ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার


দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে ৩৬ দশমিক ৪১ বিলিয়ন (তিন হাজার ৬৪১ কোটি ১৮ লাখ) ডলারে পৌঁছেছে। অপরদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন (তিন হাজার ১৬০ কোটি চার লাখ) ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার। ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

এর আগে, ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। ১১ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩১ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার।

৭ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগুনে পুড়েছে পুঁজি, মাথায় ১০ লাখ টাকার ঋণ, দিশাহারা যুবদল নেতা ইমরুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৪ এম


আগুনে পুড়েছে পুঁজি, মাথায় ১০ লাখ টাকার ঋণ, দিশাহারা যুবদল নেতা ইমরুল

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ফলিয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আটটি পাটের গুদাম ও তিনটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় তিন হাজার মণ পাটসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন আলফাডাঙ্গা উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইমরুল হাসান। তাঁর গুদামে থাকা দেড়শ মণ পাট, ২০০ মণ পেঁয়াজ, ৫০ মণ রসুন ও ৪০ মণ চালসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ নিয়ে চরম সংকটে রয়েছেন তিনি।

গত শনিবার রাত ৮টার দিকে একটি পাটের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা আশপাশের গুদাম ও দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ইমরুল হাসান বলেন, ব্যবসাই আমার আয়ের প্রধান মাধ্যম। আগুনে সব মালামাল পুড়ে গেছে। প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ রয়েছে। কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পাশে পাননি। তবে ফরিদপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন তাঁর খোঁজখবর নিয়েছেন ও আশ্বাস দিয়েছেন। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে দলীয় নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোটিশ উপেক্ষা, শেষ পর্যন্ত ভাঙল ইনানীর চারতলা রিসোর্ট ভবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ এম


নোটিশ উপেক্ষা, শেষ পর্যন্ত ভাঙল ইনানীর চারতলা রিসোর্ট ভবন

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ইনানীতে চারতলা একটি রিসোর্ট ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও, ভবনটির নিচে ও দুই পাশে থাকা ১০ থেকে ১২টি দোকানঘরও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

কউক জানিয়েছে, ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র ও অনুমোদিত নকশা ছাড়াই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণকাজে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুসরণ না করার অভিযোগও রয়েছে। তবে মালিকপক্ষের দাবি, তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও তাদের স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।

গত ১৭ অক্টোবর কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ফলে ১০ পর্যটক প্রাণ হারান। আহত হন আরও ছয়জন। এই ঘটনার নয় দিন পর কউক অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। অভিযানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে ইনানীতে নৌবাহিনীর জেটির পূর্ব পাশে অবস্থিত ওই রিসোর্ট ভবনের সামনে এক্সক্যাভেটর নিয়ে আসা হয়। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা ভিড় করেন। দুপুরের দিকে ভবনের নিচে ও দুই পাশে থাকা ১০ থেকে ১২টি দোকানঘর ভেঙে ফেলা হয়। এরপর চারতলা ভবনটির কাচের গ্লাস ভাঙা হয়। পরে মূল ভবনের পিলারসহ বিভিন্ন অংশ অপসারণের কাজ করা হয়।

উপজেলা প্রশাসনের দাবি, ভবনটির নির্মাণকাজের শুরু থেকেই কাঠামোগত ত্রুটি ছিল। দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত পিলার ছিল না। পরে ভবনের ভেতরে পিলার যুক্ত করা হয়। নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হলেও মালিকপক্ষ তা মানেনি। এ কারণে আর সময় না দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।

উখিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু আবদুল্লাহ জানান, কউকের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক বিষয় তদারকির জন্য তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভবনটির কাঠামোগত দুর্বলতার বিষয়ে আবু আবদুল্লাহ বলেন, ভবনের বিমে আঘাত করার সঙ্গে সঙ্গেই সেগুলো ভেঙে পড়ছে। প্রশাসনের কাছে নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু ছবিও রয়েছে। সেসব ছবি থেকে নির্মাণকাজের বিভিন্ন অসংগতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, গত ১৯ অক্টোবর কউকের সচিব সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপরও মালিকপক্ষ আরও এক দিন সময় চেয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয়নি।

কউকের সচিব সানজিদা বেগম জানান, অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কেউ রিসোর্ট বা ভবন নির্মাণ করলে যেকোনো সময় সেই স্থাপনা উচ্ছেদ করা হতে পারে।

তিনি বলেন, ২০২৫ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নোটিশ দিয়ে নির্মাণকাজের অনিয়ম সম্পর্কে জানানো হয়েছে। ভবন নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয় ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র (এলইউসি) নেওয়ার বিধান থাকলেও মালিকপক্ষ তা নেয়নি বলে কউকের দাবি। অনুমোদিত নকশা না থাকা এবং বিএনবিসি অনুসরণ না করার অভিযোগও রয়েছে।

সানজিদা বেগম বলেন, বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে স্থাপনা অপসারণের কাজ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ বছর কক্সবাজারে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় অভিযানে বিরতি ছিল। তবে বর্তমান অভিযান নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ।

টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। অবৈধভাবে রিসোর্ট নির্মাণকারীরা যাতে সতর্ক হন এবং আইন মেনে স্থাপনা নির্মাণ করেন, সে জন্যও এ অভিযান গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র থাকার বিষয়ে মালিকপক্ষের দাবির প্রসঙ্গে কউকের সচিব বলেন, শুধু পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র থাকলেই ভবন নির্মাণের অনুমতি পাওয়া যায় না। এ জন্য ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র, অনুমোদিত নকশাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই মালিকপক্ষকে বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হয়েছে। গত দেড় থেকে দুই বছর ধরে নোটিশ ও সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও সেগুলো যথাযথভাবে আমলে নেওয়া হয়নি বলে তাদের পর্যবেক্ষণ। উচ্ছেদ কার্যক্রম শেষ হতে কত সময় লাগবে, তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধান্ত নেবেন।

উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বে হিলটন রিসোর্টের মালিকপক্ষ। তাদের দাবি, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দেওয়া চিঠির জবাব দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দেওয়া হয়েছে। এরপরও কেন ভবনটি অপসারণ করা হচ্ছে, তা তাদের বোধগম্য নয়।

মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মো. জসিম বলেন, ২০১৫ সাল থেকে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রতিটি চিঠির জবাব তারা দিয়েছেন। সম্প্রতি কারণ দর্শানোর নোটিশেরও জবাব দেওয়া হয়েছে। ভবন নির্মাণের কাগজপত্র, ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি, পরিকল্পনার অনুমোদন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ বিভিন্ন নথি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

জসিম আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্রের জন্যও আবেদন করা হয়েছে। মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য অন্তত এক দিন সময় চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় দেওয়া হয়নি।

কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, মেরিন ড্রাইভে অনেক রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে উঠেছে। অবৈধ হোটেল-রিসোর্টগুলোকে আইনের আওতায় আনার পক্ষে তারাও।

মুকিম খান বলেন, টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে পর্যটকদের প্রাণহানির ঘটনায় কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা এড়াতে আইন মেনে স্থাপনা নির্মাণ নিশ্চিত করা জরুরি।

এদিকে ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ৫০০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১০০টি ফায়ার লাইসেন্স নিয়েছে। বাকি ৪০০টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী: সৌদি আরবকে পূর্ণ শক্তি দিয়ে রক্ষা করবে দেশটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ এম


পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী: সৌদি আরবকে পূর্ণ শক্তি দিয়ে রক্ষা করবে দেশটি

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় ‘পূর্ণ শক্তি’ নিয়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ইসলামাবাদের কাছে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা পাকিস্তানের নিজস্ব ভূখণ্ড রক্ষার মতোই গুরুত্বপূর্ণ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন খাজা আসিফ। হুথিদের ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান, সৌদি আরব, ইরান ও তুরস্কের আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে আলোচনা চলাকালীন তিনি এ কথা বলেন।

পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির তেহরানে ইরান, সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে চারটি দেশ আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের জন্য সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়।

খাজা আসিফ বলেন, ‘সৌদি আরবকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।’ তিনি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আমরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে সৌদি আরবকে রক্ষা করব।’

পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক চুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ইসলামাবাদ রিয়াদকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও জানান তিনি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাও আমাদের কাছে ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।’

এ সময় একটি চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন খাজা আসিফ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনটি দেশ লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেছে যে চুক্তির আওতাভুক্ত কোনো হুমকি দেখা দিলে তারা যৌথভাবে তার মোকাবিলা করবে। তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, এখন তিনটি দেশ চুক্তির মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমরা একে অপরের ভূখণ্ড রক্ষা করব।’

আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধানের তেহরান বৈঠক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন খাজা আসিফ। বৈঠকটি হুতিদের হামলা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ঘিরে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল তার কাছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, তার ধারণা, এই উদ্যোগ মূলত সৌদি আরবকে ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়টি অবশ্যই আলোচনায় এসেছে। এটি এমন নয় যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়নি।’

তেহরানে সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এই কূটনৈতিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলে মন্তব্য করেন খাজা আসিফ। তিনি জানান, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রচেষ্টার ফলে এ উদ্যোগ সম্ভব হয়েছে। তার মতে, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। ইরানের প্রচেষ্টা এবং অন্যান্য দেশের অংশগ্রহণের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা এবং পবিত্র দুই মসজিদ—মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির ওপর হামলার চেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন খাজা আসিফ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেন।

‘কোনো একটি সমাধানে পৌঁছেছি’

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান, সৌদি আরব, ইরানসহ নিরাপত্তা কাঠামোর আওতাধীন অন্যান্য দেশ কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, আমরা এমন একটি সমাধানে পৌঁছেছি, যা এই যুদ্ধ বন্ধ করার প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করতে পারে।’

আলোচনার ফলাফল নিয়ে এখনো কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলে জানান খাজা আসিফ। তবে ইরান ও আলোচনায় অংশ নেওয়া দেশগুলোর বিবৃতি প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করছেন তিনি।

পাকিস্তানের নেতৃত্বের কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো ‘ফল দিতে শুরু করেছে’ বলেও মন্তব্য করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরির ক্ষেত্রেও অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স বন্ধ, কারণ ক্রেতা সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৬ এম


কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স বন্ধ, কারণ ক্রেতা সংকট

রাজধানীর কাকরাইলে গত শতাব্দীর শেষের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স। একসময় এই বিপণিবিতানে জামা, জুতা, প্রসাধনী, জুয়েলারি সহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকত। তবে সময়ের সাথে সাথে নানা কারণে ক্রেতা হারাতে শুরু করে বিপণিবিতানটি। এক পর্যায়ে বেচাকেনা এতটাই কমে যায় যে, দোকানমালিকেরা গত ১ অক্টোবর সম্পূর্ণভাবে বিপণিবিতানটি বন্ধ করে দেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকালে কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটকের শাটার বন্ধ রয়েছে। তার ওপরে একটি পিভিসি ব্যানার ঝুলছে, ‘১ অক্টোবর হতে শপিং কমপ্লেক্স বন্ধ থাকিবে’। যদিও বিপণিবিতানের ফটক বন্ধ, তবে দুই পাশের ছয়–সাতটি দোকান ও একটি এটিএম বুথ চালু রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফুড কোর্টে চার–পাঁচজন ক্রেতা দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে ২০তলা ভবনের বেজমেন্ট ও ৪ তলা নিয়ে শুরু হয় কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স। ভবনের বাকি তলায় ছিল অ্যাপার্টমেন্ট। কর্ণফুলী গ্রুপের নির্মাণ করা এই বিপণিবিতানের ১৯৮টি দোকানের মালিকানা কিনে নিয়েছিলেন ১২৫ জন ব্যবসায়ী। বর্তমানে ক্রেতা না থাকায় দোকানমালিকেরা একসাথে বিপণিবিতানটি বন্ধ করার পাশাপাশি মালিকানা বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমবায় সমিতির নেতারা জানান, বিপণিবিতানটিতে শুরুতে তৈরি পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, টেইলার্স, জুয়েলারি সহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির দোকান ছিল। চতুর্থ তলায় ছিল ফুড কোর্ট। ১৯৮টি দোকান থাকলেও বন্ধ হওয়ার আগে ২৫টি দোকান চালু ছিল।

যে কারণে বন্ধ হলো বিপণিবিতানটি

দোকান মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাকীবিল্লাহ ওসমানী জানান, ১০ বছরের বেশি সময় ধরে বিপণিবিতানটির বেচাবিক্রি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। তিনি বলেন, মূলত তিন–চারটি কারণে শপিং মলটি ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছিল। তাই দোকানমালিকেরা সবাই মিলেই মালিকানা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বাকীবিল্লাহ ওসমানী আরও জানান, গত দশকে মগবাজার–মালিবাগ উড়ালসড়ক নির্মাণের সময় তীব্র যানজটের কারণে বিপণিবিতানটিতে ক্রেতাসমাগম ব্যাপকভাবে কমে যায়। তখন বেশ কয়েকজন দোকানমালিক আশপাশের বিভিন্ন মার্কেটে অস্থায়ীভাবে দোকান সরিয়ে নেন। তবে উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর তারা নতুন জায়গা ছেড়ে আর ফেরেননি। পরবর্তী সময়ে মহামারি করোনাভাইরাসের ধাক্কায় শতাধিক দোকান বন্ধ হয়ে যায়। সেগুলোও পরে আর চালু হয়নি। তা ছাড়া মার্কেটে থাকা বেশ কিছু প্রসাধনীর দোকানে মানহীন পণ্য বিক্রির অভিযোগেও বিপণিবিতানের সুনাম নষ্ট হয়।

দোকানমালিক সমিতির এই নেতা বলেন, আমরা মার্কেটের জায়গা বিক্রি করতে হাসপাতাল, ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি। শিগগিরই বিক্রির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%