ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাছ লাগানোর পাশাপাশি পরিচর্যার আহ্বান


গাছ লাগানোর পাশাপাশি পরিচর্যার আহ্বান

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় গাছ লাগানো যথেষ্ট নয়। তা ছাড়া, সেগুলো যথাযথভাবে পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা।

তারা আরও জানিয়েছেন, সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করতে এবং পরিবেশ রক্ষা করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

আজ বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বুড়িগোয়ালিনী নীলডুমুর ঘাটে, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফেইথ ইন অ্যাকশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত লবণসহনশীল ফলজ বৃক্ষের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: কুলাউড়া থানা পুলিশের সফল অ-ভিযান: উ-দ্ধার ৮ মোবাইল, আইফোনসহ ৪টি হস্তান্তর

উন্নয়ন সংস্থা ‘ফেইথ ইন অ্যাকশন’ গাবুরা ইউনিয়নের মোট ৯টি ওয়ার্ডের ১৫টি গ্রামে ২ হাজার ১৫টি পরিবারকে নিয়ে ‘জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী তৈরি’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের আওতায় প্রকল্পের এক হাজার সদস্যের মাঝে তিনটি করে লবণসহনশীল ফলজ বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলাম। তিনি বলেন, গাবুরা এলাকায় কদবেল, তাল ও তেঁতুল গাছের চারা রোপণ করলে মাটি ক্ষয়রোধে ইতিবাচক ভূমিকা নিশ্চিত হবে।

বিশেষত, তালগাছ বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে কার্যকর। তিনি পরিবেশবান্ধব গাছ রোপণের জন্য আহ্বান জানান।

শ্যামনগর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন বলেন, একটি গাছ মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শুধু গাছ লাগানো নয়, বরং সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: যাদুকাটা খুলতেই ফিরল শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য

একটি শিশুর যত্ন নেয়ার মতো, একটি গাছকেও পরিচর্যা করার মাধ্যমে বড় হতে হবে। তিনি লবণসহনশীল ও পরিবেশবান্ধব গাছ বিতরণ করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন ফেইথ ইন অ্যাকশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মিল্টন বাড়ৈ, এমঅ্যান্ডই কর্মকর্তা প্রিন্স মার্ক বিশ্বাস এবং প্রকল্প কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার বৈদ্য, সাথে কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটররা। অনুষ্ঠানে এক হাজার উপকারভোগীর মধ্যে এক হাজার তাল, এক হাজার কদবেল এবং এক হাজার তেঁতুল গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোনা পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


নেত্রকোনা পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের নেত্রকোনার জারিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ হিসেবে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে 'আমরা কিশোরগঞ্জবাসী' ব্যানারে এই মানববন্ধন কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন চলাকালে, যখন কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছায়, তখন ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে রেললাইনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারীরা ঐতিহাসিকভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তবে, এতে ট্রেন চলাচলে কোন সমস্যা সৃষ্টি হয়নি।

এসময় বক্তারা বলেন, কিশোরগঞ্জ থেকে মাত্র ২টি ট্রেন ঢাকা রুটে চলাচল করে, যা জনগণের ভোগান্তি শেষ করে না। যদি কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন নেত্রকোনা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়, তবে কিশোরগঞ্জবাসীর বিড়ম্বনা আরও বাড়বে। তারা অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিল না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি গড়ে তোলার হুমকি দেন।

জেলার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইকরাম হোসেন, পৌর মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আলহাজ্ব ফরিদ আহাম্মদ, সাবেক কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম, সমাজসেবক মুরাদ ভূঁইয়া সহ অন্যান্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের নেত্রকোনার জারিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএসইসির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ডিএসই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


বিএসইসির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ডিএসই

দেশের স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে স্বাধীনভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণের মানদণ্ড নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা প্রদানের বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই)।

আজ এ সংক্রান্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএসই জানিয়েছে, বিএসইসি’র এই পদক্ষেপকে দেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করে বলা হয়েছে এটি বাজারের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে।

ডিএসই আরও জানায়, এটি বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সাহায্য করবে।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত ১ জুলাই সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর ধারা ২০ক-এর অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ যুগান্তকারী আদেশ জারি করেছে।

এই আদেশের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের যথাযথ সুরক্ষা, বাজারে সুষ্ঠু, কার্যকর ও স্বচ্ছ লেনদেন নিশ্চিতকরণ, সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা এবং দেশের পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন সহজতর করার লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (সিএসই)-কে নিজস্ব প্রবিধান ও নীতিমালা অনুযায়ী বাজার নিয়ন্ত্রণ প্যারামিটারসমূহ স্বাধীনভাবে নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

নতুন আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) প্রাসঙ্গিক প্রবিধান, নীতিমালা এবং পরিচালনগত প্রয়োজনীয়তার আলোকে বাজার পরিচালনার বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ প্যারামিটার নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা পাবে। তবে, এসব প্যারামিটারে কোনো পরিবর্তন আনা হলে সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জকে তা অবিলম্বে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-কে অবহিত করতে হবে।

বাজারের সব অংশগ্রহণকারীর কাছে পরিবর্তনের বিষয়ে যথাযথভাবে প্রচার ও অবহিতকরণ নিশ্চিত করতে হবে। বিএসইসি বলেছে, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগকারী সুরক্ষা জোরদার করা, একটি সুশৃঙ্খল লেনদেন পরিবেশ বজায় রাখা এবং দেশের পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য ন্যায্য, দক্ষ ও স্বচ্ছ লেনদেনকে উৎসাহিত করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুরে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ২১৯ পরীক্ষার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


শেরপুরে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ২১৯ পরীক্ষার্থী

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার শেরপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্রের সামনে থেকে ছবিটি তোলা হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ।

শেরপুরে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিনে কোনো পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়নি। তবে অনুপস্থিত ছিলেন ২১৯ পরীক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জেলা ২৭টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, জেলায় এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৩ হাজার ৭৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। বৃহস্পতিবার প্রথম দিনে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ২০৬ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৭ হাজার ৯৮৭ জন এবং অনুপস্থিত ছিল ২১৯ জন।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ১২টি কেন্দ্রে এবারের মোট এইচএসসি পরীক্ষার্থী ৮ হাজার ২২৯ জন। তন্মধ্যে প্রথম দিন বাংলা পরীক্ষায় ৫ হাজার ৮৫৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১১ জন অনুপস্থিত ছিল।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ৫টি কেন্দ্রে এবারের আলিম পরীক্ষার্থীর মোট সংখ্যা ৮৯৩ জন। তাদের মধ্যে প্রথম দিন বাংলা পরীক্ষায় ৭৬১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪০ জন অনুপস্থিত ছিল।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ১০টি কেন্দ্রে এবারের এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষার্থীর মোট সংখ্যা ৩ হাজার ৯৫৩ জন। প্রথম দিনে বাংলা পরীক্ষায় এক হাজার ৬২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ৬৮ জন। তবে ২টি কেন্দ্রে এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ৯২ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। কিন্তু ৮টি কেন্দ্রের এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষার এক হাজার ৫৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৮ জন অনুপস্থিত ছিল।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজুয়ান বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে এবং কঠোর নিরাপত্তায় এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নকলমুক্ত পরীক্ষার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রের গেটে কঠোর তল্লাশি ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পরীক্ষার্থীদের হলে প্রবেশ করানো হচ্ছে।

প্রথম দিনে পরীক্ষায় কোনো বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেনি। তবে অনুপস্থিত ছিল ২১৯ পরীক্ষার্থী।’

তিনি জানান, জেলায় ৩টি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় এবারের মোট ১৩ হাজার ৭৫ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। প্রথম দিনের আবশ্যিক বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৮ হাজার ২০৬ জন। তন্মধ্যে অংশ নিয়েছে ৭ হাজার ৯৮৭ জন।

প্রথম দিনের পরীক্ষার্থী ও মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তারতম্যের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কেউ কেউ হয়তো এক/দুই বিষয়ে আগের বারের অনুত্তীর্ণ ছিল, তারা ওই এক/দুই বিষয়ের পরীক্ষায় এবার অংশগ্রহণ করবে। তাদের অনেকের হয়তো আজকের পরীক্ষা ছিল না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে মোদি-শেহবাজের প্রতি ১১৬ বিশিষ্টজনের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৮ পি.এম


ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে মোদি-শেহবাজের প্রতি ১১৬ বিশিষ্টজনের আহ্বান

ভারত ও পাকিস্তানের ১১৬ জন বিশিষ্ট রাজনীতিক, সাবেক কূটনীতিক, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং শেহবাজ শরিফের কাছে একটি যৌথ খোলা চিঠি লিখেছেন।

ওই চিঠিতে তারা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার এবং স্বাভাবিক সংলাপ শুরু করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি, বাণিজ্য ও যোগাযোগ বন্ধ থাকা এবং কাশ্মীরসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে সংলাপ স্থবির থাকায়, এই খোলা চিঠি লেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন দুই দেশের ১১৬ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি।

গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) লেখা ওই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ভারতের ৬১ জন এবং পাকিস্তানের ৫৫ জন ব্যক্তি রয়েছেন। চিঠিটি সমন্বয় করেছেন ও পি শাহ, যিনি সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড প্রোগ্রেস-এর চেয়ারম্যান।

চিঠিতে বলা হয়েছে, 'দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্বাভাবিক সম্পর্ক, সংলাপ ও সহযোগিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দুই সরকারের অর্থবহ ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। মতপার্থক্য নিরসনের একমাত্র কার্যকর পথ হচ্ছে অব্যাহত সংলাপ ও সম্পৃক্ততা।'

স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি, India's গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং তথা ‘র’-এর সাবেক প্রধান এ এস দুলাত, রাজ্যসভার এমপি মনোজ ঝা, পাকিস্তানের সাবেক কূটনীতিক আশরাফ জাহাঙ্গির কাজি, বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মিরওয়াইজ ওমর ফারুক, ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মণি শঙ্কর আইয়ার এবং পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খুরশিদ মাহমুদ কাসুরি।

স্বাক্ষরকারীরা দুই সরকারের প্রতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে: পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন এবং একে অপরের দেশে আবার হাইকমিশনার নিয়োগ, ফের স্বাভাবিক ভিসা সেবা চালু করা, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দ্বিপক্ষীয় সংলাপ পুনরায় শুরু করা এবং দুই দেশের মধ্যে সব ধরনের অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে নিয়মিত আলোচনা।

চিঠিতে জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যুতে নতুন করে আলোচনার ওপর গুরুত্বও দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ২০০৪ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে যে আলোচনার কাঠামো তৈরি হয়েছিল, সেটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে উভয় দেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ বিবেচনায় রেখে সীমান্ত এলাকায় সামরিক উত্তেজনা হ্রাস এবং ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

চিঠিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে: দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পুনরায় চালু করতে হবে, সমমানের বৈষম্যহীন বাণিজ্য ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং আটারি-ওয়াগাহ সীমান্তের স্থলবন্দর আবার খুলে দিতে হবে।

এছাড়া চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা দিল্লি-লাহোর বাস সার্ভিস পুনরায় চালু করা, শ্রীনগর-মুজাফ্ফরাবাদ বাস সার্ভিস চালু করা, সমঝোতা এক্সপ্রেস ও থর এক্সপ্রেস ট্রেন পুনরায় চালু করা, কারগিল-স্কার্দু রুট খুলে দেওয়া এবং বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের জন্য দুই দেশের আকাশসীমা পুনরায় উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে: করতারপুর কোরিডর পুনরায় পুরোপুরি চালু করতে হবে, সারতা পীঠ তীর্থযাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, শিল্পী ও ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক সফর সহজ করতে হবে এবং গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করতে হবে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, 'দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ বিভাজন ও সংঘাত নয়, বরং শান্তি, সমৃদ্ধি এবং যৌথ অগ্রগতির ভিত্তিতে গড়ে উঠতে হবে।' স্বাক্ষরকারীরা আরো উল্লেখ করেছেন, ভারত ও পাকিস্তান মিলিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষের আবাসস্থল, যার বড় অংশই তরুণ। দুই দেশের চলমান বৈরিতা লাখো তরুণের কর্মসংস্থান, উন্নয়ন এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের সুযোগ সীমিত করছে।

চিঠির শেষাংশে দুই সরকারকে বিচ্ছিন্নতার পরিবর্তে সম্পৃক্ততা, বৈরিতার পরিবর্তে সংলাপ এবং সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতার পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%