শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৩৫ এম
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুরো সিরাজগঞ্জ শহর বর্ণিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত হয়েছে। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে শহরের প্রতিটি সড়কে নানা রঙের বাহারি বাতি জ্বলে উঠছে। এই আলোকসজ্জার সৌন্দর্য উপভোগ করতে রাত হলেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে বের হচ্ছেন শহরবাসী। পাশাপাশি, পূজার এই আয়োজন দেখতে আসছেন পার্শ্ববর্তী জেলার দর্শনার্থীরাও।
মন্দিরে মন্দিরে দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে সাজসাজ রব চলছে। মৃন্ময়ী প্রতিমা থেকে চিন্ময়ী ত্রিনয়নী দেবী দুর্গা নতুন রূপে সেজে উঠেছেন। প্রতিদিন ঢাক-ঢোল ও কাঁসির বাদ্যে ফুল, ফলসহ নানা নৈবেদ্য দিয়ে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে দেবীর কাছে প্রার্থনা করছেন ভক্তরা।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে শহরের প্রতিটি সড়ক নানা রঙের বাহারি আলোকবাতিতে সাজানো হয়েছে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই এসব বাতি জ্বলে উঠছে। ফলে পুরো সিরাজগঞ্জ শহর উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। পূজা উপলক্ষে শহরজুড়ে এই আলোকসজ্জার আয়োজন দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।
যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার উৎসবের আমেজ বেড়েছে কয়েক গুণ। অনেকেই রাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে বের হচ্ছেন এবং মুঠোফোনে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সন্তোষ কুমার কানু জানান, রাত হলেই দূরদূরান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে দর্শনার্থীরা আলোকসজ্জার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মধ্যরাত পর্যন্ত উৎসবের এই আয়োজন উপভোগ করছেন। পাশ্ববর্তী জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা পূজার আয়োজন দেখতে আসছেন। পূজা উপলক্ষে নিজের শহরের বাহারি আলোকসজ্জা দেখে সবাই খুশি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আলোকসজ্জায় আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু জানান, পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। পূজাকে কেন্দ্র করে পুরো শহরজুড়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া, দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে প্রতিটি সড়কে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে ট্রাফিক পুলিশ।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, এ বছর সিরাজগঞ্জে ৫৪২টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) একটি সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং একটি কনস্টেবলকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে। আটক হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন এএসআই ইমরান এবং কনস্টেবল রোহিত।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মাদক উদ্ধারের উদ্দেশ্যে ওই দুই পুলিশ সদস্য সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় নতুন কনস্টেবল রোহিত রাস্তা চিনতে না পেরে এক মাদক কারবারির বাড়ির দিকে ধাওয়া করতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলার এলাকায় প্রবেশ করে।
পরে স্থানীয় মাদক কারবারিরা তাকে আটক করে। কনস্টেবল রোহিতকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে এএসআই ইমরানকেও বিএসএফ আটক করে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুই সদস্যকে ফিরিয়ে আনতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন।
প্রাসঙ্গিক:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফুরুস বাংলাদেশে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় আলংকারিক ফুলগাছ হিসেবে পরিচিত। গ্রীষ্মকাল থেকে শুরু করে শরৎকালের শেষ পর্যন্ত এই ফুল ফুটে প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তোলে। এর চমৎকার পুষ্পমঞ্জরি, আকর্ষণীয় পাপড়ির গঠন এবং দৃষ্টিনন্দন কাণ্ড উদ্যান কিংবা পথের ধারে এক অনন্য রূপ সৃষ্টি করে। বৈজ্ঞানিক নাম Lagerstroemia indica এবং এটি Lythraceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ইংরেজিতে একে সাধারণত Crape Myrtle বলা হয়। চলতি বছরের ২৪ জুন নরসিংদী সরকারি কলেজের ক্যাম্পাসে ফুলের ছবিটি তুলেছিলাম।
ফুরুস একটি মাঝারি আকারের পাতাঝরা গুল্ম বা ছোট বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণত এটি তিন থেকে ছয় মিটার (১০ থেকে ২০ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এর শাখা-প্রশাখা ঘন এবং চারদিকে ছড়ানো থাকে। ফুরুস গাছের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর মসৃণ ও দৃষ্টিনন্দন কাণ্ড। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাছের ছাল বা বাকল পাতলা স্তরে উঠে যায়, ফলে কাণ্ডের গায়ে ধূসর, বাদামি ও গোলাপি রঙের মসৃণ এক মিশ্র আভা তৈরি হয়। এর পাতাগুলো সাধারণত ছোট, ডিম্বাকৃতি বা আয়তকার এবং মসৃণ। বসন্ত ও গ্রীষ্মে পাতাগুলো গাঢ় সবুজ থাকে, তবে শীতের শুরুতে ঝরে পড়ার আগে পাতাগুলো তামাটে বা লালচে-হলুদ রং ধারণ করে।
ফুরুসের ফুল গ্রীষ্মকাল থেকে শরৎকালের শেষ পর্যন্ত ফুটতে থাকে। শাখার ডগায় গুচ্ছাকারে প্রচুর ফুল ফুটে। এর পুষ্পবিন্যাস প্যানিকল। পাপড়িগুলো পাতলা, কোঁচকানো এবং দেখতে ক্রেপ পেপারের (Crepe paper) মতো, যার কারণে এর নাম ক্রেপ মার্টল। ফুরুসের ফুলের রঙে বৈচিত্র্য রয়েছে। গোলাপি, বেগুনি, লাল, সাদা এবং জাম রঙের ফুল সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ফুল ঝরে যাওয়ার পর গাঢ় বাদামি রঙের ছোট ছোট গোলাকার ফল বা ক্যাপসুল তৈরি হয়। ফলের ভেতরে ডানাযুক্ত ছোট বীজ থাকে।
পার্ক, বাড়ির বাগান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং রাস্তার বিভাজক সাজাতে ফুরুস ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। খরা ও অতিরিক্ত তাপ সহ্য করার ক্ষমতার কারণে নগর সৌন্দর্যায়ন ও ল্যান্ডস্কেপিংয়ে এর তুলনা নেই। ফুরুস ফুল মৌমাছি, প্রজাপতি এবং অন্যান্য পরাগায়ণকারী পতঙ্গকে প্রচুর পরিমাণে আকর্ষণ করে, যা স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। ঐতিহ্যবাহী ভেষজ চিকিৎসায় ফুরুসের ছাল, পাতা ও মূলের সীমিত ব্যবহার রয়েছে। এর ছাল ও পাতায় উচ্চমাত্রায় ট্যানিন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান থাকে, যা প্রদাহবিরোধী ও জীবাণুনাশক হিসেবে গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
গাছটি তুলনামূলকভাবে রোগবালাইমুক্ত এবং খুব বেশি যত্নের প্রয়োজন হয় না। রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশ ও সুনিষ্কাশিত মাটিতে এটি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। কাটিং বা অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে এর চারা তৈরি করা খুব সহজ, যা নার্সারি ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক। এছাড়া বায়ুদূষণ সহ্য করতে পারায় শিল্পাঞ্চলেও এটি বেশ উপযোগী। ফুরুস শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং তপ্ত গ্রীষ্মে প্রকৃতিকে এনে দেয় স্নিগ্ধতা ও সতেজতার পরশ। উদ্যানপ্রেমীদের কাছে ফুরুসের কদর চিরন্তন।
লেখক : অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, মুমিনুন্নিসা সরকারি কলেজ, ময়মনসিংহ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে আইনি সহায়তা প্রদান করা আবশ্যক।
মো. আসাদুজ্জামান, আইনমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সমালোচনার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ফোর্ট হুডে গুলির ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না। তবে নিহত ব্যক্তিদের নিকটাত্মীয়েরা চাইলে সশরীর উপস্থিত থেকে তা দেখতে পারবেন। এ তথ্য রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর আগে নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পক্ষে তিনি অবস্থান নিয়েছিলেন।
ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন, “আমার মনে হয়, মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হলে তা অন্যদের এ ধরনের অপরাধ করা থেকে বিরত রাখতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারত। বিশ্ব দেখতে পেত, সন্ত্রাসী ও নিদাল হাসানের মতো অপরাধীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে আচরণ করে।”
তবে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, অনেক ভালো ও বিবেকবান মানুষ সরাসরি সম্প্রচার বা অন্য কোনো মাধ্যমে তার মৃত্যুর দৃশ্য দেখতে চান না। তাই এই ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না।
তিনি আরো বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। নিহত ব্যক্তিদের নিকটাত্মীয়েরা চাইলে সশরীর তা দেখতে পারবেন। ট্রাম্প বলেন, তারা ন্যায়বিচার প্রত্যক্ষ করার অধিকার রাখেন।
পেন্টাগনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩ ডিসেম্বর হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা রয়েছে। তবে এটি সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্পের দলের রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন নেতাও সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও রয়েছেন। ধর্মীয় নেতা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, “আমি নিশ্চিত করে বলছি, সাধারণ মানুষ নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা সরাসরি দেখতে পারবেন। মানুষের বোঝা উচিত, এমন কর্মকাণ্ডের (তার হত্যাকাণ্ড) পরিণাম কত ভয়ানক।”
মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ‘রিয়াল আমেরিকাস ভয়েস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, একদল সেনা গুলি করে (ফায়ারিং স্কোয়াডে) নিদালের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবেন।
সাম্প্রতিক কয়েকটি জনমত জরিপেও দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের বিরোধী।
নিদাল হাসান যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক মনোরোগ–বিশেষজ্ঞ। ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুডে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে সামরিক আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ