মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:১৮ পি.এম
মতবিনিময় শেষে টঙ্গী বাজারের রাস্তা উদ্বোধন করেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার
গাজীপুরের টঙ্গী বাজারে সম্মানিত ওলামা-মাশায়েখ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) টঙ্গী বাজারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকার।
সভায় সভাপতিত্ব করেন টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাশেদুল ইসলাম কিরণ।
মতবিনিময় সভায় ওলামা-মাশায়েখ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে টঙ্গী বাজারের বিভিন্ন সমস্যা, ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং বাজার এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাজারের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং জনসাধারণের চলাচল সহজ করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভা শেষে প্রধান অতিথি মো. শওকত হোসেন সরকার টঙ্গী বাজারের একটি রাস্তা উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীরা বাজার এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করা এবং বাজার এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী অঞ্চলে ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মৃত সাইফুল ইসলামের বিধবা স্ত্রীকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে সেলাই মেশিন উপহার প্রদান করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার বিকেলে, জামায়াতের স্থানীয় নেতারা সাইফুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীর হাতে সেলাই মেশিনটি তুলে দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান, বনগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আবু ইছা, ইউনিয়ন প্রচার সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান, ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মাওলানা মো. ইদ্রিস আলী, পেশাজীবী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন, বিশিষ্ট সমাজসেবক চেরাগ আলী এবং মো. মিজানুর রহমানসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সূত্রের খবর, সাইফুল ইসলাম বনগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যুর পর পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলা ও তার স্ত্রীর জীবিকা নির্বাহের পথ তৈরি করার জন্য সেলাই মেশিন উপহার দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে জামায়াতে ইসলামী।
সেলাই মেশিন প্রদান শেষে, সাইফুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।
সাইফুল ইসলামের স্ত্রী ঝুমা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি ছিলেন। আমরা বিএনপির রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হলেও জামায়াতে ইসলামী দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং আমাকে একটি সেলাই মেশিন উপহার দিয়েছে। আমার তিনটি মেয়ে রয়েছে। এমন সহযোগিতা আমার পরিবারের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো দলীয় ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। জামায়াতে ইসলামীর এই মানবিক উদ্যোগের জন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের জন্য প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের (সুমন) জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই বিষয়টি অনুমোদনের জন্য আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে এই সরকারের মেয়াদেই সচিবালয় স্থানান্তরের মূল কার্যক্রম শুরু হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, সচিবালয় স্থানান্তরের জন্য অতীতে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়েছিল, যার ভিত্তিতে নীতিগত কাজ ও প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এখন বিষয়টি নিয়ে আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে এবং অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বর্তমান সচিবালয়ের স্থানসংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, গাড়ি পার্কিং এবং স্থানসংকটের কারণে প্রায়ই জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক মন্ত্রণালয়ের দপ্তর মূল ভবনের বাইরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। তাছাড়া, ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত বর্তমান সচিবালয়ের বেশিরভাগ ভবনই বেশ পুরোনো হয়ে গেছে। ভূমিকম্পসহ যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এসব ভবনের স্থায়ী বিকল্প খোঁজা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সব দিক বিবেচনা করে বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই সচিবালয় আগারগাঁওয়ে নতুন স্থানে স্থানান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও সদিচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করে জাকারিয়া তাহের বলেন, মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেলে বর্তমান সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ ও স্থানান্তরের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় রেলকোচ সংস্কারের মান নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মন্ত্রী বলেছেন, ‘সৈয়দপুর রেলকারখানায় রেলকোচ সংস্কারকাজ একেবারেই বন্ধ করে দেওয়া হোক। এত বড় একটি কারখানায় রেলওয়ে কোচ সংস্কারকাজের মান এত নিম্নমানের, এখানে নিজে না এলে তা কোনোভাবেই বুঝতে পারতাম না। এ ধরনের কাজ দেখার পর এখানকার কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের যোগ্যতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন থেকে যায়।’
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শনকালে রেলকোচের জানালা সংস্কারকাজ প্রত্যক্ষ করার পর তিনি এসব মন্তব্য করেন।
পরিদর্শনের সময় কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নূর মোহাম্মদকে উদ্দেশ্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে জানালার যেভাবে সংস্কার করা হচ্ছে, এর চেয়ে অনেক ভালো কাজ ছোটখাটো যেকোনো ওয়ার্কশপেও করা সম্ভব। আপনার নিজের বাড়ির জানালার সংস্কারকাজ হলে কি এভাবে অবহেলাভাবে কাজ করতেন?’
এ সময় মন্ত্রী কারখানার বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। যাত্রীসেবার মান বাড়াতে সংস্কারকাজে ব্যবহৃত উপকরণ ও কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি।
মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং মন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) হাবিবুল হাসান রুমি।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ, কর্মব্যবস্থাপক এম মমতাজুল ইসলাম, নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার পদস্থ কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
শিক্ষার্থীদের আপত্তি ঘিরে আলোচনা, অধ্যক্ষের ক্ষমাসুন্দর মনোভাব; ছোট শিশুদের শিক্ষার সুযোগ ও ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দাবি
দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শাখা পুনরায় চালুর পরিকল্পনাকে ঘিরে শিক্ষা অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একদিকে ছোট শিশুদের মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা, অন্যদিকে শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের সংকট নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশের আপত্তি—সব মিলিয়ে বিষয়টি অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের প্রতি ক্ষমাসুন্দর মনোভাব প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রফেসর তপন কুমার সাহা। শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আচরণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “ওরা আমার সন্তানের মতো, ক্ষমা করেছি।” তাঁর এই বক্তব্য শিক্ষার্থীদের প্রতি একজন শিক্ষকের স্নেহ ও দায়িত্ববোধের পরিচয় তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষকের মর্যাদা, শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা এবং পারিবারিক মূল্যবোধের গুরুত্বও নতুন করে সামনে এসেছে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের আচরণ নিয়ে তালাশ বিডির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর তপন কুমার সাহা।
শিক্ষার্থীদের একাংশের আচরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, “ওরা আমার সন্তানের মতো। তাই যত বেয়াদবি, অসদাচরণ কিংবা অশ্লীল ভাষার ব্যবহারই করুক না কেন, দিনশেষে তো আমি ওদের শিক্ষক। আমি ওদের মন থেকে ক্ষমা করে দিয়েছি।”
অধ্যক্ষের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের প্রতি ক্ষমাশীলতা ও অভিভাবকসুলভ মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো দাবি বা মতপার্থক্য থাকলে তা শালীনতা, যুক্তি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে প্রকাশ করাও জরুরি।
অভিভাবকদের দায়িত্ব প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, “শুধু কোনো ভালো স্কুল বা কলেজে সন্তানকে ভর্তি করিয়ে দিলেই অভিভাবকের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। একটি শিশুর নৈতিক ভিত্তির মূল শেকড়টি গড়ে ওঠে তার পরিবার থেকে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সমাজে অনেক বাবা-মা পেশাগত ব্যস্ততার কারণে সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে কিংবা কী করছে, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত খোঁজ রাখতে পারেন না। তাঁর মতে, পারিবারিক তদারকি ও নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি শিশুদের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সন্তানকে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ানোর পাশাপাশি তার মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতেও অভিভাবকদের সচেতন থাকা প্রয়োজন।
বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রাথমিক শাখা পুনরায় চালুর পরিকল্পনার বিপরীতে শিক্ষার্থীদের একাংশ শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন করে প্রাথমিক শাখার কার্যক্রম শুরু হলে উচ্চমাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হতে পারে।
অন্যদিকে, প্রাথমিক শাখা চালুর পক্ষে আগ্রহী অভিভাবকদের প্রত্যাশা, তাঁদের সন্তানরা একটি পরিচিত ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ পেলে শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই ভালো ভিত্তি গড়ে তুলতে পারবে।
অভিভাবকদের মতে, শিক্ষকসংকট বা শ্রেণিকক্ষের সীমাবদ্ধতা থাকলে তা সমাধানের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এসব সমস্যা যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে ছোট শিশুদের শিক্ষার সুযোগ এবং বড় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান—দুটিই কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের আপত্তির কারণ ও প্রতিষ্ঠানের বর্তমান সক্ষমতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকসংখ্যা, শ্রেণিকক্ষ, সময়সূচি, শিশুদের নিরাপত্তা এবং ক্যাম্পাসে চলাচলের ব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রাথমিক শাখা চালুর উদ্যোগ এবং শিক্ষাঙ্গনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে অভিভাবকদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষাও অর্জন করা জরুরি।
অভিভাবকদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো, শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ। তাঁদের মতে, কোনো বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আপত্তি থাকলে তা যুক্তিসংগতভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা উচিত। দাবি আদায়ের ক্ষেত্রেও শালীনতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শোনা এবং তাদের যৌক্তিক সমস্যার সমাধান করাও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সব পক্ষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো গেলে শিক্ষাঙ্গনে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন এক রকম নয়। প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষ ও বাড়তি তদারকি প্রয়োজন। অন্যদিকে, উচ্চমাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানও নির্বিঘ্ন রাখা জরুরি।
এ কারণে প্রাথমিক শাখা চালুর আগে প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সক্ষমতা, শিক্ষকসংখ্যা, শ্রেণিকক্ষের প্রাপ্যতা, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ এবং সময়সূচি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উভয় শিক্ষাস্তরের প্রয়োজন সমন্বয় করা সম্ভব কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা ভুল-বোঝাবুঝি কমাতে এবং গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে পেতে সহায়ক হতে পারে।
বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রাথমিক শাখা পুনরায় চালুর বিষয়ে সচেতন অভিভাবকদের প্রত্যাশা, কর্তৃপক্ষ যেন প্রতিষ্ঠানের বাস্তব সক্ষমতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা, শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা এবং ছোট শিশুদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
অধ্যক্ষ প্রফেসর তপন কুমার সাহার ক্ষমাসুন্দর বক্তব্য শিক্ষার্থীদের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, অভিভাবকদের উদ্বেগ মনে করিয়ে দেয়, একটি শিশুর প্রকৃত বিকাশে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকুক, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক মতপ্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত হোক এবং ছোট শিশুদের জন্য তৈরি হোক নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ। পারস্পরিক বিরোধ নয়, বরং দায়িত্বশীল আলোচনা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাথমিক শাখা চালুর বিষয়ে একটি ইতিবাচক সমাধান বেরিয়ে আসুক—এটাই সচেতন অভিভাবক সমাজের প্রত্যাশা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ