রক্তে চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা।
অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা।
হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে টিকা নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হেপাটাইটিস পরীক্ষা করানো। আগে থেকে লিভারের রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পরীক্ষা করানো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধুপুর বনাঞ্চলে বৃক্ষনিধনে উজাড় চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ এম


মধুপুর বনাঞ্চলে বৃক্ষনিধনে উজাড় চলছে

পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ লাখ বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দিলেও টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে এই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। বনাঞ্চলটি বৃক্ষনিধনের মাধ্যমে দখল হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে মধুপুর বনাঞ্চল বর্তমানে উজাড় হওয়ার পথে রয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের মধুপুরের প্রাকৃতিক শাল-গজারির বন অক্সিজেনের উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বর্তমানে এই মধুপুর বনাঞ্চলে চলছে বৃক্ষনিধনের মহোৎসব। কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বনের গাছ কেটে উজাড় করার অভিযোগ উঠেছে। দোখলা রেঞ্জের সদর বিট, চুনিয়া দক্ষিণ-পূর্ব ফেকামারি, জামবাইদ এলাকার প্রায় পাঁচ বিঘা বনভূমিতে পুরোনো শাল ও গজারি শত শত গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, দিনের পর দিন প্রকাশ্যে গাছ কেটে বনভূমি উজাড় করা হচ্ছে এবং পরে এসব জমি দখল করে বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষাবাদ করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে এসব গাছ কাটা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অপরদিকে, অরণখোলা বিটে বনের জমি দখল করে স্থায়ী পাকা ইমারত নির্মাণের অভিযোগও উঠেছে।

পরিবেশবিদদের মতে, প্রাকৃতিক শালবন শুধুমাত্র গাছের সমষ্টি নয়; এটি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, মাটির গুণাগুণ রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুরোনো শাল-গজারি গাছ কেটে ফেলা হলে বনের স্বাভাবিক পুনর্জন্ম ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বনভূমি দখল করে কৃষিকাজ সম্প্রসারণ করা হলে প্রাকৃতিক বনের পরিমাণ আরো কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এ বিষয়ে পরিবেশকর্মী রাতুল মুন্সি জানান, "বন বিভাগের লোক বন কাটার পেছনে যুক্ত এটা পুরোনো গল্প।" তিনি বলেন, "বনের জীববৈচিত্র্য কেন দরকার সেই বিষয়গুলো নিয়ে যদি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা না যায়, তাহলে বন বাঁচানো সম্ভব হবে না।" তিনি আরও বলেন, "যারা সামাজিক বনের সুফলভোগী, তারাই বন কাটছে, যেটা বন বিভাগ জানে।" তিনি সতর্ক করে বলেন, "বন যেভাবে কাটা হচ্ছে, তাতে কাঠ জব্দ করে মামলা দিয়ে বন রক্ষা সম্ভব নয়।" এ বিষয়ে মানুষ সচেতন না হলে বন রক্ষা করা সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দোখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আমিনুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জামবাইদ এলাকার বন সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। তিনি বিট অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, ওই এলাকার বন কাটার বিষয়ে তারা অবগত আছেন এবং এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমানে গাছ কাটা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।

সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এসবি তানবির আহমদ ইমন জানান, "আমাকে তথ্য দেন, বিষয়টি আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব।"

টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নাজমুল আলম বলেন, "ইতোমধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ওখান থেকে সরানো হয়েছে। ছবিসহ তথ্য পাঠান, সঠিক তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনের স্বর্ণ কেনার পেছনে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৬ এম


চীনের স্বর্ণ কেনার পেছনে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য

চীন মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি আর্থিক ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলার উদ্দেশ্যে স্বর্ণের মজুত বৃদ্ধি করছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা দেশের অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজেদের সঞ্চয় সুরক্ষিত রাখতে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।

পিপলস ব্যাংক অব চায়না (পিবিওসি) সেপ্টেম্বরে টানা ২৩তম মাসের মতো স্বর্ণ কেনার ঘোষণা দিয়েছে। ওই মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বাধিক পরিমাণ স্বর্ণ কিনেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিকভাবে স্বর্ণ কেনার মাধ্যমে বেইজিং বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভের ঝুঁকি কমানোর দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সরকারি ঋণ এবং পশ্চিমা দেশের অন্য দেশের সম্পদ জব্দ করার নজির উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনীতি ও গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য বিদেশে সম্পদ রাখার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, দেশে কেনা ও সংরক্ষণ করা স্বর্ণের জন্য অন্য কোনো সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হয় না। এ কারণে নিষেধাজ্ঞা বা সম্পদ জব্দের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পাওয়ার উপায় হিসেবে চীন স্বর্ণকে বিবেচনা করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সাধারণ মানুষের স্বর্ণ কেনার উদ্দেশ্য এক নয়। বেইজিং যেখানে আর্থিক ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কমাতে চায়, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নিজেদের সঞ্চয় সুরক্ষিত রাখার বিকল্প খুঁজছেন।

কতটা স্বর্ণ কিনেছে চীন?

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ২৩ টন স্বর্ণ মজুতে যোগ করেছে। এর ফলে দেশটির ঘোষিত স্বর্ণের মজুত বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৪১০ টনে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এটিই ছিল চীনের সবচেয়ে বড় মাসিক স্বর্ণ কেনার পরিমাণ।

সেপ্টেম্বরের শেষে চীনের মোট সরকারি রিজার্ভের ৮ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল স্বর্ণ। ২০২৪ সালের শেষে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক লেনদেন পরিচালনা এবং আর্থিক সংকট মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন সম্পদ রিজার্ভ হিসেবে সংরক্ষণ করে। সাধারণত বৈদেশিক মুদ্রা, বিদেশি সরকারের ঋণপত্র ও স্বর্ণ থাকে।

চীনের অভ্যন্তরেও স্বর্ণের ব্যক্তিগত চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে দেশটিতে স্বর্ণের বার ও মুদ্রা কেনার পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।

এমনকি স্বর্ণের দাম কমলেও বিনিয়োগকারীরা কেনা অব্যাহত রেখেছেন। চলতি মাসে স্বর্ণের দাম প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের মতে, শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং দেশটির সরকারি ঋণপত্রের উচ্চ মুনাফা স্বর্ণের দাম কমানোর পেছনে ভূমিকা রেখেছে। সুদের হার বাড়তে থাকায় সুদ দেয় এমন বিনিয়োগের আকর্ষণও বেড়েছে। ফলে নিয়মিত আয় পাওয়া যায় এমন সম্পদের তুলনায় স্বর্ণ কিছু বিনিয়োগকারীর কাছে কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

কেন স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছে চীন?

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টভিত্তিক কমার্জব্যাংকের পণ্য গবেষণা বিভাগের প্রধান থু ল্যান নগুয়েনের মতে, চীনের স্বর্ণ কেনার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মার্কিন ট্রেজারি নামে পরিচিত দেশটির সরকারি ঋণপত্রের ওপর নির্ভরতা কমানো। চীনের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বড় অংশ ডলারভিত্তিক সম্পদে রাখা হয়েছে। তাই স্বর্ণের মজুত বাড়ানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি কমাতে চায় বেইজিং। নগুয়েন আল জাজিরাকে বলেন, ‘চীনের স্বর্ণ কেনা রিজার্ভকে আরও স্থিতিশীল করার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।’

২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলারের বৈদেশিক সম্পদ জব্দ করে। এ ঘটনা দেখিয়েছে, বিদেশে রাখা রিজার্ভ কত দ্রুত ব্যবহার-অনুপযোগী হয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সংঘাত তৈরি হলে চীনের বৈদেশিক সম্পদের কিছু অংশও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে; এমন আশঙ্কা রয়েছে। নগুয়েন বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে দেশে রাখা স্বর্ণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে। এটি অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল নয়। ফলে নিষেধাজ্ঞা বা সম্পদ জব্দের ঝুঁকিও অনেক কম।’

ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক ও রাজস্বসংক্রান্ত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি এটিকে প্রাথমিকভাবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা হিসেবেই ব্যাখ্যা করব।’

যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তে থাকা ঋণও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। চলতি বছরের শুরুতে দেশটির সরকারি ঋণ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস পূর্বাভাস দেয়, জনগণের হাতে থাকা ফেডারেল ঋণ ২০২৬ সালে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১০১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০৩৬ সালে ১২০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে। চীনের হাতে থাকা মার্কিন ঋণপত্রের বিষয়টিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্বর্ণকে তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছে দেশটি।

স্বর্ণ কিনছেন চীনা পরিবারগুলোও

চীনের সাধারণ মানুষের স্বর্ণ কেনার পেছনে রয়েছে ভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক উদ্বেগ। অন্য বিনিয়োগের ওপর আস্থা কমে গেলে সঞ্চয় ধরে রাখার বিকল্প হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ বাড়ে। নগুয়েন বলেন, ‘স্বর্ণের প্রবল চাহিদা আংশিকভাবে বিকল্প সঞ্চয়স্থানের অনুসন্ধানের প্রতিফলন হতে পারে।’

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল চীনের দুর্বল শেয়ারবাজারকে স্বর্ণের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে দেশটির আবাসন খাতও চাপের মধ্যে রয়েছে। অতিরিক্ত ঋণ ও অতিরিক্ত নির্মাণের কারণে বাড়ির দাম কমছে, ফলে আবাসন খাত অনেকের কাছে দুর্বল বিনিয়োগের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে সঞ্চয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে।

ডলারের বৈশ্বিক অবস্থানে কী প্রভাব পড়বে?

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের স্বর্ণ কেনা বাড়লেও তা ডলারের বৈশ্বিক আধিপত্যের অবসানের ইঙ্গিত দেয় না। নগুয়েন বলেন, ‘ডলার থেকে বড় ধরনের সরে আসার ঘটনা হিসেবে এটিকে বর্ণনা করার ব্যাপারে আমি সতর্ক থাকব। ডলার এখনো বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা।’

তবে চীনসহ বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি নতুন রিজার্ভের বড় অংশ স্বর্ণে বিনিয়োগ করে এবং আগের তুলনায় কম মার্কিন সম্পদ কেনে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণপত্রের চাহিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস দুর্বল হতে পারে। এর প্রভাব নির্ভর করবে পরিবর্তনটি কতটা ব্যাপক ও দ্রুত ঘটে, তার ওপর।

নগুয়েনের মতে, ‘মূল বিষয় হলো, এটি ডলারকে আকস্মিকভাবে বর্জন করার পরিবর্তে ধীরে ধীরে রিজার্ভের বৈচিত্র্য বাড়ানোর প্রক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ প্রবণতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে না পড়া এবং দ্রুত গতি না পাওয়া পর্যন্ত মার্কিন অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব সীমিত থাকবে।’

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক লেনদেন পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সহজলভ্য বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয়। এসব লেনদেনে ডলার এখনো প্রধান ভূমিকা পালন করে। তাই স্বর্ণ আর্থিক সুরক্ষা দিলেও ডলার রিজার্ভের সব কাজ সরাসরি প্রতিস্থাপন করতে পারে না।

আর কোন দেশ স্বর্ণ কিনছে?

নগুয়েনের মতে, চীন এমন একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ, যা বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে দেখা যাচ্ছে। এই প্রবণতা বিশেষ করে উদীয়মান বাজারের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে লক্ষণীয়। তবে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুরো কারণের একটি অংশ মাত্র।

স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে পোল্যান্ডও গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা হয়ে উঠেছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ৩১ টন এবং জুলাইয়ে আরও ৮ টন স্বর্ণ কিনেছে।

তবে কোনো দেশের স্বর্ণের মজুত বেশি হলেই যে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটি বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কিনেছে, তা নয়। উদাহরণ হিসেবে, ভারত জুনে জানিয়েছে, তাদের ভৌত স্বর্ণের মজুত প্রায় ৮৮০ দশমিক ৫ টনে অপরিবর্তিত রয়েছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের মতে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ভারতের স্বর্ণের রিজার্ভে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। দেশটি ২০২৫ সালে প্রায় ৪ টন স্বর্ণ কিনেছে, যেখানে ২০২৪ সালে কিনেছিল ৭৩ টন।

চীন ধারাবাহিকভাবে স্বর্ণ কিনলেও দেশটির মজুত যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক কম। ২০২৫ সালের শেষে চীনের স্বর্ণের মজুত প্রায় ২ হাজার ৩০০ টন হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮ হাজার ১৩৩ টন মজুতের এক-তৃতীয়াংশেরও কম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে সুপারট্যাংকারে আগুনের দাবি আইআরজিসির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ এম


হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে সুপারট্যাংকারে আগুনের দাবি আইআরজিসির

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে চলাচলের সময় একটি সুপারট্যাংকার নৌমাইনের আঘাতে আগুন লেগে যায়। বাহিনীটির দাবি, জাহাজটি অনুমোদনহীন দক্ষিণের পথ দিয়ে প্রণালি ছাড়ার চেষ্টা করার সময় এ ঘটনা ঘটে। তবে, জাহাজটির পরিচয়, ক্ষয়ক্ষতি এবং নাবিকদের অবস্থা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধের কারণে ইরানের কোন জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়নি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর সউদী আরবে ভ্রমণের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দেশটিতে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইয়েমেনের সরকার অভিযোগ করেছে যে, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামলার এক দিন পর হুথিরা এডেন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

অন্যদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, এক মার্কিন সাংবাদিককে আক্রমণ এবং জলপাইগাছ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার কারণে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফরিদপুরে দেশের প্রথম ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ এম


ফরিদপুরে দেশের প্রথম ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত

ফরিদপুর জেলা পরিষদ দেশের প্রথমবারের মতো সফলভাবে ৬০ কিলোওয়াট উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (সোলার প্যানেল) ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে শুরু করেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিলও এই সরকারি অনুদানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে নিজেদের দৈনন্দিন প্রয়োজনের ৪০ কিলোওয়াট চাহিদা পূরণ করে বাকি ২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখা ও সদর ভিআইপি ডাকবাংলোর ভবনের ছাদে স্থাপিত এই সোলার প্যানেল সিস্টেমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখার ভবনের ছাদে ৪০ কিলোওয়াট এবং ভিআইপি ডাকবাংলোর ছাদে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। উদ্বোধনের সুবিধার্থে বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদ এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো-১) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সোলার প্যানেল স্থাপনকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মার্শ পাওয়ার টেকনোলজি লিমিটেড আগামী ২০ বছর এটি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে।

জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, "সারা বিশ্বেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ-সংকট দেখা দিয়েছে। নিজস্ব ও নবায়নযোগ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে আমরা বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে পারি, সেই প্রয়াস থেকে জেলা পরিষদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"

প্রকল্পটি সম্পর্কে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, ‘দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সেই সরকারি অনুদানের সঙ্গে জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল যুক্ত করে সফলভাবে এই প্ল্যান্ট বাস্তবায়ন করেছি। ফরিদপুরই প্রথম জেলা পরিষদ, যারা সোলার সিস্টেম চালু করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে শুরু করেছে। আমাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন প্রায় ৪০ কিলোওয়াট, বাকি ২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ আমরা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করব।’

অনুষ্ঠানে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%