রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০৪ পি.এম
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত লং মার্চ এবং টাঙ্গাইল বাইপাস নগর জালফৈ পথ সভার কর্মসূচি সফল করার উদ্দেশ্যে ১৩ সেপ্টেম্বর (রবিবার) আদর্শ সমাজ কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে শহর জামায়াতের উদ্যোগে একটি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এই প্রস্তুতি সভায় শহর শাখার রুকনগণ এবং ওয়ার্ডের সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন। শহর জামায়াতের আমির মিজানুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আমির আহসান হাবীব মাসুদ।
সভায় শহর নায়েবে আমির খন্দকার আব্দুর রহিম, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম প্রমুখও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শহর সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম।
জেলা আমির তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “দেশ ও জাতির এক ক্রান্তিলগ্নে ঘোষিত ঢাকা-রংপুর লং-মার্চ ও নগর জালফৈ বাইপাসের পথসভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচি সফল করতে টাঙ্গাইল শহর ও জেলার সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে। আমরা যেকোনো মূল্যে রাজপথের এই কর্মসূচি সফল করে গণমানুষের দাবি আদায় করব, ইনশাআল্লাহ।”
সভায় লংমার্চ এবং ১৯ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল বাইপাসের পথসভা সফল করার জন্য শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ে গণসংযোগ জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ভুঁইফোড় পোর্টালের অনৈতিক দাবি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরাফাত হোসাইন একটি খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যদি কর্মজীবনে সরকারি ফির বাইরে কারো কাছ থেকে এক টাকা ঘুস নেওয়া বা চাওয়ার প্রমাণ কেউ দিতে পারে, তাহলে তিনি চাকরি ছেড়ে দেবেন।
রোববার সন্ধ্যায়, মো. আরাফাত হোসাইন তার পরিচালিত ‘এসিল্যান্ড কমলনগর’ (AC LAND Kamalnagar) ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ পোস্টে এ মন্তব্য করেন। পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। ফেসবুকে এই কর্মকর্তার প্রতি প্রশংসার ঝড় ওঠে। অনেকেই এই কর্মঠ এবং সৎ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ঘটনার বিস্তারিত ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর একটি অনিবন্ধিত পোর্টালের কিছু ব্যক্তি কমলনগর উপজেলা ভূমি অফিসে এসিল্যান্ড মো. আরাফাত হোসাইনের দপ্তরে যান। সেখানে জমিসংক্রান্ত একটি চলমান নামজারি মামলার বাদীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে তারা অনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে ওই ব্যক্তিরা নিজেদের বড় পরিচয় দিয়ে অনৈতিক সুবিধা হাসিলের চেষ্টা চালালে এসিল্যান্ড দৃঢ়তার সঙ্গে এর প্রতিবাদ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাংবাদিক পরিচয়ধারীদের অহংকারী আচরণের জবাবে এসিল্যান্ড স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আইনকানুন ও বিধিমালার বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। ভিডিওর একপর্যায়ে, অনৈতিক চাপের মুখে সততার আত্মবিশ্বাস থেকে এসিল্যান্ড বলেন, "অফিসে কারো কাছ থেকে আমি টাকা নিয়েছি বা দাবি করেছি—এমন প্রমাণ কেউ করতে পারলে আমি চাকরি ছেড়ে দেব।"
এ বিষয়ে ভূমি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসাইন তার পরিচালিত ‘এসিল্যান্ড কমলনগর’ (AC LAND Kamalnagar) ফেসবুক আইডিতে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, যোগদানের পর থেকেই ভূমি সেবাকে শতভাগ দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি পালন করছেন। সরকারি ফির বাইরে কেউ কোনো অবৈধ লেনদেন করেছে কিনা, শুনানিকালে তিনি নিজেই সেবাগ্রহীতাদের কাছে জানতে চান। এই অবস্থায় স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচারের প্রতিবাদে তিনি এ উন্মুক্ত চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, বিচারিক প্রক্রিয়া না মেনে সরকারি দপ্তরে হট্টগোল সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। নামজারি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে বিধি অনুযায়ী আপিলের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে একজন সৎ কর্মকর্তাকে সামাজিক ও মানসিকভাবে হেয় করার চেষ্টা তীব্র নিন্দনীয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোল্লাহাটের বাগেরহাটে মাছের ঘেরে শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা ঘটে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের দাড়িয়ালা গ্রামে।
মৃত দুই বোন হলো দাড়িয়ালা গ্রামের মোস্তাইন শেখের মেয়ে লামিয়া আক্তার জান্নাতি (১০) এবং মোস্তাক শেখের মেয়ে সামিয়া (৯)। তারা চাচাতো বোন হিসেবে পরিচিত। উভয়েই স্থানীয় দাড়িয়ালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
মোল্লাহাট থানার এসআই প্রসেন কুমার সানা স্থানীয়দের উদ্ধৃত করে জানান, রোববার সকাল ৭টার দিকে ঘুম থেকে উঠে লামিয়া ও সামিয়া পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বাড়ির পাশের মাছের ঘেরে শাপলা তুলতে চলে যায়। উল্লেখ্য, তারা কেউই সাতার জানত না।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শাপলা তুলতে গিয়ে একজন পানিতে পড়ে গেলে অপরজন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে পানিতে পড়ে যায়। ফলে দুজনই পানিতে তলিয়ে যায়।
এসআই প্রসেন কুমার সানা বলেন, সকাল ৮টার দিকে একজন প্রতিবেশী মাছের ঘেরে সামিয়ার লাশ ভাসতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা লামিয়াকে বাড়িতে না পেয়ে ঘেরে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পানির নিচ থেকে অচেতন অবস্থায় লামিয়াকে উদ্ধার করা হয়।
পরে দুজনকে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের মতে, দুই চাচাতো বোন প্রায় সমবয়সী হওয়ায় তারা সবসময় একসঙ্গে খেলাধুলা করত এবং পরস্পরের সঙ্গে থাকত। তাদের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মোল্লাহাট থানা পুলিশ জানায়, স্বজনদের কোনো আপত্তি না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই দুই শিশুর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গার বিএডিসির গোডাউনে বরাদ্দকৃত ৪৪০ বস্তা টিএসপি সার পাচারের সময় স্থানীয়দের দ্বারা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রাকটিও আটক করা হয়েছে।
রোববার সকালে (১৩ সেপ্টেম্বর) আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া সড়কের চিৎলাবাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে হাপানিয়া ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জব্দকৃত সারসহ ট্রাকটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিপুল পরিমাণ সরকারি সার বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই অন্যত্র সরানো হচ্ছিল। স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ট্রাকটি আটক করে। আটককৃত ট্রাকের চালানে পণ্যের বিবরণে টিএসপি সার এবং পরিবহণের পরিমাণসহ বিভিন্ন তথ্য হাতে লেখা ছিল। তবে চালান কপির উল্লেখিত তথ্যের সঙ্গে আটক সার, ট্রাকের গন্তব্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্যের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
জব্দ করা সার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের মুদি ব্যবসায়ী মিনারুল ইসলামের। সার আটকের পর মিনারুল ইসলাম জানান, সারগুলো যশোরের নওয়াপাড়া থেকে ট্রাকে করে আনা হচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, ইউনিয়নের কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ করতে না পারায় নওয়াপাড়া থেকে সার এনে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, সার পাচারের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত মিনারুল ইসলামসহ জব্দকৃত সার এবং ট্রাক চালককে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পুলিশ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১টি জেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান ও নিয়মিত মামলার আওতায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এ তথ্য আজ পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ১১৭ জন, পূর্ববর্তী মামলায় ৭৩ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ৩৩ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ৪ জন, ১৫১ ধারা ও অন্যান্য আইনে ৩৬ জন, পরোয়ানা মূলে ১১২ জন এবং সাজা পরোয়ানা মূলে ১১ জন রয়েছেন।
এছাড়া, মাদক মামলায় ৫১ জন মাদক ব্যবসায়ী, ২ জন মাদক বহনকারী ও ৮৫ জন মাদকসেবীসহ মোট ১৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানের সময় ৬২ হাজার ৯৩২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৪ কেজি ৩১৪ গ্রাম গাঁজা, ৭২ বোতল বিদেশি মদ, ১০ লিটার চোলাই মদ, ৩ বোতল বিয়ার, ২৫ বোতল স্কাফ সিরাপ এবং ১০৭ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৮৭ জনকে কারাদণ্ড এবং ৯ হাজার ৯০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময় ৩৭টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানায়, জনস্বার্থে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ